কুয়াকাটার ভাঙনরোধে প্রকল্প ব্যয় বাড়িয়ে প্রস্তাব চূড়ান্ত
jugantor
কুয়াকাটার ভাঙনরোধে প্রকল্প ব্যয় বাড়িয়ে প্রস্তাব চূড়ান্ত
সাড়ে ৯০০ থেকে ১২০৬ কোটিতে উন্নীত * পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে সভা আজ

  নাসির উদ্দিন বিপ্লব, কুয়াকাটা  

০১ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বঙ্গোপসাগরের ছোবল থেকে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার সৈকত রক্ষায় সাড়ে ৯০০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবটি সংশোধন করে পানি উন্নয়ন বোর্ডে দেওয়া হয়। প্রকল্প প্রস্তাবনায় আরও বেশ কয়েকটি বিষয় সংযোজন করায় ব্যয় বেড়ে ১২০৬ কোটিতে উন্নীত হয়েছে। পহেলা ডিসেম্বর (আজ) এ ব্যাপারে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সিনিয়র সচিবের সভাপতিত্বে এক সভায় ডিপিপি অনুমোদনের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড কলাপাড়া সার্কেলের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফ হোসেন। এরপর কুয়াকাটার ভাঙন রোধ-সংক্রান্ত প্রকল্প প্রস্তাবনাটি পরিকল্পনা কমিশনে যাচ্ছে।

সংশোধিত ডিপিপি পরিকল্পনা কমিশনের ‘প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি’ ও ‘কারিগরি মূল্যায়ন কমিটিতে অনুমোদনের পরে জাতীয় অর্থনৈতিক কমিশনের নির্বাহী কমিটির ‘একনেক’ চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পেশ হবে। তবে সে পর্যন্ত পৌঁছতে কত দিন বা মাস লাগবে তা বলতে পারছেন না সংশ্লিষ্ট কেউ। গত মাসেই ডিপিপিটি পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে পৌঁছানোর পর এখনো তা বিবেচনায় কোনো সভা হয়নি।

কুয়াকাটায় বিনিয়োগকারীদের অন্যতম এফবিসিসিআই পরিচালক এম জি আর নাসির মজুমদার যুগান্তরকে বলেন, ‘আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করে যত দ্রুত সম্ভব ভাঙনরোধ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে হবে। ইতোমধ্যে আমাদের কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। নতুন করে বিনিয়োগে ভরসা পাচ্ছে না বিনিয়োগকারীরা।’

উপমহাদেশে একমাত্র পটুয়াখালীর সর্ব দক্ষিণে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা যায়। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ ছুটে আসছেন নয়নাভিরাম সাগরকন্যা কুয়াকাটায়। পর্যটন কেন্দ্রটির মূল আকর্ষণ সৈকতের আগের রামনাবাদ ও পশ্চিম প্রান্তের আন্ধারমানিক চ্যানেল। নদী দুটির স্রোতধারা পরিবর্তন করায় ১৯৯৮ সাল থেকে ভাঙন শুরু হয় এখানে। ২০১০ সাল থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ড সীমিত উদ্যোগ গ্রহণ করলেও তা টেকসই হয়নি।

কয়েক দফায় জিউ টিউব ও সিসি ব্লক ফেলে মূল সি বিচটি সাগরের ঢেউ থেকে রক্ষার উদ্যোগে তেমন ফল দেয়নি। পরবর্তীতে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক এমপির নির্দেশে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘আইডব্লিউএম’ এ লক্ষ্যে ব্যাপক সমীক্ষা সম্পাদন করে। নেদারল্যান্ডের একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানও এ লক্ষ্যে অনলাইনে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে কিছু পরামর্শ দেয়। আইডব্লিউএমর প্রস্তাবনায় কুয়াকাটা উপকূলীয় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ থেকে সৈকত পর্যন্ত ৭০টি গ্রোয়েনের মাধ্যমে ভাঙন রোধের প্রস্তাব দেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে মূল সৈকত রক্ষায় দুই প্রান্তের রামনাবাদ ও আন্ধারমানিক চ্যানেল পর্যন্ত প্রায় ১১ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার এলাকায় সিসি ব্লকের সাহায্যে গ্রোয়েনগুলোতে জিও টেক্সটাইলের ওপর ৪৫ সেন্টিমিটার থেকে ১ মিটার সাইজের সিসি ব্লক সন্নিবেশের প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় কুয়াকাটা সৈকতে একটি আদর্শ পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলতে ‘ওয়াকিং বে’ ছাড়াও পর্যটকদের নিরাপত্তা জন্য লাইফ গার্ড স্টেশন, বসার স্থান, ট্রইল, পার্কিং ল্যান্ডস্কেপ ও আধুনিক টয়লেট নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে সাড়ে ৯০০ কোটি টাকা ব্যয়সাপেক্ষ ডিপিপিটি পুনর্গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়। সে আলোকে কুয়াকাটা সৈকতের ভাঙন রোধের পাশাপাশি পর্যটন কেন্দ্রটিকে আকর্ষণীয় করতে আরও বেশ কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে প্রকল্প ব্যয় সাড়ে ৯০০ কোটি থেকে ১২০৬ কোটিতে উন্নীত হয়।

নতুন পুনর্গঠনকৃত প্রকল্প প্রস্তাবনায় কুয়াকাটা সৈকত-সংলগ্ন উপকূলীয় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ১২ কিলোমিটার বিটুমিনাস কার্পেটিং করে মেরিন ড্রাইভ রোডের আদলে নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া বন বিভাগের ইকোপার্কের অভ্যন্তরে ৯০০ মিটার ওয়াকিং সেলসহ ওয়াকওয়ে নির্মিত হবে ২ দশমিক ৬ কিলোমিটার। গঙ্গামতির কাছে মেরিন ড্রাইভ রোড দুটির লেকে নান্দনিক সেতুও নির্মিত হবে প্রকল্পের আওতায়। যার একটি ঝুলন্ত এবং অপরটি হবে আরসিসি সেতু।

প্রকল্পটির জন্য আইডব্লিউএম প্রথমে ৬৪৫ কোটি ৬০ লাখ টাকার ব্যয় প্রস্তাব করলেও পরে তা বেড়ে ৯৪৯ কোটিতে উন্নীত হয়। নেদারল্যান্ডের পরামর্শক প্রতিষ্ঠানসহ প্রকল্পটির বাস্তবায়ন তদারকি করবে দেশীয় আধা-সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘আইডব্লিউএম’।

কুয়াকাটার ভাঙনরোধে প্রকল্প ব্যয় বাড়িয়ে প্রস্তাব চূড়ান্ত

সাড়ে ৯০০ থেকে ১২০৬ কোটিতে উন্নীত * পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে সভা আজ
 নাসির উদ্দিন বিপ্লব, কুয়াকাটা 
০১ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বঙ্গোপসাগরের ছোবল থেকে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার সৈকত রক্ষায় সাড়ে ৯০০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবটি সংশোধন করে পানি উন্নয়ন বোর্ডে দেওয়া হয়। প্রকল্প প্রস্তাবনায় আরও বেশ কয়েকটি বিষয় সংযোজন করায় ব্যয় বেড়ে ১২০৬ কোটিতে উন্নীত হয়েছে। পহেলা ডিসেম্বর (আজ) এ ব্যাপারে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সিনিয়র সচিবের সভাপতিত্বে এক সভায় ডিপিপি অনুমোদনের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড কলাপাড়া সার্কেলের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফ হোসেন। এরপর কুয়াকাটার ভাঙন রোধ-সংক্রান্ত প্রকল্প প্রস্তাবনাটি পরিকল্পনা কমিশনে যাচ্ছে।

সংশোধিত ডিপিপি পরিকল্পনা কমিশনের ‘প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি’ ও ‘কারিগরি মূল্যায়ন কমিটিতে অনুমোদনের পরে জাতীয় অর্থনৈতিক কমিশনের নির্বাহী কমিটির ‘একনেক’ চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পেশ হবে। তবে সে পর্যন্ত পৌঁছতে কত দিন বা মাস লাগবে তা বলতে পারছেন না সংশ্লিষ্ট কেউ। গত মাসেই ডিপিপিটি পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে পৌঁছানোর পর এখনো তা বিবেচনায় কোনো সভা হয়নি।

কুয়াকাটায় বিনিয়োগকারীদের অন্যতম এফবিসিসিআই পরিচালক এম জি আর নাসির মজুমদার যুগান্তরকে বলেন, ‘আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করে যত দ্রুত সম্ভব ভাঙনরোধ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে হবে। ইতোমধ্যে আমাদের কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। নতুন করে বিনিয়োগে ভরসা পাচ্ছে না বিনিয়োগকারীরা।’

উপমহাদেশে একমাত্র পটুয়াখালীর সর্ব দক্ষিণে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা যায়। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ ছুটে আসছেন নয়নাভিরাম সাগরকন্যা কুয়াকাটায়। পর্যটন কেন্দ্রটির মূল আকর্ষণ সৈকতের আগের রামনাবাদ ও পশ্চিম প্রান্তের আন্ধারমানিক চ্যানেল। নদী দুটির স্রোতধারা পরিবর্তন করায় ১৯৯৮ সাল থেকে ভাঙন শুরু হয় এখানে। ২০১০ সাল থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ড সীমিত উদ্যোগ গ্রহণ করলেও তা টেকসই হয়নি।

কয়েক দফায় জিউ টিউব ও সিসি ব্লক ফেলে মূল সি বিচটি সাগরের ঢেউ থেকে রক্ষার উদ্যোগে তেমন ফল দেয়নি। পরবর্তীতে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক এমপির নির্দেশে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘আইডব্লিউএম’ এ লক্ষ্যে ব্যাপক সমীক্ষা সম্পাদন করে। নেদারল্যান্ডের একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানও এ লক্ষ্যে অনলাইনে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে কিছু পরামর্শ দেয়। আইডব্লিউএমর প্রস্তাবনায় কুয়াকাটা উপকূলীয় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ থেকে সৈকত পর্যন্ত ৭০টি গ্রোয়েনের মাধ্যমে ভাঙন রোধের প্রস্তাব দেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে মূল সৈকত রক্ষায় দুই প্রান্তের রামনাবাদ ও আন্ধারমানিক চ্যানেল পর্যন্ত প্রায় ১১ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার এলাকায় সিসি ব্লকের সাহায্যে গ্রোয়েনগুলোতে জিও টেক্সটাইলের ওপর ৪৫ সেন্টিমিটার থেকে ১ মিটার সাইজের সিসি ব্লক সন্নিবেশের প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় কুয়াকাটা সৈকতে একটি আদর্শ পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলতে ‘ওয়াকিং বে’ ছাড়াও পর্যটকদের নিরাপত্তা জন্য লাইফ গার্ড স্টেশন, বসার স্থান, ট্রইল, পার্কিং ল্যান্ডস্কেপ ও আধুনিক টয়লেট নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে সাড়ে ৯০০ কোটি টাকা ব্যয়সাপেক্ষ ডিপিপিটি পুনর্গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়। সে আলোকে কুয়াকাটা সৈকতের ভাঙন রোধের পাশাপাশি পর্যটন কেন্দ্রটিকে আকর্ষণীয় করতে আরও বেশ কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে প্রকল্প ব্যয় সাড়ে ৯০০ কোটি থেকে ১২০৬ কোটিতে উন্নীত হয়।

নতুন পুনর্গঠনকৃত প্রকল্প প্রস্তাবনায় কুয়াকাটা সৈকত-সংলগ্ন উপকূলীয় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ১২ কিলোমিটার বিটুমিনাস কার্পেটিং করে মেরিন ড্রাইভ রোডের আদলে নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া বন বিভাগের ইকোপার্কের অভ্যন্তরে ৯০০ মিটার ওয়াকিং সেলসহ ওয়াকওয়ে নির্মিত হবে ২ দশমিক ৬ কিলোমিটার। গঙ্গামতির কাছে মেরিন ড্রাইভ রোড দুটির লেকে নান্দনিক সেতুও নির্মিত হবে প্রকল্পের আওতায়। যার একটি ঝুলন্ত এবং অপরটি হবে আরসিসি সেতু।

প্রকল্পটির জন্য আইডব্লিউএম প্রথমে ৬৪৫ কোটি ৬০ লাখ টাকার ব্যয় প্রস্তাব করলেও পরে তা বেড়ে ৯৪৯ কোটিতে উন্নীত হয়। নেদারল্যান্ডের পরামর্শক প্রতিষ্ঠানসহ প্রকল্পটির বাস্তবায়ন তদারকি করবে দেশীয় আধা-সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘আইডব্লিউএম’।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন