ফেরি পারের অপেক্ষায় ঘাটে আটকা শত শত যানবাহন
jugantor
দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট
ফেরি পারের অপেক্ষায় ঘাটে আটকা শত শত যানবাহন
ঘন ঘন ফেরি বিকল, ঘাট ও পন্টুন সংকটে এ অবস্থার সৃষ্টি * মাত্র তিন কিলোমিটার নৌপথ পাড়ি দিতে ২-৪ দিন পর্যন্ত দীর্ঘ সিরিয়ালে আটকা

  শামীম শেখ, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী)  

২৪ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌরুটে থাকছে নিত্য যানজট। প্রতিদিন ফেরি পারের অপেক্ষায় ঘাট এলাকায় আটকা পড়ছে শত শত যানবাহন। মাত্র তিন কিলোমিটার নৌপথ পাড়ি দিতে এসে যাত্রীবাহী গাড়িগুলোকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা এবং পণ্যবাহী গাড়িগুলোকে ২-৪ দিন পর্যন্ত দীর্ঘ সিরিয়ালে আটকে থাকতে হচ্ছে। এ কারণে সাধারণ যাত্রী, পরিবহণচালক, সহকারী ও ঘাট সংশ্লিষ্টরা সীমাহীন ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। যথাসময়ে পণ্য পরিবহণ করতে না পেরে ক্ষতির শিকার হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। ফেরি সংকট, ঘন ঘন ফেরি বিকল, ঘাট ও পন্টুন সংকটের পাশাপাশি অতিরিক্ত গাড়ির চাপে এ অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে বলে যুগান্তরের অনুসন্ধানে জানা যায়।

সরেজমিন দেখা যায়, মঙ্গলবার বিকাল ৫টা নাগাদ দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় আটকা পড়ে আছে যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ ৫ শতাধিক বিভিন্ন যানবাহন। পাটুরিয়া প্রান্তেও একইভাবে যানবাহন আটকে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। এদিকে দৌলতদিয়া ঘাটকে যানজটমুক্ত রাখতে ঘাট থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কে পুলিশ আরও কয়েকশ পচনশীল যানবাহন আটকে রেখেছে। সেখানে খাবার হোটেল, টয়লেট, বাথরুম ঠিকমতো না থাকায় চালকরা খোলা আকাশের নিচে অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ জানায়, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের বহরে ১৬টি ফেরি চলাচল করছে। এর মধ্যে ৮টি রো রো (বড়) ফেরি, ৬টি ইউটিলিটি ও ২ টি কে-টাইপ ফেরি রয়েছে। একেকটি ফেরি স্বাভাবিকভাবে দৈনিক ২২-২৪টি ট্রিপ দিতে পারে। কিন্তু দালালদের দৌরাত্ম্য, ফেরিঘাট মুখে লোড-আনলোডের অব্যবস্থাপনার কারণে ট্রিপ সংখ্যা কম হচ্ছে।

সূত্রমতে, প্রতিটি রো রো ফেরি প্রতি ট্রিপে ১৮ থেকে ২০টি, ইউটিলিটি ৬ থেকে ৯টি এবং কে-টাইপ ফেরি শুধু ১৪টি ছোট গাড়ি পার করতে পারে। ঠিকমতো ট্রিপ দিতে পারলে ঘাটের যানজট অনেকটা কমে আসত। বেশির ভাগ রো রো (বড়) ফেরি তিন দশকেরও অধিক পুরোনো। সার্বক্ষণিক সচল রাখতে গিয়ে বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় অনেক ফেরি ঘন ঘন বিকল হয়ে পড়ছে। ২৭ অক্টোবর পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় রো রো (বড়) ফেরি শাহ আমানতের তলা ফেটে ডুবে যাওয়ার পর পর রুটের ৪টি রো রো ফেরি ভাষা শহিদ বরকত, শাহ আলী, বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ও বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানকে সংস্কারের জন্য নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ডে পাঠানো হয়েছে। ৫টি রো রো ফেরি (বড়) না থাকায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে যানবাহন পারাপার চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। স্বাভাবিক পারাপারের জন্য এ রুটে অন্তত ২০-২২টি ফেরি সচল থাকা দরকার বলে সংশ্লিষ্ট সবার অভিমত।

দৌলতদিয়ায় মোট ৭টি ফেরিঘাট রয়েছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ১ ও ২ নম্বর দুটি ঘাট নদীভাঙনের কবলে পড়ে ২০১৯ সালের ৫ অক্টোবর থেকে বন্ধ রয়েছে। চলতি বছরের ভাঙনে বন্ধ হয়ে যায় ৪নং ঘাট। চালু থাকা অপর ৪টি ঘাটের মধ্যে শুধু ৫ ও ৭ নম্বর ঘাটে রয়েছে ৩টি পকেট বিশিষ্ট পন্টুন। এর মধ্যে নাব্য সংকট ও জরাজীর্ণতার কারণে আবার উভয় ঘাটের একটি করে পকেট বন্ধ হয়ে আছে। চলাচলকারী রো রো (বড়) ফেরিগুলো শুধু ৫ ও ৭নং ঘাটের চালু ৪টি পকেটে ভিড়তে পারছে। ছোট ফেরিগুলো ভিড়ছে এক পকেটবিশিষ্ট ৩ ও ৬ নম্বর ঘাটের পন্টুনে। প্রয়োজনীয় ঘাট ও পন্টুন ৬ নম্বর ঘাটের পন্টুনে। প্রয়োজনীয় ঘাট ও পন্টুন সংকটের কারণে বহরে থাকা ফেরিগুলো একযোগে চলাচল করতে না পারায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ফেরি পারাপার ব্যাহত হচ্ছে। পদ্মা সেতুর পিলারে বারবার ফেরির ধাক্কা লাগার পর থেকে বাংলাবাজার-শিমুলিয়ার ওই নৌরুটে ফেরি চলাচল কার্যত বন্ধ করে রেখেছে কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিন পর সম্প্রতি সেখানে ৪টি ছোট ফেরি চালু করা হয়েছে। ফেরিগুলো সকাল ৬টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত শুধু ছোট ছোট যানবাহন পারাপার করছে। সেখানে বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যানের মতো বড় বড় যানবাহন পারাপার এখনো বন্ধ রয়েছে। এসব যানবাহন ভিড় করছে দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া ঘাটে। বিআইডব্লিউটিসি সূত্রমতে, শুধু দৌলতদিয়া ঘাট দিয়ে দৈনিক সাড়ে ৩ হাজারের মতো বিভিন্ন ধরনের গাড়ি পারাপার হচ্ছে। ২০ নভেম্বরের তথ্যমতে, এ ঘাট দিয়ে ৯৭৭টি ট্রাক, ৫৪১টি বাস এবং ২৪৮টি বিভিন্ন ধরনের ছোট গাড়ি পার হয়। পাটুরিয়া ঘাট দিয়েও একইভাবে গাড়ি পার হয়। অথচ স্বাভাবিক সময়ে এ রুটের উভয় ঘাট দিয়ে ৪ থেকে ৫ হাজার পর্যন্ত গাড়ি পারাপার হয়ে থাকে। এ অবস্থায় শিমুলিয়া-বাংলাবাজার রুটের গাড়ি যোগ হওয়ায় সংকট আরও বেড়েছে।

বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় ৪৬টি অপারেশনাল পদের মধ্যে ১১টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। ফলে সার্ভিস ব্যাহত হচ্ছে। কর্মরতদের ওপর পড়ছে বাড়তি চাপ। তবে পাটুরিয়া ঘাটে পর্যাপ্ত সংখ্যক (৫১টি) অপারেশনাল স্টাফ কর্মরত আছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।

শুষ্ক মৌসুম শুরু হওয়ায় ফেরিঘাট ও ঘাটের বেসিনে পানির গভীরতা কমে এসেছে। নাব্য বাড়াতে শুরু হয়েছে ড্রেজিং। ড্রেজিং যন্ত্র ও অনেক পাইপের কারণেও ব্যাহত হচ্ছে ফেরির স্বাভাবিক চলাচল। কয়েকজন বাস, ট্রাকচালক ও তাদের প্রতিনিধিরা জানান, নানা সংকটের মধ্যেও পরিবহণ সেক্টরের চিহ্নিত দালাল এবং ট্রাফিক পুলিশ ও ফেরি বিভাগের কতিপয় অসাধু সদস্যের কারণে তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। মাঝখান থেকে অসাধু চক্র পরস্পর যোগসাজশে হাতিয়ে নেয় মোটা অঙ্কের অর্থ।

রাজবাড়ী ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক রফিকুর রহমান জানান, বাড়তি গাড়ির চাপ ও ফেরি কম থাকার কারণে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে স্বাভাবিক যানবাহন পারাপার ব্যাহত হচ্ছে। ১৬টি ফেরি চালু থাকার কথা বললেও প্রকৃতপক্ষে ১৩-১৪টির বেশি চলে না। যাত্রী দুর্ভোগ কমাতে ও সুষ্ঠুভাবে পণ্যবাহী গাড়ি পারাপারের জন্য তারা আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। দালাল বা অন্য যে কোনো ধরনের অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে পুলিশ সুপারসহ তারা কঠোর অবস্থানে রয়েছেন বলে জানান।

বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক শিহাব উদ্দিন বলেন, বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। সীমিত আকারে চালু হলেও শুধু ছোট গাড়ি পারাপার করা হচ্ছে। ফলে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের ওপর বাড়তি যানবাহনের চাপ অব্যাহত রয়েছে। ঘাট ও পন্টুন নিয়েও সমস্যা রয়েছে। এখানে স্বাভাবিক ফেরি পারাপারের জন্য ২০/২১টি ফেরি চালু থাকা দরকার। এর জন্য সংস্কারে থাকা রো রো ফেরিগুলো দ্রুত সংস্কার শেষে বহরে যুক্ত হওয়া দরকার। মঙ্গলবার পর্যন্ত বহরে ১৬টি ফেরি চালু রয়েছে। চালু থাকা প্রতিটি ফেরির পূর্ণাঙ্গ ট্রিপ নিশ্চিত হওয়া দরকার।

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট

ফেরি পারের অপেক্ষায় ঘাটে আটকা শত শত যানবাহন

ঘন ঘন ফেরি বিকল, ঘাট ও পন্টুন সংকটে এ অবস্থার সৃষ্টি * মাত্র তিন কিলোমিটার নৌপথ পাড়ি দিতে ২-৪ দিন পর্যন্ত দীর্ঘ সিরিয়ালে আটকা
 শামীম শেখ, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) 
২৪ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌরুটে থাকছে নিত্য যানজট। প্রতিদিন ফেরি পারের অপেক্ষায় ঘাট এলাকায় আটকা পড়ছে শত শত যানবাহন। মাত্র তিন কিলোমিটার নৌপথ পাড়ি দিতে এসে যাত্রীবাহী গাড়িগুলোকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা এবং পণ্যবাহী গাড়িগুলোকে ২-৪ দিন পর্যন্ত দীর্ঘ সিরিয়ালে আটকে থাকতে হচ্ছে। এ কারণে সাধারণ যাত্রী, পরিবহণচালক, সহকারী ও ঘাট সংশ্লিষ্টরা সীমাহীন ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। যথাসময়ে পণ্য পরিবহণ করতে না পেরে ক্ষতির শিকার হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। ফেরি সংকট, ঘন ঘন ফেরি বিকল, ঘাট ও পন্টুন সংকটের পাশাপাশি অতিরিক্ত গাড়ির চাপে এ অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে বলে যুগান্তরের অনুসন্ধানে জানা যায়।

সরেজমিন দেখা যায়, মঙ্গলবার বিকাল ৫টা নাগাদ দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় আটকা পড়ে আছে যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ ৫ শতাধিক বিভিন্ন যানবাহন। পাটুরিয়া প্রান্তেও একইভাবে যানবাহন আটকে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। এদিকে দৌলতদিয়া ঘাটকে যানজটমুক্ত রাখতে ঘাট থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কে পুলিশ আরও কয়েকশ পচনশীল যানবাহন আটকে রেখেছে। সেখানে খাবার হোটেল, টয়লেট, বাথরুম ঠিকমতো না থাকায় চালকরা খোলা আকাশের নিচে অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ জানায়, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের বহরে ১৬টি ফেরি চলাচল করছে। এর মধ্যে ৮টি রো রো (বড়) ফেরি, ৬টি ইউটিলিটি ও ২ টি কে-টাইপ ফেরি রয়েছে। একেকটি ফেরি স্বাভাবিকভাবে দৈনিক ২২-২৪টি ট্রিপ দিতে পারে। কিন্তু দালালদের দৌরাত্ম্য, ফেরিঘাট মুখে লোড-আনলোডের অব্যবস্থাপনার কারণে ট্রিপ সংখ্যা কম হচ্ছে।

সূত্রমতে, প্রতিটি রো রো ফেরি প্রতি ট্রিপে ১৮ থেকে ২০টি, ইউটিলিটি ৬ থেকে ৯টি এবং কে-টাইপ ফেরি শুধু ১৪টি ছোট গাড়ি পার করতে পারে। ঠিকমতো ট্রিপ দিতে পারলে ঘাটের যানজট অনেকটা কমে আসত। বেশির ভাগ রো রো (বড়) ফেরি তিন দশকেরও অধিক পুরোনো। সার্বক্ষণিক সচল রাখতে গিয়ে বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় অনেক ফেরি ঘন ঘন বিকল হয়ে পড়ছে। ২৭ অক্টোবর পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় রো রো (বড়) ফেরি শাহ আমানতের তলা ফেটে ডুবে যাওয়ার পর পর রুটের ৪টি রো রো ফেরি ভাষা শহিদ বরকত, শাহ আলী, বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ও বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানকে সংস্কারের জন্য নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ডে পাঠানো হয়েছে। ৫টি রো রো ফেরি (বড়) না থাকায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে যানবাহন পারাপার চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। স্বাভাবিক পারাপারের জন্য এ রুটে অন্তত ২০-২২টি ফেরি সচল থাকা দরকার বলে সংশ্লিষ্ট সবার অভিমত।

দৌলতদিয়ায় মোট ৭টি ফেরিঘাট রয়েছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ১ ও ২ নম্বর দুটি ঘাট নদীভাঙনের কবলে পড়ে ২০১৯ সালের ৫ অক্টোবর থেকে বন্ধ রয়েছে। চলতি বছরের ভাঙনে বন্ধ হয়ে যায় ৪নং ঘাট। চালু থাকা অপর ৪টি ঘাটের মধ্যে শুধু ৫ ও ৭ নম্বর ঘাটে রয়েছে ৩টি পকেট বিশিষ্ট পন্টুন। এর মধ্যে নাব্য সংকট ও জরাজীর্ণতার কারণে আবার উভয় ঘাটের একটি করে পকেট বন্ধ হয়ে আছে। চলাচলকারী রো রো (বড়) ফেরিগুলো শুধু ৫ ও ৭নং ঘাটের চালু ৪টি পকেটে ভিড়তে পারছে। ছোট ফেরিগুলো ভিড়ছে এক পকেটবিশিষ্ট ৩ ও ৬ নম্বর ঘাটের পন্টুনে। প্রয়োজনীয় ঘাট ও পন্টুন ৬ নম্বর ঘাটের পন্টুনে। প্রয়োজনীয় ঘাট ও পন্টুন সংকটের কারণে বহরে থাকা ফেরিগুলো একযোগে চলাচল করতে না পারায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ফেরি পারাপার ব্যাহত হচ্ছে। পদ্মা সেতুর পিলারে বারবার ফেরির ধাক্কা লাগার পর থেকে বাংলাবাজার-শিমুলিয়ার ওই নৌরুটে ফেরি চলাচল কার্যত বন্ধ করে রেখেছে কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিন পর সম্প্রতি সেখানে ৪টি ছোট ফেরি চালু করা হয়েছে। ফেরিগুলো সকাল ৬টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত শুধু ছোট ছোট যানবাহন পারাপার করছে। সেখানে বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যানের মতো বড় বড় যানবাহন পারাপার এখনো বন্ধ রয়েছে। এসব যানবাহন ভিড় করছে দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া ঘাটে। বিআইডব্লিউটিসি সূত্রমতে, শুধু দৌলতদিয়া ঘাট দিয়ে দৈনিক সাড়ে ৩ হাজারের মতো বিভিন্ন ধরনের গাড়ি পারাপার হচ্ছে। ২০ নভেম্বরের তথ্যমতে, এ ঘাট দিয়ে ৯৭৭টি ট্রাক, ৫৪১টি বাস এবং ২৪৮টি বিভিন্ন ধরনের ছোট গাড়ি পার হয়। পাটুরিয়া ঘাট দিয়েও একইভাবে গাড়ি পার হয়। অথচ স্বাভাবিক সময়ে এ রুটের উভয় ঘাট দিয়ে ৪ থেকে ৫ হাজার পর্যন্ত গাড়ি পারাপার হয়ে থাকে। এ অবস্থায় শিমুলিয়া-বাংলাবাজার রুটের গাড়ি যোগ হওয়ায় সংকট আরও বেড়েছে।

বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় ৪৬টি অপারেশনাল পদের মধ্যে ১১টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। ফলে সার্ভিস ব্যাহত হচ্ছে। কর্মরতদের ওপর পড়ছে বাড়তি চাপ। তবে পাটুরিয়া ঘাটে পর্যাপ্ত সংখ্যক (৫১টি) অপারেশনাল স্টাফ কর্মরত আছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।

শুষ্ক মৌসুম শুরু হওয়ায় ফেরিঘাট ও ঘাটের বেসিনে পানির গভীরতা কমে এসেছে। নাব্য বাড়াতে শুরু হয়েছে ড্রেজিং। ড্রেজিং যন্ত্র ও অনেক পাইপের কারণেও ব্যাহত হচ্ছে ফেরির স্বাভাবিক চলাচল। কয়েকজন বাস, ট্রাকচালক ও তাদের প্রতিনিধিরা জানান, নানা সংকটের মধ্যেও পরিবহণ সেক্টরের চিহ্নিত দালাল এবং ট্রাফিক পুলিশ ও ফেরি বিভাগের কতিপয় অসাধু সদস্যের কারণে তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। মাঝখান থেকে অসাধু চক্র পরস্পর যোগসাজশে হাতিয়ে নেয় মোটা অঙ্কের অর্থ।

রাজবাড়ী ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক রফিকুর রহমান জানান, বাড়তি গাড়ির চাপ ও ফেরি কম থাকার কারণে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে স্বাভাবিক যানবাহন পারাপার ব্যাহত হচ্ছে। ১৬টি ফেরি চালু থাকার কথা বললেও প্রকৃতপক্ষে ১৩-১৪টির বেশি চলে না। যাত্রী দুর্ভোগ কমাতে ও সুষ্ঠুভাবে পণ্যবাহী গাড়ি পারাপারের জন্য তারা আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। দালাল বা অন্য যে কোনো ধরনের অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে পুলিশ সুপারসহ তারা কঠোর অবস্থানে রয়েছেন বলে জানান।

বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক শিহাব উদ্দিন বলেন, বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। সীমিত আকারে চালু হলেও শুধু ছোট গাড়ি পারাপার করা হচ্ছে। ফলে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের ওপর বাড়তি যানবাহনের চাপ অব্যাহত রয়েছে। ঘাট ও পন্টুন নিয়েও সমস্যা রয়েছে। এখানে স্বাভাবিক ফেরি পারাপারের জন্য ২০/২১টি ফেরি চালু থাকা দরকার। এর জন্য সংস্কারে থাকা রো রো ফেরিগুলো দ্রুত সংস্কার শেষে বহরে যুক্ত হওয়া দরকার। মঙ্গলবার পর্যন্ত বহরে ১৬টি ফেরি চালু রয়েছে। চালু থাকা প্রতিটি ফেরির পূর্ণাঙ্গ ট্রিপ নিশ্চিত হওয়া দরকার।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন