সিলেটে রাহাত হত্যা নেপথ্যে সিনিয়র জুনিয়র দ্বন্দ্ব
jugantor
সিলেটে রাহাত হত্যা নেপথ্যে সিনিয়র জুনিয়র দ্বন্দ্ব
প্রধান আসামি সাদী কুষ্টিয়ায় গ্রেফতার

  সিলেট ব্যুরো  

২৮ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম রাহাতকে ছুরিকাঘাতে হত্যার কথা স্বীকার করেছে মামলার প্রধান আসামি ছাত্রলীগকর্মী সামসুদ্দোহা সাদী। সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বের জেরে রাহাতকে হত্যা করা হয় বলে সে জানিয়েছে। মঙ্গলবার রাতে ভারতে পালানোর সময় কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের দুর্গম চর এলাকা থেকে সাদীকে গ্রেফতার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

এ নিয়ে বুধবার দুপুরে ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে সিআইডি জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাদী হত্যার কথা স্বীকার করেছে। বয়সে সাদী ছিল রাহাতের চেয়ে বড়। এজন্য সে রাহাতের কাছে ‘জ্যেষ্ঠতা’ (সিনিয়রিটি) দাবি করে আসছিল। এ নিয়ে উভয়ের বিবাদের অংশ হিসাবে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়। ঘটনার সময় সাদীর পকেটে ছোরা ছিল, সেটি দিয়েই সে রাহাতকে আঘাত করে। সিআইডি জানায়, ঘটনার পর সাদী পালিয়ে ঢাকার মিরপুরে অবস্থান করে। সেখান থেকে কুষ্টিয়া চলে যায়। কুষ্টিয়া থেকে ভারতে পালানোর চেষ্টা করছিল সে। জানা যায়, সামসুদ্দোহা সাদীকে গ্রেফতারের পর কুষ্টিয়া থেকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। এরপর রাজধানী ঢাকার মালিবাগে সিআইডি হেডকোয়ার্টারে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। আজ সকাল ১০টায় সিলেটে এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করবে সিআইডি।

দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি কামরুল হাসান তালুকদার জানান, রাহাতের চাচা বাদী হয়ে শুক্রবার রাতে মামলা করেন। মামলায় ৩ জনের নাম উল্লেখ ও ৫-৭ জনকে অজ্ঞাত হিসাবে আসামি করা হয়েছে। সাদী ছাড়া মামলার অপর দুই আসামি হলো-একই এলাকার জামাল মিয়ার ছেলে তানভীর আহমদ (১৯) ও দক্ষিণ সুরমার তেতলি ইউনিয়নের আহমদপুর গ্রামের গৌছ মিয়ার (মৃত) ছেলে ওলিদুর রহমান সানী। এদের মধ্যে সাদী ছাত্রলীগের কর্মী। সে সিলেট ছাত্রলীগের কাশ্মীর গ্রুপের সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে। দক্ষিণ সুরমা কলেজের ২০১৮-১৯ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল সে। কলেজে অধ্যয়নকালে একবার সে বহিষ্কার হয়েছিল।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন থেকে জানা যায়, আরিফুল ইসলাম রাহাত (১৮) বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। এসময় চাচাতো ভাই রাফি তার সঙ্গে মোটরসাইকেলে ছিল। যাওয়ার পথে চাচাতো ভাইকে কলেজ গেটে রেখে এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে কলেজ ক্যাম্পাসে যায় রাহাত। সেখান থেকে সময় দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বের হওয়ার সময় সাদী ও তানভীর সিলভার রঙ্গের একটি পালসার মোটরসাইকেলযোগে এসে পেছন থেকে রাহাতকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে রাহাতকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। রাহাত দক্ষিণ সুরমা উপজেলার পুরাতন তেতলি এলাকার সৌদি প্রবাসী সুরমান আলীর একমাত্র ছেলে ও দক্ষিণ সুরমা কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র।

সিলেটে রাহাত হত্যা নেপথ্যে সিনিয়র জুনিয়র দ্বন্দ্ব

প্রধান আসামি সাদী কুষ্টিয়ায় গ্রেফতার
 সিলেট ব্যুরো 
২৮ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম রাহাতকে ছুরিকাঘাতে হত্যার কথা স্বীকার করেছে মামলার প্রধান আসামি ছাত্রলীগকর্মী সামসুদ্দোহা সাদী। সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বের জেরে রাহাতকে হত্যা করা হয় বলে সে জানিয়েছে। মঙ্গলবার রাতে ভারতে পালানোর সময় কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের দুর্গম চর এলাকা থেকে সাদীকে গ্রেফতার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

এ নিয়ে বুধবার দুপুরে ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে সিআইডি জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাদী হত্যার কথা স্বীকার করেছে। বয়সে সাদী ছিল রাহাতের চেয়ে বড়। এজন্য সে রাহাতের কাছে ‘জ্যেষ্ঠতা’ (সিনিয়রিটি) দাবি করে আসছিল। এ নিয়ে উভয়ের বিবাদের অংশ হিসাবে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়। ঘটনার সময় সাদীর পকেটে ছোরা ছিল, সেটি দিয়েই সে রাহাতকে আঘাত করে। সিআইডি জানায়, ঘটনার পর সাদী পালিয়ে ঢাকার মিরপুরে অবস্থান করে। সেখান থেকে কুষ্টিয়া চলে যায়। কুষ্টিয়া থেকে ভারতে পালানোর চেষ্টা করছিল সে। জানা যায়, সামসুদ্দোহা সাদীকে গ্রেফতারের পর কুষ্টিয়া থেকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। এরপর রাজধানী ঢাকার মালিবাগে সিআইডি হেডকোয়ার্টারে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। আজ সকাল ১০টায় সিলেটে এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করবে সিআইডি।

দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি কামরুল হাসান তালুকদার জানান, রাহাতের চাচা বাদী হয়ে শুক্রবার রাতে মামলা করেন। মামলায় ৩ জনের নাম উল্লেখ ও ৫-৭ জনকে অজ্ঞাত হিসাবে আসামি করা হয়েছে। সাদী ছাড়া মামলার অপর দুই আসামি হলো-একই এলাকার জামাল মিয়ার ছেলে তানভীর আহমদ (১৯) ও দক্ষিণ সুরমার তেতলি ইউনিয়নের আহমদপুর গ্রামের গৌছ মিয়ার (মৃত) ছেলে ওলিদুর রহমান সানী। এদের মধ্যে সাদী ছাত্রলীগের কর্মী। সে সিলেট ছাত্রলীগের কাশ্মীর গ্রুপের সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে। দক্ষিণ সুরমা কলেজের ২০১৮-১৯ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল সে। কলেজে অধ্যয়নকালে একবার সে বহিষ্কার হয়েছিল।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন থেকে জানা যায়, আরিফুল ইসলাম রাহাত (১৮) বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। এসময় চাচাতো ভাই রাফি তার সঙ্গে মোটরসাইকেলে ছিল। যাওয়ার পথে চাচাতো ভাইকে কলেজ গেটে রেখে এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে কলেজ ক্যাম্পাসে যায় রাহাত। সেখান থেকে সময় দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বের হওয়ার সময় সাদী ও তানভীর সিলভার রঙ্গের একটি পালসার মোটরসাইকেলযোগে এসে পেছন থেকে রাহাতকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে রাহাতকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। রাহাত দক্ষিণ সুরমা উপজেলার পুরাতন তেতলি এলাকার সৌদি প্রবাসী সুরমান আলীর একমাত্র ছেলে ও দক্ষিণ সুরমা কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন