শিক্ষককে বেঁধে নির্যাতন সাবেক ছাত্রলীগ নেতার
jugantor
গৌরনদী
শিক্ষককে বেঁধে নির্যাতন সাবেক ছাত্রলীগ নেতার
প্রভাব খাটিয়ে হাসপাতাল ছাড়া করার অভিযোগ

  গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি  

২৬ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বরিশালের গৌরনদী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মাসুম মল্লিক খোকন ওরফে খোকন মল্লিকের বিরুদ্ধে এক শিক্ষককে হাত-পা বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। পরে চিকিৎসা নিতে গেলে প্রভাব খাটিয়ে হাসপাতাল থেকেও তাকে বের করে দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে মামলা না করতেও তাকে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। ভুক্তভোগী শিক্ষকের নাম সাইদুল খন্দকার। তিনি উপজেলার পিঙ্গলাকাঠী গ্রামের বাসিন্দা এবং উত্তর কালনা আলহেরা নূরানি-হাফেজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক।

হাফেজ সাইদুল জানান, ১৮ নভেম্বর সকাল ৮টার দিকে মেয়েকে মাদ্রাসায় নিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। পথে খোকন মল্লিকের সঙ্গে তার দেখা হয়। এ সময় খোকন মল্লিক তার বাগান থেকে বাঁশ কাটার অপবাদে সাইদুলকে মারধর করেন। এর কিছু সময় পর ৭-৮ জন সহযোগী নিয়ে এসে তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করেন। সাইদুল বলেন, উনার গ্রাম কালনা। ওই গ্রামে গিয়ে আমি কিভাবে বাঁশ কাটব। হয়তো অন্য কোনো কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি আমার ওপর নির্যাতন চালিয়েছেন।

কালনা গ্রামের মৃত শামসুল হক মল্লিকের ছেলে খোকন মল্লিক। সাইদুল জানান, পিঙ্গলাকাঠী গ্রামের এক নারীর বাসায় তার যাতায়াত ছিল। পথে প্রায়ই দেখা হতো সাইদুলের সঙ্গে। সাইদুলের কারণে নারীর বাসায় যাতায়াতের ঘটনা জানাজানি হয়েছে মনে করে তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন খোকন। এ কারণেই হয়তো তাকে মারধর করেছেন। ভুক্তভোগী সাইদুল আরও জানান, তাকে মারধরের পর তিনি যাতে হাসপাতালে যেতে না পারেন সেজন্য তাকে ওইদিন গভীর রাত পর্যন্ত বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা। খবর পেয়ে পরদিন (১৯ নভেম্বর) সকালে গৌরনদী থানার এসআই আব্দুল হক তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। কিন্তু অভিযুক্তরা প্রভাব খাটিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে তাকে হাসপাতাল ছাড়া করে। এরপর মামলা না করতে হুমকি-ধমকি দিলেও তা উপেক্ষা করে বৃহস্পতিবার সকালে থানায় ৮ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সাইদুল।

এ বিষয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মাসুম মল্লিক খোকন যুগান্তরকে বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই। আমাকে পিঙ্গলাকাঠী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি করায় একটি মহল আমার সম্মানহানি ও ভাবমূর্তি নষ্ট করতে পরিকল্পিতভাবে আমার বিরুদ্ধে কুৎসা রটাচ্ছে।

গৌরনদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আফজাল হোসেন জানান, পুলিশ সাইদুলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গৌরনদী

শিক্ষককে বেঁধে নির্যাতন সাবেক ছাত্রলীগ নেতার

প্রভাব খাটিয়ে হাসপাতাল ছাড়া করার অভিযোগ
 গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি 
২৬ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বরিশালের গৌরনদী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মাসুম মল্লিক খোকন ওরফে খোকন মল্লিকের বিরুদ্ধে এক শিক্ষককে হাত-পা বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। পরে চিকিৎসা নিতে গেলে প্রভাব খাটিয়ে হাসপাতাল থেকেও তাকে বের করে দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে মামলা না করতেও তাকে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। ভুক্তভোগী শিক্ষকের নাম সাইদুল খন্দকার। তিনি উপজেলার পিঙ্গলাকাঠী গ্রামের বাসিন্দা এবং উত্তর কালনা আলহেরা নূরানি-হাফেজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক।

হাফেজ সাইদুল জানান, ১৮ নভেম্বর সকাল ৮টার দিকে মেয়েকে মাদ্রাসায় নিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। পথে খোকন মল্লিকের সঙ্গে তার দেখা হয়। এ সময় খোকন মল্লিক তার বাগান থেকে বাঁশ কাটার অপবাদে সাইদুলকে মারধর করেন। এর কিছু সময় পর ৭-৮ জন সহযোগী নিয়ে এসে তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করেন। সাইদুল বলেন, উনার গ্রাম কালনা। ওই গ্রামে গিয়ে আমি কিভাবে বাঁশ কাটব। হয়তো অন্য কোনো কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি আমার ওপর নির্যাতন চালিয়েছেন।

কালনা গ্রামের মৃত শামসুল হক মল্লিকের ছেলে খোকন মল্লিক। সাইদুল জানান, পিঙ্গলাকাঠী গ্রামের এক নারীর বাসায় তার যাতায়াত ছিল। পথে প্রায়ই দেখা হতো সাইদুলের সঙ্গে। সাইদুলের কারণে নারীর বাসায় যাতায়াতের ঘটনা জানাজানি হয়েছে মনে করে তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন খোকন। এ কারণেই হয়তো তাকে মারধর করেছেন। ভুক্তভোগী সাইদুল আরও জানান, তাকে মারধরের পর তিনি যাতে হাসপাতালে যেতে না পারেন সেজন্য তাকে ওইদিন গভীর রাত পর্যন্ত বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা। খবর পেয়ে পরদিন (১৯ নভেম্বর) সকালে গৌরনদী থানার এসআই আব্দুল হক তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। কিন্তু অভিযুক্তরা প্রভাব খাটিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে তাকে হাসপাতাল ছাড়া করে। এরপর মামলা না করতে হুমকি-ধমকি দিলেও তা উপেক্ষা করে বৃহস্পতিবার সকালে থানায় ৮ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সাইদুল।

এ বিষয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মাসুম মল্লিক খোকন যুগান্তরকে বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই। আমাকে পিঙ্গলাকাঠী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি করায় একটি মহল আমার সম্মানহানি ও ভাবমূর্তি নষ্ট করতে পরিকল্পিতভাবে আমার বিরুদ্ধে কুৎসা রটাচ্ছে।

গৌরনদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আফজাল হোসেন জানান, পুলিশ সাইদুলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন