কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে রাস্তা দখল
jugantor
কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে রাস্তা দখল

  ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি  

০১ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকার ধামরাইয়ে এলাকাবাসী ও পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের বাধা উপেক্ষা করে সিমেন্টের খুঁটিতে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে সর্বসাধারণের চলাচলের রাস্তা দখলে নিয়েছে বিলট্রেড গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ। এতে কালামপুর পল্লীবিদ্যুতের সাবস্টেশনসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি বন্ধ হয়ে গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন এলাকাবাসী, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তারা। রাস্তা দখলে বাধা দেওয়ায় সুতিপাড়া ৯নং ওয়ার্ড মেম্বার মো. আবু হানিফকে মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার কালামপুর বিলট্রেড গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ এলাকায় সোমবার বিকালে এ ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী জানান, ২০০১ সালে সাবেক চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের কালামপুর বড় ব্রিজের পূর্বপাশ (বর্তমান বিলট্রেড ইন্ডাস্ট্রিজ) থেকে সিন্ধুলিয়া গ্রাম পর্যন্ত এ রাস্তাটি নির্মাণ করেন। এরপর রমিজুর রহমান চৌধুরী রোমা চেয়ারম্যান (সাবেক) এ রাস্তাটিতে ব্রিক সলিং করেন। বর্তমান চেয়ারম্যান রেজাউল করিম রাজাও রাস্তাটি সংস্কার করেন। রাস্তার পাশেই রয়েছে ঢাকা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন সাবস্টেশন। এছাড়া কয়েকটি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের জন্য একমাত্র রাস্তা হলো এ ইটের রাস্তাটি।

বিলট্রেড গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ কর্তৃপক্ষ কাউকে কিছু না বলে হঠাৎ সোমবার বিকাল ৪টার দিকে রাস্তার মাঝখান দিয়ে লম্বালম্বি সিমেন্টের খুঁটি পুঁতা শুরু করে। খবর পেয়ে এলাকার ও পল্লীবিদ্যুৎ সাবস্টেশনের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তাদের বাধা উপেক্ষা করে রাস্তার কাজ চালিয়ে যায়। এরপর সুতিপাড়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড মেম্বার আবু হানিফ এসে তাদের দখলদারিত্ব ও রাস্তা বন্ধে বাধা দিলে তাকে মামলায় জড়ানোর হুমকি দেয় বিলট্রেড গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ কর্তৃপক্ষ। বাধা উপেক্ষা করে ৩০-৩৫টি সিমেন্টের খুঁটি রাস্তার মাঝখানে পুঁতে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে রাস্তাটি বন্ধ করে দেয়।

ওয়ার্ড মেম্বার আবু হানিফ বলেন, কয়েকটি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগের কথা ভেবে সাবেক চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন ২০০১ সালে এ রাস্তাটি নির্মাণ করেন। তার পরবর্তী সাবেক চেয়ারম্যান রমিজুর রহমান চৌধুরী রাস্তার সংস্কার ও ব্রিক সলিং করেন। এরপর বর্তমান চেয়ারম্যান রাজা মিয়াও রাস্তাটি সংস্কার করেছেন। আমি বাধা দেয়ায় উল্টো আমাকে মামলায় জড়ানোর হুমকি দিয়েছে বিলট্রেড কারখানা কর্তৃপক্ষ। সাংবাদিকদের কাছে বিষয়টি জানলাম, তারা কারখানায় ঢুকে চা-নাস্তা করে বিদায় নিল। তাহলে আমরা কোথায় যাব আপনারাই বলুন।

বিলট্রেড গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ডিজিএম মো. বিদ্যুৎ বলেন, ‘বেশিরভাগ রাস্তা আমাদের কারকাখানার জমির ওপর দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। এ জমি আমাদের। তাই কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে আমরা আমাদের জায়গা দখলে নিয়েছি।’ তাহলে কয়েকটি গ্রামের মানুষ ও পল্লীবিদ্যুৎ সাবস্টেশনের কর্মকর্তাদের যাতায়াতের কি হবে। আপনাদের কারণে কয়েক কিলোমিটার রাস্তা কি বন্ধ হয়ে যাবে? এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নয়। এলাকাবাসী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সরকারের। এ রাস্তাটির ভবিষ্যৎ কি হবে, তা একমাত্র তারাই ভালো জানেন। আমরা আমাদের জায়গা রাস্তার জন্য ছাড়ব না।’

ঢাকা পল্লীবিদ্যুৎ-৩ এর ধামরাই জোনাল অফিসের ডিজিএম খালিদ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন জোয়াদ্দার বলেন, সরকারি রাস্তা আছে জেনেই তো ঢাকা পল্লীবিদ্যুৎ-এর কালামপুর সাবস্টেশনটি নির্মাণ করা হয়। এখন রাস্তাটি বন্ধ হয়ে গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষই এর ব্যবস্থা নেবেন। বিষয়টি আমরা ওপরমহলকে অবহিত করেছি।

সুতিপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম রাজা বলেন, যদি কারখানার জায়গা রাস্তায় পড়ে থাকে তাহলেও জনস্বার্থে কারখানা কর্তৃপক্ষ এ জায়গা ছেড়ে দেবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। একটু ভুল বোঝাবুঝির জন্য এ ঘটনা ঘটেছে। আমি কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধানের দিকে নিয়ে আসব। উৎস্যমুখে সামান্য জায়গার জন্য তো আর কয়েক গ্রামবাসী ও পল্লীবিদ্যুতের সাবস্টেশনে যাতায়াতের কয়েক কিলোমিটার রাস্তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে না।

কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে রাস্তা দখল

 ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি 
০১ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকার ধামরাইয়ে এলাকাবাসী ও পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের বাধা উপেক্ষা করে সিমেন্টের খুঁটিতে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে সর্বসাধারণের চলাচলের রাস্তা দখলে নিয়েছে বিলট্রেড গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ। এতে কালামপুর পল্লীবিদ্যুতের সাবস্টেশনসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি বন্ধ হয়ে গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন এলাকাবাসী, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তারা। রাস্তা দখলে বাধা দেওয়ায় সুতিপাড়া ৯নং ওয়ার্ড মেম্বার মো. আবু হানিফকে মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার কালামপুর বিলট্রেড গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ এলাকায় সোমবার বিকালে এ ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী জানান, ২০০১ সালে সাবেক চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের কালামপুর বড় ব্রিজের পূর্বপাশ (বর্তমান বিলট্রেড ইন্ডাস্ট্রিজ) থেকে সিন্ধুলিয়া গ্রাম পর্যন্ত এ রাস্তাটি নির্মাণ করেন। এরপর রমিজুর রহমান চৌধুরী রোমা চেয়ারম্যান (সাবেক) এ রাস্তাটিতে ব্রিক সলিং করেন। বর্তমান চেয়ারম্যান রেজাউল করিম রাজাও রাস্তাটি সংস্কার করেন। রাস্তার পাশেই রয়েছে ঢাকা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন সাবস্টেশন। এছাড়া কয়েকটি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের জন্য একমাত্র রাস্তা হলো এ ইটের রাস্তাটি।

বিলট্রেড গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ কর্তৃপক্ষ কাউকে কিছু না বলে হঠাৎ সোমবার বিকাল ৪টার দিকে রাস্তার মাঝখান দিয়ে লম্বালম্বি সিমেন্টের খুঁটি পুঁতা শুরু করে। খবর পেয়ে এলাকার ও পল্লীবিদ্যুৎ সাবস্টেশনের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তাদের বাধা উপেক্ষা করে রাস্তার কাজ চালিয়ে যায়। এরপর সুতিপাড়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড মেম্বার আবু হানিফ এসে তাদের দখলদারিত্ব ও রাস্তা বন্ধে বাধা দিলে তাকে মামলায় জড়ানোর হুমকি দেয় বিলট্রেড গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ কর্তৃপক্ষ। বাধা উপেক্ষা করে ৩০-৩৫টি সিমেন্টের খুঁটি রাস্তার মাঝখানে পুঁতে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে রাস্তাটি বন্ধ করে দেয়।

ওয়ার্ড মেম্বার আবু হানিফ বলেন, কয়েকটি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগের কথা ভেবে সাবেক চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন ২০০১ সালে এ রাস্তাটি নির্মাণ করেন। তার পরবর্তী সাবেক চেয়ারম্যান রমিজুর রহমান চৌধুরী রাস্তার সংস্কার ও ব্রিক সলিং করেন। এরপর বর্তমান চেয়ারম্যান রাজা মিয়াও রাস্তাটি সংস্কার করেছেন। আমি বাধা দেয়ায় উল্টো আমাকে মামলায় জড়ানোর হুমকি দিয়েছে বিলট্রেড কারখানা কর্তৃপক্ষ। সাংবাদিকদের কাছে বিষয়টি জানলাম, তারা কারখানায় ঢুকে চা-নাস্তা করে বিদায় নিল। তাহলে আমরা কোথায় যাব আপনারাই বলুন।

বিলট্রেড গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ডিজিএম মো. বিদ্যুৎ বলেন, ‘বেশিরভাগ রাস্তা আমাদের কারকাখানার জমির ওপর দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। এ জমি আমাদের। তাই কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে আমরা আমাদের জায়গা দখলে নিয়েছি।’ তাহলে কয়েকটি গ্রামের মানুষ ও পল্লীবিদ্যুৎ সাবস্টেশনের কর্মকর্তাদের যাতায়াতের কি হবে। আপনাদের কারণে কয়েক কিলোমিটার রাস্তা কি বন্ধ হয়ে যাবে? এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নয়। এলাকাবাসী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সরকারের। এ রাস্তাটির ভবিষ্যৎ কি হবে, তা একমাত্র তারাই ভালো জানেন। আমরা আমাদের জায়গা রাস্তার জন্য ছাড়ব না।’

ঢাকা পল্লীবিদ্যুৎ-৩ এর ধামরাই জোনাল অফিসের ডিজিএম খালিদ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন জোয়াদ্দার বলেন, সরকারি রাস্তা আছে জেনেই তো ঢাকা পল্লীবিদ্যুৎ-এর কালামপুর সাবস্টেশনটি নির্মাণ করা হয়। এখন রাস্তাটি বন্ধ হয়ে গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষই এর ব্যবস্থা নেবেন। বিষয়টি আমরা ওপরমহলকে অবহিত করেছি।

সুতিপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম রাজা বলেন, যদি কারখানার জায়গা রাস্তায় পড়ে থাকে তাহলেও জনস্বার্থে কারখানা কর্তৃপক্ষ এ জায়গা ছেড়ে দেবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। একটু ভুল বোঝাবুঝির জন্য এ ঘটনা ঘটেছে। আমি কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধানের দিকে নিয়ে আসব। উৎস্যমুখে সামান্য জায়গার জন্য তো আর কয়েক গ্রামবাসী ও পল্লীবিদ্যুতের সাবস্টেশনে যাতায়াতের কয়েক কিলোমিটার রাস্তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে না।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন