কারাগারে নয় ৭০ শিশু গেল মা-বাবার কাছে
jugantor
সুনামগঞ্জ আদালতের রায়
কারাগারে নয় ৭০ শিশু গেল মা-বাবার কাছে

  সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি  

১৪ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

লঘু অপরাধে অভিযুক্ত ৭০ শিশুকে সংশোধনের সুযোগ দিয়ে কারাগারের পরিবর্তে বাবা-মায়ের জিম্মায় দিয়েছেন আদালত। সুনামগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাকির হোসেন বুধবার দুপুরে এ রায় দেন। রায়ে আদালত বলেন, এসব শিশুর মা-বাবার সেবাযত্নসহ ছয় শর্ত মানতে হবে। পরে তাদের প্রত্যেককে একটি করে ডায়েরি ও ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। এ সময় এসব শিশুর মা-বাবা ও স্বজনরা আদালতে ছিলেন।

আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নান্টু রায় যুগান্তরকে বলেন, ‘সুনামগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের ৫০ মামলায় কোমলমতি ৭০ শিশুকে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে জড়ানো হয়েছিল। এসব শিশুকে আদালতে নিয়মিত হাজিরা দিতে হতো। ফলে শিশুদের ভবিষ্যৎ ও শিক্ষাজীবন ব্যাহত হচ্ছিল। মানবিক দিক বিবেচনা করে আদালত ছয় শর্ত যথাযথভাবে পালনসাপেক্ষে তাদের মুক্তি দিয়েছেন। নিঃসন্দেহে এটি একটি ব্যতিক্রমী রায়। এর মাধ্যমে ৭০টি শিশু মা-বাবার জিম্মায় থেকে নিজেদের সংশোধনের সুযোগ পেল।’

শর্তগুলো হলো : প্রতিদিন দুটি ভালো কাজ করে আদালতের দেওয়া ডায়েরিতে লিখে রাখতে হবে এবং বছর শেষে ডায়েরি আদালতে জমা দিতে হবে। মা-বাবা ও গুরুজনদের আদেশ মানতে হবে, তাদের সেবাযত্ন ও কাজে সাহায্য করতে হবে। নিয়মিত ধর্মগ্রন্থ পাঠ ও ধর্মকর্ম পালন করতে হব। অসৎ সঙ্গ ত্যাগ করতে হবে, মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে এবং ভবিষ্যতে কোনো অপরাধের সঙ্গে নিজেকে জড়ানো যাবে না।

এসব শর্ত যথাযথভাবে পালন হচ্ছে কিনা তা আগামী এক বছর একজন প্রবেশন কর্মকর্তা পর্যবেক্ষণ করবেন এবং প্রতি তিন মাস অন্তর অন্তর আদালতকে জানাবেন। এ বিষয়ে প্রবেশন কর্মকর্তা মো. সফিউর রহমান যুগান্তরকে বলেন, যে ছয় শর্তে শিশুদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে সেগুলো তারা সঠিকভাবে পালন করছে কিনা সেটি আমি দেখব। পরে আদালতে সে বিষয়ে রিপোর্ট দেব।

আদালতের এমন রায়ে অভিভাবকরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। এমন উদ্যোগের ফলে পরিবারের সান্নিধ্যে এসব কোমলমতি শিশু স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠবে এবং সুন্দর জীবন গঠনের সুযোগ পাবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন বরণ করতে আসা অভিভাবকরা।

সুনামগঞ্জ আদালতের রায়

কারাগারে নয় ৭০ শিশু গেল মা-বাবার কাছে

 সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি 
১৪ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

লঘু অপরাধে অভিযুক্ত ৭০ শিশুকে সংশোধনের সুযোগ দিয়ে কারাগারের পরিবর্তে বাবা-মায়ের জিম্মায় দিয়েছেন আদালত। সুনামগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাকির হোসেন বুধবার দুপুরে এ রায় দেন। রায়ে আদালত বলেন, এসব শিশুর মা-বাবার সেবাযত্নসহ ছয় শর্ত মানতে হবে। পরে তাদের প্রত্যেককে একটি করে ডায়েরি ও ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। এ সময় এসব শিশুর মা-বাবা ও স্বজনরা আদালতে ছিলেন।

আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নান্টু রায় যুগান্তরকে বলেন, ‘সুনামগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের ৫০ মামলায় কোমলমতি ৭০ শিশুকে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে জড়ানো হয়েছিল। এসব শিশুকে আদালতে নিয়মিত হাজিরা দিতে হতো। ফলে শিশুদের ভবিষ্যৎ ও শিক্ষাজীবন ব্যাহত হচ্ছিল। মানবিক দিক বিবেচনা করে আদালত ছয় শর্ত যথাযথভাবে পালনসাপেক্ষে তাদের মুক্তি দিয়েছেন। নিঃসন্দেহে এটি একটি ব্যতিক্রমী রায়। এর মাধ্যমে ৭০টি শিশু মা-বাবার জিম্মায় থেকে নিজেদের সংশোধনের সুযোগ পেল।’

শর্তগুলো হলো : প্রতিদিন দুটি ভালো কাজ করে আদালতের দেওয়া ডায়েরিতে লিখে রাখতে হবে এবং বছর শেষে ডায়েরি আদালতে জমা দিতে হবে। মা-বাবা ও গুরুজনদের আদেশ মানতে হবে, তাদের সেবাযত্ন ও কাজে সাহায্য করতে হবে। নিয়মিত ধর্মগ্রন্থ পাঠ ও ধর্মকর্ম পালন করতে হব। অসৎ সঙ্গ ত্যাগ করতে হবে, মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে এবং ভবিষ্যতে কোনো অপরাধের সঙ্গে নিজেকে জড়ানো যাবে না।

এসব শর্ত যথাযথভাবে পালন হচ্ছে কিনা তা আগামী এক বছর একজন প্রবেশন কর্মকর্তা পর্যবেক্ষণ করবেন এবং প্রতি তিন মাস অন্তর অন্তর আদালতকে জানাবেন। এ বিষয়ে প্রবেশন কর্মকর্তা মো. সফিউর রহমান যুগান্তরকে বলেন, যে ছয় শর্তে শিশুদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে সেগুলো তারা সঠিকভাবে পালন করছে কিনা সেটি আমি দেখব। পরে আদালতে সে বিষয়ে রিপোর্ট দেব।

আদালতের এমন রায়ে অভিভাবকরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। এমন উদ্যোগের ফলে পরিবারের সান্নিধ্যে এসব কোমলমতি শিশু স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠবে এবং সুন্দর জীবন গঠনের সুযোগ পাবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন বরণ করতে আসা অভিভাবকরা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন