এমপি আয়েনের অডিও ভাইরাল
jugantor
দুই বিদ্রোহীর ছেলে নৌকার প্রার্থী
এমপি আয়েনের অডিও ভাইরাল

  রাজশাহী ব্যুরো  

২৬ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহীতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে ক্ষোভ-বিক্ষোভের মধ্যে রোববার রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিনের একটি অডিও ভাইরাল হয়েছে। মোহনপুর উপজেলার রায়ঘাটি ইউনিয়নে মনোনয়নবঞ্চিত সুরঞ্জিত সরকারের সঙ্গে তার কথোপকথনের ২ মিনিট ৩২ সেকেন্ডের অডিওতে দলীয় মনোনয়নের গোমর ফাঁস হয়েছে। সুরঞ্জিত সরকার মোহনপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক। ২০১৬ সালের ইউপি নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পেয়েছিলেন।

অডিওতে শোনা যায়, সুরঞ্জিত সরকার ফোনে সংসদ সদস্য আয়েনকে বলছেন, ‘ভাই রাগ কইরেন না। এক মিনিট আমার কথা শোনেন।’ উত্তরে এমপি আয়েন বলছেন, ‘না, না। আমার কিছু করার নেই। কামাল ভাই (এসএম কামাল) সরাসরি রায়ঘাটি ও বড়গাছিতে প্রার্থী দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের মৌখিক নির্দেশনায় করেছি। আপনি পারলে তার সঙ্গে কথা বলেন। আমি দুদু ভাইকে বলে দিয়েছি। আমি কিছু করতে পারব না।’ এরপর সুরঞ্জিত বলেন, ‘আপনি যদি একটু ভূমিকা নেন তাহলে, আমি ভোট করতে পারি ভাই।’ জবাবে এমপি আয়েন বলেন, ‘আমি কোনো ভূমিকা নেব না তো। আমি তো বলেছি।’ সুরঞ্জিত বলেন, ‘ভাই আমাকে ডেকে বলতেন। আমি আপনাকে শ্রদ্ধা করি।’ এমপি আয়েন বলেন, ‘শালা তোদের মতো ক্রিমিনাল আর একটিও নাই। শুয়োরের (শূকর) বাচ্চা তোর এত বড় সাহস তুই এমপির বিরোধিতা করছিস। মেরাজ মোল্লাহ (জেলা আওয়ামী লীগের প্রয়াত সভাপতি) তোর বাপ ছিল, শালা ১৫ আগস্ট করত না।’ সুরঞ্জিত বলতে থাকেন, ‘ভাই আমাকে একটাবার সুযোগ দেন। আমি আপনাকে শ্রদ্ধা করি।’ জবাবে এমপি আয়েন, ‘না, না, না। হিন্দুরা তোকে দেখতে পারে না। তোর কোনো কথা আমি শুনব না। আমি কিছু করতে পারব না। তুই নৌকার জন্য কাজ কর, ভালো চাহিস তো।’

কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামালের নির্দেশে রায়ঘাটি ও বড়গাছিতে নির্দিষ্ট প্রার্থীর নাম পাঠানোর বিষয়ে জানতে চাইলে সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, আমি কার সঙ্গে কী কথা বলেছি এখন মনে নেই। প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে কেন্দ্র। আমি কোনো প্রার্থীর জন্য কাউকে কিছু বলিনি।

সুরঞ্জিত সরকার রোববার রাজশাহীতে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ২০১৬ সালে আমাকে দল মনোনয়ন দিয়েছিল। ইউনিয়ন সভাপতি খলিলুর রহমান আমার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়ে ভোট করেছিলেন। এবার খলিল নিজে প্রার্থী না হয়ে তার কলেজপড়ুয়া ছেলে বাবুল হোসেনকে প্রার্থী করেন। কিন্তু সে তো আওয়ামী লীগ বা সহযোগী কোনো সংগঠনের কর্মী বা সদস্য নয়। সুরঞ্জিতের আরও অভিযোগ, উপজেলা ও জেলা থেকে রায়ঘাটি ইউপিতে প্রার্থীদের নামের তালিকায় বাবুল হোসেনের নাম এক নম্বরে রাখা হয়েছিল। আর আমার নাম রাখা হয়েছিল শেষে। এসবই মনোনয়ন বাণিজ্যের অংশ হিসাবে করা হয়। সুরঞ্জিত কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমি রাজনৈতিক কারণে তিনবার জেল খেটেছি। এলাকার এমপিসহ নেতারা দলের সঙ্গে সম্পর্কহীন ২৫ বছরের এক যুবককে মনোনয়ন পাইয়ে দিয়েছেন শুধু টাকার জন্য।

অন্যদিকে রাজশাহীর পবা বড়গাছি ইউপিতে ২০১৬ সালে নৌকা পেয়েছিলেন মোবারক হোসেন। সেখানে উপজেলা যুবলীগ সভাপতি এমদাদুল হক বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন। কিন্তু দুজনই পরাজিত হয়েছিলেন। এবার এমদাদ নিজে মনোনয়ন পাবেন না জেনে ছেলে শাহাদাৎ হোসেন সাগরকে প্রার্থী করেন। দলও সাগরকে মনোনয়ন দিয়েছে। পবা ও মোহনপুর আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করে বলেন, রায়ঘাটিতে বিদ্রোহী খলিলের ছেলে বাবুল ও বড়গাছিতে বিদ্রোহী এমদাদের ছেলে এবার নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন। এমপি আয়েনের অতি ঘনিষ্ঠ হওয়ায় কৌশলে দুই বিদ্রোহীর ছেলেকে তদবির করে মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়া হয়েছে।

দুই বিদ্রোহীর ছেলে নৌকার প্রার্থী

এমপি আয়েনের অডিও ভাইরাল

 রাজশাহী ব্যুরো 
২৬ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহীতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে ক্ষোভ-বিক্ষোভের মধ্যে রোববার রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিনের একটি অডিও ভাইরাল হয়েছে। মোহনপুর উপজেলার রায়ঘাটি ইউনিয়নে মনোনয়নবঞ্চিত সুরঞ্জিত সরকারের সঙ্গে তার কথোপকথনের ২ মিনিট ৩২ সেকেন্ডের অডিওতে দলীয় মনোনয়নের গোমর ফাঁস হয়েছে। সুরঞ্জিত সরকার মোহনপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক। ২০১৬ সালের ইউপি নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পেয়েছিলেন।

অডিওতে শোনা যায়, সুরঞ্জিত সরকার ফোনে সংসদ সদস্য আয়েনকে বলছেন, ‘ভাই রাগ কইরেন না। এক মিনিট আমার কথা শোনেন।’ উত্তরে এমপি আয়েন বলছেন, ‘না, না। আমার কিছু করার নেই। কামাল ভাই (এসএম কামাল) সরাসরি রায়ঘাটি ও বড়গাছিতে প্রার্থী দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের মৌখিক নির্দেশনায় করেছি। আপনি পারলে তার সঙ্গে কথা বলেন। আমি দুদু ভাইকে বলে দিয়েছি। আমি কিছু করতে পারব না।’ এরপর সুরঞ্জিত বলেন, ‘আপনি যদি একটু ভূমিকা নেন তাহলে, আমি ভোট করতে পারি ভাই।’ জবাবে এমপি আয়েন বলেন, ‘আমি কোনো ভূমিকা নেব না তো। আমি তো বলেছি।’ সুরঞ্জিত বলেন, ‘ভাই আমাকে ডেকে বলতেন। আমি আপনাকে শ্রদ্ধা করি।’ এমপি আয়েন বলেন, ‘শালা তোদের মতো ক্রিমিনাল আর একটিও নাই। শুয়োরের (শূকর) বাচ্চা তোর এত বড় সাহস তুই এমপির বিরোধিতা করছিস। মেরাজ মোল্লাহ (জেলা আওয়ামী লীগের প্রয়াত সভাপতি) তোর বাপ ছিল, শালা ১৫ আগস্ট করত না।’ সুরঞ্জিত বলতে থাকেন, ‘ভাই আমাকে একটাবার সুযোগ দেন। আমি আপনাকে শ্রদ্ধা করি।’ জবাবে এমপি আয়েন, ‘না, না, না। হিন্দুরা তোকে দেখতে পারে না। তোর কোনো কথা আমি শুনব না। আমি কিছু করতে পারব না। তুই নৌকার জন্য কাজ কর, ভালো চাহিস তো।’

কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামালের নির্দেশে রায়ঘাটি ও বড়গাছিতে নির্দিষ্ট প্রার্থীর নাম পাঠানোর বিষয়ে জানতে চাইলে সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, আমি কার সঙ্গে কী কথা বলেছি এখন মনে নেই। প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে কেন্দ্র। আমি কোনো প্রার্থীর জন্য কাউকে কিছু বলিনি।

সুরঞ্জিত সরকার রোববার রাজশাহীতে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ২০১৬ সালে আমাকে দল মনোনয়ন দিয়েছিল। ইউনিয়ন সভাপতি খলিলুর রহমান আমার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়ে ভোট করেছিলেন। এবার খলিল নিজে প্রার্থী না হয়ে তার কলেজপড়ুয়া ছেলে বাবুল হোসেনকে প্রার্থী করেন। কিন্তু সে তো আওয়ামী লীগ বা সহযোগী কোনো সংগঠনের কর্মী বা সদস্য নয়। সুরঞ্জিতের আরও অভিযোগ, উপজেলা ও জেলা থেকে রায়ঘাটি ইউপিতে প্রার্থীদের নামের তালিকায় বাবুল হোসেনের নাম এক নম্বরে রাখা হয়েছিল। আর আমার নাম রাখা হয়েছিল শেষে। এসবই মনোনয়ন বাণিজ্যের অংশ হিসাবে করা হয়। সুরঞ্জিত কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমি রাজনৈতিক কারণে তিনবার জেল খেটেছি। এলাকার এমপিসহ নেতারা দলের সঙ্গে সম্পর্কহীন ২৫ বছরের এক যুবককে মনোনয়ন পাইয়ে দিয়েছেন শুধু টাকার জন্য।

অন্যদিকে রাজশাহীর পবা বড়গাছি ইউপিতে ২০১৬ সালে নৌকা পেয়েছিলেন মোবারক হোসেন। সেখানে উপজেলা যুবলীগ সভাপতি এমদাদুল হক বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন। কিন্তু দুজনই পরাজিত হয়েছিলেন। এবার এমদাদ নিজে মনোনয়ন পাবেন না জেনে ছেলে শাহাদাৎ হোসেন সাগরকে প্রার্থী করেন। দলও সাগরকে মনোনয়ন দিয়েছে। পবা ও মোহনপুর আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করে বলেন, রায়ঘাটিতে বিদ্রোহী খলিলের ছেলে বাবুল ও বড়গাছিতে বিদ্রোহী এমদাদের ছেলে এবার নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন। এমপি আয়েনের অতি ঘনিষ্ঠ হওয়ায় কৌশলে দুই বিদ্রোহীর ছেলেকে তদবির করে মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়া হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন