দুই বছরে ৬৮ মৃত ডলফিন উদ্ধার
jugantor
আন্তর্জাতিক মিঠা পানির ডলফিন দিবস আজ
দুই বছরে ৬৮ মৃত ডলফিন উদ্ধার

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৪ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অতিবিপন্ন প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী ডলফিন। নদী-সাগরে নৌযানের আঘাত, জেলেদের জালে আটকা পড়া, পরিবেশ দূষণসহ নানা কারণে প্রতিবছর নিরীহ প্রাণীটির মৃত্যু হচ্ছে। গত দুই বছরে কক্সবাজার ও কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত এবং হালদা নদীতে ৬৮টি মৃত ডলফিন উদ্ধার করা হয়েছে। এমন বাস্তবতায় আজ পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মিঠা পানির ডলফিন দিবস। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) : দেশের অন্যতম প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র চট্টগ্রামের হালদা নদীতে অবৈধভাবে চলাচলরত বালুবাহী নৌকা ও ড্রেজারের আঘাত, দূষণ ও নিষিদ্ধ জালে আটকা পড়ে প্রতিনিয়ত ডলফিনের মৃত্যু হচ্ছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সভাপতি ও হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরির কো-অর্ডিনেটর ড. মনজুরুল কিবরিয়া জানান, ২০২০ সালে জরিপ চালিয়ে হালদায় ১২৭টির মতো ডলফিন মিলেছিল। এর দুই বছর আগে ২০১৮ সালের জরিপে ছিল ১৬৭টি। এছাড়া ২০১৭ সালে ২০০টি ডলফিন ছিল বলে অনুমান করেছিলেন জরিপ কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। মাত্র চার বছরে ৩১টি ডলফিনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গত দুবছরে মারা গেছে তিনটি করে ছয়টি ডলফিন। তিনি জানান, এভাবে মরতে থাকলে তা ডলফিনের সংখ্যায় বড় প্রভাব পড়বে। এখনই রক্ষা করা না গেলে হালদা ডলফিন শূন্য হয়ে যাবে। ডলফিন বাঁচাতে নদীতীরের বাসিন্দাদের সচেতনতাই একমাত্র পথ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আজ চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে দ্বিতীয়বারের মতো ‘বিশ্ব মিঠা পানির ডলফিন দিবস’ পালিত হবে। এ উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম বন বিভাগ (বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ) হাটহাজারী উপজেলার গড়দুয়ারায় ড. শহীদুল্লাহ একাডেমিতে সচেতনতামূলক আলোচনাসভার আয়োজন করেছে।

কক্সবাজার : জীববৈচিত্র্য নিয়ে কাজ করা পরিবেশবাদী সংগঠন সেভ দ্য নেচার অব বাংলাদেশের হিসাব অনুযায়ী, গত দুই বছরে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতসহ টেকনাফ, উখিয়া, মাতারবাড়ী, কুতুবদিয়া উপজেলা ও সেন্টমার্টিনের সমুদ্রসৈকত থেকে ২৭টি মৃত ডলফিন উদ্ধার করা হয়েছে। সেগুলোর বেশির ভাগের গায়ে আঘাতের চিহ্ন ছিল।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জেলেদের মাছ ধরার যেসব জাল সাগরে ও সৈকতে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে দেওয়া হয়, সেগুলোয় জড়িয়ে প্রতিবছর সাগরে ও নদীতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সামুদ্রিক প্রাণী যেমন: ডলফিন, হাঙর, কচ্ছপ, কাঁকড়ার মৃত্যু হয়। সেভ দ্য নেচার বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আ ন ম মোয়াজ্জেম হোসেন রিয়াদ জানান, সমুদ্রে প্লাস্টিক বর্জ্যরে কারণে পানির অতিরিক্ত দূষণেও ডলফিনের মৃত্যু বেড়েছে।

কক্সবাজার ও সেন্টমার্টিন উপকূলে ২০ বছর ধরে মাছ ধরেন আলম ও শামশু আলম মাঝি। তারা বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে একটা পিঁপড়াও আমরা মারি না। কিন্তু অনেক সময় সমুদ্রে চলন্ত ফিশিং বোটের আঘাতে বা জেলেদের জালে প্যাঁচিয়ে ডলফিনের মৃত্যু হয়। বাংলাদেশ মৎস্য অধিদপ্তরের সামুদ্রিক শাখার উপপ্রধান ড. মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেন, কক্সবাজার সৈকতে এত সংখ্যক ডলফিন মৃত্যু হয়ে থাকলে তা দুঃখজনক।

কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) : কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির সদস্য আবুল হোসেন রাজু জানান, ২০১৮ সালে ৪৫ ফুট লম্বা একটি তিমিসহ তিনটি ডলফিন, ২০১৯ সালে পাঁচটি ডলফিন, ২০২০ সালে ১২টি ডলফিন এবং চলতি বছর এ পর্যন্ত ২৩টি মৃত ডলফিন ভেসে আসে। সর্বশেষ গত ২৯ সেপ্টেম্বর সাত ফুট দৈর্ঘ্যরে একটি মৃত ডলফিন পাওয়া যায়। কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির টিম লিডার রুমান ইমতিয়াজ তুষার যুগান্তরকে জানান, সাগরের ট্রলিং বোট ও ট্রলারের ধাক্কায় এমনকি সাগরে মাছ ধরা জেলেদের জালে জড়িয়ে অথবা সামুদ্রিক বিষাক্ত শৈবাল খেয়ে এসব ডলফিন মারা পড়তে পারে বলে তাদের ধারণা।

ওয়ার্ল্ডফিশের ইকোফিশ ২ প্রকল্পের সহযোগী গবেষক সাগরিকা স্মৃতি বলেন, গত দুবছরে যেসব মৃত ডলফিন কুয়াকাটা সৈকতে পাওয়া গেছে এর অধিকাংশের শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। এছাড়া জালে আটকে মারা যাওয়ার একাধিক প্রমাণ রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

আন্তর্জাতিক মিঠা পানির ডলফিন দিবস আজ

দুই বছরে ৬৮ মৃত ডলফিন উদ্ধার

 যুগান্তর ডেস্ক 
২৪ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অতিবিপন্ন প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী ডলফিন। নদী-সাগরে নৌযানের আঘাত, জেলেদের জালে আটকা পড়া, পরিবেশ দূষণসহ নানা কারণে প্রতিবছর নিরীহ প্রাণীটির মৃত্যু হচ্ছে। গত দুই বছরে কক্সবাজার ও কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত এবং হালদা নদীতে ৬৮টি মৃত ডলফিন উদ্ধার করা হয়েছে। এমন বাস্তবতায় আজ পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মিঠা পানির ডলফিন দিবস। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) : দেশের অন্যতম প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র চট্টগ্রামের হালদা নদীতে অবৈধভাবে চলাচলরত বালুবাহী নৌকা ও ড্রেজারের আঘাত, দূষণ ও নিষিদ্ধ জালে আটকা পড়ে প্রতিনিয়ত ডলফিনের মৃত্যু হচ্ছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সভাপতি ও হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরির কো-অর্ডিনেটর ড. মনজুরুল কিবরিয়া জানান, ২০২০ সালে জরিপ চালিয়ে হালদায় ১২৭টির মতো ডলফিন মিলেছিল। এর দুই বছর আগে ২০১৮ সালের জরিপে ছিল ১৬৭টি। এছাড়া ২০১৭ সালে ২০০টি ডলফিন ছিল বলে অনুমান করেছিলেন জরিপ কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। মাত্র চার বছরে ৩১টি ডলফিনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গত দুবছরে মারা গেছে তিনটি করে ছয়টি ডলফিন। তিনি জানান, এভাবে মরতে থাকলে তা ডলফিনের সংখ্যায় বড় প্রভাব পড়বে। এখনই রক্ষা করা না গেলে হালদা ডলফিন শূন্য হয়ে যাবে। ডলফিন বাঁচাতে নদীতীরের বাসিন্দাদের সচেতনতাই একমাত্র পথ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আজ চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে দ্বিতীয়বারের মতো ‘বিশ্ব মিঠা পানির ডলফিন দিবস’ পালিত হবে। এ উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম বন বিভাগ (বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ) হাটহাজারী উপজেলার গড়দুয়ারায় ড. শহীদুল্লাহ একাডেমিতে সচেতনতামূলক আলোচনাসভার আয়োজন করেছে।

কক্সবাজার : জীববৈচিত্র্য নিয়ে কাজ করা পরিবেশবাদী সংগঠন সেভ দ্য নেচার অব বাংলাদেশের হিসাব অনুযায়ী, গত দুই বছরে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতসহ টেকনাফ, উখিয়া, মাতারবাড়ী, কুতুবদিয়া উপজেলা ও সেন্টমার্টিনের সমুদ্রসৈকত থেকে ২৭টি মৃত ডলফিন উদ্ধার করা হয়েছে। সেগুলোর বেশির ভাগের গায়ে আঘাতের চিহ্ন ছিল।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জেলেদের মাছ ধরার যেসব জাল সাগরে ও সৈকতে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে দেওয়া হয়, সেগুলোয় জড়িয়ে প্রতিবছর সাগরে ও নদীতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সামুদ্রিক প্রাণী যেমন: ডলফিন, হাঙর, কচ্ছপ, কাঁকড়ার মৃত্যু হয়। সেভ দ্য নেচার বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আ ন ম মোয়াজ্জেম হোসেন রিয়াদ জানান, সমুদ্রে প্লাস্টিক বর্জ্যরে কারণে পানির অতিরিক্ত দূষণেও ডলফিনের মৃত্যু বেড়েছে।

কক্সবাজার ও সেন্টমার্টিন উপকূলে ২০ বছর ধরে মাছ ধরেন আলম ও শামশু আলম মাঝি। তারা বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে একটা পিঁপড়াও আমরা মারি না। কিন্তু অনেক সময় সমুদ্রে চলন্ত ফিশিং বোটের আঘাতে বা জেলেদের জালে প্যাঁচিয়ে ডলফিনের মৃত্যু হয়। বাংলাদেশ মৎস্য অধিদপ্তরের সামুদ্রিক শাখার উপপ্রধান ড. মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেন, কক্সবাজার সৈকতে এত সংখ্যক ডলফিন মৃত্যু হয়ে থাকলে তা দুঃখজনক।

কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) : কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির সদস্য আবুল হোসেন রাজু জানান, ২০১৮ সালে ৪৫ ফুট লম্বা একটি তিমিসহ তিনটি ডলফিন, ২০১৯ সালে পাঁচটি ডলফিন, ২০২০ সালে ১২টি ডলফিন এবং চলতি বছর এ পর্যন্ত ২৩টি মৃত ডলফিন ভেসে আসে। সর্বশেষ গত ২৯ সেপ্টেম্বর সাত ফুট দৈর্ঘ্যরে একটি মৃত ডলফিন পাওয়া যায়। কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির টিম লিডার রুমান ইমতিয়াজ তুষার যুগান্তরকে জানান, সাগরের ট্রলিং বোট ও ট্রলারের ধাক্কায় এমনকি সাগরে মাছ ধরা জেলেদের জালে জড়িয়ে অথবা সামুদ্রিক বিষাক্ত শৈবাল খেয়ে এসব ডলফিন মারা পড়তে পারে বলে তাদের ধারণা।

ওয়ার্ল্ডফিশের ইকোফিশ ২ প্রকল্পের সহযোগী গবেষক সাগরিকা স্মৃতি বলেন, গত দুবছরে যেসব মৃত ডলফিন কুয়াকাটা সৈকতে পাওয়া গেছে এর অধিকাংশের শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। এছাড়া জালে আটকে মারা যাওয়ার একাধিক প্রমাণ রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন