ভুয়া রিট দেখিয়ে ৯৫ লাখ টাকা প্রতারণা
jugantor
দুদকে ভুয়া অভিযোগ
ভুয়া রিট দেখিয়ে ৯৫ লাখ টাকা প্রতারণা
চিকিৎসকের মামলায় গ্রেফতার ২

  রাজশাহী ব্যুরো  

২০ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভুয়া রিট মামলা এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) ভুয়া অভিযোগের কাগজপত্র দেখিয়ে ৯৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তিন প্রতারকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এক চিকিৎসক। মামলা হওয়ার পরপরই দুই প্রতারককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে ডিবি, আয়কর ও ওয়ারেন্ট অফিসার হিসাবে ভুয়া পরিচয় দেওয়া মূল প্রতারককে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি।

রাজশাহী নগরের রাজপাড়া থানায় রোববার রাতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আজিজুল হক তিন প্রতারকের বিরুদ্ধে মামলা করেন। আসামিরা হলেন-মূলহোতা নগরীর তেরখাদিয়া স্টেডিয়াম এলাকার রুবেল সরকার ওরফে রাসেল সরকার, লক্ষ্মীপুর ঝাউতলা মিঠুর মোড়ের তাফসিন আহমেদ ও তার ভাই ফয়সাল আহমেদ।

রাজপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাজহারুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, হাইকোর্টের কথিত রিট ও দুদকে ভুয়া অভিযোগের কপি দেখিয়ে তিন প্রতারক ডা. আজিজুল হকের কাছ থেকে ৯৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। মামলা হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর দুই প্রতারককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে চক্রের মূলহোতা কথিত ডিবি, আয়কর ও ওয়ারেন্ট অফিসার রুবেল সরকার পলাতক আছে। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজপাড়া থানার এসআই কাজল কুমার নন্দী জানান, অভিযান চালিয়ে প্রতারক তাফসিন ও ফয়সালকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালতে পাঠিয়ে তাদের রিমান্ড চাওয়া হবে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ডা. আজিজুল হকের স্ত্রী মাহমুদা খাতুনের বড় বোনের ছেলে তাফসিন ও ফয়সাল আত্মীয়তার সূত্রে প্রায় বাড়িতে আসা-যাওয়া করত। প্রতারণা চক্রের মূলহোতা রুবেল তাদের বন্ধু। কখনো ডিবি, কখনো দুদক বা আয়কর কর্মকর্তা, কখনো ওয়ারেন্ট অফিসার হিসাবে রুবেল নিজেকে পরিচয় দিতেন। রুবেলকে অত্যন্ত ক্ষমতাধর অফিসার হিসাবে দুজন তুলে ধরত।

কিছুদিন আগে হাইকোর্টের কথিত একটি আদেশের কপি হাজির করে প্রতারকরা জানায়, ডা. আজিজুল হকের বিপুল অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধান ও তদন্তে রিট মামলা করেছেন রাসিকের ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতি। এ রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট তার অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানের জন্য আয়কর বিভাগ ও দুদককে নির্দেশ দিয়েছেন বলে তাকে মিথ্যা তথ্য জানায় প্রতারকরা। পাশাপাশি তার অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানের জন্য দুদকে আবেদন করা হয়েছে বলে ভুয়া কপি দেখায় তারা। অভিযোগ পেয়ে সম্পদ অনুসন্ধানে দুদক কমিটিও গঠন করেছে বলে মিথ্যা জানানো হয়। প্রতারকরা জানায়, এসব বিষয় জানাজানি হলে আপনার মতো একজন সুপরিচিত চিকিৎসকের সমাজে মানসম্মান যাবে। তাই তারা বিষয়গুলো দেখবেন। সব অভিযোগের সুরাহা করে দেওয়া হবে। তদবিরের কথা বলে ১৫ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে প্রতারক চক্র ডা. আজিজুলের কাছ থেকে ৯৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। হাইকোর্টের কথিত মামলার ফাইনাল আদেশের কপি চাইলে প্রতারকরা সময়ক্ষেপণ করে। দুদক ও আয়কর বিভাগের অনুসন্ধানের বিষয়ে জানতে চাইলে আরও টাকা দাবি করা হয়। সম্প্রতি প্রতারকদের কথাবার্তায় সন্দেহ হলে বিশ্বস্ত লোক দিয়ে ডা. আজিজুল রাসিক কাউন্সিলর মতির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। মতি জানান, তিনি এ ধরনের কোনো রিট মামলা করেননি। দুদকও কোনো অনুসন্ধান বা তদন্ত করছে না বলে জানা যায়।

এদিকে, টাকার ভাগবাঁটোয়ারা নিয়ে তিন প্রতারকের মাঝে ঝামেলা হয়। প্রতারকদের মোবাইল ফোনের মেসেঞ্জারের কথোপকথনের রেকর্ড পেয়েছেন ডা. আজিজুল। টাকা ফেরত চাইলে তাকে হত্যার হুমকি এবং পরিবারের বড় ধরনের ক্ষতি করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়।

দুদকে ভুয়া অভিযোগ

ভুয়া রিট দেখিয়ে ৯৫ লাখ টাকা প্রতারণা

চিকিৎসকের মামলায় গ্রেফতার ২
 রাজশাহী ব্যুরো 
২০ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভুয়া রিট মামলা এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) ভুয়া অভিযোগের কাগজপত্র দেখিয়ে ৯৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তিন প্রতারকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এক চিকিৎসক। মামলা হওয়ার পরপরই দুই প্রতারককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে ডিবি, আয়কর ও ওয়ারেন্ট অফিসার হিসাবে ভুয়া পরিচয় দেওয়া মূল প্রতারককে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি।

রাজশাহী নগরের রাজপাড়া থানায় রোববার রাতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আজিজুল হক তিন প্রতারকের বিরুদ্ধে মামলা করেন। আসামিরা হলেন-মূলহোতা নগরীর তেরখাদিয়া স্টেডিয়াম এলাকার রুবেল সরকার ওরফে রাসেল সরকার, লক্ষ্মীপুর ঝাউতলা মিঠুর মোড়ের তাফসিন আহমেদ ও তার ভাই ফয়সাল আহমেদ।

রাজপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাজহারুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, হাইকোর্টের কথিত রিট ও দুদকে ভুয়া অভিযোগের কপি দেখিয়ে তিন প্রতারক ডা. আজিজুল হকের কাছ থেকে ৯৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। মামলা হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর দুই প্রতারককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে চক্রের মূলহোতা কথিত ডিবি, আয়কর ও ওয়ারেন্ট অফিসার রুবেল সরকার পলাতক আছে। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজপাড়া থানার এসআই কাজল কুমার নন্দী জানান, অভিযান চালিয়ে প্রতারক তাফসিন ও ফয়সালকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালতে পাঠিয়ে তাদের রিমান্ড চাওয়া হবে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ডা. আজিজুল হকের স্ত্রী মাহমুদা খাতুনের বড় বোনের ছেলে তাফসিন ও ফয়সাল আত্মীয়তার সূত্রে প্রায় বাড়িতে আসা-যাওয়া করত। প্রতারণা চক্রের মূলহোতা রুবেল তাদের বন্ধু। কখনো ডিবি, কখনো দুদক বা আয়কর কর্মকর্তা, কখনো ওয়ারেন্ট অফিসার হিসাবে রুবেল নিজেকে পরিচয় দিতেন। রুবেলকে অত্যন্ত ক্ষমতাধর অফিসার হিসাবে দুজন তুলে ধরত।

কিছুদিন আগে হাইকোর্টের কথিত একটি আদেশের কপি হাজির করে প্রতারকরা জানায়, ডা. আজিজুল হকের বিপুল অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধান ও তদন্তে রিট মামলা করেছেন রাসিকের ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতি। এ রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট তার অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানের জন্য আয়কর বিভাগ ও দুদককে নির্দেশ দিয়েছেন বলে তাকে মিথ্যা তথ্য জানায় প্রতারকরা। পাশাপাশি তার অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানের জন্য দুদকে আবেদন করা হয়েছে বলে ভুয়া কপি দেখায় তারা। অভিযোগ পেয়ে সম্পদ অনুসন্ধানে দুদক কমিটিও গঠন করেছে বলে মিথ্যা জানানো হয়। প্রতারকরা জানায়, এসব বিষয় জানাজানি হলে আপনার মতো একজন সুপরিচিত চিকিৎসকের সমাজে মানসম্মান যাবে। তাই তারা বিষয়গুলো দেখবেন। সব অভিযোগের সুরাহা করে দেওয়া হবে। তদবিরের কথা বলে ১৫ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে প্রতারক চক্র ডা. আজিজুলের কাছ থেকে ৯৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। হাইকোর্টের কথিত মামলার ফাইনাল আদেশের কপি চাইলে প্রতারকরা সময়ক্ষেপণ করে। দুদক ও আয়কর বিভাগের অনুসন্ধানের বিষয়ে জানতে চাইলে আরও টাকা দাবি করা হয়। সম্প্রতি প্রতারকদের কথাবার্তায় সন্দেহ হলে বিশ্বস্ত লোক দিয়ে ডা. আজিজুল রাসিক কাউন্সিলর মতির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। মতি জানান, তিনি এ ধরনের কোনো রিট মামলা করেননি। দুদকও কোনো অনুসন্ধান বা তদন্ত করছে না বলে জানা যায়।

এদিকে, টাকার ভাগবাঁটোয়ারা নিয়ে তিন প্রতারকের মাঝে ঝামেলা হয়। প্রতারকদের মোবাইল ফোনের মেসেঞ্জারের কথোপকথনের রেকর্ড পেয়েছেন ডা. আজিজুল। টাকা ফেরত চাইলে তাকে হত্যার হুমকি এবং পরিবারের বড় ধরনের ক্ষতি করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন