বেকার লেবুখালী ফেরিঘাটের ব্যবসায়ীরা
jugantor
বেকার লেবুখালী ফেরিঘাটের ব্যবসায়ীরা
সরকারি সহায়তায় আত্মকর্মসংস্থানের দাবি

  বরিশাল ব্যুরো  

২৬ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পায়রা সেতুতে যান চলাচল শুরু হওয়ায় অচল হয়ে গেছে পায়রা নদীতে যুগ যুগ ধরে চলাচল করা ফেরিগুলো। পায়রা সেতু উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বরিশালবাসীর দুর্ভোগের লাঘব হলেও কর্মহীন হয়ে পড়েছেন ফেরিঘাটকেন্দ্রিক জীবিকা নির্বাহকারী শতাধিক ফেরিওয়ালা ও টং দোকানদার। দুই পাশের দোকানদারদের বেশ কয়েকজন সেতুর প্রান্তগুলোতে ব্যবসা শুরু করলেও অধিকাংশ পড়েছেন বিপাকে। অর্থ সংকটে আবার ব্যবসা শুরু করতে না পারায় শঙ্কার মধ্যে দিন পার করছেন তারা। তাই সরকারি সহায়তায় আত্মকর্মসংস্থানের দাবি জানিয়েছেন বেকার অতিক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিন দেখা যায়, যুগের পর যুগ কর্মব্যস্ত লেবুখালী ফেরিঘাটে এখন সুনসান নিরবতা। দক্ষিণাঞ্চলবাসীর মনে যখন আনন্দের উদ্বেল ঠিক সেই মুহূর্তে বেকার হয়েছেন অনেকেই। সড়ক ও জনপথের ফেরি বিভাগের দুই নম্বর ফেরির চা বিক্রেতা নুরুজ্জামান ফরাজী জানান, তার বাবা এই ফেরিঘাটে চা বিক্রি করতেন। ফেরি বন্ধ হওয়ার দিন পর্যন্ত ৩৫ বছর ধরে তিনিও ওই ঘাটে চা-পান বিক্রি করেছেন। সেতু চালু হওয়ায় এখন বেকার হয়ে পড়েছেন। নুরুজ্জামানের মতো একই অবস্থা আচার বিক্রেতা মোহাম্মদ মিলনের। তিনিও ১২ বছর ধরে ওই ঘাটে আচার বিক্রি করে সংসার চালাতেন। সেতু উদ্বোধন হওয়ায় আনন্দিত হলেও আজ তিনি বেকার। তাই সরকারি উদ্যোগে আত্মকর্মসংস্থানের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

বেকারত্বে ওরা ৪০ জন : জামাল হোসেন। লেবুখালী ফেরিতে কাজ করছেন এক যুগ ধরে। সরকারি চাকরি নয়, বকশিসের টাকায় চালাতে হতো পেট। পরিবারের একমাত্র কর্মক্ষম ব্যক্তি জামাল এখন দিশাহারা। অন্য কোনো কাজও জানেন না তিনি। যুগান্ত?রের সাথে কথা হয় জামাল হোসেনের। বাকেরগঞ্জের বাসিন্দা জামাল বলেন, ১২ বছর ধইরা এই লেবুখালীর ফেরিতে বিভিন্ন কাম করতে আছি। কোনো সময় টাহা উডাই, আবার কোনো সময় অন্য কাম কাইজ করি। মোগো চাকরি সরকারি হয় নাই। সরকারি চাকরি যাগো হেগো আর কোনো টেনশন নাই। ফেরি চললেও টাহা পাইবে আর না চললেও পাইবে। ঝামেলায় তো পড়ছি মোরা। জামাল হোসেন বলেন, এই ঘাটে মোট ৬টা ফেরি আছে। ৩টা ফেরি সব সময় চলে। আর এমার্জেন্সি সময় যহন বরিশাল দিয়া স্যারেরা কয় তহন চারটা ফেরি চলে। সব মিলাইয়া এহানে সরকারি বাদে ৪০ জনের মতো আমরা আছি। যারা এই ফেরির ওপরই নির্ভর কইরা সংসার চালাই। মোগো ফিক্সড কোনো বেতন নাই। ইজারাদার ভালোবাইসা যা দেয়, মানে বকশিস। ওইটাই আমাগো ইনকাম। আর হেই ইনকাম দিয়াই সংসার চালাই। এহন ফেরি বন্ধ হইয়া গেছে। সংসার চালানের লাইন জানা নাই, অন্য কোনো কাম কাইজও জানি না যে কিছু করমু। আল্লাহ জানে সবকিছু।

দুমকি উপজেলার বাসিন্দা দুলাল হাওলাদার লেবুখালীর ফেরিতে কাজ করছেন ১৬ বছর ধরে। তিনি জানান, আমরা এই ফেরিনির্ভর ৪০ জন লোক কিসের মধ্যে পড়ছি আল্লাহ মাবুদ ছাড়া কেউ জানে না। কেমনে চলমু, কেমনে কী করমু বুঝি না। বউ কইছে ঢাকায় যাইতে, হেয়ানে যাইয়াওবা কী করমু। দুইটা ছেলে, ওগোবা কেমনে কী করমু। ফেরিতে ডিউটিরতরাই শুধু নয়, কর্মসংস্থানের অভাবে পড়েছেন লেবুখালীর দুই পারের ফেরিঘাটের শতাধিক দোকানদার। সবার মুখেই বিষণ্নতার ছাপ। নতুন করে খোঁজার চেষ্টায় নতুন কাজ।

বেকার লেবুখালী ফেরিঘাটের ব্যবসায়ীরা

সরকারি সহায়তায় আত্মকর্মসংস্থানের দাবি
 বরিশাল ব্যুরো 
২৬ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পায়রা সেতুতে যান চলাচল শুরু হওয়ায় অচল হয়ে গেছে পায়রা নদীতে যুগ যুগ ধরে চলাচল করা ফেরিগুলো। পায়রা সেতু উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বরিশালবাসীর দুর্ভোগের লাঘব হলেও কর্মহীন হয়ে পড়েছেন ফেরিঘাটকেন্দ্রিক জীবিকা নির্বাহকারী শতাধিক ফেরিওয়ালা ও টং দোকানদার। দুই পাশের দোকানদারদের বেশ কয়েকজন সেতুর প্রান্তগুলোতে ব্যবসা শুরু করলেও অধিকাংশ পড়েছেন বিপাকে। অর্থ সংকটে আবার ব্যবসা শুরু করতে না পারায় শঙ্কার মধ্যে দিন পার করছেন তারা। তাই সরকারি সহায়তায় আত্মকর্মসংস্থানের দাবি জানিয়েছেন বেকার অতিক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিন দেখা যায়, যুগের পর যুগ কর্মব্যস্ত লেবুখালী ফেরিঘাটে এখন সুনসান নিরবতা। দক্ষিণাঞ্চলবাসীর মনে যখন আনন্দের উদ্বেল ঠিক সেই মুহূর্তে বেকার হয়েছেন অনেকেই। সড়ক ও জনপথের ফেরি বিভাগের দুই নম্বর ফেরির চা বিক্রেতা নুরুজ্জামান ফরাজী জানান, তার বাবা এই ফেরিঘাটে চা বিক্রি করতেন। ফেরি বন্ধ হওয়ার দিন পর্যন্ত ৩৫ বছর ধরে তিনিও ওই ঘাটে চা-পান বিক্রি করেছেন। সেতু চালু হওয়ায় এখন বেকার হয়ে পড়েছেন। নুরুজ্জামানের মতো একই অবস্থা আচার বিক্রেতা মোহাম্মদ মিলনের। তিনিও ১২ বছর ধরে ওই ঘাটে আচার বিক্রি করে সংসার চালাতেন। সেতু উদ্বোধন হওয়ায় আনন্দিত হলেও আজ তিনি বেকার। তাই সরকারি উদ্যোগে আত্মকর্মসংস্থানের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

বেকারত্বে ওরা ৪০ জন : জামাল হোসেন। লেবুখালী ফেরিতে কাজ করছেন এক যুগ ধরে। সরকারি চাকরি নয়, বকশিসের টাকায় চালাতে হতো পেট। পরিবারের একমাত্র কর্মক্ষম ব্যক্তি জামাল এখন দিশাহারা। অন্য কোনো কাজও জানেন না তিনি। যুগান্ত?রের সাথে কথা হয় জামাল হোসেনের। বাকেরগঞ্জের বাসিন্দা জামাল বলেন, ১২ বছর ধইরা এই লেবুখালীর ফেরিতে বিভিন্ন কাম করতে আছি। কোনো সময় টাহা উডাই, আবার কোনো সময় অন্য কাম কাইজ করি। মোগো চাকরি সরকারি হয় নাই। সরকারি চাকরি যাগো হেগো আর কোনো টেনশন নাই। ফেরি চললেও টাহা পাইবে আর না চললেও পাইবে। ঝামেলায় তো পড়ছি মোরা। জামাল হোসেন বলেন, এই ঘাটে মোট ৬টা ফেরি আছে। ৩টা ফেরি সব সময় চলে। আর এমার্জেন্সি সময় যহন বরিশাল দিয়া স্যারেরা কয় তহন চারটা ফেরি চলে। সব মিলাইয়া এহানে সরকারি বাদে ৪০ জনের মতো আমরা আছি। যারা এই ফেরির ওপরই নির্ভর কইরা সংসার চালাই। মোগো ফিক্সড কোনো বেতন নাই। ইজারাদার ভালোবাইসা যা দেয়, মানে বকশিস। ওইটাই আমাগো ইনকাম। আর হেই ইনকাম দিয়াই সংসার চালাই। এহন ফেরি বন্ধ হইয়া গেছে। সংসার চালানের লাইন জানা নাই, অন্য কোনো কাম কাইজও জানি না যে কিছু করমু। আল্লাহ জানে সবকিছু।

দুমকি উপজেলার বাসিন্দা দুলাল হাওলাদার লেবুখালীর ফেরিতে কাজ করছেন ১৬ বছর ধরে। তিনি জানান, আমরা এই ফেরিনির্ভর ৪০ জন লোক কিসের মধ্যে পড়ছি আল্লাহ মাবুদ ছাড়া কেউ জানে না। কেমনে চলমু, কেমনে কী করমু বুঝি না। বউ কইছে ঢাকায় যাইতে, হেয়ানে যাইয়াওবা কী করমু। দুইটা ছেলে, ওগোবা কেমনে কী করমু। ফেরিতে ডিউটিরতরাই শুধু নয়, কর্মসংস্থানের অভাবে পড়েছেন লেবুখালীর দুই পারের ফেরিঘাটের শতাধিক দোকানদার। সবার মুখেই বিষণ্নতার ছাপ। নতুন করে খোঁজার চেষ্টায় নতুন কাজ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন