ব্রজমোহন কলেজের ৬ একর জমি উধাও
jugantor
ব্রজমোহন কলেজের ৬ একর জমি উধাও

  তন্ময় তপু, বরিশাল  

২৬ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বরিশালের ঐতিহ্যবাহী সরকারি ব্রজমোহন কলেজ ক্যাম্পাসের প্রায় ৬ একর জমির কোনো হদিস মিলছে না। কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছেও এই জমির কোনো হিসাব না থাকলেও পুনরায় ডিজিটাল ম্যাপিংয়ের পর জমি কেউ দখল করলে তা উদ্ধারের কথা জানিয়েছেন। জমি উধাও প্রসঙ্গে কোনো উত্তর মেলেনি কলেজের সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ কমিটির কাছ থেকেও। তবে মহাত্মা অশ্বিনী কুমার দত্ত প্রতিষ্ঠিত এই কলেজ ক্যাম্পাসের মূল্যবান জমি উদ্ধারের জন্য দাবি জানিয়েছেন সচেতন সমাজ ও শিক্ষার্থীরা।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, ব্রজমোহন কলেজের মূলভূমি ৫৮ দশমিক ৩৬৮ একর। তবে ক্যাম্পাসের মূল ভূমি ছিল ৪৩ দশমিক ১ একর; কিন্তু ডিজিটাল ম্যাপিংয়ের পর ক্যাম্পাসে জমি পরিমাপ করে পাওয়া যায় ৩৭ দশমিক ৭১ একর। মাঝখান থেকে ৫ দশমিক ৩৯ একর জমি উধাও রয়েছে। এই নিয়ে বেশ চিন্তিত কলেজ প্রশাসনও। দ্রুত এই জমি উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছেন তারা।

কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী মোকলেছুর রহমান মনি বলেন, কলেজ ক্যাম্পাসের জমি তদারকির অভাবে যে যেখান থেকে পেরেছে দখল করেছে। কলেজের আশপাশের অনেক মানুষ এই জমি দখল করেছে। বাউন্ডারি করে কলেজ ক্যাম্পাসের পরিধি কমিয়েছে। এটা মেনে নেওয়া যায় না। সম্প্রতি কলেজের ফ্লাইট সার্জেন্ট ফজলুল হক হলের পুকুরের পাশ থেকে একটি ভবন তোলার সময় কলেজের বাউন্ডারি দেওয়াল ভেঙে ফেলে জমি দখল করা হয় বালু ভরাট করে। যে স্থানটিতে ভবন করা হচ্ছে, সেটিও কলেজের জমি হিসাবে আমরা চিনি। ওটা কলেজের পুকুর ছিল। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে জমিটি দখল করে এখন ভবন নির্মাণ তো করছেই, পাশাপাশি কলেজের বাউন্ডারি ভেঙে জমি দখল করা হয়েছে কয়েক ফুট। এরকম বাকসু ভবনের আশপাশ থেকেও হয়েছে, অশ্বিনী কুমার ছাত্রাবাসের আশপাশ থেকেও এমন অবস্থা। আমরা কলেজ ক্যাম্পাসের ভূমি দখলমুক্ত করতে কলেজ প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

সাবেক শিক্ষার্থী ও কেন্দ্রীয় ছাত্রমৈত্রীর সহসভাপতি শামিল শাহরোখ তমাল বলেন, বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র শওকত হোসেন হিরণের সময় সড়ক প্রশস্তকরণের জন্য কলেজ থেকে কিছু জমি সেক্রিফাইস করা হয়। তার মানে এটা নয় যে ৬ একর জমি সেক্রিফাইস করা হয়েছে। সামান্য কিছু জমি জনস্বার্থেই কলেজ কর্তৃপক্ষ সেসময় দিয়েছিল।

সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন বরিশাল জেলা কমিটির সদস্য সচিব কাজী এনায়েত হোসেন শিবলু বলেন, শুনেছি কলেজের জমি দখলের পেছনে সাবেক অধ্যক্ষ থেকে শুরু করে কয়েকজন শিক্ষকের হাতও রয়েছে। ক্যাম্পসের মূল জমি উদ্ধার করা বর্তমান প্রশাসনের টার্গেট হলে বিষয়টা বেশ প্রশংসিত হতো। শুনেছি একজন সাবেক অধ্যক্ষ ক্যাম্পাসের জমি নিজের দাবি করে বাড়িও তুলেছেন, সেখানেই তার স্থায়ী ঠিকানা ও বসবাস।

বরিশালের গবেষক আনিসুর রহমান খান স্বপন বলেন, ক্যাম্পাসের জমি উধাও ঠিক আছে, তবে কলেজের মূল জমি নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে। নগরের বিভিন্ন স্থানে কলেজের জমি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। সঠিক নজরদারির অভাবে এই জমিগুলো দখল প্রক্রিয়ায় অনেকেই ব্যবহার করছে। এছাড়া ক্যাম্পাসের জমি দখল হয়েছে মূলত চারপাশ থেকে। এই জমি উদ্ধার করতে কঠোর হস্তক্ষেপ জরুরি।

ব্রজমোহন কলেজের সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক শাহরিয়ার কিবরিয়া বলেন, সত্যি কথা বলতে আমিও অবাক। ক্যাম্পাসের জমি কোথায় গেছে, সেটার সদুত্তর আমাদের কাছেও নেই। কাগজে-কলমে যেখানে ক্যাম্পাসের জমি ৪৩ দশমিক ১ একর, সেখানে ডিজিটাল ম্যাপিংয়ের পর এই হিসাব মিলছে না। ডিসেম্বরে আমরা জমি পুনরায় পরিমাপ করব। এর জন্য একজন ভালো সার্ভেয়ারও ঠিক করেছি। এতে যদি দেখি আমাদের জমি কেউ দখল করেছে, তাহলে সে যত ক্ষমতাবানই হোক না কেন অধ্যক্ষ স্যারের সঙ্গে কথা বলে মামলা থেকে শুরু করে কঠোর ব্যবস্থা নেব।

সরকারি ব্রজমোহন কলেজের অধ্যক্ষ ড. গোলাম কিবরিয়া বলেন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা ও শিক্ষানুরাগী মহাত্মা অশ্বিনী কুমার দত্ত প্রতিষ্ঠিত সরকারি ব্রজমোহন কলেজের জমি উদ্ধারে ইতোমধ্যে আমরা নানা পদক্ষেপ নিয়েছি। জমি পুনরায় পরিমাপ করার পর কঠোর অবস্থানে যাব।

ব্রজমোহন কলেজের ৬ একর জমি উধাও

 তন্ময় তপু, বরিশাল 
২৬ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বরিশালের ঐতিহ্যবাহী সরকারি ব্রজমোহন কলেজ ক্যাম্পাসের প্রায় ৬ একর জমির কোনো হদিস মিলছে না। কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছেও এই জমির কোনো হিসাব না থাকলেও পুনরায় ডিজিটাল ম্যাপিংয়ের পর জমি কেউ দখল করলে তা উদ্ধারের কথা জানিয়েছেন। জমি উধাও প্রসঙ্গে কোনো উত্তর মেলেনি কলেজের সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ কমিটির কাছ থেকেও। তবে মহাত্মা অশ্বিনী কুমার দত্ত প্রতিষ্ঠিত এই কলেজ ক্যাম্পাসের মূল্যবান জমি উদ্ধারের জন্য দাবি জানিয়েছেন সচেতন সমাজ ও শিক্ষার্থীরা।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, ব্রজমোহন কলেজের মূলভূমি ৫৮ দশমিক ৩৬৮ একর। তবে ক্যাম্পাসের মূল ভূমি ছিল ৪৩ দশমিক ১ একর; কিন্তু ডিজিটাল ম্যাপিংয়ের পর ক্যাম্পাসে জমি পরিমাপ করে পাওয়া যায় ৩৭ দশমিক ৭১ একর। মাঝখান থেকে ৫ দশমিক ৩৯ একর জমি উধাও রয়েছে। এই নিয়ে বেশ চিন্তিত কলেজ প্রশাসনও। দ্রুত এই জমি উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছেন তারা।

কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী মোকলেছুর রহমান মনি বলেন, কলেজ ক্যাম্পাসের জমি তদারকির অভাবে যে যেখান থেকে পেরেছে দখল করেছে। কলেজের আশপাশের অনেক মানুষ এই জমি দখল করেছে। বাউন্ডারি করে কলেজ ক্যাম্পাসের পরিধি কমিয়েছে। এটা মেনে নেওয়া যায় না। সম্প্রতি কলেজের ফ্লাইট সার্জেন্ট ফজলুল হক হলের পুকুরের পাশ থেকে একটি ভবন তোলার সময় কলেজের বাউন্ডারি দেওয়াল ভেঙে ফেলে জমি দখল করা হয় বালু ভরাট করে। যে স্থানটিতে ভবন করা হচ্ছে, সেটিও কলেজের জমি হিসাবে আমরা চিনি। ওটা কলেজের পুকুর ছিল। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে জমিটি দখল করে এখন ভবন নির্মাণ তো করছেই, পাশাপাশি কলেজের বাউন্ডারি ভেঙে জমি দখল করা হয়েছে কয়েক ফুট। এরকম বাকসু ভবনের আশপাশ থেকেও হয়েছে, অশ্বিনী কুমার ছাত্রাবাসের আশপাশ থেকেও এমন অবস্থা। আমরা কলেজ ক্যাম্পাসের ভূমি দখলমুক্ত করতে কলেজ প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

সাবেক শিক্ষার্থী ও কেন্দ্রীয় ছাত্রমৈত্রীর সহসভাপতি শামিল শাহরোখ তমাল বলেন, বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র শওকত হোসেন হিরণের সময় সড়ক প্রশস্তকরণের জন্য কলেজ থেকে কিছু জমি সেক্রিফাইস করা হয়। তার মানে এটা নয় যে ৬ একর জমি সেক্রিফাইস করা হয়েছে। সামান্য কিছু জমি জনস্বার্থেই কলেজ কর্তৃপক্ষ সেসময় দিয়েছিল।

সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন বরিশাল জেলা কমিটির সদস্য সচিব কাজী এনায়েত হোসেন শিবলু বলেন, শুনেছি কলেজের জমি দখলের পেছনে সাবেক অধ্যক্ষ থেকে শুরু করে কয়েকজন শিক্ষকের হাতও রয়েছে। ক্যাম্পসের মূল জমি উদ্ধার করা বর্তমান প্রশাসনের টার্গেট হলে বিষয়টা বেশ প্রশংসিত হতো। শুনেছি একজন সাবেক অধ্যক্ষ ক্যাম্পাসের জমি নিজের দাবি করে বাড়িও তুলেছেন, সেখানেই তার স্থায়ী ঠিকানা ও বসবাস।

বরিশালের গবেষক আনিসুর রহমান খান স্বপন বলেন, ক্যাম্পাসের জমি উধাও ঠিক আছে, তবে কলেজের মূল জমি নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে। নগরের বিভিন্ন স্থানে কলেজের জমি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। সঠিক নজরদারির অভাবে এই জমিগুলো দখল প্রক্রিয়ায় অনেকেই ব্যবহার করছে। এছাড়া ক্যাম্পাসের জমি দখল হয়েছে মূলত চারপাশ থেকে। এই জমি উদ্ধার করতে কঠোর হস্তক্ষেপ জরুরি।

ব্রজমোহন কলেজের সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক শাহরিয়ার কিবরিয়া বলেন, সত্যি কথা বলতে আমিও অবাক। ক্যাম্পাসের জমি কোথায় গেছে, সেটার সদুত্তর আমাদের কাছেও নেই। কাগজে-কলমে যেখানে ক্যাম্পাসের জমি ৪৩ দশমিক ১ একর, সেখানে ডিজিটাল ম্যাপিংয়ের পর এই হিসাব মিলছে না। ডিসেম্বরে আমরা জমি পুনরায় পরিমাপ করব। এর জন্য একজন ভালো সার্ভেয়ারও ঠিক করেছি। এতে যদি দেখি আমাদের জমি কেউ দখল করেছে, তাহলে সে যত ক্ষমতাবানই হোক না কেন অধ্যক্ষ স্যারের সঙ্গে কথা বলে মামলা থেকে শুরু করে কঠোর ব্যবস্থা নেব।

সরকারি ব্রজমোহন কলেজের অধ্যক্ষ ড. গোলাম কিবরিয়া বলেন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা ও শিক্ষানুরাগী মহাত্মা অশ্বিনী কুমার দত্ত প্রতিষ্ঠিত সরকারি ব্রজমোহন কলেজের জমি উদ্ধারে ইতোমধ্যে আমরা নানা পদক্ষেপ নিয়েছি। জমি পুনরায় পরিমাপ করার পর কঠোর অবস্থানে যাব।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন