গুরুদাসপুরে ছেলেদের পাকাঘরে ঠাঁই হয়নি শতবর্ষী মায়ের
jugantor
গুরুদাসপুরে ছেলেদের পাকাঘরে ঠাঁই হয়নি শতবর্ষী মায়ের

  গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি  

২৯ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বয়সের ভারে নুইয়ে পড়েছেন রাখি বেগম। চোখে ঝাপসা দেখেন। স্বামীকে হারিয়েছেন অনেক আগেই। অনেক কষ্টে দুই ছেলে তিন মেয়েকে বড় করে বিয়ে দিয়েছেন। আশা ছিল শেষ বয়সে নাতিপুতি নিয়ে আনন্দ দিনাতিপাত করবেন। সেটা আর হলো না। সব থেকেও আজ তার কিছুই নেই। আজীবন কষ্টের মধ্যেই তার চলল। ভাঙা ভাঙা করে কথাগুলো বললেন শতবর্ষী রাখি বেগম। স্বাবলম্বী ছেলেরা আধাপাকা ঘরে বসবাস করলেও সেই ঘরে ঠাঁই হয়নি বৃদ্ধ মায়ের।

রাখি বেগম নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের দাদুয়া গ্রামের মৃত রেকাত মন্ডলের স্ত্রী। আনছার মন্ডল ও ছামছু মন্ডল নামে দুই ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে তার। একসময় সংসারে অভাব অনটন থাকলেও এখন ছেলেদের সংসারে সচ্ছলতা এসেছে। তারা পাকা ঘরে বসবাস করলেও বৃদ্ধ মায়ের জায়গা হয়েছে ঝুপড়ি ঘরের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে।

শনিবার বিকালে গিয়ে দেখা গেছে-বাড়ির উঠোনের এক পাশে পাঠখড়ির বেড়ায় ঝুপড়ি ঘরের মাটিতে পাটি পেতে সেখানে থাকতে দেওয়া হয়েছে রাখি বেগমকে। আলোর ব্যবস্থা নেই সে ঘরে। শীতে কাতর মায়ের গায়ে গরম কাপড়ও দেয়নি ছেলেরা। উপরন্তু পুত্রবধূ ও নাতবউদের অবজ্ঞা অবহেলার শিকার হচ্ছেন তিনি।

অবহেলার শিকার এ মায়ের অভিযোগ সেবাযত্ন তো দূরের কথা ঠিকমতো খাবার পর্যন্ত দেওয়া হয় না তাকে। ছেলের বউয়েরা অনিয়মিতভাবে খাবার ও দেখভাল করে থাকেন। দুই ছেলে হঠাৎ এসে উঁকি মেরেই চলে যায়। শরীরের শক্তিটুকু কাজে লাগিয়ে রেখে যাওয়া খাবারগুলো খেয়ে কোনো রকমে বেঁচে রয়েছেন তিনি। তবে তার মেয়েরা মাঝে মধ্যে এসে বিছানা ও পরনের কাপড় পরিষ্কার করে দিয়ে যান।

মায়ের এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ছেলে আনছার মন্ডল দাবি করে বলেন, তার মায়ের বয়স এখন ১০০ কাছাকাছি। মাঝে মধ্যেই পায়খানা-প্রস্রাব করে কাপড়-বিছানা নষ্ট করে থাকেন। জীবিকার তাগিদে বেশির ভাগ সময় বাইরে থাকেন তারা দুই ভাই। এ কারণে তাদের স্ত্রীরা অনেক সময় যত্ন নিতে পারেন না। তবে এখন থেকে মায়ের প্রতি যত্নশীল হবেন বলে জানান তিনি। প্রতিবেশীরা জানান, ৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে রাখি বেগম শয্যাশায়ী থাকলেও ছেলে ও তাদের স্ত্রীরা মায়ের দায়িত্ব পালন করেন-তবে অবহেলা কম করেন না।

ধারাবারিষা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন জানান, বিষয়টি অমানবিক। তিনি ছেলেদের ডেকে মায়ের দেখভালের দায়িত্ব বুঝে দেবেন।

গুরুদাসপুরে ছেলেদের পাকাঘরে ঠাঁই হয়নি শতবর্ষী মায়ের

 গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি 
২৯ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বয়সের ভারে নুইয়ে পড়েছেন রাখি বেগম। চোখে ঝাপসা দেখেন। স্বামীকে হারিয়েছেন অনেক আগেই। অনেক কষ্টে দুই ছেলে তিন মেয়েকে বড় করে বিয়ে দিয়েছেন। আশা ছিল শেষ বয়সে নাতিপুতি নিয়ে আনন্দ দিনাতিপাত করবেন। সেটা আর হলো না। সব থেকেও আজ তার কিছুই নেই। আজীবন কষ্টের মধ্যেই তার চলল। ভাঙা ভাঙা করে কথাগুলো বললেন শতবর্ষী রাখি বেগম। স্বাবলম্বী ছেলেরা আধাপাকা ঘরে বসবাস করলেও সেই ঘরে ঠাঁই হয়নি বৃদ্ধ মায়ের।

রাখি বেগম নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের দাদুয়া গ্রামের মৃত রেকাত মন্ডলের স্ত্রী। আনছার মন্ডল ও ছামছু মন্ডল নামে দুই ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে তার। একসময় সংসারে অভাব অনটন থাকলেও এখন ছেলেদের সংসারে সচ্ছলতা এসেছে। তারা পাকা ঘরে বসবাস করলেও বৃদ্ধ মায়ের জায়গা হয়েছে ঝুপড়ি ঘরের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে।

শনিবার বিকালে গিয়ে দেখা গেছে-বাড়ির উঠোনের এক পাশে পাঠখড়ির বেড়ায় ঝুপড়ি ঘরের মাটিতে পাটি পেতে সেখানে থাকতে দেওয়া হয়েছে রাখি বেগমকে। আলোর ব্যবস্থা নেই সে ঘরে। শীতে কাতর মায়ের গায়ে গরম কাপড়ও দেয়নি ছেলেরা। উপরন্তু পুত্রবধূ ও নাতবউদের অবজ্ঞা অবহেলার শিকার হচ্ছেন তিনি।

অবহেলার শিকার এ মায়ের অভিযোগ সেবাযত্ন তো দূরের কথা ঠিকমতো খাবার পর্যন্ত দেওয়া হয় না তাকে। ছেলের বউয়েরা অনিয়মিতভাবে খাবার ও দেখভাল করে থাকেন। দুই ছেলে হঠাৎ এসে উঁকি মেরেই চলে যায়। শরীরের শক্তিটুকু কাজে লাগিয়ে রেখে যাওয়া খাবারগুলো খেয়ে কোনো রকমে বেঁচে রয়েছেন তিনি। তবে তার মেয়েরা মাঝে মধ্যে এসে বিছানা ও পরনের কাপড় পরিষ্কার করে দিয়ে যান।

মায়ের এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ছেলে আনছার মন্ডল দাবি করে বলেন, তার মায়ের বয়স এখন ১০০ কাছাকাছি। মাঝে মধ্যেই পায়খানা-প্রস্রাব করে কাপড়-বিছানা নষ্ট করে থাকেন। জীবিকার তাগিদে বেশির ভাগ সময় বাইরে থাকেন তারা দুই ভাই। এ কারণে তাদের স্ত্রীরা অনেক সময় যত্ন নিতে পারেন না। তবে এখন থেকে মায়ের প্রতি যত্নশীল হবেন বলে জানান তিনি। প্রতিবেশীরা জানান, ৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে রাখি বেগম শয্যাশায়ী থাকলেও ছেলে ও তাদের স্ত্রীরা মায়ের দায়িত্ব পালন করেন-তবে অবহেলা কম করেন না।

ধারাবারিষা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন জানান, বিষয়টি অমানবিক। তিনি ছেলেদের ডেকে মায়ের দেখভালের দায়িত্ব বুঝে দেবেন।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন