আওয়ামী লীগের ১৯ নেতাকর্মীকে বহিষ্কারের সুপারিশ
jugantor
সোনাতলা পৌর নির্বাচন
আওয়ামী লীগের ১৯ নেতাকর্মীকে বহিষ্কারের সুপারিশ

  বগুড়া ব্যুরো  

২৮ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বগুড়ার সোনাতলা পৌরসভায় মেয়র পদে রাজাকারপুত্র শাহিদুল বারী খাঁন রব্বানীকে বিজয়ী করতে বিদ্রোহী প্রার্থীসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের ১৯ নেতাকর্মীকে বহিষ্কারে কেন্দ্রের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে। সম্প্রতি পৌর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ ঘটনায় ত্যাগী নেতাকর্মীদের মাঝে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা এ ব্যাপারে দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অন্যথায় সোনাতলা পৌরসভার চেয়ারটি বিএনপির দখলে চলে যাবে।

এ প্রসঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আল রাজী জুয়েল জানান, তাদের বহিষ্কারের আবেদনটি কেন্দ্রে করা হয়েছে। তাই এখানে তাদের কিছু করার নেই। তিনি বলেন, সোনাতলা পৌর মেয়র পদে নৌকার প্রার্থী শাহিদুল বারী খাঁন রব্বানী শান্তি কমিটির সভাপতির ছেলে বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি আওয়ামী লীগের সদস্য পদেও নেই। তবে বর্তমান মেয়র ও বিদ্রোহী প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম নান্নু জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য।

বহিষ্কারের সুপারিশপ্রাপ্ত কয়েকজন হলেন, বর্তমান মেয়র বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য জাহাঙ্গীর আলম নান্নু, সোনাতলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক তাহেরুল ইসলাম তাহের, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জাকির হোসেন জাকির, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মশিউর রহমান রানা, সাবেক প্রচার সম্পাদক তাহেরুল ইসলাম তাহের, সাংগঠনিক সম্পাদক ইব্রাহিম হোসেন দুলু, মধুপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি দবির হোসেন মণ্ডল, দিগদাইড় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম, সহ-সভাপতি মাহফুজার রহমান মাফু, জাতীয় শ্রমিক লীগ সোনাতলা উপজেলা শাখার আহ্বায়ক আকতার হোসেন বুলু, যুগ্ম আহ্বায়ক এটিএম রেজাউল করিম মানিক, শ্রমিক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক তৌহিদ আলম প্রমুখ।

সোনাতলা পৌরসভা নির্বাচন ২ নভেম্বর। গতবার বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে বিজয়ী বর্তমান মেয়র জাহাঙ্গীর আলম নান্নুর পরিবর্তে এবার স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সোনাতলা উপজেলা শান্তি কমিটির সভাপতি সামসুল হক খানের ছেলে শাহিদুল বারী খান রব্বানীকে নৌকা প্রতীক দেওয়া হয়। এতে ত্যাগী নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দেয়। তার মনোনয়ন বাতিল করতে সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জাকির হোসেন জাকির কেন্দ্রীয় সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে লিখিত আবেদন করেন। রাজাকারপুত্রকে মনোনয়ন দেওয়ায় ত্যাগী নেতাকর্মীরা বগুড়া-১ আসনের এমপি সাহাদারা মান্নানের ভাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মিনহাদুজ্জামান লিটনকে দায়ী করেন। এ নিয়ে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। তবে কেন্দ্র থেকে এ ব্যাপারে কোনো সাড়া মেলেনি।। এতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েন। আওয়ামী লীগ প্রার্থী শাহিদুল বারী খান রব্বানী (নৌকা), বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান মেয়র জাহাঙ্গীর আলম নান্নু (নারিকেল গাছ) এবং স্বতন্ত্র থেকে পৌর বিএনপির সদস্য শাকিল রেজা বাবলা (জগ) প্রতীক পেয়েছেন। নৌকার প্রার্থী শাহিদুল বারী খান জানান, তার বাবা কখনও রাজাকার বা শান্তি কমিটির সভাপতি ছিলেন না। এটা তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও মিথ্যাচার। একই দাবি করেন, সোনাতলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মিনহাদুজ্জামান লিটন।

সোনাতলা পৌর নির্বাচন

আওয়ামী লীগের ১৯ নেতাকর্মীকে বহিষ্কারের সুপারিশ

 বগুড়া ব্যুরো 
২৮ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বগুড়ার সোনাতলা পৌরসভায় মেয়র পদে রাজাকারপুত্র শাহিদুল বারী খাঁন রব্বানীকে বিজয়ী করতে বিদ্রোহী প্রার্থীসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের ১৯ নেতাকর্মীকে বহিষ্কারে কেন্দ্রের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে। সম্প্রতি পৌর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ ঘটনায় ত্যাগী নেতাকর্মীদের মাঝে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা এ ব্যাপারে দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অন্যথায় সোনাতলা পৌরসভার চেয়ারটি বিএনপির দখলে চলে যাবে।

এ প্রসঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আল রাজী জুয়েল জানান, তাদের বহিষ্কারের আবেদনটি কেন্দ্রে করা হয়েছে। তাই এখানে তাদের কিছু করার নেই। তিনি বলেন, সোনাতলা পৌর মেয়র পদে নৌকার প্রার্থী শাহিদুল বারী খাঁন রব্বানী শান্তি কমিটির সভাপতির ছেলে বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি আওয়ামী লীগের সদস্য পদেও নেই। তবে বর্তমান মেয়র ও বিদ্রোহী প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম নান্নু জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য।

বহিষ্কারের সুপারিশপ্রাপ্ত কয়েকজন হলেন, বর্তমান মেয়র বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য জাহাঙ্গীর আলম নান্নু, সোনাতলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক তাহেরুল ইসলাম তাহের, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জাকির হোসেন জাকির, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মশিউর রহমান রানা, সাবেক প্রচার সম্পাদক তাহেরুল ইসলাম তাহের, সাংগঠনিক সম্পাদক ইব্রাহিম হোসেন দুলু, মধুপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি দবির হোসেন মণ্ডল, দিগদাইড় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম, সহ-সভাপতি মাহফুজার রহমান মাফু, জাতীয় শ্রমিক লীগ সোনাতলা উপজেলা শাখার আহ্বায়ক আকতার হোসেন বুলু, যুগ্ম আহ্বায়ক এটিএম রেজাউল করিম মানিক, শ্রমিক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক তৌহিদ আলম প্রমুখ।

সোনাতলা পৌরসভা নির্বাচন ২ নভেম্বর। গতবার বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে বিজয়ী বর্তমান মেয়র জাহাঙ্গীর আলম নান্নুর পরিবর্তে এবার স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সোনাতলা উপজেলা শান্তি কমিটির সভাপতি সামসুল হক খানের ছেলে শাহিদুল বারী খান রব্বানীকে নৌকা প্রতীক দেওয়া হয়। এতে ত্যাগী নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দেয়। তার মনোনয়ন বাতিল করতে সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জাকির হোসেন জাকির কেন্দ্রীয় সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে লিখিত আবেদন করেন। রাজাকারপুত্রকে মনোনয়ন দেওয়ায় ত্যাগী নেতাকর্মীরা বগুড়া-১ আসনের এমপি সাহাদারা মান্নানের ভাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মিনহাদুজ্জামান লিটনকে দায়ী করেন। এ নিয়ে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। তবে কেন্দ্র থেকে এ ব্যাপারে কোনো সাড়া মেলেনি।। এতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েন। আওয়ামী লীগ প্রার্থী শাহিদুল বারী খান রব্বানী (নৌকা), বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান মেয়র জাহাঙ্গীর আলম নান্নু (নারিকেল গাছ) এবং স্বতন্ত্র থেকে পৌর বিএনপির সদস্য শাকিল রেজা বাবলা (জগ) প্রতীক পেয়েছেন। নৌকার প্রার্থী শাহিদুল বারী খান জানান, তার বাবা কখনও রাজাকার বা শান্তি কমিটির সভাপতি ছিলেন না। এটা তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও মিথ্যাচার। একই দাবি করেন, সোনাতলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মিনহাদুজ্জামান লিটন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন