১৫ ফুট রাস্তা দেখিয়ে ছয়তলা ভবন নির্মাণ
jugantor
সিলেটে ভবন নির্মাণে প্রতারণা
১৫ ফুট রাস্তা দেখিয়ে ছয়তলা ভবন নির্মাণ
সিসিকের তদন্ত, নকশা বাতিল * দ্রুত ভেঙে ফেলতে হবে -ড. জহির

  মাহবুবুর রহমান রিপন, সিলেট  

২০ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভূমিকম্পপ্রবণ সিলেটে নিয়মবহির্ভূতভাবে ভবন নির্মাণের অভিযোগ ওঠেছে। নকশায় ১৫ ফুট রাস্তা দেখানো হলেও ১০ ফুটের রাস্তার পাশে ছয়তলা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) ভবনটির নকশা বাতিল করেছে। সিসিক কর্তৃপক্ষ বলছে, ভবনটি ভেঙে ফেলা হবে।

নগরীর ২১নং ওয়ার্ডের (নাবরুন ২/১, সোনারপাড়া) শিবগঞ্জে এসপি টাওয়ার-৩ নির্মাণ নিয়ে এক প্রতিবেশীর অভিযোগের তদন্ত নেমে সিসিক নানা অনিয়ম পেয়েছে। সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, ভবনটি নিয়মবহির্ভূতভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। নকশায় ১৫ ফুট রাস্তা দেখানো হলেও বাস্তবে রাস্তা ১০ ফুট রয়েছে। ইমারত নির্মাণ বিধিমালা (১৯৯৬) অনুযায়ী ১০ ফুট রাস্তা থাকলে সর্বোচ্চ তিনতলা ভবনের অনুমোদন পাওয়ার কথা। কিন্তু ছয়তলা ভবন করা হয়েছে। আবার ভবনের এল আকৃতির অংশটুকুরও কোনো অনুমোদন নেই। এ কারণে নকশার অনুমোদন বাতিল করা হয়েছে। এখন আইনগত ব্যবস্থার মাধ্যমে ভবনটি ভেঙে ফেলা হবে।

এসব অনিয়মের কথা স্বীকার করে ভবন মালিক নজরুল ইসলাম যুগান্তরকে জানান, নানা কারণে সময়মতো তিনি অনুমোদন নিতে পারেননি। তিনি নতুন করে আবেদন করেছেন। সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী যুগান্তরকে জানান, ভূমিকম্প জোন সিলেটে ভবন নির্মাণে কেউ আইন না মানলে সহ্য করা হবে না। ইতোমধ্যেই ওই ভবনটির নকশার অনুমোদন বাতিল করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী ভবনটিকে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ভবন মালিক নিজে না ভাঙলে করপোরেশন ভবনটি উচ্ছেদ করবে। এজন্য ভবন মালিককে ১০ গুণ খরচ দিতে হবে।

ভূমিকম্প ঝুঁকিতে থাকা ভবনটি কতটা ঝুঁকিতে ফেলতে পারে- এমন প্রশ্নে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও পুর কৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. জহির বিন আলম যুগান্তরকে জানান, এটা ভয়ংকর রকমের ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। একদিকে ১০ ফুট রাস্তায় তিনতলা ভবনের স্থানে ছয়তলা করা হয়েছে। অন্যদিকে, ভূমিকম্পের জন্য অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এল আকৃতির ভবন। ভবনটির অননুমোদিত অংশ খুব দ্রুত ভেঙে ফেলতে তিনি পরামর্শ দেন।

জানা গেছে, ২০১৯ সালে নিয়মবহির্ভূভাবে শিবগঞ্জে এসপি টাওয়ার-৩ আবাসিক ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এ কারণে সিসিকে প্রতিবেশী সাজ্জাদুর রহমান মুন্না অভিযোগ করেন। অভিযোগ পেয়ে তদন্তে নেমে প্রতারণার সন্ধান পান সিসিকের প্রকৌশলীরা। নকশা অনুযায়ী ভবন হওয়ার কথা চার কোনা। কিন্তু ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে এল আকৃতির। এছাড়া অনুমোদিত নকশায় চারদিকে যে পরিমাণ জমি খালি রাখার কথা তাও মানেননি ভবন মালিক।

তদন্ত শেষে সিসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী নকশার অনুমোদন বাতিল কেন করা হবে না তা জানতে চেয়ে ১৯ সেপ্টেম্বর ভবন মালিককে চিঠি দেন। চিঠির উত্তরেও প্রতারণার আশ্রয় নেন ভবন মালিক। ভবনটির আরেকটি নতুন নকশা অনুমোদনের জন্য সিসিকে তিনি আবেদন করেছেন। তার অনুমোদিত নকশা বাতিল করে ১৪ অক্টোবর নোটিশ জারি করে সিসিক।

সিলেটে ভবন নির্মাণে প্রতারণা

১৫ ফুট রাস্তা দেখিয়ে ছয়তলা ভবন নির্মাণ

সিসিকের তদন্ত, নকশা বাতিল * দ্রুত ভেঙে ফেলতে হবে -ড. জহির
 মাহবুবুর রহমান রিপন, সিলেট 
২০ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভূমিকম্পপ্রবণ সিলেটে নিয়মবহির্ভূতভাবে ভবন নির্মাণের অভিযোগ ওঠেছে। নকশায় ১৫ ফুট রাস্তা দেখানো হলেও ১০ ফুটের রাস্তার পাশে ছয়তলা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) ভবনটির নকশা বাতিল করেছে। সিসিক কর্তৃপক্ষ বলছে, ভবনটি ভেঙে ফেলা হবে।

নগরীর ২১নং ওয়ার্ডের (নাবরুন ২/১, সোনারপাড়া) শিবগঞ্জে এসপি টাওয়ার-৩ নির্মাণ নিয়ে এক প্রতিবেশীর অভিযোগের তদন্ত নেমে সিসিক নানা অনিয়ম পেয়েছে। সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, ভবনটি নিয়মবহির্ভূতভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। নকশায় ১৫ ফুট রাস্তা দেখানো হলেও বাস্তবে রাস্তা ১০ ফুট রয়েছে। ইমারত নির্মাণ বিধিমালা (১৯৯৬) অনুযায়ী ১০ ফুট রাস্তা থাকলে সর্বোচ্চ তিনতলা ভবনের অনুমোদন পাওয়ার কথা। কিন্তু ছয়তলা ভবন করা হয়েছে। আবার ভবনের এল আকৃতির অংশটুকুরও কোনো অনুমোদন নেই। এ কারণে নকশার অনুমোদন বাতিল করা হয়েছে। এখন আইনগত ব্যবস্থার মাধ্যমে ভবনটি ভেঙে ফেলা হবে।

এসব অনিয়মের কথা স্বীকার করে ভবন মালিক নজরুল ইসলাম যুগান্তরকে জানান, নানা কারণে সময়মতো তিনি অনুমোদন নিতে পারেননি। তিনি নতুন করে আবেদন করেছেন। সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী যুগান্তরকে জানান, ভূমিকম্প জোন সিলেটে ভবন নির্মাণে কেউ আইন না মানলে সহ্য করা হবে না। ইতোমধ্যেই ওই ভবনটির নকশার অনুমোদন বাতিল করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী ভবনটিকে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ভবন মালিক নিজে না ভাঙলে করপোরেশন ভবনটি উচ্ছেদ করবে। এজন্য ভবন মালিককে ১০ গুণ খরচ দিতে হবে।

ভূমিকম্প ঝুঁকিতে থাকা ভবনটি কতটা ঝুঁকিতে ফেলতে পারে- এমন প্রশ্নে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও পুর কৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. জহির বিন আলম যুগান্তরকে জানান, এটা ভয়ংকর রকমের ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। একদিকে ১০ ফুট রাস্তায় তিনতলা ভবনের স্থানে ছয়তলা করা হয়েছে। অন্যদিকে, ভূমিকম্পের জন্য অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এল আকৃতির ভবন। ভবনটির অননুমোদিত অংশ খুব দ্রুত ভেঙে ফেলতে তিনি পরামর্শ দেন।

জানা গেছে, ২০১৯ সালে নিয়মবহির্ভূভাবে শিবগঞ্জে এসপি টাওয়ার-৩ আবাসিক ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এ কারণে সিসিকে প্রতিবেশী সাজ্জাদুর রহমান মুন্না অভিযোগ করেন। অভিযোগ পেয়ে তদন্তে নেমে প্রতারণার সন্ধান পান সিসিকের প্রকৌশলীরা। নকশা অনুযায়ী ভবন হওয়ার কথা চার কোনা। কিন্তু ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে এল আকৃতির। এছাড়া অনুমোদিত নকশায় চারদিকে যে পরিমাণ জমি খালি রাখার কথা তাও মানেননি ভবন মালিক।

তদন্ত শেষে সিসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী নকশার অনুমোদন বাতিল কেন করা হবে না তা জানতে চেয়ে ১৯ সেপ্টেম্বর ভবন মালিককে চিঠি দেন। চিঠির উত্তরেও প্রতারণার আশ্রয় নেন ভবন মালিক। ভবনটির আরেকটি নতুন নকশা অনুমোদনের জন্য সিসিকে তিনি আবেদন করেছেন। তার অনুমোদিত নকশা বাতিল করে ১৪ অক্টোবর নোটিশ জারি করে সিসিক।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন