কাপ্তাইয়ে ঘরে ঢুকে নৌকার প্রার্থীকে গুলি করে হত্যা
jugantor
ইউপি নির্বাচন ঘিরে ফের উত্তপ্ত পাহাড়
কাপ্তাইয়ে ঘরে ঢুকে নৌকার প্রার্থীকে গুলি করে হত্যা

  রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি  

১৮ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী নেওথোয়াই মারমা (৫৬) খুন হয়েছেন। শনিবার রাত ১২টার পর একদল সন্ত্রাসী উপজেলার চন্দ্রঘোনা থানার চিৎমরম ইউনিয়নের আগাপাড়া এলাকায় ঘরে ঢুকে গুলি করে তাকে হত্যা করে। নেওথোয়াই মারমা চিৎমরম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে (১১ নভেম্বর) চেয়ারম্যান প্রার্থী এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। পুলিশ ও দলীয় সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

জানা যায়, শনিবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর নেতাকর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে চিৎমরমের নিজ এলাকায় যান নেওথেয়াই মারমা। নিরাপত্তার কারণে এতদিন তিনি উপজেলা সদরে সরকারি বিশ্রামাগারে অবস্থান করছিলেন। এলাকায় গিয়ে রাতে নিজ বাড়িতে অবস্থান নেন। সেখানে অতর্কিত হানা দিয়ে ঘরে ঢুকে নেওথোয়াইকে গুলি করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে লাশ উদ্ধার করে চন্দ্রঘোনা থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন।

চন্দ্রঘোনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ রাঙামাটি সদর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এলাকায় নিরাপত্তাবাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।

কাপ্তাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অংসুই ছাইন চৌধুরী বলেন, নিজ বাড়িতে খুন হয়েছেন নেওথোয়াই মারমা। একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে গুলি চালিয়ে তাকে হত্যা করেছে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর নেতাকর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে তিনি এলাকায় গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নতুন করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন। তিনি ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

দীপংকর তালুকদারের নিন্দা ও প্রতিবাদ : এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার। তিনি পার্বত্য অঞ্চলের অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করার জন্য সেনাবাহিনীর প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে আঞ্চলিক দলগুলো বেছে বেছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হত্যা করছে। তারা নেওথোয়াই মারমাকে হত্যা করেনি, হত্যা করেছে দেশের গণতন্ত্রকে। নেওথোয়াই মারমার অপরাধ ছিল তিনি গণতান্ত্রিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়েছিলেন। এর আগে জুরাছড়ির অরবিন্দ চাকমা, বিলাইছড়ির সুরেশ তঞ্চঙ্গ্যাসহ আওয়ামী লীগের বহু নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

দীপংকর তালুকদার বলেন, সেনাবাহিনী দেশ ও জাতির গর্ব। আগে পার্বত্য অঞ্চলে অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। সেনাবাহিনীর তৎপরতার কারণে কিছুদিন পার্বত্য অঞ্চলে হত্যাযজ্ঞের মতো সন্ত্রাসী কার্যক্রম কিছুটা বন্ধ ছিল। এখন নতুন করে ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে হত্যাযজ্ঞে নেমেছে আঞ্চলিক দলের সন্ত্রাসীরা। তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে অবৈধ অস্ত্রধারীদের দমন করতে নতুন করে সেনাবাহিনীর তৎপরতা বাড়াতে হবে। অপারেশন উত্তরণের মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনতে হবে।

শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্টে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র চলছে : পার্বত্য চট্টগ্রামে উন্নয়ন প্রক্রিয়া ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করতে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছে ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক। রোববার সকালে খাগড়াছড়ি প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এ অভিযোগ করেন ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শ্যামল কান্তি চাকমা ওরফে তরু। এ সময় ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিকের খাগড়াছড়ি জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক পীষূজ কান্তি চাকমা উপস্থিত ছিলেন।

ইউপি নির্বাচন ঘিরে ফের উত্তপ্ত পাহাড়

কাপ্তাইয়ে ঘরে ঢুকে নৌকার প্রার্থীকে গুলি করে হত্যা

 রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি 
১৮ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী নেওথোয়াই মারমা (৫৬) খুন হয়েছেন। শনিবার রাত ১২টার পর একদল সন্ত্রাসী উপজেলার চন্দ্রঘোনা থানার চিৎমরম ইউনিয়নের আগাপাড়া এলাকায় ঘরে ঢুকে গুলি করে তাকে হত্যা করে। নেওথোয়াই মারমা চিৎমরম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে (১১ নভেম্বর) চেয়ারম্যান প্রার্থী এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। পুলিশ ও দলীয় সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

জানা যায়, শনিবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর নেতাকর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে চিৎমরমের নিজ এলাকায় যান নেওথেয়াই মারমা। নিরাপত্তার কারণে এতদিন তিনি উপজেলা সদরে সরকারি বিশ্রামাগারে অবস্থান করছিলেন। এলাকায় গিয়ে রাতে নিজ বাড়িতে অবস্থান নেন। সেখানে অতর্কিত হানা দিয়ে ঘরে ঢুকে নেওথোয়াইকে গুলি করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে লাশ উদ্ধার করে চন্দ্রঘোনা থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন।

চন্দ্রঘোনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ রাঙামাটি সদর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এলাকায় নিরাপত্তাবাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।

কাপ্তাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অংসুই ছাইন চৌধুরী বলেন, নিজ বাড়িতে খুন হয়েছেন নেওথোয়াই মারমা। একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে গুলি চালিয়ে তাকে হত্যা করেছে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর নেতাকর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে তিনি এলাকায় গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নতুন করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন। তিনি ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

দীপংকর তালুকদারের নিন্দা ও প্রতিবাদ : এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার। তিনি পার্বত্য অঞ্চলের অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করার জন্য সেনাবাহিনীর প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে আঞ্চলিক দলগুলো বেছে বেছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হত্যা করছে। তারা নেওথোয়াই মারমাকে হত্যা করেনি, হত্যা করেছে দেশের গণতন্ত্রকে। নেওথোয়াই মারমার অপরাধ ছিল তিনি গণতান্ত্রিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়েছিলেন। এর আগে জুরাছড়ির অরবিন্দ চাকমা, বিলাইছড়ির সুরেশ তঞ্চঙ্গ্যাসহ আওয়ামী লীগের বহু নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

দীপংকর তালুকদার বলেন, সেনাবাহিনী দেশ ও জাতির গর্ব। আগে পার্বত্য অঞ্চলে অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। সেনাবাহিনীর তৎপরতার কারণে কিছুদিন পার্বত্য অঞ্চলে হত্যাযজ্ঞের মতো সন্ত্রাসী কার্যক্রম কিছুটা বন্ধ ছিল। এখন নতুন করে ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে হত্যাযজ্ঞে নেমেছে আঞ্চলিক দলের সন্ত্রাসীরা। তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে অবৈধ অস্ত্রধারীদের দমন করতে নতুন করে সেনাবাহিনীর তৎপরতা বাড়াতে হবে। অপারেশন উত্তরণের মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনতে হবে।

শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্টে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র চলছে : পার্বত্য চট্টগ্রামে উন্নয়ন প্রক্রিয়া ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করতে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছে ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক। রোববার সকালে খাগড়াছড়ি প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এ অভিযোগ করেন ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শ্যামল কান্তি চাকমা ওরফে তরু। এ সময় ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিকের খাগড়াছড়ি জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক পীষূজ কান্তি চাকমা উপস্থিত ছিলেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন