তথ্য ফাঁস!

নাম বদলে ইউপি চেয়ারম্যান যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি

পটুয়াখালী ডিসিকে তদন্তের নির্দেশ

  পটুয়াখালী প্রতিনিধি ১২ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পটুয়াখালী ডিসিকে তদন্তের নির্দেশ

পটুয়াখালীতে নাম বদল করে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামির ইউপি চেয়ারম্যান হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা জেলার বাউফল উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নে। ওই ইউপি চেয়ারম্যান এসএম ফয়সাল আহমেদ ওরফে মনির হোসেন মোল্লার চেয়ারম্যান পদটি বাতিলের জন্য তার নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মো. রমিজ উদ্দিন (গত ০৪/০৪/২০১৮ইং তারিখ) স্থানীয় সরকার ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে আবেদন করলে ফাঁস হয়ে যায় এ চাঞ্চল্যকর তথ্য এবং ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ ইউপি-১ অধিশাখার উপ-সচিব মো. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে (স্মারক নং-৪৬.০০.০০০০.০১৭.৯৯.০০৭.১৫ (অংশ-১০)-৩৪১, তারিখ-১৬/০৪/২০১৮ইং) জেলা প্রশাসককে বিষয়টি তদন্তপূর্বক মতামতসহ প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলা হয়েছে। এ চিঠি পাওয়ার পর জেলা প্রশাসক বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে তদন্ত করে লিখিত প্রতিবেদন প্রদানের নির্দেশ দেন।

জেলা প্রশাসক কার্যালয় ও অভিযোগকারীর সূত্রে জানা যায়, বাউফলের কালাইয়া ইউনিয়নের মো. শাহজাহান মোল্লার ছেলে মনির হোসেন মোল্লা ২০০৩ সালে প্রথমবারের মতো ওই ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং এ নামে গেজেটও প্রকাশিত হয়।

কিন্তু পরবর্তী সময়ে ১৯৯৬ সালে একই উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের ডালিমা গ্রামের আজাহার আলী মুন্সীর ছেলের জনৈক কামাল হোসেন মুন্সীর দুটি চক্ষু উৎপাটন মামলায় (বাউফল থানার জিআর ২৩৮নং একটি মামলা) পটুয়াখালীর জেলা জজ আদালত থেকে ২০০৬ সালে তিনি (মনির হোসেন মোল্লা) যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত হন।

এ দণ্ড থেকে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য ২০০৭ সালে হাইকোর্টে আপিল করেন তিনি এবং ওই আপিল অবস্থায় ২০১১ সালে উক্ত কালাইয়া ইউপি নির্বাচনে মনির হোসেন মোল্লা নাম বদল করে এসএম ফয়সাল আহমেদ নামে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দ্বিতীয়বার ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

ঠিক অনুরূপভাবে প্রকৃত নাম গোপন করে ২০১৬ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তৃতীয়বারের মতো ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

অভিযোগকারী মো. রমিজ উদ্দিন বলেন, ‘নাম পরিবর্তন করলেই তো যাবজ্জীবন দণ্ড পরিবর্তন হয়ে যায় না? দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি তো একজনই। এ ছাড়া তথ্য গোপন করাও একটা বড় অপরাধ। আশা করি, বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত করে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান এসএম ফয়সাল আহমেদ ওরফে মনির হোসেন মোল্লার বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’

অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান এসএম ফয়সাল আহমেদ (মনির হোসেন মোল্লা) বলেন, ‘মো. মনির হোসেন মোল্লা ছিল আমার ডাক নাম। ওই নামেই নির্বাচন করে প্রথমবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি।

পরবর্তী সময়ে এসএসসি রেজিস্ট্রেশন কার্ডের নাম অনুযায়ী ২০০৮ সালে জাতীয় পরিচয়পত্রে আমার নাম হয় এসএম ফয়সাল আহমেদ। পরবর্তী সময়ে মহামান্য আদালতের অনুমতি নিয়ে ২০১১ ও ২০১৬ সালের দুটি ইউপি নির্বাচনে ওই নামে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি।

এখানে তথ্য গোপন করার কিছু নেই। আমি কোনো অপরাধ কাজ করিনি। পরাজিত আমার প্রতিপক্ষরা এসব বিভ্রান্তি রটাচ্ছে। কিন্তু এসব করে কোনো লাভ নেই।’ বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবু সুফিয়ান জানান, তার দফতরে একটি চিঠি এসেছে।

এ বিষয় তদন্ত করে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়া হবে। জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) মো. হেমায়েত উদ্দিন জানান, মন্ত্রণালয়ের চিঠি পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে মতামতসহ লিখিত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ইতিমধ্যে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনটি হাতে পেলেই বিস্তারিত বলা যাবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×