হত্যায় অংশ নেওয়া দু’জন ‘চিহ্নিত’
jugantor
সিলেটে ছুরি মেরে কলেজছাত্র খুন
হত্যায় অংশ নেওয়া দু’জন ‘চিহ্নিত’
ছাত্রলীগকর্মী সাদী ও তার সহযোগী তানভীরকে খুঁজছে পুলিশ * তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন কলেজ কর্তৃপক্ষের

  সিলেট ব্যুরো  

২৩ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা কলেজ ক্যাম্পাসের ভেতরে এক শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাতে খুনের ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া দুজনকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। হত্যাকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। এদের মধ্যে একজন ছাত্রলীগ কর্মী বলে জানা গেছে।

সিলেট মহানগর পুলিশের দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার যুগান্তরকে বলেন, প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে আমরা হত্যাকারী দুজনকে চিহ্নিত করতে পেরেছি। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ লাশ দাফন হবে। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে শুক্রবার রাতেই মামলা করা হয়েছে। চিহ্নিত হওয়া দুজনের নাম প্রকাশ করেননি ওসি। তবে প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, এদের একজনের নাম সামসুদ্দোহা সাদী ও অপরজনের নাম তানভীর আহমদ।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিবারিক সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে চাচাতো ভাই রাফিকে নিয়ে কলেজে যান আরিফুল ইসলাম রাহাত। কলেজ থেকে তারা যখন বের হয়ে আসছিলেন তখন সিলভার রংয়ের একটি মোটরসাইকেল নিয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকেন সাদী ও তানভীর। কলেজের ফটকের ২০-২৫ গজ ভেতরে রাহাতকে দেখতে পেয়ে মোটরসাইকেল থামান তারা। এরপর সাইকেল থেকে নেমেই রাহাতের উরুতে ছুরিকাঘাত করেন সাদী। সঙ্গে সঙ্গেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন রাহাত। রক্তে ভেসে যায় পুরো এলাকা। এরপর সহপাঠীরা রাহাতকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ষোষণা করেন। ছুরিকাঘাতের পরই মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায় সাদী ও তানভীর।

দক্ষিণ সুরমা কলেজ সূত্র জানায়, মূল অভিযুক্ত সাদী এ কলেজের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী ছিলেন। উচ্ছৃঙ্খল কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাকে কলেজ থেকে বহিষ্কার করা হয়। সাদী ছাত্রলীগের কর্মী বলে জানা গেছে। তিনি সিলেট ছাত্রলীগের কাস্মীর বলয়ের সঙ্গে যুক্ত বলে জানিয়েছে একটি সূত্র। সাদী দক্ষিণ সুরমার মোগলাবাজার থানা এলাকার সিলাম পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা। তার সঙ্গে থাকা তানভীর একই এলাকার জালাল মিয়ার ছেলে। ঘটনার পর সাদী ও তানভীর গা-ঢাকা দিয়েছে। তবে পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান চিহ্নিত করতে কাজ করছে। নিহত রাহাত দক্ষিণ সুরমা উপজেলার পুরাতন তেতলি এলাকার সৌদি প্রবাসী সুরমান আলীর একমাত্র ছেলে।

এ ঘটনায় দক্ষিণ সুরমা কলেজের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ তথ্য জানিয়ে কলেজ অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম বলেন, কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া কলেজে তিন দিনের জন্য পাঠদান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে পরীক্ষা চলবে। রাহাতের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন অধ্যক্ষ।

সিলেটে ছুরি মেরে কলেজছাত্র খুন

হত্যায় অংশ নেওয়া দু’জন ‘চিহ্নিত’

ছাত্রলীগকর্মী সাদী ও তার সহযোগী তানভীরকে খুঁজছে পুলিশ * তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন কলেজ কর্তৃপক্ষের
 সিলেট ব্যুরো 
২৩ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা কলেজ ক্যাম্পাসের ভেতরে এক শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাতে খুনের ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া দুজনকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। হত্যাকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। এদের মধ্যে একজন ছাত্রলীগ কর্মী বলে জানা গেছে।

সিলেট মহানগর পুলিশের দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার যুগান্তরকে বলেন, প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে আমরা হত্যাকারী দুজনকে চিহ্নিত করতে পেরেছি। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ লাশ দাফন হবে। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে শুক্রবার রাতেই মামলা করা হয়েছে। চিহ্নিত হওয়া দুজনের নাম প্রকাশ করেননি ওসি। তবে প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, এদের একজনের নাম সামসুদ্দোহা সাদী ও অপরজনের নাম তানভীর আহমদ।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিবারিক সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে চাচাতো ভাই রাফিকে নিয়ে কলেজে যান আরিফুল ইসলাম রাহাত। কলেজ থেকে তারা যখন বের হয়ে আসছিলেন তখন সিলভার রংয়ের একটি মোটরসাইকেল নিয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকেন সাদী ও তানভীর। কলেজের ফটকের ২০-২৫ গজ ভেতরে রাহাতকে দেখতে পেয়ে মোটরসাইকেল থামান তারা। এরপর সাইকেল থেকে নেমেই রাহাতের উরুতে ছুরিকাঘাত করেন সাদী। সঙ্গে সঙ্গেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন রাহাত। রক্তে ভেসে যায় পুরো এলাকা। এরপর সহপাঠীরা রাহাতকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ষোষণা করেন। ছুরিকাঘাতের পরই মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায় সাদী ও তানভীর।

দক্ষিণ সুরমা কলেজ সূত্র জানায়, মূল অভিযুক্ত সাদী এ কলেজের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী ছিলেন। উচ্ছৃঙ্খল কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাকে কলেজ থেকে বহিষ্কার করা হয়। সাদী ছাত্রলীগের কর্মী বলে জানা গেছে। তিনি সিলেট ছাত্রলীগের কাস্মীর বলয়ের সঙ্গে যুক্ত বলে জানিয়েছে একটি সূত্র। সাদী দক্ষিণ সুরমার মোগলাবাজার থানা এলাকার সিলাম পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা। তার সঙ্গে থাকা তানভীর একই এলাকার জালাল মিয়ার ছেলে। ঘটনার পর সাদী ও তানভীর গা-ঢাকা দিয়েছে। তবে পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান চিহ্নিত করতে কাজ করছে। নিহত রাহাত দক্ষিণ সুরমা উপজেলার পুরাতন তেতলি এলাকার সৌদি প্রবাসী সুরমান আলীর একমাত্র ছেলে।

এ ঘটনায় দক্ষিণ সুরমা কলেজের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ তথ্য জানিয়ে কলেজ অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম বলেন, কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া কলেজে তিন দিনের জন্য পাঠদান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে পরীক্ষা চলবে। রাহাতের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন অধ্যক্ষ।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন