রেজা কিবরিয়া ও নূরের নেতৃত্বে নতুন দলের ঘোষণা কাল
jugantor
রেজা কিবরিয়া ও নূরের নেতৃত্বে নতুন দলের ঘোষণা কাল

  ঢাবি প্রতিনিধি  

২০ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

‘জনতার অধিকার, আমাদের অঙ্গীকার’-স্লোগান সামনে রেখে আগামীকাল বৃহস্পতিবার ‘বাংলাদেশ গণঅধিকার পার্টি’ নামে একটি নতুন দলের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে। এই দলের নেতৃত্বে আছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়ার ছেলে ড. রেজা কিবরিয়া ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি নুরুল হক নূর। দল ঘোষণার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নুরুল হক নূর।

২০১৮ সালে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে আলোচনায় আসেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের অন্যতম যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক। ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে তিনি ভিপি নির্বাচিত হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতির বিষয়ে কথা বলার পাশাপাশি জাতীয় বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বলে আলোচিত-সমালোচিত হয়েছেন। ডাকসুর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেন। এর অংশ হিসাবে যুব অধিকার পরিষদ, শ্রমিক অধিকার পরিষদ, প্রবাসী অধিকার পরিষদ ও পেশাজীবী অধিকার পরিষদ গঠন করেন।

আওয়ামী লীগের ১৯৯৬ সালের সরকারের অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়ার ছেলে ড. রেজা কিবরিয়া ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে আকস্মিকভাবে গণফোরামে যোগ দেন। ওই নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে জোট বেঁধেছিল গণফোরাম। তিনি ঐক্যফ্রন্টের হয়ে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে হবিগঞ্জে প্রার্থীও হন। এরপর গণফোরামের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য করা হয় ড. রেজা কিবরিয়াকে। পরে হন সাধারণ সম্পাদক। এ নিয়ে গণফোরামে দেখা দেয় বিরোধ। চলে বহিষ্কার-পালটা বহিষ্কার। মোস্তফা মহসিন মন্টুসহ একাংশ ক্ষুব্ধ হয়ে দল ভাঙার উদ্যোগও নেন। এই পরিস্থিতিতে ড. কামাল হোসেন দুই পক্ষকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার উদ্যোগ নেন। এর মধ্যেই ড. রেজা কিবরিয়ার পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এখন তিনি নুরুল হক নূরের সঙ্গে নতুন দলের নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছেন।

আগামীকাল পল্টনে অবস্থিত জামান টাওয়ারের ছাত্র অধিকার পরিষদের রাজনৈতিক কার্যালয়ে জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করবে ‘বাংলাদেশ গণঅধিকার পার্টি’। দিনটিতে ড. রেজা কিবরিয়াকে আহ্বায়ক ও আর নুরুল হক নূরকে সদস্য সচিব করে ১০১ বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নুরুল হক নূর যুগান্তরকে বলেন, দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আমাদের রাজনৈতিক দল ‘বাংলাদেশ গণঅধিকার পার্টি’ আনুষ্ঠানিক রূপ পাচ্ছে। আমরা চেয়েছিলাম বড় পরিসরে অনুষ্ঠান করে এর যাত্রা শুরু করতে। এর জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কিংবা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠান করার অনুমতি চেয়ে ডিএমপির কাছে আবেদনও করেছিলাম। প্রথমদিকে তারা তেমন সারা দেয়নি। রোববার ওরা বলেছে, অনুষ্ঠান করা যাবে কিন্তু বৃহস্পতিবার ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট খালি নেই। প্রশাসনিক জটিলতা ও অসহযোগিতার কারণে বাইরে বড় পরিসরে করার যে সিদ্ধন্ত ছিল, সেখান থেকে আমরা সরে এসেছি। এখন পল্টনে ছাত্র অধিকার পরিষদের কার্যালয়ে ছোট পরিসরে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

রাজনৈতিক দলের পদবিন্যাস সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত আমাদের মধ্যে যে আলোচনা হয়েছে তাতে ড. রেজা কিবরিয়াকে আহ্বায়ক ও আমাকে সদস্য সচিব করে ১০১ বা ১৭১ সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা হতে পারে। এছাড়াও এদিন আমাদের দলের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, ঘোষণাপত্র ও কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

আহ্বায়ক কমিটির কার্যক্রমের বিষয়ে তিনি বলেন, আহ্বায়ক কমিটির কাজ হবে সংগঠনকে গড়ে তোলা। নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পাওয়ার জন্য যে রাজনৈতিক কাঠামোর দরকার, তা গড়ে তোলা। জেলা-উপজেলায় কমিটি করাসহ যে কাজগুলো রয়েছে, সেটি করা। এছাড়াও দেশের শিক্ষা, সামাজিক, সাংস্কৃতিকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের যে অবস্থান সেটি ব্যক্ত করা।

রেজা কিবরিয়া ও নূরের নেতৃত্বে নতুন দলের ঘোষণা কাল

 ঢাবি প্রতিনিধি 
২০ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

‘জনতার অধিকার, আমাদের অঙ্গীকার’-স্লোগান সামনে রেখে আগামীকাল বৃহস্পতিবার ‘বাংলাদেশ গণঅধিকার পার্টি’ নামে একটি নতুন দলের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে। এই দলের নেতৃত্বে আছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়ার ছেলে ড. রেজা কিবরিয়া ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি নুরুল হক নূর। দল ঘোষণার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নুরুল হক নূর।

২০১৮ সালে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে আলোচনায় আসেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের অন্যতম যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক। ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে তিনি ভিপি নির্বাচিত হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতির বিষয়ে কথা বলার পাশাপাশি জাতীয় বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বলে আলোচিত-সমালোচিত হয়েছেন। ডাকসুর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেন। এর অংশ হিসাবে যুব অধিকার পরিষদ, শ্রমিক অধিকার পরিষদ, প্রবাসী অধিকার পরিষদ ও পেশাজীবী অধিকার পরিষদ গঠন করেন।

আওয়ামী লীগের ১৯৯৬ সালের সরকারের অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়ার ছেলে ড. রেজা কিবরিয়া ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে আকস্মিকভাবে গণফোরামে যোগ দেন। ওই নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে জোট বেঁধেছিল গণফোরাম। তিনি ঐক্যফ্রন্টের হয়ে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে হবিগঞ্জে প্রার্থীও হন। এরপর গণফোরামের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য করা হয় ড. রেজা কিবরিয়াকে। পরে হন সাধারণ সম্পাদক। এ নিয়ে গণফোরামে দেখা দেয় বিরোধ। চলে বহিষ্কার-পালটা বহিষ্কার। মোস্তফা মহসিন মন্টুসহ একাংশ ক্ষুব্ধ হয়ে দল ভাঙার উদ্যোগও নেন। এই পরিস্থিতিতে ড. কামাল হোসেন দুই পক্ষকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার উদ্যোগ নেন। এর মধ্যেই ড. রেজা কিবরিয়ার পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এখন তিনি নুরুল হক নূরের সঙ্গে নতুন দলের নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছেন।

আগামীকাল পল্টনে অবস্থিত জামান টাওয়ারের ছাত্র অধিকার পরিষদের রাজনৈতিক কার্যালয়ে জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করবে ‘বাংলাদেশ গণঅধিকার পার্টি’। দিনটিতে ড. রেজা কিবরিয়াকে আহ্বায়ক ও আর নুরুল হক নূরকে সদস্য সচিব করে ১০১ বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নুরুল হক নূর যুগান্তরকে বলেন, দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আমাদের রাজনৈতিক দল ‘বাংলাদেশ গণঅধিকার পার্টি’ আনুষ্ঠানিক রূপ পাচ্ছে। আমরা চেয়েছিলাম বড় পরিসরে অনুষ্ঠান করে এর যাত্রা শুরু করতে। এর জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কিংবা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠান করার অনুমতি চেয়ে ডিএমপির কাছে আবেদনও করেছিলাম। প্রথমদিকে তারা তেমন সারা দেয়নি। রোববার ওরা বলেছে, অনুষ্ঠান করা যাবে কিন্তু বৃহস্পতিবার ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট খালি নেই। প্রশাসনিক জটিলতা ও অসহযোগিতার কারণে বাইরে বড় পরিসরে করার যে সিদ্ধন্ত ছিল, সেখান থেকে আমরা সরে এসেছি। এখন পল্টনে ছাত্র অধিকার পরিষদের কার্যালয়ে ছোট পরিসরে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

রাজনৈতিক দলের পদবিন্যাস সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত আমাদের মধ্যে যে আলোচনা হয়েছে তাতে ড. রেজা কিবরিয়াকে আহ্বায়ক ও আমাকে সদস্য সচিব করে ১০১ বা ১৭১ সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা হতে পারে। এছাড়াও এদিন আমাদের দলের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, ঘোষণাপত্র ও কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

আহ্বায়ক কমিটির কার্যক্রমের বিষয়ে তিনি বলেন, আহ্বায়ক কমিটির কাজ হবে সংগঠনকে গড়ে তোলা। নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পাওয়ার জন্য যে রাজনৈতিক কাঠামোর দরকার, তা গড়ে তোলা। জেলা-উপজেলায় কমিটি করাসহ যে কাজগুলো রয়েছে, সেটি করা। এছাড়াও দেশের শিক্ষা, সামাজিক, সাংস্কৃতিকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের যে অবস্থান সেটি ব্যক্ত করা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন