অপরাধ নিয়ন্ত্রণে চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি
jugantor
অপরাধ নিয়ন্ত্রণে চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি
ইতোমধ্যে ৪১১টি লাগানো হয়েছে, শিগগিরই লাগবে আরও ২৭৯ ক্যামেরা

  আহমেদ মুসা, চট্টগ্রাম  

২৬ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

৭০০টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসাচ্ছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। ইতোমধ্যে ৪১১টি সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। আরও ২৭৯টি লাগানো হবে। নগরীর অপরাধপ্রবণ ও গুরুত্বপূর্ণ ৭০ স্পটে এসব সিসি ক্যামেরা লাগানো হবে। এসব ক্যামেরায় ২৪ ঘণ্টা সিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নজরদারি করবেন। এছাড়া ক্যামেরা পর্যবেক্ষণের জন্য দুইটি আলাদা কারিগরি টিম থাকবে। সিএমপি কমিশনার অফিস সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, নগরীকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার কাজ শুরু হয় ২০১৪ সালে। ওই সময় নগরীর চারটি প্রবেশপথসহ ৩১টি স্পটে ১৩৯টি সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়। এর মধ্যে ২১টি সিসি ক্যামেরার বর্তমানে কোনো অস্তিত্বই নেই। বাকি ১১৮টি সিসি ক্যামেরার মধ্যে প্রতিদিনই ৬০ থেকে ৬৫টি ক্যামেরা নষ্ট থাকে। সিএমপির নিজস্ব উদ্যোগে বিভিন্ন শিল্পপতির আর্থিক সহায়তায় এসব সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছিল। প্রথমদিকে এসব ক্যামেরার সাহায্যে বেশকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার ক্লু উদ্ঘাটনে সক্ষম হয় পুলিশ। কমে যায় মোটরসাকেল চুরির ঘটনাও।

বৃহস্পতিবার দামপাড়া পুলিশ লাইনের মিডিয়া সেন্টারে এসব সিসি ক্যামেরা ও গাড়ি ভাড়া সম্পর্কিত ডিজিটাল অ্যাপের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার সালেহ্ মোহাম্মদ তানভীর।

এ সময় সিএমপি কমিশনার সালেহ্ মোহাম্মদ তানভীর বলেন, নগরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোকে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ দ্বারা সার্বক্ষণিক ‘আইস অব সিএমপি’ বা সিএমপির চোখ মাধ্যমে সিসি ক্যামেরায় নজরদারির আওতায় আনা হবে। ৪১১টি সিসিটিভি ক্যামেরা দ্বারা সার্বক্ষণিক নজরদারির মধ্যে থাকবে নগরের ৭০টি গুরুত্বপূর্ণ স্পট। এর মধ্যে ২টি টেকনিক্যাল বা কারিগরি টিম পর্যবেক্ষণে থাকবে ২৪ ঘণ্টা। ১৫ দিনের ব্যাকআপ স্টোরেজসম্পন্ন এই কন্ট্রোল রুমের ২টি টিমের একটি টিম ফিল্ডের টেকনিক্যাল ত্রুটিগুলো সংশোধনে নিয়োজিত থাকবে এবং অন্যটি মনিটরিং করবে কন্ট্রোল রুম থেকে।

সিএমপি সূত্র জানায়, ২০১৪ সালে নগরীর ৩১টি স্থানে বসানো সিসি ক্যামেরার মধ্যে ছিল নিউমার্কেট মোড়, শাহ আমানত সেতুর গোল চত্বর, জিইসি মোড়, মুরাদপুর মোড়, আকবর শাহ মোড়, রাহাত্তারপুল, বহদ্দারহাট, চকবাজার, সাগরিকা, অক্সিজেন, পিএইচপি স্পিনিং মিল, সিটি গেট, কাজীর দেউড়ি, কাপ্তাই রাস্তার মাথা, দেওয়ানহাট ব্রিজ, সিইপিজেড, ইস্পাহানি মোড়, অলংকার মোড়, বাদামতলী, কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার, বড়পোল, প্রবর্তক মোড়, নিমতলা বিশ্বরোড, টেরিবাজার, সল্টগোলা, সিটি গেট চেকপোস্ট ও কোর্ট বিল্ডিং। এখন এসব স্পট ছাড়াও বাকলিয়া ও বায়েজিদসহ আরও বেশ কয়েকটি অপরাধপ্রবণ এলাকায় সিসি ক্যামেরা লাগানো হচ্ছে।

আগের লাগানো এসব সিসি ক্যামেরা রক্ষণাবেক্ষণসহ মেরামতে অর্থ বরাদ্দ না থাকায় নষ্ট ক্যামেরাগুলো সচল করা যাচ্ছিল না। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অর্থ বরাদ্দ দিলে এ সিসি ক্যামেরা লাগানোর কাজ শুরু হয়। সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে নানা ধারনের অপরাধ সংঘটিত হচ্ছিল। এদিকে ‘হ্যালো সিএমপি অ্যাপে’ ১৪ ধরনের পরিষেবা পাবেন নগরবাসী। এসব সেবার মধ্যে রয়েছে এক স্থান থেকে অন্য স্থানের দূরত্ব কতটুকু, কত টাকা ভাড়া দিতে হবে, প্রতিটি স্টপেজের নাম, রুট নম্বরসহ আরও নানা তথ্য। এছাড়া জঙ্গিবাদ বা উগ্রবাদ, মাদক, বিস্ফোরক, সাইবার ক্রাইম ও যৌন হয়রানিসহ নানা তথ্য সহজে পুলিশের কাছে দিতে পারবেন নাগরিকরা।

কারিগরি টিমের একজন সদস্য যুগান্তরকে জানান, বিভিন্ন জোন অনুযায়ী দায়িত্বে নিয়োজিত অফিসারদের সঙ্গে পর্যালোচনা করে দীর্ঘ সময় নিয়ে অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে এই ক্যামেরাগুলো বসানো হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে বাস ভাড়াসহ নানা কারণে যাত্রী হয়রানির সমস্যা থেকে জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে যাত্রীসেবার লক্ষ্যে ‘হ্যালো সিএমপি’ অ্যাপ চালু করা হয়েছে। সিএমপি এডিসি (জনসংযোগ) আরাফাতুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, অপরাধ দমন ও নজরদারি বাড়াতে চট্টগ্রাম নগরীতে ৭০০টি সিসি ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৪১১টি সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। ২৭৯টি সিসি ক্যামেরা লাগানো হবে। নগরীর অপরাধপ্রবণ ও গুরুত্বপূর্ণ ৭০ স্পটে এসব সিসি ক্যামেরা লাগানো হবে।

অপরাধ নিয়ন্ত্রণে চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি

ইতোমধ্যে ৪১১টি লাগানো হয়েছে, শিগগিরই লাগবে আরও ২৭৯ ক্যামেরা
 আহমেদ মুসা, চট্টগ্রাম 
২৬ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

৭০০টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসাচ্ছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। ইতোমধ্যে ৪১১টি সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। আরও ২৭৯টি লাগানো হবে। নগরীর অপরাধপ্রবণ ও গুরুত্বপূর্ণ ৭০ স্পটে এসব সিসি ক্যামেরা লাগানো হবে। এসব ক্যামেরায় ২৪ ঘণ্টা সিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নজরদারি করবেন। এছাড়া ক্যামেরা পর্যবেক্ষণের জন্য দুইটি আলাদা কারিগরি টিম থাকবে। সিএমপি কমিশনার অফিস সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, নগরীকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার কাজ শুরু হয় ২০১৪ সালে। ওই সময় নগরীর চারটি প্রবেশপথসহ ৩১টি স্পটে ১৩৯টি সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়। এর মধ্যে ২১টি সিসি ক্যামেরার বর্তমানে কোনো অস্তিত্বই নেই। বাকি ১১৮টি সিসি ক্যামেরার মধ্যে প্রতিদিনই ৬০ থেকে ৬৫টি ক্যামেরা নষ্ট থাকে। সিএমপির নিজস্ব উদ্যোগে বিভিন্ন শিল্পপতির আর্থিক সহায়তায় এসব সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছিল। প্রথমদিকে এসব ক্যামেরার সাহায্যে বেশকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার ক্লু উদ্ঘাটনে সক্ষম হয় পুলিশ। কমে যায় মোটরসাকেল চুরির ঘটনাও।

বৃহস্পতিবার দামপাড়া পুলিশ লাইনের মিডিয়া সেন্টারে এসব সিসি ক্যামেরা ও গাড়ি ভাড়া সম্পর্কিত ডিজিটাল অ্যাপের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার সালেহ্ মোহাম্মদ তানভীর।

এ সময় সিএমপি কমিশনার সালেহ্ মোহাম্মদ তানভীর বলেন, নগরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোকে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ দ্বারা সার্বক্ষণিক ‘আইস অব সিএমপি’ বা সিএমপির চোখ মাধ্যমে সিসি ক্যামেরায় নজরদারির আওতায় আনা হবে। ৪১১টি সিসিটিভি ক্যামেরা দ্বারা সার্বক্ষণিক নজরদারির মধ্যে থাকবে নগরের ৭০টি গুরুত্বপূর্ণ স্পট। এর মধ্যে ২টি টেকনিক্যাল বা কারিগরি টিম পর্যবেক্ষণে থাকবে ২৪ ঘণ্টা। ১৫ দিনের ব্যাকআপ স্টোরেজসম্পন্ন এই কন্ট্রোল রুমের ২টি টিমের একটি টিম ফিল্ডের টেকনিক্যাল ত্রুটিগুলো সংশোধনে নিয়োজিত থাকবে এবং অন্যটি মনিটরিং করবে কন্ট্রোল রুম থেকে।

সিএমপি সূত্র জানায়, ২০১৪ সালে নগরীর ৩১টি স্থানে বসানো সিসি ক্যামেরার মধ্যে ছিল নিউমার্কেট মোড়, শাহ আমানত সেতুর গোল চত্বর, জিইসি মোড়, মুরাদপুর মোড়, আকবর শাহ মোড়, রাহাত্তারপুল, বহদ্দারহাট, চকবাজার, সাগরিকা, অক্সিজেন, পিএইচপি স্পিনিং মিল, সিটি গেট, কাজীর দেউড়ি, কাপ্তাই রাস্তার মাথা, দেওয়ানহাট ব্রিজ, সিইপিজেড, ইস্পাহানি মোড়, অলংকার মোড়, বাদামতলী, কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার, বড়পোল, প্রবর্তক মোড়, নিমতলা বিশ্বরোড, টেরিবাজার, সল্টগোলা, সিটি গেট চেকপোস্ট ও কোর্ট বিল্ডিং। এখন এসব স্পট ছাড়াও বাকলিয়া ও বায়েজিদসহ আরও বেশ কয়েকটি অপরাধপ্রবণ এলাকায় সিসি ক্যামেরা লাগানো হচ্ছে।

আগের লাগানো এসব সিসি ক্যামেরা রক্ষণাবেক্ষণসহ মেরামতে অর্থ বরাদ্দ না থাকায় নষ্ট ক্যামেরাগুলো সচল করা যাচ্ছিল না। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অর্থ বরাদ্দ দিলে এ সিসি ক্যামেরা লাগানোর কাজ শুরু হয়। সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে নানা ধারনের অপরাধ সংঘটিত হচ্ছিল। এদিকে ‘হ্যালো সিএমপি অ্যাপে’ ১৪ ধরনের পরিষেবা পাবেন নগরবাসী। এসব সেবার মধ্যে রয়েছে এক স্থান থেকে অন্য স্থানের দূরত্ব কতটুকু, কত টাকা ভাড়া দিতে হবে, প্রতিটি স্টপেজের নাম, রুট নম্বরসহ আরও নানা তথ্য। এছাড়া জঙ্গিবাদ বা উগ্রবাদ, মাদক, বিস্ফোরক, সাইবার ক্রাইম ও যৌন হয়রানিসহ নানা তথ্য সহজে পুলিশের কাছে দিতে পারবেন নাগরিকরা।

কারিগরি টিমের একজন সদস্য যুগান্তরকে জানান, বিভিন্ন জোন অনুযায়ী দায়িত্বে নিয়োজিত অফিসারদের সঙ্গে পর্যালোচনা করে দীর্ঘ সময় নিয়ে অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে এই ক্যামেরাগুলো বসানো হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে বাস ভাড়াসহ নানা কারণে যাত্রী হয়রানির সমস্যা থেকে জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে যাত্রীসেবার লক্ষ্যে ‘হ্যালো সিএমপি’ অ্যাপ চালু করা হয়েছে। সিএমপি এডিসি (জনসংযোগ) আরাফাতুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, অপরাধ দমন ও নজরদারি বাড়াতে চট্টগ্রাম নগরীতে ৭০০টি সিসি ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৪১১টি সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। ২৭৯টি সিসি ক্যামেরা লাগানো হবে। নগরীর অপরাধপ্রবণ ও গুরুত্বপূর্ণ ৭০ স্পটে এসব সিসি ক্যামেরা লাগানো হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন