ভিক্ষুক পুনর্বাসন খাতে অর্থব্যয় আসেনি কাক্সিক্ষত ফল
jugantor
ভিক্ষুক পুনর্বাসন খাতে অর্থব্যয় আসেনি কাক্সিক্ষত ফল

  বাহরাম খান  

১৫ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভিক্ষুক পুনর্বাসনের জন্য প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও কাক্সিক্ষত ফল মিলছে না। উপকারভোগী কত ভিক্ষুক পুনর্বাসিত হলো এর কোনো পরিসংখ্যান নেই। কতজন ফের ভিক্ষাবৃত্তিতে ফিরে গেল এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য নেই কারও কাছে। ভিক্ষুক পুনর্বাসন খাতে অর্থব্যয় হলেও মূলত তথ্যের অভাবে বাস্তব অবস্থা ঢাকা পড়ছে অন্ধকারে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা এই কার্যক্রমের মূল্যায়ন করে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালে শুরু হওয়া ভিক্ষুক পুনর্বাসন কার্যক্রমের আওতায় এ পর্যন্ত মাত্র ১৪ হাজার ৭০৭ জন ভিক্ষুককে পুনর্বাসন করা হয়েছে। এতে সরকারের পক্ষ থেকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩৪ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এদের মধ্যে কতজন ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়েছে, যারা ছাড়েনি, কেন ছাড়েনি এসব বিষয়ের কোনো মূল্যায়ন নেই। চলতি অর্থবছরে ভিক্ষুক পুনর্বাসন খাতে ছয় কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য উপকারভোগী ধরা হয়েছে তিন হাজার। কোন ধরনের ভিক্ষুকরা এর আওতায় আসবে সে বিষয়ে কোনো কিছু সুনির্দিষ্ট করা নেই।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী দেশে ভিক্ষুকের সংখ্যা তিন লাখের মতো। ২০১৭ সালে জেলা পর্যায় থেকে দেওয়া অর্থ বরাদ্দের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে তারা এ তথ্য পেয়েছে। অর্থাৎ ভিক্ষুকদের নিয়ে পৃথক কোনো জরিপও নেই। সমস্যা সমাধানে ভিক্ষাবৃত্তির সঙ্গে যুক্তদের কোনো মতামতও নেওয়া হয় না। প্রতি বছর জেলাওয়ারি কিছু টাকা বরাদ্দ হয়। সেই টাকা উপজেলা পর্যায়ে ভাগ হয়। উপজেলা সমাজসেবা অফিসের মাধ্যমে সেগুলো উপকারভোগীদের মধ্যে বিতরণ হয়।

ভিক্ষুক পুনর্বাসনে সঙ্গে যুক্তরা বলছেন, এভাবে সমস্যার সমাধান করা যাবে না। ভিক্ষাবৃত্তিতে মানুষ যাতে না আসে সেই ব্যবস্থা নিতে হবে। এর জন্য ভিক্ষুকদের পৃষ্ঠপোষণকারীদের দমন করার সঙ্গে স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিতে হবে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. শাহজাহান যুগান্তরকে বলেন, অল্প টাকা সহযোগিতা করলে অনেকেই ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে দিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করেন। অনেকের পেছনে বেশি টাকা খরচ করলেও তাদের দেওয়া জিনিসপত্র বেঁচে ভিক্ষাবৃত্তিতে ফিরে আসে। ভিক্ষাবৃত্তিতে আসাদের দীর্ঘমেয়াদে ফলোআপ না করলে সফল হওয়া কঠিন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ঢাকায় ভিক্ষুক নিষিদ্ধ এলাকাগুলোতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। করোনার কারণে অনেক দিন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা বন্ধ আছে। শিগগির ঢাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।

কুড়িগ্রাম জেলার সমাজসেবা অফিসার রোকনুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, বরাদ্দপ্রাপ্ত টাকা দিয়ে ভিক্ষুকদের গরু, ছাগল, রিকশা, ভ্যান ইত্যাদি বিভিন্ন সহযোগিতা করা হয়। অনেকেই এসব বিক্রি করে দিয়ে ফের আগের কাজে ফিরে যায়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এতদিন ধরে কাজটি চলছে। এর ওপর একটি গবেষণা হওয়া উচিত। গবেষণায় পাওয়া বিষয়গুলোর ওপর পরবর্তী সময়ে উদ্যোগ নিলে আরও ভালো ফল আসতে পারে।

বেসরকারি সংস্থা ‘অপরাজেয় বাংলাদেশ’র নির্বাহী পরিচালক ওয়াহিদা বানু যুগান্তরকে বলেন, ভিক্ষুক সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যভেদী উদ্যোগ নেই। সরকারি একটা কর্মসূচি আছে, তাই চলছে। তিনি বলেন, ভিক্ষুক সমস্যার সমাধান করতে হলে ভিক্ষুকদের কাছ থেকে তাদের সমস্যার বিষয়গুলো জেনে, বুঝে উদ্যোগ নিতে হবে। সেই সঙ্গে বছরের পর বছর ফলোআপ করতে হবে। উপর থেকে সিদ্ধান্ত নিয়ে টাকা খরচ করে ভিক্ষাবৃত্তি দূর করা যাবে না।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শেখ রফিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ‘মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া টাকা জেলাওয়ারি বরাদ্দ দিয়ে দিই। সেখান থেকেই ভিক্ষুক পুনর্বাসনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়।’ এর বাইরে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ভিক্ষুক পুনর্বাসন খাতে অর্থব্যয় আসেনি কাক্সিক্ষত ফল

 বাহরাম খান 
১৫ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভিক্ষুক পুনর্বাসনের জন্য প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও কাক্সিক্ষত ফল মিলছে না। উপকারভোগী কত ভিক্ষুক পুনর্বাসিত হলো এর কোনো পরিসংখ্যান নেই। কতজন ফের ভিক্ষাবৃত্তিতে ফিরে গেল এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য নেই কারও কাছে। ভিক্ষুক পুনর্বাসন খাতে অর্থব্যয় হলেও মূলত তথ্যের অভাবে বাস্তব অবস্থা ঢাকা পড়ছে অন্ধকারে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা এই কার্যক্রমের মূল্যায়ন করে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালে শুরু হওয়া ভিক্ষুক পুনর্বাসন কার্যক্রমের আওতায় এ পর্যন্ত মাত্র ১৪ হাজার ৭০৭ জন ভিক্ষুককে পুনর্বাসন করা হয়েছে। এতে সরকারের পক্ষ থেকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩৪ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এদের মধ্যে কতজন ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়েছে, যারা ছাড়েনি, কেন ছাড়েনি এসব বিষয়ের কোনো মূল্যায়ন নেই। চলতি অর্থবছরে ভিক্ষুক পুনর্বাসন খাতে ছয় কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য উপকারভোগী ধরা হয়েছে তিন হাজার। কোন ধরনের ভিক্ষুকরা এর আওতায় আসবে সে বিষয়ে কোনো কিছু সুনির্দিষ্ট করা নেই।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী দেশে ভিক্ষুকের সংখ্যা তিন লাখের মতো। ২০১৭ সালে জেলা পর্যায় থেকে দেওয়া অর্থ বরাদ্দের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে তারা এ তথ্য পেয়েছে। অর্থাৎ ভিক্ষুকদের নিয়ে পৃথক কোনো জরিপও নেই। সমস্যা সমাধানে ভিক্ষাবৃত্তির সঙ্গে যুক্তদের কোনো মতামতও নেওয়া হয় না। প্রতি বছর জেলাওয়ারি কিছু টাকা বরাদ্দ হয়। সেই টাকা উপজেলা পর্যায়ে ভাগ হয়। উপজেলা সমাজসেবা অফিসের মাধ্যমে সেগুলো উপকারভোগীদের মধ্যে বিতরণ হয়।

ভিক্ষুক পুনর্বাসনে সঙ্গে যুক্তরা বলছেন, এভাবে সমস্যার সমাধান করা যাবে না। ভিক্ষাবৃত্তিতে মানুষ যাতে না আসে সেই ব্যবস্থা নিতে হবে। এর জন্য ভিক্ষুকদের পৃষ্ঠপোষণকারীদের দমন করার সঙ্গে স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিতে হবে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. শাহজাহান যুগান্তরকে বলেন, অল্প টাকা সহযোগিতা করলে অনেকেই ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে দিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করেন। অনেকের পেছনে বেশি টাকা খরচ করলেও তাদের দেওয়া জিনিসপত্র বেঁচে ভিক্ষাবৃত্তিতে ফিরে আসে। ভিক্ষাবৃত্তিতে আসাদের দীর্ঘমেয়াদে ফলোআপ না করলে সফল হওয়া কঠিন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ঢাকায় ভিক্ষুক নিষিদ্ধ এলাকাগুলোতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। করোনার কারণে অনেক দিন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা বন্ধ আছে। শিগগির ঢাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।

কুড়িগ্রাম জেলার সমাজসেবা অফিসার রোকনুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, বরাদ্দপ্রাপ্ত টাকা দিয়ে ভিক্ষুকদের গরু, ছাগল, রিকশা, ভ্যান ইত্যাদি বিভিন্ন সহযোগিতা করা হয়। অনেকেই এসব বিক্রি করে দিয়ে ফের আগের কাজে ফিরে যায়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এতদিন ধরে কাজটি চলছে। এর ওপর একটি গবেষণা হওয়া উচিত। গবেষণায় পাওয়া বিষয়গুলোর ওপর পরবর্তী সময়ে উদ্যোগ নিলে আরও ভালো ফল আসতে পারে।

বেসরকারি সংস্থা ‘অপরাজেয় বাংলাদেশ’র নির্বাহী পরিচালক ওয়াহিদা বানু যুগান্তরকে বলেন, ভিক্ষুক সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যভেদী উদ্যোগ নেই। সরকারি একটা কর্মসূচি আছে, তাই চলছে। তিনি বলেন, ভিক্ষুক সমস্যার সমাধান করতে হলে ভিক্ষুকদের কাছ থেকে তাদের সমস্যার বিষয়গুলো জেনে, বুঝে উদ্যোগ নিতে হবে। সেই সঙ্গে বছরের পর বছর ফলোআপ করতে হবে। উপর থেকে সিদ্ধান্ত নিয়ে টাকা খরচ করে ভিক্ষাবৃত্তি দূর করা যাবে না।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শেখ রফিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ‘মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া টাকা জেলাওয়ারি বরাদ্দ দিয়ে দিই। সেখান থেকেই ভিক্ষুক পুনর্বাসনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়।’ এর বাইরে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন