বৃষ্টি ও উজানের ঢলে বিপর্যস্ত ভবদহের মানুষ
jugantor
বৃষ্টি ও উজানের ঢলে বিপর্যস্ত ভবদহের মানুষ

  মোতাহার হোসেন, মনিরামপুর (যশোর)  

২২ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মঙ্গলবার ভোরে ষাটোর্ধ্ব রোকেয়া বেগমের মৃত্যু হয়। বাড়ির উঠানে কোমরসমান পানি। বাধ্য হয়ে ঘরের ভেতরে মৃতের গোসল করাতে হয়েছে। পারিবারিক কবরস্থান পানিতে নিমজ্জিত থাকায় দাফনকার্য অন্যত্র করতে হয়েছে। এ ঘটনা ঘটে অভিশপ্ত ভবদহে। যশোরের মনিরামপুর উপজেলার আম্রঝুটা গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী তিনি। বাড়িঘর পানিতে নিমজ্জিত থাকায় ৫ অক্টোবর উপজেলার পাঁচকাটিয়া গ্রামের পলাশ রায়ের স্ত্রী (২৩) টিউবওয়েল থেকে পানি নিয়ে ফেরার সময় পা পিছলে গুরুতর আঘাত পেয়ে মারা যান। ৮ অক্টোবর উপজেলার নেবুগাতি গ্রামের নিলু বাইনের স্ত্রী বৃদ্ধা যমুনা বাইন (৮৯) নৌকায় ওঠার সময় পড়ে গিয়ে মারা যান। এখানে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং গো-খাদ্যের চরম সংকট রয়েছে। মৃতের দাফন-সৎকারের সমস্যা তো আছেই।

চার দশক ধরে জলাবদ্ধতার কবলে যশোরের মনিরামপুর-কেশবপুর, খুলনার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা থানার ৮০টি গ্রামের বাসিন্দা। ভবদহ এলাকা সংলগ্ন প্রায় সবকটি বিল ছাপিয়ে পানিতে বসতবাড়ি স্থায়ী জলাবদ্ধতায় পড়েছে। ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির মশিয়াহাটি আঞ্চলিক কমিটির আহ্বায়ক শিক্ষক উৎপল বিশ্বাস জানান, হঠাৎ করে বৃষ্টি ও উজানের ঢলে ভবদহ বিলপার সংলগ্ন গ্রামগুলোয় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষ খাদ্য, চিকিৎসা এবং বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়েছে। এসব ব্যাপারে সরকারি-বেসরকারি পর্যায় থেকে পানিবন্দি মানুষের খোঁজ নিচ্ছেন না। অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে রাস্তা অথবা উঁচু কোনো স্থানে টংঘর বেঁধে কোনো রকম মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

মানুষ মারা গেলে দাফন করার জায়গা মিলছে না। অনেক মৃত ব্যক্তির দাফন করতে দূরের কোথাও নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির সদস্য সচিব চৈতন্য পাল জানান, ভবদহের সমস্যার কারণে মানুষ যে অবস্থায় ছিল, হঠাৎ কদিনের বৃষ্টিতে জল বেড়ে যাওয়ায় মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এ মুহূর্তে আমডাঙ্গা খাল স্রোতোধারা সৃষ্টির জন্য যা করণীয় তাই করার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সংগঠনটির। মঙ্গলবার ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি মশিয়াহাটি হাইস্কুলে এক মিটিং করা হয়। পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক রনজিত বাওয়ালী জানান, এ মুহূর্তে ভবদহ অঞ্চলের মানুষ বাঁচাতে ভবদহের ২১ ভেল্টের কপাট খুলে দেওয়ার বিকল্প নেই। এছাড়া আমডাঙ্গা খাল জলধারা তৈরি করতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এ অঞ্চলের স্থায়ী জলাবদ্ধতার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দায়ী করে রনজিত বাওয়ালী বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ভবদহের সমস্যাকে জিইয়ে রেখে ব্যবসা-বাণিজ্য করে চলেছে। এর সঙ্গে এলাকার কিছু নামধারী নেতা ও জনপ্রতিনিধি জড়িত থাকার অভিযোগ করেন তিনি। সমস্যা সমাধানে দ্রুত টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) চালু, আমডাঙ্গা খাল খনন এবং শ্রী-হরি নদীর স্লুইসগেটের দক্ষিণ অংশের পলি অপসারণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তাওহিদুল ইসলাম জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড এ মুহূর্তে ২১ ভেল্টের মধ্য থেকে কয়েকটি ভেল্টের কপাট খুলে দিয়েছে।

বৃষ্টি ও উজানের ঢলে বিপর্যস্ত ভবদহের মানুষ

 মোতাহার হোসেন, মনিরামপুর (যশোর) 
২২ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মঙ্গলবার ভোরে ষাটোর্ধ্ব রোকেয়া বেগমের মৃত্যু হয়। বাড়ির উঠানে কোমরসমান পানি। বাধ্য হয়ে ঘরের ভেতরে মৃতের গোসল করাতে হয়েছে। পারিবারিক কবরস্থান পানিতে নিমজ্জিত থাকায় দাফনকার্য অন্যত্র করতে হয়েছে। এ ঘটনা ঘটে অভিশপ্ত ভবদহে। যশোরের মনিরামপুর উপজেলার আম্রঝুটা গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী তিনি। বাড়িঘর পানিতে নিমজ্জিত থাকায় ৫ অক্টোবর উপজেলার পাঁচকাটিয়া গ্রামের পলাশ রায়ের স্ত্রী (২৩) টিউবওয়েল থেকে পানি নিয়ে ফেরার সময় পা পিছলে গুরুতর আঘাত পেয়ে মারা যান। ৮ অক্টোবর উপজেলার নেবুগাতি গ্রামের নিলু বাইনের স্ত্রী বৃদ্ধা যমুনা বাইন (৮৯) নৌকায় ওঠার সময় পড়ে গিয়ে মারা যান। এখানে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং গো-খাদ্যের চরম সংকট রয়েছে। মৃতের দাফন-সৎকারের সমস্যা তো আছেই।

চার দশক ধরে জলাবদ্ধতার কবলে যশোরের মনিরামপুর-কেশবপুর, খুলনার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা থানার ৮০টি গ্রামের বাসিন্দা। ভবদহ এলাকা সংলগ্ন প্রায় সবকটি বিল ছাপিয়ে পানিতে বসতবাড়ি স্থায়ী জলাবদ্ধতায় পড়েছে। ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির মশিয়াহাটি আঞ্চলিক কমিটির আহ্বায়ক শিক্ষক উৎপল বিশ্বাস জানান, হঠাৎ করে বৃষ্টি ও উজানের ঢলে ভবদহ বিলপার সংলগ্ন গ্রামগুলোয় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষ খাদ্য, চিকিৎসা এবং বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়েছে। এসব ব্যাপারে সরকারি-বেসরকারি পর্যায় থেকে পানিবন্দি মানুষের খোঁজ নিচ্ছেন না। অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে রাস্তা অথবা উঁচু কোনো স্থানে টংঘর বেঁধে কোনো রকম মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

মানুষ মারা গেলে দাফন করার জায়গা মিলছে না। অনেক মৃত ব্যক্তির দাফন করতে দূরের কোথাও নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির সদস্য সচিব চৈতন্য পাল জানান, ভবদহের সমস্যার কারণে মানুষ যে অবস্থায় ছিল, হঠাৎ কদিনের বৃষ্টিতে জল বেড়ে যাওয়ায় মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এ মুহূর্তে আমডাঙ্গা খাল স্রোতোধারা সৃষ্টির জন্য যা করণীয় তাই করার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সংগঠনটির। মঙ্গলবার ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি মশিয়াহাটি হাইস্কুলে এক মিটিং করা হয়। পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক রনজিত বাওয়ালী জানান, এ মুহূর্তে ভবদহ অঞ্চলের মানুষ বাঁচাতে ভবদহের ২১ ভেল্টের কপাট খুলে দেওয়ার বিকল্প নেই। এছাড়া আমডাঙ্গা খাল জলধারা তৈরি করতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এ অঞ্চলের স্থায়ী জলাবদ্ধতার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দায়ী করে রনজিত বাওয়ালী বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ভবদহের সমস্যাকে জিইয়ে রেখে ব্যবসা-বাণিজ্য করে চলেছে। এর সঙ্গে এলাকার কিছু নামধারী নেতা ও জনপ্রতিনিধি জড়িত থাকার অভিযোগ করেন তিনি। সমস্যা সমাধানে দ্রুত টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) চালু, আমডাঙ্গা খাল খনন এবং শ্রী-হরি নদীর স্লুইসগেটের দক্ষিণ অংশের পলি অপসারণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তাওহিদুল ইসলাম জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড এ মুহূর্তে ২১ ভেল্টের মধ্য থেকে কয়েকটি ভেল্টের কপাট খুলে দিয়েছে।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন