কচুয়ায় স্কুলশিক্ষিকা হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হলো না ঊর্মির
jugantor
কচুয়ায় স্কুলশিক্ষিকা হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হলো না ঊর্মির
বাসচাপায় নিহত সহপাঠী সদ্য বিবাহিত সাদ্দাম ও রিফাত

  কচুয়া (চাঁদপুর) প্রতিনিধি  

২৭ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ঊর্মি মজুমদার উমার স্বপ্ন ছিল পড়ালেখা শেষ করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার।

কিন্তু বৃহস্পতিবার তার পরিবারের সব স্বপ্ন চূর্ণ করে দেয় একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা। ঊর্মি পরীক্ষা দেওয়ার জন্য কচুয়া থেকে সিএনজিতে হাজীগঞ্জ যাওয়ার সময় চাঁদপুরের কচুয়া-হাজীগঞ্জ-গৌরিপুর সড়কের কড়ইয়া বিশ্বরোডসংলগ্ন ডাক্তার বাড়ি এলাকায় ঢাকাগামী বিআরটিসি বাস ও সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হন। এ সময় তার দুই সহপাঠী সাকিবুল ইসলাম সাদ্দাম ও মাহবুবুল ইসলাম রিফাত নিহত হন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শেষবারের মতো চোখের জলে ঊর্মি মজুমদার উমাকে নিজ গ্রাম উপজেলার দোয়াটি গ্রামে সৎকার করা হয়। ছোট ভাই শুভ মজুমদার জানান, আমরা ৩ বোন, ১ ভাই। ৮ বছর আগে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় বাবাকে হারিয়েছি। ঊর্মি মজুমদার উমা ২০১১ সালে পালাখাল উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ২০১৪ সালে পালাখাল রোস্তম আলী এইচএসসি ও ২০১৭ সালে বিএসসি পাশ করে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের মাস্টার্সে ভর্তি হন।

নিশ্চিন্তপুর গ্রামের আব্দুল মান্নান মজুমদারের ছেলে সাকিবুল হাসান সাদ্দামও লেখাপড়া শেষ করে সরকারি চাকরি করার স্বপ্ন দেখছিলেন। তার ভাই স্কুলশিক্ষক ইসমাইল হোসেন জানান, আমরা ৫ ভাই, ২ বোন। ছোট ভাই সাদ্দাম একজন স্বপ্নবিলাসী মানুষ ছিল। দেড় বছর আগে গ্রামের আসমা আক্তারের সঙ্গে দুই পরিবারের ইচ্ছায় বিয়ে হয়। তাদের ছেলে আরিয়ান মজুমদারের বয়স ৩ মাস। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন স্ত্রী আসমা আক্তার।

দুর্ঘটনায় নিহত কোয়া গ্রামের মাহবুবুল ইসলাম রিফাত মাত্র এক বছর আগে সহদেবপুর গ্রামের রিয়া আক্তারকে বিয়ে করেন। চাঁদপুর সরকারি কলেজের অনার্স প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থী মাহবুবুল ইসলাম রিফাত লেখাপড়ার পাশাপাশি কচুয়া সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে নকলনবিশ হিসাবে পার্টটাইম কাজ করতেন। মফিজুল ইসলামের ছেলে রিফাত। মা হালিমা বেগম বলেন, আমার স্বামী বৃদ্ধ, রিফাত কাজ করে সংসার চালাত। এখন আমার সংসারের হাল কে ধরবে। আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই। বোন শামিমা আক্তার জানান, আমরা ৩ ভাই, ১ বোন। ভাই-বোনের মধ্যে মাহবুবুল ইসলাম রিফাত তৃতীয় ছিল। লেখাপড়া করে ভবিষ্যতে বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে প্রশাসনিক ক্যাডার পদে চাকরি করার ইচ্ছা ছিল তার। ভগ্নিপতি শাহীন জানান, ঘটনার দুদিন পেরিয়ে গেলেও থানা পুলিশ ছাড়া কেউ আমাদের খবর নেয়নি। এ সড়ক দুর্ঘটনার চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায় তাদের পরিবার।

কচুয়ায় স্কুলশিক্ষিকা হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হলো না ঊর্মির

বাসচাপায় নিহত সহপাঠী সদ্য বিবাহিত সাদ্দাম ও রিফাত
 কচুয়া (চাঁদপুর) প্রতিনিধি 
২৭ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ঊর্মি মজুমদার উমার স্বপ্ন ছিল পড়ালেখা শেষ করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার।

কিন্তু বৃহস্পতিবার তার পরিবারের সব স্বপ্ন চূর্ণ করে দেয় একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা। ঊর্মি পরীক্ষা দেওয়ার জন্য কচুয়া থেকে সিএনজিতে হাজীগঞ্জ যাওয়ার সময় চাঁদপুরের কচুয়া-হাজীগঞ্জ-গৌরিপুর সড়কের কড়ইয়া বিশ্বরোডসংলগ্ন ডাক্তার বাড়ি এলাকায় ঢাকাগামী বিআরটিসি বাস ও সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হন। এ সময় তার দুই সহপাঠী সাকিবুল ইসলাম সাদ্দাম ও মাহবুবুল ইসলাম রিফাত নিহত হন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শেষবারের মতো চোখের জলে ঊর্মি মজুমদার উমাকে নিজ গ্রাম উপজেলার দোয়াটি গ্রামে সৎকার করা হয়। ছোট ভাই শুভ মজুমদার জানান, আমরা ৩ বোন, ১ ভাই। ৮ বছর আগে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় বাবাকে হারিয়েছি। ঊর্মি মজুমদার উমা ২০১১ সালে পালাখাল উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ২০১৪ সালে পালাখাল রোস্তম আলী এইচএসসি ও ২০১৭ সালে বিএসসি পাশ করে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের মাস্টার্সে ভর্তি হন।

নিশ্চিন্তপুর গ্রামের আব্দুল মান্নান মজুমদারের ছেলে সাকিবুল হাসান সাদ্দামও লেখাপড়া শেষ করে সরকারি চাকরি করার স্বপ্ন দেখছিলেন। তার ভাই স্কুলশিক্ষক ইসমাইল হোসেন জানান, আমরা ৫ ভাই, ২ বোন। ছোট ভাই সাদ্দাম একজন স্বপ্নবিলাসী মানুষ ছিল। দেড় বছর আগে গ্রামের আসমা আক্তারের সঙ্গে দুই পরিবারের ইচ্ছায় বিয়ে হয়। তাদের ছেলে আরিয়ান মজুমদারের বয়স ৩ মাস। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন স্ত্রী আসমা আক্তার।

দুর্ঘটনায় নিহত কোয়া গ্রামের মাহবুবুল ইসলাম রিফাত মাত্র এক বছর আগে সহদেবপুর গ্রামের রিয়া আক্তারকে বিয়ে করেন। চাঁদপুর সরকারি কলেজের অনার্স প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থী মাহবুবুল ইসলাম রিফাত লেখাপড়ার পাশাপাশি কচুয়া সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে নকলনবিশ হিসাবে পার্টটাইম কাজ করতেন। মফিজুল ইসলামের ছেলে রিফাত। মা হালিমা বেগম বলেন, আমার স্বামী বৃদ্ধ, রিফাত কাজ করে সংসার চালাত। এখন আমার সংসারের হাল কে ধরবে। আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই। বোন শামিমা আক্তার জানান, আমরা ৩ ভাই, ১ বোন। ভাই-বোনের মধ্যে মাহবুবুল ইসলাম রিফাত তৃতীয় ছিল। লেখাপড়া করে ভবিষ্যতে বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে প্রশাসনিক ক্যাডার পদে চাকরি করার ইচ্ছা ছিল তার। ভগ্নিপতি শাহীন জানান, ঘটনার দুদিন পেরিয়ে গেলেও থানা পুলিশ ছাড়া কেউ আমাদের খবর নেয়নি। এ সড়ক দুর্ঘটনার চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায় তাদের পরিবার।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন