পঞ্চমবার নিলামে উঠছে ১১০ বিলাসবহুল গাড়ি
jugantor
চট্টগ্রাম বন্দর
পঞ্চমবার নিলামে উঠছে ১১০ বিলাসবহুল গাড়ি
প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি নিলাম হবে অনলাইনে

  মজুমদার নাজিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম  

২২ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বন্দরে দীর্ঘদিন পড়ে থাকা বিলাসবহুল ১১০টি গাড়ি আবার নিলামে তুলছে কাস্টম হাউস কর্তৃপক্ষ। এসব গাড়ি বিদেশে থেকে ‘কারনেট ডি প্যাসেজ’ সুবিধায় দেশে আনার পর আর খালাস নেওয়া হয়নি। এর আগে চারবার নিলাম ডেকেও প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় গাড়িগুলো বিক্রি করতে পারেনি চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশে এবার পঞ্চমবারের মতো নিলামের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ৩ ও ৪ নভেম্বর গাড়িগুলো নিলামে বিক্রি করা হবে। এনবিআর ও চট্টগ্রাম বন্দরের ওয়েসবাইটে নিলাম সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে। এবার প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি অনলাইনেও (ই-অকশন) চলবে নিলাম কার্যক্রম।

সংশ্লিষ্টরা জানান, নিলামে তোলা গাড়ির সবই বিশ্বের বিভিন্ন নামি-দামি ব্রান্ডের। এর মধ্যে রয়েছে বিএমডব্লিউ, মার্সিডিজ-বেঞ্জ, ল্যান্ড ক্রুজার, ল্যান্ড রোভার, জাগুয়ার, লেক্সাস ও মিতসুবিশি। সবচেয়ে দামি হলো যুক্তরাজ্যের তৈরি ল্যান্ড রোভার গাড়ি। এ ধরনের সাতটি গাড়ি রয়েছে। ১১০টি গাড়ির অর্ধেকই মার্সিডিজ বেঞ্জ ও বিএমডব্লিউ ব্রান্ডের। পর্যটক সুবিধার জন্য এসব গাড়ি এনেছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ পর্যটকরা। ব্যাংক গ্যারান্টি দিয়ে খালাসের শর্ত আরোপ করার পর আর খালাস নেননি তারা। সেই থেকে এগুলোর কোনোটি খোলা আবার কোনোটি কনটেইনারে রয়েছে।

দামি এবং বিলাসবহুল হলেও এক দশক ধরে পড়ে থাকায় অনেক গাড়ির যন্ত্রাংশ অকেজো হয়ে পড়েছে। কিছু গাড়ির চাবি নেই। ১৫টি গাড়ি তৈরির পাঁচ বছরের কম সময়ে বন্দর দিয়ে আমদানি হওয়ায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র লাগবে না। বাকি গাড়িগুলোর জন্য দরকার হবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র, যা ক্রেতাকে নিজ উদ্যোগে সংগ্রহ করতে হবে। খুচরা যন্ত্রাংশের অপ্রতুলতা এবং কেনার পর চলাচল উপযোগী করা সম্ভব হবে কিনা, এসব বিষয়ে সংশয়ে থাকায় ক্রেতারা বিলাসবহুল এসব গাড়ি কিনতে আগ্রহী হচ্ছেন না বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। বিক্রি না হওয়ার নেপথ্যে কেউ কেউ নিলাম ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় সিন্ডিকেটের কারসাজিকেও দায়ী করছেন।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস সূত্র জানায়, আগ্রহী কেউ গাড়ি দেখতে চাইলে জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্টের ছবিসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করে আগে থেকে পাস নিতে হবে। গাড়ি পরিদর্শনের তিন দিন আগে আবেদন করতে হবে। গাড়ি পরিদর্শনের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২৭, ২৮ অক্টোবর এবং ৩১ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত। নিলাম থেকে কেউ গাড়ি কিনতে চাইলে তাকে টেন্ডার জমা দিতে হবে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও মোংলায় কাস্টম অফিসে রাখা টেন্ডার বাক্সে টেন্ডার আবেদন খামে জমা দিতে হবে। তবে যারা ই-অকশনে অংশ নেবেন, তাদের বাক্সে টেন্ডার জমা দিতে হবে না। আর যারা টেন্ডার বাক্সে দরপত্র দাখিল করবেন, তাদের ই-অকশনে দরপত্র দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের যুগ্ম কমিশনার মো. তোফায়েল আহমেদ জানান, কারনেট সুবিধায় আমদানিকৃত গাড়িসমূহ নিষ্পত্তির জন্য গত ২৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস, কাস্টম মূল্যায়ন ও অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কমিশনারেট, কাস্টস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি কারনেট সুবিধায় আনা গাড়িগুলো পরিদর্শন শেষে প্রতিবেদন এনবিআরে দাখিল করে। পরে এনবিআর নিলামের উদ্যোগ নিতে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসকে নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে নামি-দামি ব্রান্ডের গাড়িগুলো আবার নিলামে তোলা হচ্ছে। নিলাম প্রক্রিয়া অধিকতর স্বচ্ছ ও যুগোপযোগী করতে প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি ই-অকশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ ফখরুল আলম বৃহস্পতিবার গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, এর আগে নিলামে বিলাসবহুল এসব গাড়ির দাম ভিত্তিমূল্যের চেয়েও অনেক কম উঠেছিল, যা অস্বাভাবিক। এবার আমরা আশা করছি, প্রত্যাশিত দাম পাব এবং গাড়িগুলো বিক্রি করা হয়তো সম্ভব হবে।

চট্টগ্রাম বন্দর

পঞ্চমবার নিলামে উঠছে ১১০ বিলাসবহুল গাড়ি

প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি নিলাম হবে অনলাইনে
 মজুমদার নাজিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম 
২২ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বন্দরে দীর্ঘদিন পড়ে থাকা বিলাসবহুল ১১০টি গাড়ি আবার নিলামে তুলছে কাস্টম হাউস কর্তৃপক্ষ। এসব গাড়ি বিদেশে থেকে ‘কারনেট ডি প্যাসেজ’ সুবিধায় দেশে আনার পর আর খালাস নেওয়া হয়নি। এর আগে চারবার নিলাম ডেকেও প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় গাড়িগুলো বিক্রি করতে পারেনি চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশে এবার পঞ্চমবারের মতো নিলামের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ৩ ও ৪ নভেম্বর গাড়িগুলো নিলামে বিক্রি করা হবে। এনবিআর ও চট্টগ্রাম বন্দরের ওয়েসবাইটে নিলাম সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে। এবার প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি অনলাইনেও (ই-অকশন) চলবে নিলাম কার্যক্রম।

সংশ্লিষ্টরা জানান, নিলামে তোলা গাড়ির সবই বিশ্বের বিভিন্ন নামি-দামি ব্রান্ডের। এর মধ্যে রয়েছে বিএমডব্লিউ, মার্সিডিজ-বেঞ্জ, ল্যান্ড ক্রুজার, ল্যান্ড রোভার, জাগুয়ার, লেক্সাস ও মিতসুবিশি। সবচেয়ে দামি হলো যুক্তরাজ্যের তৈরি ল্যান্ড রোভার গাড়ি। এ ধরনের সাতটি গাড়ি রয়েছে। ১১০টি গাড়ির অর্ধেকই মার্সিডিজ বেঞ্জ ও বিএমডব্লিউ ব্রান্ডের। পর্যটক সুবিধার জন্য এসব গাড়ি এনেছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ পর্যটকরা। ব্যাংক গ্যারান্টি দিয়ে খালাসের শর্ত আরোপ করার পর আর খালাস নেননি তারা। সেই থেকে এগুলোর কোনোটি খোলা আবার কোনোটি কনটেইনারে রয়েছে।

দামি এবং বিলাসবহুল হলেও এক দশক ধরে পড়ে থাকায় অনেক গাড়ির যন্ত্রাংশ অকেজো হয়ে পড়েছে। কিছু গাড়ির চাবি নেই। ১৫টি গাড়ি তৈরির পাঁচ বছরের কম সময়ে বন্দর দিয়ে আমদানি হওয়ায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র লাগবে না। বাকি গাড়িগুলোর জন্য দরকার হবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র, যা ক্রেতাকে নিজ উদ্যোগে সংগ্রহ করতে হবে। খুচরা যন্ত্রাংশের অপ্রতুলতা এবং কেনার পর চলাচল উপযোগী করা সম্ভব হবে কিনা, এসব বিষয়ে সংশয়ে থাকায় ক্রেতারা বিলাসবহুল এসব গাড়ি কিনতে আগ্রহী হচ্ছেন না বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। বিক্রি না হওয়ার নেপথ্যে কেউ কেউ নিলাম ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় সিন্ডিকেটের কারসাজিকেও দায়ী করছেন।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস সূত্র জানায়, আগ্রহী কেউ গাড়ি দেখতে চাইলে জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্টের ছবিসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করে আগে থেকে পাস নিতে হবে। গাড়ি পরিদর্শনের তিন দিন আগে আবেদন করতে হবে। গাড়ি পরিদর্শনের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২৭, ২৮ অক্টোবর এবং ৩১ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত। নিলাম থেকে কেউ গাড়ি কিনতে চাইলে তাকে টেন্ডার জমা দিতে হবে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও মোংলায় কাস্টম অফিসে রাখা টেন্ডার বাক্সে টেন্ডার আবেদন খামে জমা দিতে হবে। তবে যারা ই-অকশনে অংশ নেবেন, তাদের বাক্সে টেন্ডার জমা দিতে হবে না। আর যারা টেন্ডার বাক্সে দরপত্র দাখিল করবেন, তাদের ই-অকশনে দরপত্র দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের যুগ্ম কমিশনার মো. তোফায়েল আহমেদ জানান, কারনেট সুবিধায় আমদানিকৃত গাড়িসমূহ নিষ্পত্তির জন্য গত ২৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস, কাস্টম মূল্যায়ন ও অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কমিশনারেট, কাস্টস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি কারনেট সুবিধায় আনা গাড়িগুলো পরিদর্শন শেষে প্রতিবেদন এনবিআরে দাখিল করে। পরে এনবিআর নিলামের উদ্যোগ নিতে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসকে নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে নামি-দামি ব্রান্ডের গাড়িগুলো আবার নিলামে তোলা হচ্ছে। নিলাম প্রক্রিয়া অধিকতর স্বচ্ছ ও যুগোপযোগী করতে প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি ই-অকশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ ফখরুল আলম বৃহস্পতিবার গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, এর আগে নিলামে বিলাসবহুল এসব গাড়ির দাম ভিত্তিমূল্যের চেয়েও অনেক কম উঠেছিল, যা অস্বাভাবিক। এবার আমরা আশা করছি, প্রত্যাশিত দাম পাব এবং গাড়িগুলো বিক্রি করা হয়তো সম্ভব হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন