একাদশ শ্রেণীতে মিনিটে ভর্তির আবেদন ১৯৯টি

বিস্তারিত ভর্তি নির্দেশিকা ও নীতিমালা ওয়েবসাইটে * এবার ১৫৫১৪ কলেজ মাদ্রাসায় ভর্তি করা হবে

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৪ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

একাদশ শ্রেণীতে মিনিটে ভর্তির আবেদন ১৯৯টি

কলেজে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির আবেদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রোববার বেলা ২টা থেকে শিক্ষার্থীরা অনলাইন এবং এসএমএসে একযোগে আবেদন করতে পারছে।

বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত প্রথম ৪ ঘণ্টায় প্রায় ৪৭ হাজার ৮৭০ জন আবেদনের জন্য টাকা জমা দিয়েছে। সে হিসাবে প্রতি মিনিটে ১৯৯ শিক্ষার্থীর আবেদন পড়ছে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মুহা. জিয়াউল হক এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ভুয়া আবেদন ঠেকাতে এবারও ভর্তিতে আগে টাকা জমা নেয়া হচ্ছে।

টাকা জমা দেয়াকালে শিক্ষার্থী এসএমএসে যে তথ্য সরবরাহ করে, তার সঙ্গে বোর্ডের বা বুয়েটের সার্ভারে সংরক্ষিত তথ্যও যাচাই করতে হয়। এরপর ফিরতি এসএমএস যায়। তা ছাড়া একসঙ্গে প্রচুর শিক্ষার্থী আবেদন করছে।

এসব প্রক্রিয়ায় আবেদন কাজ শেষ করতে শিক্ষার্থীর কিছুটা সময় লাগছে। এ ছাড়া বিড়ম্বনামুক্তভাবে শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারছে। তিনি আরও বলেন, এবার ভর্তির আগেই বোর্ডে রেজিস্ট্রেশন করার বিধান করা হয়েছে। শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়টি যে নিশ্চায়ন (নিশ্চিত) করবে সেটিই রেজিস্ট্রেশন হিসেবে ধরা হবে।

এবার চতুর্থবারের মতো অনলাইন ও এসএমএসে আবেদন নিচ্ছে সরকার। বুয়েটের কারিগরি সহায়তায় এ আবেদন গ্রহণ কার্যক্রম সম্পন্ন হচ্ছে। রোববার দুপুরে আবেদন কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মোল্লা জালালউদ্দিন। এ সময় ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক একেএম ছায়েফউল্যাসহ বুয়েটের অধ্যাপক এবং টেলিটকের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ বছরও অনলাইনে সর্বনিু ৫টি ও সর্বোচ্চ ১০টি কলেজে আবেদন করা যাচ্ছে। এর বিনিময়ে ১৫০ টাকা নেয়া হচ্ছে। এসএমএসেও একটি করে কলেজে আবেদন যাচ্ছে। এসএমএসে একটি আবেদনের জন্য ১২০ টাকা নেয়া হচ্ছে। উভয় মাধ্যমে ১০টির বেশি আবেদন করা যাবে না।

২৪ মে রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের প্রধান সিস্টেম অ্যানালিস্ট মনজুরুল কবীর জানান, বিকাল ৬টা পর্যন্ত ৪৭ হাজার ৮৭০টি আবেদন পড়েছে। তবে এর মধ্যে ৩১ হাজার ২৫৯টি আবেদন চূড়ান্ত হয়েছে।

ভর্তির জন্য এবারও (www.xiclassadmission.gov.bd) শীর্ষক ওয়েবসাইটে যেতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এতে ভর্তির নির্দেশিকা দেয়া আছে। ভর্তিসংক্রান্ত সব তথ্য, সময়সূচি, ভর্তি নির্দেশিকা, আবেদনের নিয়মাবলিও উল্লিখিত ওয়েবসাইটে এবং ১০টি শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকেও জানা যাচ্ছে।

ওয়েবসাইটে কলেজ তালিকা আছে। কলেজের নামের পাশে আবেদনের শর্ত (কত জিপিএ লাগবে), আসন সংখ্যা ইত্যাদি উল্লেখ আছে।

এবার সারা দেশে ১৫ হাজার ৫১৪টি কলেজ ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। এর মধ্যে মাদ্রাসা তিন হাজার ৩৭২টি। এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১৫ লাখ ৭৬ হাজার ১০৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। গত বছর ভর্তি না হওয়া প্রায় পৌনে দুই লাখ ছাত্রছাত্রী আছে। সে অনুযায়ী ১৭ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর এবার ভর্তি কার্যক্রমে অংশ নেয়ার কথা।

ভর্তি কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, এবার একাদশ শ্রেণীর সব আসনেই শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে মেধায়। আবেদনপত্রে কলেজ ও মাদ্রাসার পছন্দক্রম দিতে হবে। একবার আবেদন দাখিল করলে সেই পছন্দক্রম আর পরিবর্তন করা যাবে না।

শিক্ষার্থীরা নিজের নম্বরের ভিত্তিতে নির্ধারিত মেধাক্রম অনুযায়ী কলেজ পাবে। শিক্ষার্থীদের মাইগ্রেশন হবে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে। যেমন কোনো শিক্ষার্থী প্রথম প্রকাশিত তালিকায় যদি তার পছন্দের কলেজের (তালিকা থেকে) ৫ নম্বর পেয়ে থাকে, তাহলে দ্বিতীয় বা তৃতীয় তালিকায় মেধাক্রম অনুসারে উপরের দিকের (চতুর্থ, তৃতীয়, দ্বিতীয় এ রকম) কলেজ দেয়া হবে। অবশ্য কেউ যদি প্রথম পাওয়া কলেজেই ভর্তি হতে চায়, তাহলে সে সেটা জানালে আর মাইগ্রেশন দেয়া হবে না।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, মোট তিন দফায় শিক্ষার্থীরা আবেদনের সুযোগ পাবে। ফল প্রকাশও হবে তিনবার। এর মধ্যে প্রথম দফায় ২৪ মে পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। এ ছাড়া ১৯ ও ২০ জুন দ্বিতীয় এবং ২৪ জুন তৃতীয়বারের জন্য আবেদন করা যাবে।

মোট তিন দফায় আবেদনের ফল প্রকাশ করা হবে। শিক্ষার্থীদের অবশ্যই নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত (নিশ্চায়ন) করতে হবে। নইলে শিক্ষার্থীর কলেজ-মাদ্রাসায় বরাদ্দকৃত আসনের পাশাপাশি আবেদনটিও বাতিল হয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে ফের আবেদন করতে হবে।

দ্বিতীয় পর্যায়ের আবেদন নেয়া হবে ১৯ ও ২০ জুন। ফল প্রকাশ করা হবে ২১ জুন। একই দিন পছন্দক্রম অনুযায়ী মাইগ্রেশনের ফল (প্রথমবার কলেজ পছন্দ না হওয়া প্রার্থীদের বিকল্প কলেজ) প্রকাশ করা হবে।

এই দফায় নির্বাচিতরা ২২ ও ২৩ জুন মনোনয়ন নিশ্চায়ন করবে। তৃতীয় পর্যায়ের আবেদন নেয়া হবে ২৪ জুন। পরের দিন দ্বিতীয় পর্যায়ের মাইগ্রেশন এবং তৃতীয় পর্যায়ের আবেদনের ফল প্রকাশ করা হবে।

তিন দফা আবেদন গ্রহণ ও ফল প্রকাশের পর ২৭ জুন শুরু হবে কলেজে ভর্তি কার্যক্রম। ৩০ জুন পর্যন্ত কলেজের টাকা জমা দিয়ে শিক্ষার্থীরা ভর্তি সম্পন্ন করবে। ১ জুলাই শুরু হবে তাদের ক্লাস।

নীতিমালা অনুযায়ী, এবারও ১১ শতাংশ আসনে কোটায় ভর্তি করা হয়। বিশেষ কোটার মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা-৫ শতাংশ, বিভাগীয় ও জেলা সদর-৩ শতাংশ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধঃস্তন দফতরসমূহ ২ শতাংশ, বিকেএসপি-০.৫ এবং প্রবাসী ০.৫ শতাংশ আছে। তবে এসব কোটায় উপযুক্ত শিক্ষার্থী না পাওয়া গেলে অন্য কাউকে ভর্তি করা যাবে না।

ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান যুগান্তরকে বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের সহায়তার লক্ষ্যে হেল্পডেস্ক খুলেছি। অন্য বোর্ডেরও আছে। সেখান থেকে মোবাইল ফোনে সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সার্বক্ষণিক সেবা দেয়া হচ্ছে। কোনো সমস্যা হলে বা বুঝতে না পারলে শিক্ষার্থীদের সহায়তা নেয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter