সৈয়দপুরে ব্রিটেনের রানির ব্যবহৃত স্টেট ক্যারেজ
jugantor
সৈয়দপুরে ব্রিটেনের রানির ব্যবহৃত স্টেট ক্যারেজ

  সৈয়দা রুখসানা জামান শানু, সৈয়দপুর (নীলফামারী)  

১৭ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শহরজুড়ে রেলের লাল স্থাপনাগুলোর জন্য সৈয়দপুরকে অনেকে ‘দ্য রেড সিটি অব বাংলাদেশ’ বলে থাকেন। এখানে রয়েছে ১৮৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত দেশের বৃহত্তম রেলওয়ে কারখানা। আছে রেলওয়ে জাদুঘর। আর এখানেই রাখা আছে ব্রিটেনের রানির ব্যবহৃত শত বছরের প্রাচীন একটি স্টেট ক্যারেজ বা প্রেসিডেন্ট সেলুন। বিল্ডার্স প্লেটে লেখা আছে ১৯২৭ সালে ব্রিটেনের একটি কারখানায় তৈরি হয়েছে এই সেলুন। ব্রিটেনের রানি যাতে ভারতের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করতে পারেন এজন্য সেলুনটি আনা হয়।

দেশ বিভাগের পর ১৯৪৮ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান রেলওয়েকে সেলুনটি উপহার হিসাবে দিয়ে যায় ব্রিটিশ সরকার। এর নম্বর-১২৬৫। স্বাধীনতার পর দেশের অনেক রাষ্ট্রপ্রধান এই প্রেসিডেন্ট সেলুনে ভ্রমণ করেছেন। ১৯৮১ সালে সেলুনটি অকেজো হয়ে পড়লে সৈয়দপুর কারখানায় নিয়ে আসা হয়।

সেলুনটির বৈশিষ্ট্য হলো- এটি কাঠের তৈরি। এর ভেতরে রয়েছে প্রেসিডেন্টের শয়নকক্ষ, তার স্টাফদের জন্য আলাদা দুটি রুম, বিলাশবহুল বাথরুম, বেসিন, শাওয়ার, লাইট, ফ্যান ও সুইচ বোর্ড। আছে একটি কনফারেন্স রুমও। সাধারণ কোচে আটটি চাকা থাকলেও সেলুনটিতে আছে ১২টি চাকা। এসব তথ্য জানান সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) মো. জয়দুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘রেলের জাদুঘরে অনেক দুর্লভ জিনিস রাখা হয়েছে। এটিকে সমৃদ্ধ করার কাজ অব্যাহত রয়েছে।’

উল্লেখ্য, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় প্রবেশ করতে অনুমতির প্রয়োজন হয়। প্রেসিডেন্ট সেলুনে যেতেও আলাদা অনুমতির দরকার হয়। এটি মেরামত করে রেলওয়ে কারখানার জাদুঘরে রাখা হয়েছে। দেশ এবং দেশের বাইরে থেকে যারা সৈয়দপুরে আসেন তারা একনজর কারখানায় এসে জাদুঘরটি এবং সেখানে থাকা সেলুনটি দেখতে পারেন।

সৈয়দপুরে ব্রিটেনের রানির ব্যবহৃত স্টেট ক্যারেজ

 সৈয়দা রুখসানা জামান শানু, সৈয়দপুর (নীলফামারী) 
১৭ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শহরজুড়ে রেলের লাল স্থাপনাগুলোর জন্য সৈয়দপুরকে অনেকে ‘দ্য রেড সিটি অব বাংলাদেশ’ বলে থাকেন। এখানে রয়েছে ১৮৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত দেশের বৃহত্তম রেলওয়ে কারখানা। আছে রেলওয়ে জাদুঘর। আর এখানেই রাখা আছে ব্রিটেনের রানির ব্যবহৃত শত বছরের প্রাচীন একটি স্টেট ক্যারেজ বা প্রেসিডেন্ট সেলুন। বিল্ডার্স প্লেটে লেখা আছে ১৯২৭ সালে ব্রিটেনের একটি কারখানায় তৈরি হয়েছে এই সেলুন। ব্রিটেনের রানি যাতে ভারতের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করতে পারেন এজন্য সেলুনটি আনা হয়।

দেশ বিভাগের পর ১৯৪৮ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান রেলওয়েকে সেলুনটি উপহার হিসাবে দিয়ে যায় ব্রিটিশ সরকার। এর নম্বর-১২৬৫। স্বাধীনতার পর দেশের অনেক রাষ্ট্রপ্রধান এই প্রেসিডেন্ট সেলুনে ভ্রমণ করেছেন। ১৯৮১ সালে সেলুনটি অকেজো হয়ে পড়লে সৈয়দপুর কারখানায় নিয়ে আসা হয়।

সেলুনটির বৈশিষ্ট্য হলো- এটি কাঠের তৈরি। এর ভেতরে রয়েছে প্রেসিডেন্টের শয়নকক্ষ, তার স্টাফদের জন্য আলাদা দুটি রুম, বিলাশবহুল বাথরুম, বেসিন, শাওয়ার, লাইট, ফ্যান ও সুইচ বোর্ড। আছে একটি কনফারেন্স রুমও। সাধারণ কোচে আটটি চাকা থাকলেও সেলুনটিতে আছে ১২টি চাকা। এসব তথ্য জানান সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) মো. জয়দুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘রেলের জাদুঘরে অনেক দুর্লভ জিনিস রাখা হয়েছে। এটিকে সমৃদ্ধ করার কাজ অব্যাহত রয়েছে।’

উল্লেখ্য, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় প্রবেশ করতে অনুমতির প্রয়োজন হয়। প্রেসিডেন্ট সেলুনে যেতেও আলাদা অনুমতির দরকার হয়। এটি মেরামত করে রেলওয়ে কারখানার জাদুঘরে রাখা হয়েছে। দেশ এবং দেশের বাইরে থেকে যারা সৈয়দপুরে আসেন তারা একনজর কারখানায় এসে জাদুঘরটি এবং সেখানে থাকা সেলুনটি দেখতে পারেন।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন