ভোলায় যুবলীগ নেতা হত্যাকাণ্ডে আসামি ১৬
jugantor
ভোলায় যুবলীগ নেতা হত্যাকাণ্ডে আসামি ১৬
গ্রেফতার ১

  ভোলা প্রতিনিধি  

২৮ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভোলায় যুবলীগ নেতা হত্যাকাণ্ডে আসামি ১৬

ভোলায় খেয়ার ট্রলারে হামলা ও গুলিতে যুবলীগ নেতা হত্যাকাণ্ডে মদনপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে পরাজিত জামাল উদ্দিন ছকেটকে প্রধান করে আসামি করা হয়েছে ১৬ জনকে। ওই মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি রয়েছে ৪-৫ জন। শনিবার ভোর রাতে ছকেট গ্রুপের সক্রিয় সদস্য আবুল বাশার মাঝিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে যে স্পিডবোটে সন্ত্রাসীরা হামলা করেছে ওই বোটটি জব্দ করার পাশাপাশি বোটচালক জসিমের ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। বোটটি ব্যবহারের আগে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারীরা জসিমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে অন্তত ১৬ বার যোগাযোগ করে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, পুলিশ মূল ঘাতকদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৫টায় হামলার পর গুলিবিদ্ধ খোরশেদ আলম টিটুকে ভোলা সদর হাসপাতালে আনা হলে রাতে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। রাতেই লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়। সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলিটি টিটুর কপালের পাশ দিয়ে ডুকে মস্তিষ্কে চলে যায়। শনিবার সকালে ওই গুলিটি পুলিশ তদন্তের জন্য সংরক্ষণ করে।

ভোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এনায়েত হোসেন জানান, নিহত টিটুর ভাই হানিফ ওরফে ভুট্টু বাদী হয়ে মামলা করেন। পুলিশ এ নিয়ে কাজ করছে।

শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় টিটুর লাশ ময়নাতদন্ত শেষে হাসপাতাল থেকে পৌর এলাকাসংলগ্ন ধনিয়া ইউনিয়নের কানাইনগর বাড়িতে নিয়ে এলে মানুষের ঢল নামে। টিটুর দুটি শিশু সন্তান তখন বুঝে ওঠতে পারেনি, তাদের বাবা আর ফিরে আসবে না। ধনিয়া ইউপি চেয়ারম্যান এমদাত হোসেন কবির জানান, এটি দুঃখজনক ঘটনা। টিটু মদনপুরের ভোটারও নন। নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন নান্নুর দাওয়াতে শুক্রবার দুপুরের মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিতে যান। মেঘনা নদী বক্ষের বিচ্ছিন্ন চর ইউনিয়ন থেকে খোলা ট্রলারে ফেরার সময় সন্ত্রাসীরা হামলা করে। ইউপি চেয়ারম্যান নান্নু জানান, ওই ট্রলারে তিনিও ছিলেন। তাকে হত্যা করতেই মূলত হামলা ও গুলি চালিয়ে ছিল নির্বাচনে পরাজিত ছকেট ও তার বাহিনী। ছকেট অবশ্য জানান, তিনি এ হামলার কথা জানেন না। শুক্রবার একই মসজিদে নান্নু চেয়ারম্যান ও তিনি নামাজ আদায় করেছিলেন। দুপুরে তিনি তার সমর্থিতদের নিয়ে তার আস্তানায় খাওয়া-দাওয়া করেন। গুলিতে টিটু মারা যাওয়ার পর গা ঢাকা দেন ছকেট, তার ভাগ্নে নিরব, শাহীনসহ তার বাহিনীর সদস্যরা-এমনটা জানান চরবাসী।

ইউপি চেয়ারম্যান ফোরামের নিন্দা : নবনির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান নাছিরউদ্দিন নান্নুর ওপর হামলা ও তাকে হত্যার জন্য গুলি করার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন ভোলা জেলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফোরামের নেতারা। ক্ষোভের কথা জানান, সংগঠনের সভাপতি জেলা আওয়ামী লীগ সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক জহুরুল ইসলাম নকিব, সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শিবপুর ইউপি চেয়ারম্যান জেলা আওয়ামী লীগ কোষাধ্যক্ষ মো. জসিম উদ্দিন। ধনিয়া ইউপি চেয়ারম্যান এমদাত হোসেন কবির, চরসামাইয়া ইউপি চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মাতাব্বর, মেদুয়া ইউপি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মনজুর আহমেদ, সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আলীনগর ইউপি চেয়ারম্যান মো. বশির আহমদ।

ভোলায় যুবলীগ নেতা হত্যাকাণ্ডে আসামি ১৬

গ্রেফতার ১
 ভোলা প্রতিনিধি 
২৮ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
ভোলায় যুবলীগ নেতা হত্যাকাণ্ডে আসামি ১৬
ফাইল ছবি

ভোলায় খেয়ার ট্রলারে হামলা ও গুলিতে যুবলীগ নেতা হত্যাকাণ্ডে মদনপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে পরাজিত জামাল উদ্দিন ছকেটকে প্রধান করে আসামি করা হয়েছে ১৬ জনকে। ওই মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি রয়েছে ৪-৫ জন। শনিবার ভোর রাতে ছকেট গ্রুপের সক্রিয় সদস্য আবুল বাশার মাঝিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে যে স্পিডবোটে সন্ত্রাসীরা হামলা করেছে ওই বোটটি জব্দ করার পাশাপাশি বোটচালক জসিমের ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। বোটটি ব্যবহারের আগে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারীরা জসিমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে অন্তত ১৬ বার যোগাযোগ করে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, পুলিশ মূল ঘাতকদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৫টায় হামলার পর গুলিবিদ্ধ খোরশেদ আলম টিটুকে ভোলা সদর হাসপাতালে আনা হলে রাতে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। রাতেই লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়। সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলিটি টিটুর কপালের পাশ দিয়ে ডুকে মস্তিষ্কে চলে যায়। শনিবার সকালে ওই গুলিটি পুলিশ তদন্তের জন্য সংরক্ষণ করে।

ভোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এনায়েত হোসেন জানান, নিহত টিটুর ভাই হানিফ ওরফে ভুট্টু বাদী হয়ে মামলা করেন। পুলিশ এ নিয়ে কাজ করছে।

শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় টিটুর লাশ ময়নাতদন্ত শেষে হাসপাতাল থেকে পৌর এলাকাসংলগ্ন ধনিয়া ইউনিয়নের কানাইনগর বাড়িতে নিয়ে এলে মানুষের ঢল নামে। টিটুর দুটি শিশু সন্তান তখন বুঝে ওঠতে পারেনি, তাদের বাবা আর ফিরে আসবে না। ধনিয়া ইউপি চেয়ারম্যান এমদাত হোসেন কবির জানান, এটি দুঃখজনক ঘটনা। টিটু মদনপুরের ভোটারও নন। নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন নান্নুর দাওয়াতে শুক্রবার দুপুরের মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিতে যান। মেঘনা নদী বক্ষের বিচ্ছিন্ন চর ইউনিয়ন থেকে খোলা ট্রলারে ফেরার সময় সন্ত্রাসীরা হামলা করে। ইউপি চেয়ারম্যান নান্নু জানান, ওই ট্রলারে তিনিও ছিলেন। তাকে হত্যা করতেই মূলত হামলা ও গুলি চালিয়ে ছিল নির্বাচনে পরাজিত ছকেট ও তার বাহিনী। ছকেট অবশ্য জানান, তিনি এ হামলার কথা জানেন না। শুক্রবার একই মসজিদে নান্নু চেয়ারম্যান ও তিনি নামাজ আদায় করেছিলেন। দুপুরে তিনি তার সমর্থিতদের নিয়ে তার আস্তানায় খাওয়া-দাওয়া করেন। গুলিতে টিটু মারা যাওয়ার পর গা ঢাকা দেন ছকেট, তার ভাগ্নে নিরব, শাহীনসহ তার বাহিনীর সদস্যরা-এমনটা জানান চরবাসী।

ইউপি চেয়ারম্যান ফোরামের নিন্দা : নবনির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান নাছিরউদ্দিন নান্নুর ওপর হামলা ও তাকে হত্যার জন্য গুলি করার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন ভোলা জেলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফোরামের নেতারা। ক্ষোভের কথা জানান, সংগঠনের সভাপতি জেলা আওয়ামী লীগ সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক জহুরুল ইসলাম নকিব, সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শিবপুর ইউপি চেয়ারম্যান জেলা আওয়ামী লীগ কোষাধ্যক্ষ মো. জসিম উদ্দিন। ধনিয়া ইউপি চেয়ারম্যান এমদাত হোসেন কবির, চরসামাইয়া ইউপি চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মাতাব্বর, মেদুয়া ইউপি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মনজুর আহমেদ, সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আলীনগর ইউপি চেয়ারম্যান মো. বশির আহমদ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন