সোনাতলায় শার্প শান্তি নিবাসে ঠাঁই হলো বৃদ্ধ ও এতিমদের
jugantor
সোনাতলায় শার্প শান্তি নিবাসে ঠাঁই হলো বৃদ্ধ ও এতিমদের
পর্যায়ক্রমে ৫০০ বৃদ্ধ ও এতিম শিশুরা ওই আবাসে স্থান পাবে

  বগুড়া ব্যুরো  

২৪ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বগুড়ার সোনাতলায় অসহায় দরিদ্র বৃদ্ধ ও এতিম শিশুদের মাথা গোঁজার ব্যবস্থা করতে ‘শার্প শান্তি নিবাস’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন যাত্রা শুরু করেছে। উপজেলার বালুয়া ইউনিয়নের সমজাতাইড় গ্রামে প্রতিষ্ঠিত এ প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৫০০ দরিদ্র নারী, পুরুষ ও এতিম শিশুর ঠাঁই হবে।

জানা গেছে, বগুড়া সোনাতলা উপজেলার বালুয়া ইউনিয়নের সমজাতাইড় গ্রামে অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ নাজিম উদ দৌলাহ, মাহামুদ আখতার শাহীম ও প্রভাষক মাহমুদুল হাসান রতনের যৌথ উদ্যোগে গড়ে তোলা হয়েছে বৃদ্ধ ও এতিমদের জন্য নিরাপদ আবাস ও পুনর্বাসন কেন্দ্র। একই এলাকার আনোয়ারুল ইসলাম মন্ডল ২০১৪ সালে গরিব-দুস্থদের সহায়তা ও মাথাগোঁজার ঠাঁই করে দেওয়ার জন্য পৈতৃক সম্পত্তি শার্প শান্তি নিবাসের নামে দান করেন। শার্প ফাউন্ডেশনের সহযোগী প্রতিষ্ঠান শার্প শান্তি নিবাস। প্রথমে ২০ দরিদ্র বৃদ্ধ ও এতিম সন্তানেরা মাথাগোঁজার ঠাঁই পেলেও পর্যায়ক্রমে ৫০০ বৃদ্ধ ও এতিম শিশুরা ওই আবাসে স্থান পাবে। ইতোমধ্যেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় পাঁচ বিঘা জমি কেনা হয়েছে। সেখানে গড়ে তোলা হবে অত্যাধুনিক আবাসন ভবন। বর্তমানে ওই নিরাপদ আবাসে ১৫টি কক্ষ রয়েছে। আবাসন কক্ষ আটটি, স্বাস্থ্যসেবা কক্ষ, প্রসাধন কক্ষ, রন্ধনশালা, ভোজনশালা, বিনোদন কক্ষ, পাঠদান কক্ষ, প্রশাসনিক কক্ষ, অজু ও গোসলখানা। প্রতিটি কক্ষে দুটি করে বেড, দুটি টেবিল, দুটি চেয়ার, দুটি জাগ, দুটি গ্লাস, দুটি প্লেট, দুটি বাটি। ইতোমধ্যেই ওই নিরাপদ আবাসে এলাকার দরিদ্র অসহায় বৃদ্ধ ও এতিমরা মাথাগোঁজার ঠাঁই পেয়েছে। এসব দরিদ্র নারী-পুরুষ ও বালক-বালিকাদের দেখাশোনা ও তদারকি করার জন্য ছয়জন বেতনভুক্ত কর্মচারী রয়েছেন। ওই নিরাপদ আবাসে আশ্রয় নেওয়া লোকজনদের প্রতিদিন সকালের নাস্তার জন্য দেওয়া হয় পাউরুটি দুই পিচ। সঙ্গে রয়েছে বাটার/জেলি, কলা একটি, সিদ্ধ ডিম একটি। আবার বেলা ১১টায় বিস্কুট এক প্যাকেট, মুড়ি এক বাটি। দুপুরের খাবার সাদা ভাত, সবজি, ডাল ও ছোট মাছ। বিকালের নাস্তা কমলা একটি, দুধ এক গ্লাস। রাতের খাবার সাদা ভাত, সবজি, ভর্তা ও ডাল। তবে খাবারের তালিকা প্রতিনিয়ত পরিবর্তন করে পরিবেশন করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট নিবাস সূত্রে জানা গেছে। বসবাসকারীদের প্রতিনিয়ত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নির্ধারিত চিকিৎসক দ্বারা নজরদারিতে রাখা হয়।

শান্তি নিবাসে বসবাসকারী সোনাতলা উপজেলার দক্ষিণ আটকরিয়া গ্রামের গোলেজা বেওয়া (৬৫) ও বালুয়াপাড়া এলাকার জমিলা বেওয়া (৬৩) জানান, একসময় খাওয়া, পরা, চিকিৎসা ও থাকার জন্য চিন্তা করতে হতো। সন্তান সন্তানাদি থাকলেও অভাব অনটনের কারণে তাদের দেখভাল করত না। এখানে আসার পর এখন বাড়ির চেয়ে ভালোই আছি। প্রতিনিয়ত মানসম্মত খাবার পরিবেশনের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া যাচ্ছে।

প্রতিষ্ঠাতা অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ নাজিম উদ দৌলাহ্ জানান, প্রাথমিকভাবে আমরা তিনজনসহ আমাদের বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়স্বজনদের আর্থিক সহায়তায় প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু করা হয়। বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা শার্প ফাউন্ডেশন আয়োজিত বৃদ্ধ ও এতিমদের নিরাপদ আবাস এবং পুনর্বাসন কেন্দ্র হিসাবে শার্প শান্তি নিবাসের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যেই এ ধরনের একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলায় যেসব সন্তানের অনিচ্ছা ও অসহায়ত্বের কারণে বৃদ্ধ পিতামাতাকে গোয়াল ঘরে গরুর সঙ্গে কিংবা হাঁস-মুরগির ঘরের উপর থাকতে হতো তারা এখন ভালোভাবে খেয়ে পরে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন। তিনি আরও জানান, আমরা অচিরেই ৫০০ সদস্য ধারণক্ষমতার শান্তি নিবাস কমপ্লেক্সের কাজ শুরু করব। সোনাতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া আফরিন জানান, এমন কাজকে প্রথমেই সাধুবাদ জানাই। এটি একটি মহৎ উদ্যোগ। মানুষ যখন বয়োবৃদ্ধ হয় তখন সে অসহায়ত্ব অনুভব করে। আর সেই সময় তারা ভালোভাবে খেয়ে পরে বাঁচার স্বপ্ন দেখে। এসব বয়স্ক মানুষের মাথাগোঁজার ঠাঁই বগুড়ার সোনাতলায় হওয়ায় আমি ব্যক্তিগতভাবে আনন্দিত।

স্থানীয় সংসদ সদস্য সাহাদারা মান্নান বলেছেন, তার নির্বাচনী এলাকায় বৃদ্ধ ও এতিমদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করে বসবাসের সুযোগ করে দেওয়ায় শার্প ফাউন্ডেশনের সহযোগী প্রতিষ্ঠান শান্তি নিবাস প্রতিষ্ঠাতাদের সাধুবাদ জানাই। তিনি আরও বলেন, সরকারি অনুদানের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সহায়তা করতে পারলে তিনি আত্মতৃপ্তি পাবেন।

সোনাতলায় শার্প শান্তি নিবাসে ঠাঁই হলো বৃদ্ধ ও এতিমদের

পর্যায়ক্রমে ৫০০ বৃদ্ধ ও এতিম শিশুরা ওই আবাসে স্থান পাবে
 বগুড়া ব্যুরো 
২৪ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বগুড়ার সোনাতলায় অসহায় দরিদ্র বৃদ্ধ ও এতিম শিশুদের মাথা গোঁজার ব্যবস্থা করতে ‘শার্প শান্তি নিবাস’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন যাত্রা শুরু করেছে। উপজেলার বালুয়া ইউনিয়নের সমজাতাইড় গ্রামে প্রতিষ্ঠিত এ প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৫০০ দরিদ্র নারী, পুরুষ ও এতিম শিশুর ঠাঁই হবে।

জানা গেছে, বগুড়া সোনাতলা উপজেলার বালুয়া ইউনিয়নের সমজাতাইড় গ্রামে অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ নাজিম উদ দৌলাহ, মাহামুদ আখতার শাহীম ও প্রভাষক মাহমুদুল হাসান রতনের যৌথ উদ্যোগে গড়ে তোলা হয়েছে বৃদ্ধ ও এতিমদের জন্য নিরাপদ আবাস ও পুনর্বাসন কেন্দ্র। একই এলাকার আনোয়ারুল ইসলাম মন্ডল ২০১৪ সালে গরিব-দুস্থদের সহায়তা ও মাথাগোঁজার ঠাঁই করে দেওয়ার জন্য পৈতৃক সম্পত্তি শার্প শান্তি নিবাসের নামে দান করেন। শার্প ফাউন্ডেশনের সহযোগী প্রতিষ্ঠান শার্প শান্তি নিবাস। প্রথমে ২০ দরিদ্র বৃদ্ধ ও এতিম সন্তানেরা মাথাগোঁজার ঠাঁই পেলেও পর্যায়ক্রমে ৫০০ বৃদ্ধ ও এতিম শিশুরা ওই আবাসে স্থান পাবে। ইতোমধ্যেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় পাঁচ বিঘা জমি কেনা হয়েছে। সেখানে গড়ে তোলা হবে অত্যাধুনিক আবাসন ভবন। বর্তমানে ওই নিরাপদ আবাসে ১৫টি কক্ষ রয়েছে। আবাসন কক্ষ আটটি, স্বাস্থ্যসেবা কক্ষ, প্রসাধন কক্ষ, রন্ধনশালা, ভোজনশালা, বিনোদন কক্ষ, পাঠদান কক্ষ, প্রশাসনিক কক্ষ, অজু ও গোসলখানা। প্রতিটি কক্ষে দুটি করে বেড, দুটি টেবিল, দুটি চেয়ার, দুটি জাগ, দুটি গ্লাস, দুটি প্লেট, দুটি বাটি। ইতোমধ্যেই ওই নিরাপদ আবাসে এলাকার দরিদ্র অসহায় বৃদ্ধ ও এতিমরা মাথাগোঁজার ঠাঁই পেয়েছে। এসব দরিদ্র নারী-পুরুষ ও বালক-বালিকাদের দেখাশোনা ও তদারকি করার জন্য ছয়জন বেতনভুক্ত কর্মচারী রয়েছেন। ওই নিরাপদ আবাসে আশ্রয় নেওয়া লোকজনদের প্রতিদিন সকালের নাস্তার জন্য দেওয়া হয় পাউরুটি দুই পিচ। সঙ্গে রয়েছে বাটার/জেলি, কলা একটি, সিদ্ধ ডিম একটি। আবার বেলা ১১টায় বিস্কুট এক প্যাকেট, মুড়ি এক বাটি। দুপুরের খাবার সাদা ভাত, সবজি, ডাল ও ছোট মাছ। বিকালের নাস্তা কমলা একটি, দুধ এক গ্লাস। রাতের খাবার সাদা ভাত, সবজি, ভর্তা ও ডাল। তবে খাবারের তালিকা প্রতিনিয়ত পরিবর্তন করে পরিবেশন করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট নিবাস সূত্রে জানা গেছে। বসবাসকারীদের প্রতিনিয়ত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নির্ধারিত চিকিৎসক দ্বারা নজরদারিতে রাখা হয়।

শান্তি নিবাসে বসবাসকারী সোনাতলা উপজেলার দক্ষিণ আটকরিয়া গ্রামের গোলেজা বেওয়া (৬৫) ও বালুয়াপাড়া এলাকার জমিলা বেওয়া (৬৩) জানান, একসময় খাওয়া, পরা, চিকিৎসা ও থাকার জন্য চিন্তা করতে হতো। সন্তান সন্তানাদি থাকলেও অভাব অনটনের কারণে তাদের দেখভাল করত না। এখানে আসার পর এখন বাড়ির চেয়ে ভালোই আছি। প্রতিনিয়ত মানসম্মত খাবার পরিবেশনের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া যাচ্ছে।

প্রতিষ্ঠাতা অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ নাজিম উদ দৌলাহ্ জানান, প্রাথমিকভাবে আমরা তিনজনসহ আমাদের বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়স্বজনদের আর্থিক সহায়তায় প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু করা হয়। বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা শার্প ফাউন্ডেশন আয়োজিত বৃদ্ধ ও এতিমদের নিরাপদ আবাস এবং পুনর্বাসন কেন্দ্র হিসাবে শার্প শান্তি নিবাসের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যেই এ ধরনের একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলায় যেসব সন্তানের অনিচ্ছা ও অসহায়ত্বের কারণে বৃদ্ধ পিতামাতাকে গোয়াল ঘরে গরুর সঙ্গে কিংবা হাঁস-মুরগির ঘরের উপর থাকতে হতো তারা এখন ভালোভাবে খেয়ে পরে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন। তিনি আরও জানান, আমরা অচিরেই ৫০০ সদস্য ধারণক্ষমতার শান্তি নিবাস কমপ্লেক্সের কাজ শুরু করব। সোনাতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া আফরিন জানান, এমন কাজকে প্রথমেই সাধুবাদ জানাই। এটি একটি মহৎ উদ্যোগ। মানুষ যখন বয়োবৃদ্ধ হয় তখন সে অসহায়ত্ব অনুভব করে। আর সেই সময় তারা ভালোভাবে খেয়ে পরে বাঁচার স্বপ্ন দেখে। এসব বয়স্ক মানুষের মাথাগোঁজার ঠাঁই বগুড়ার সোনাতলায় হওয়ায় আমি ব্যক্তিগতভাবে আনন্দিত।

স্থানীয় সংসদ সদস্য সাহাদারা মান্নান বলেছেন, তার নির্বাচনী এলাকায় বৃদ্ধ ও এতিমদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করে বসবাসের সুযোগ করে দেওয়ায় শার্প ফাউন্ডেশনের সহযোগী প্রতিষ্ঠান শান্তি নিবাস প্রতিষ্ঠাতাদের সাধুবাদ জানাই। তিনি আরও বলেন, সরকারি অনুদানের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সহায়তা করতে পারলে তিনি আত্মতৃপ্তি পাবেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন