দেওয়ানগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা ভাতার প্রলোভন দিয়ে সার্টিফিকেট বিক্রি
jugantor
দেওয়ানগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা ভাতার প্রলোভন দিয়ে সার্টিফিকেট বিক্রি
সাড়ে ৩ হাজার টাকায় সনদ, গেঞ্জি, ক্যাপ, আইডি কার্ড * টার্গেট গ্রামের দুস্থ অসহায় বৃদ্ধ নারী-পুরুষ

  মদন মোহন ঘোষ, দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর)  

২৪ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মাসিক ১০ হাজার টাকা ভাতা ও মুক্তিযোদ্ধাদের সব সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দিয়ে সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট বিক্রি করছে প্রতারক।

জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সীমান্ত এলাকার গ্রামগুলোতে দুস্থ অসহায় বৃদ্ধ নারী-পুরুষের কাছ থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার দেওয়ানগঞ্জ সীমান্তবর্তী ডাংধরা ইউনিয়ন হারুয়াবাড়ী মধ্যপাড়া গুচ্ছগ্রাম সরেজমিন ঘুরে সনদ ক্রয়কারীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, গ্রামের মোজাম্মেল হক গুড্ডু মাতব্বরের কাছ থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা দিয়ে সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা সনদ, গেঞ্জি, ক্যাপ, আইডি কার্ড নিয়েছেন জাহানারা বেগম। তিনি জানান, ‘আমরা এহন থ্যাইকা সরকারি টাকা পামু। সামনের মাসেই ১০ হাজার টাকা পামু, মুক্তিযোদ্ধারা যা পায় হেইডাই আমরা পামু।’ আপনাকে কে বলেছে এসব কথা- জিজ্ঞাসা করলে উত্তরে তিনি বলেন, গুড্ডু মাতব্বর। আশরাফ ও তার স্ত্রী সুফিয়া, জাহেদা খাতুন, জামেলাসহ কয়েকজন জানান, গ্যারামের মাতব্বর হাজি মোজাম্মেল আকন্দ গুড্ডু তাদের থেকে সাড়ে তিন হাজার করে টাকা নিয়ে সনদ বিক্রি করেছেন। তাদেরও একই ধরনের প্রলোভন দেখিয়েছেন। গুচ্ছগ্রামের আশ্রিত লোকজন খেটে খাওয়া দিনমজুর রিকশা ও ভ্যানচালক। সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা সনদ প্রদানকারীর কোনো ঠিকানা উল্লেখ নেই। সার্টিফিকেট বিক্রেতা মোজাম্মেল হক গুড্ডু জানান, তিনি ও তার বোন ফিরোজা বেগমও সাত হাজার টাকায় দুটি সার্টিফিকেট কিনেছেন। আরও ৯ জনের কাছে বিক্রি করেছেন। তিনি সার্টিফিকেটগুলো কিনেছেন সানন্দবাড়ী চর মাদার গ্রামের কাশেমের কাছ থেকে।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক মুক্তিযোদ্ধা খাইরুল ইসলাম জানান, ডাংধরা, সানন্দবাড়ীতে বেআইনিভাবে সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দিয়ে এসব ভুয়া কার্যক্রম করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধা তারিকুজ্জামান জানান, এর আগেও ইউএনওকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ মহব্বত কবীর জানান, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের দায়িত্বপ্রাপ্ত কমান্ডার কামরুন্নাহার শেফা যুগান্তরকে বলেন, বিষয়টি তাকে আগে কেউ জানায়নি। প্রমাণ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দেওয়ানগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা ভাতার প্রলোভন দিয়ে সার্টিফিকেট বিক্রি

সাড়ে ৩ হাজার টাকায় সনদ, গেঞ্জি, ক্যাপ, আইডি কার্ড * টার্গেট গ্রামের দুস্থ অসহায় বৃদ্ধ নারী-পুরুষ
 মদন মোহন ঘোষ, দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর) 
২৪ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মাসিক ১০ হাজার টাকা ভাতা ও মুক্তিযোদ্ধাদের সব সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দিয়ে সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট বিক্রি করছে প্রতারক।

জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সীমান্ত এলাকার গ্রামগুলোতে দুস্থ অসহায় বৃদ্ধ নারী-পুরুষের কাছ থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার দেওয়ানগঞ্জ সীমান্তবর্তী ডাংধরা ইউনিয়ন হারুয়াবাড়ী মধ্যপাড়া গুচ্ছগ্রাম সরেজমিন ঘুরে সনদ ক্রয়কারীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, গ্রামের মোজাম্মেল হক গুড্ডু মাতব্বরের কাছ থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা দিয়ে সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা সনদ, গেঞ্জি, ক্যাপ, আইডি কার্ড নিয়েছেন জাহানারা বেগম। তিনি জানান, ‘আমরা এহন থ্যাইকা সরকারি টাকা পামু। সামনের মাসেই ১০ হাজার টাকা পামু, মুক্তিযোদ্ধারা যা পায় হেইডাই আমরা পামু।’ আপনাকে কে বলেছে এসব কথা- জিজ্ঞাসা করলে উত্তরে তিনি বলেন, গুড্ডু মাতব্বর। আশরাফ ও তার স্ত্রী সুফিয়া, জাহেদা খাতুন, জামেলাসহ কয়েকজন জানান, গ্যারামের মাতব্বর হাজি মোজাম্মেল আকন্দ গুড্ডু তাদের থেকে সাড়ে তিন হাজার করে টাকা নিয়ে সনদ বিক্রি করেছেন। তাদেরও একই ধরনের প্রলোভন দেখিয়েছেন। গুচ্ছগ্রামের আশ্রিত লোকজন খেটে খাওয়া দিনমজুর রিকশা ও ভ্যানচালক। সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা সনদ প্রদানকারীর কোনো ঠিকানা উল্লেখ নেই। সার্টিফিকেট বিক্রেতা মোজাম্মেল হক গুড্ডু জানান, তিনি ও তার বোন ফিরোজা বেগমও সাত হাজার টাকায় দুটি সার্টিফিকেট কিনেছেন। আরও ৯ জনের কাছে বিক্রি করেছেন। তিনি সার্টিফিকেটগুলো কিনেছেন সানন্দবাড়ী চর মাদার গ্রামের কাশেমের কাছ থেকে।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক মুক্তিযোদ্ধা খাইরুল ইসলাম জানান, ডাংধরা, সানন্দবাড়ীতে বেআইনিভাবে সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দিয়ে এসব ভুয়া কার্যক্রম করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধা তারিকুজ্জামান জানান, এর আগেও ইউএনওকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ মহব্বত কবীর জানান, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের দায়িত্বপ্রাপ্ত কমান্ডার কামরুন্নাহার শেফা যুগান্তরকে বলেন, বিষয়টি তাকে আগে কেউ জানায়নি। প্রমাণ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন