নতুন অতিথি এলো জলহস্তী পরিবারে
jugantor
বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক
নতুন অতিথি এলো জলহস্তী পরিবারে

  শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি  

১৮ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বুধবার বেলা ১১টা। গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের সাফারি কিংডমের জলহস্তী বেষ্টনী ঘিরে দর্শনার্থীর জটলা। কাছে যেতেই দেখা মিলল সদ্য জন্ম নেওয়া এক শাবক মায়ের সঙ্গে খুনসুটি করছে। মায়ের পেছন পেছন বেষ্টনীর পুকুরের পানি থেকে পাড়ে উঠে আসছে, কিছু সময় অবস্থানের পর আবার মায়ের সঙ্গে গভীর পানিতে ডুব দিচ্ছে। আবার গভীর পানির মধ্যে মাঝে মধ্যেই গা ভাসিয়ে দর্শনার্থীদের বিনোদন দিচ্ছে জলহস্তীগুলো।

সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহকারী বন সংরক্ষক তবিবুর রহমান জানান, ধারণা করা হচ্ছে ২১ অক্টোবর সাফারি পার্কের জলহস্তী পরিবারে নতুন শাবকের জন্ম হয়। কয়েকদিন যাবৎ নতুন শাবককে তার মায়ের সঙ্গে ডাঙায় ঘুরতে দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে পার্কে নতুন শাবক নিয়ে জলহস্তীর সংখ্যা দাঁড়াল ৩টি। তবে নতুন এ শাবকটি পুরুষ না স্ত্রী তা এখনো নির্ধারণ করতে পারেনি পার্ক কর্তৃপক্ষ।

পার্ক কর্তৃপক্ষ জানান, জলহস্তী আফ্রিকান তৃণভোজী স্তন্যপায়ী প্রাণী। এরা পানিতে জলজ উদ্ভিদ খেয়ে জীবন ধারণ করে। জলের সঙ্গে ডাঙায়ও এরা বসবাস করতে পারে। অনিয়ন্ত্রিত শিকার ও চোরাচালানের কারণে ২০০৬ সালে জলহস্তীকে আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) সংকটাপন্ন প্রাণীর তালিকায় স্থান দিয়েছে। জলহস্তীকে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহৎ প্রাণী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সাধারণত জলহস্তীর দৈর্ঘ্য সাড়ে ১০ ফুট, উচ্চতা সাড়ে ৪ ফুট ও ওজন তিন হাজার দুইশ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। এরা নিশাচর প্রাণী। রাতের বেলায় খাবারের খোঁজে বের হয়। প্রকৃতিতে এরা ৩০ বছরের অধিক সময় পর্যন্ত বেঁচে থাকে। জলহস্তীর গর্ভধারণের সময়কাল ১০ মাস, একটি করে শাবক জন্ম দিয়ে থাকে মা জলহস্তী।

পার্কের বন্যপ্রাণী পরিদর্শক আনিছুর রহমান বলেন, জন্মের পর এখন পর্যন্ত শাবকটি সুস্থ রয়েছে। শাবকটিকে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা দিচ্ছে তার মা। মা ও তার শাবকের পুষ্টিমানের কথা বিবেচনা করে খাবারের পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে। দিনের বেশির ভাগ সময়ই মায়ের সঙ্গে শাবকটি পানিতেই থাকছে। সারা শরীর ডুবিয়ে চোখ বের করে কুচুরিপানার ভেতরেই সবার লোকচক্ষুর আড়াল হয়ে থাকে সে। তবে মাঝে মধ্যে মায়ের সঙ্গে সে ডাঙায়ও উঠে পড়ে।

ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তবিবুর রহমান বলেন, পার্ক প্রতিষ্ঠালগ্ন সময় দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ২টি জলহস্তী আনা হয়। এ থেকে ইতিপূর্বে দুটি পুরুষ শাবকের জন্ম হলেও প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ জলহস্তীর সঙ্গে মারামারি করে ছোট সময়েই তারা মারা গেছে। এবারের শাবকটিকে কড়া নজরে রাখছে তার মা। এক মাস বয়স হতে চলেছে। এখন পর্যন্ত ভালোভাবেই বড় হচ্ছে সে। আশা করছি, শাবকটি টিকে যাবে।

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক

নতুন অতিথি এলো জলহস্তী পরিবারে

 শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি 
১৮ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বুধবার বেলা ১১টা। গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের সাফারি কিংডমের জলহস্তী বেষ্টনী ঘিরে দর্শনার্থীর জটলা। কাছে যেতেই দেখা মিলল সদ্য জন্ম নেওয়া এক শাবক মায়ের সঙ্গে খুনসুটি করছে। মায়ের পেছন পেছন বেষ্টনীর পুকুরের পানি থেকে পাড়ে উঠে আসছে, কিছু সময় অবস্থানের পর আবার মায়ের সঙ্গে গভীর পানিতে ডুব দিচ্ছে। আবার গভীর পানির মধ্যে মাঝে মধ্যেই গা ভাসিয়ে দর্শনার্থীদের বিনোদন দিচ্ছে জলহস্তীগুলো।

সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহকারী বন সংরক্ষক তবিবুর রহমান জানান, ধারণা করা হচ্ছে ২১ অক্টোবর সাফারি পার্কের জলহস্তী পরিবারে নতুন শাবকের জন্ম হয়। কয়েকদিন যাবৎ নতুন শাবককে তার মায়ের সঙ্গে ডাঙায় ঘুরতে দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে পার্কে নতুন শাবক নিয়ে জলহস্তীর সংখ্যা দাঁড়াল ৩টি। তবে নতুন এ শাবকটি পুরুষ না স্ত্রী তা এখনো নির্ধারণ করতে পারেনি পার্ক কর্তৃপক্ষ।

পার্ক কর্তৃপক্ষ জানান, জলহস্তী আফ্রিকান তৃণভোজী স্তন্যপায়ী প্রাণী। এরা পানিতে জলজ উদ্ভিদ খেয়ে জীবন ধারণ করে। জলের সঙ্গে ডাঙায়ও এরা বসবাস করতে পারে। অনিয়ন্ত্রিত শিকার ও চোরাচালানের কারণে ২০০৬ সালে জলহস্তীকে আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) সংকটাপন্ন প্রাণীর তালিকায় স্থান দিয়েছে। জলহস্তীকে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহৎ প্রাণী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সাধারণত জলহস্তীর দৈর্ঘ্য সাড়ে ১০ ফুট, উচ্চতা সাড়ে ৪ ফুট ও ওজন তিন হাজার দুইশ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। এরা নিশাচর প্রাণী। রাতের বেলায় খাবারের খোঁজে বের হয়। প্রকৃতিতে এরা ৩০ বছরের অধিক সময় পর্যন্ত বেঁচে থাকে। জলহস্তীর গর্ভধারণের সময়কাল ১০ মাস, একটি করে শাবক জন্ম দিয়ে থাকে মা জলহস্তী।

পার্কের বন্যপ্রাণী পরিদর্শক আনিছুর রহমান বলেন, জন্মের পর এখন পর্যন্ত শাবকটি সুস্থ রয়েছে। শাবকটিকে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা দিচ্ছে তার মা। মা ও তার শাবকের পুষ্টিমানের কথা বিবেচনা করে খাবারের পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে। দিনের বেশির ভাগ সময়ই মায়ের সঙ্গে শাবকটি পানিতেই থাকছে। সারা শরীর ডুবিয়ে চোখ বের করে কুচুরিপানার ভেতরেই সবার লোকচক্ষুর আড়াল হয়ে থাকে সে। তবে মাঝে মধ্যে মায়ের সঙ্গে সে ডাঙায়ও উঠে পড়ে।

ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তবিবুর রহমান বলেন, পার্ক প্রতিষ্ঠালগ্ন সময় দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ২টি জলহস্তী আনা হয়। এ থেকে ইতিপূর্বে দুটি পুরুষ শাবকের জন্ম হলেও প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ জলহস্তীর সঙ্গে মারামারি করে ছোট সময়েই তারা মারা গেছে। এবারের শাবকটিকে কড়া নজরে রাখছে তার মা। এক মাস বয়স হতে চলেছে। এখন পর্যন্ত ভালোভাবেই বড় হচ্ছে সে। আশা করছি, শাবকটি টিকে যাবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন