হাইকোর্টকে দ্বিতীয়বার ধোঁকা দিল দুই ভাই
jugantor
হাইকোর্টকে দ্বিতীয়বার ধোঁকা দিল দুই ভাই
কক্সবাজারের আলাউদ্দিন পলাতক আসামি কিনা আমার জানা নেই-আইনজীবী শিশির মনির

  যুগান্তর প্রতিবেদন ও কক্সবাজার প্রতিনিধি  

০২ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

‘১২ বছরের শিশু মানব পাচার মামলার আসামি’-এই শিরোনামে সচিত্র সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশের পর দেশব্যাপী তোলপাড় হয়েছিল। ঘটনাটা ২০১৯ সালের ২৮ অক্টোবরের। স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন জাগে, ১২ বছরের শিশু মানব পাচারকারী হয় কীভাবে? বিষয়টি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন হাইকোর্টও। ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে তখন হাইকোর্ট রাষ্ট্রপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে ‘শিশু’ আলাউদ্দিনকে দিয়েছিলেন আট সপ্তাহের আগাম জামিন।

কিন্তু প্রশাসনের তদন্তে উঠে আসে ভিন্ন চিত্র। উচ্চ আদালতে হাজিরা দিয়ে জামিন নেওয়া ১২ বছরের শিশু (গণমাধ্যমে প্রচার পাওয়া মায়ের সঙ্গে থাকা শিশুটি) আলাউদ্দিন নয়, আলাউদ্দিন সেজে আদালতে যান ছোট ভাই রফিকুল ইসলাম। মানব পাচার মামলার প্রকৃত আসামি ২২ বছরের তরুণ আলাউদ্দিন পলাতক। তার বাড়ি কক্সবাজারের রামু উপজেলার চাকমারকুল ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের চমুদারপাড়া গ্রামে।

মানব পাচার মামলার দায় থেকে অব্যাহতি চেয়ে ২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর আইজিপি বরাবরে আবেদন করেছিলেন ‘শিশু’ আলাউদ্দিন। এর তদন্ত করতে গিয়েই উচ্চ আদালতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে আগাম জামিন নেওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। ২০১৯ সালের ২২ ডিসেম্বর শেষ হয় আলাউদ্দিনের ৮ সপ্তাহের আগাম জামিনের মেয়াদ। ২৩ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম জেলা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিন নেওয়ার কথা ছিল আলাউদ্দিনের। কিন্তু প্রতারণার তথ্য ফাঁস হওয়ার পর এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে, আলাউদ্দিন আত্মগোপন করেন। সঙ্গে ছোট ভাই রফিকুল ইসলাম, মা রাজিয়া বেগমও লাপাত্তা হন।

সবকিছু আড়ালেই ছিল এতদিন। কিন্তু দুই বছর পর ১৬ সেপ্টেম্বর (২০২১) আবারও ভুয়া পরিচয় নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট (৭৯০২) করে কথিত শিশু আলাউদ্দিন। চতুর্থ পিটিশনার ছিলেন আলাউদ্দিন নামধারী রফিকুল ইসলাম। পিটিশনে নিজেকে আলাউদ্দিন এবং বয়স ১২ বলেই দাবি করা হয়। রিটে তিনি শিশু মর্মে মামলা থেকে রেহাই চান। অথচ আসামি আলাউদ্দিন তার মূল মামলা (২৮/২০২০)-যা চট্টগ্রামের আদালতে বিচারাধীন সেখানে শুরু থেকেই পলাতক আছেন।

পলাতক থাকা অবস্থায় আসামি কীভাবে হাইকোর্টে রিট পিটিশন করেন-এমন প্রশ্নের জবাবে তার নিয়োজিত সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, এটা সাবজেক্ট ম্যাটার না। আলাউদ্দিন মানব পাচার মামলার পলাতক আসামি কিনা আমার জানা নেই। তবে রাজারবাগ দরবার শরিফের পিরের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট যে তিনটা অর্ডার দিয়েছেন, তার মধ্যে আলাউদ্দিনও আছেন। ১০-১২ জন লোক মিলে ৪৯টা ভুয়া মামলা করল, এরপর আরেকজনের বিরুদ্ধে ৩২ মামলা করল-এটা রাজারবাগ পিরের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট তদন্ত দিয়েছেন। এটি (আলাউদ্দিন) সেই (রাজারবাগ) মামলার রিট কিনা সুনির্দিষ্টভাবে বলতে হলে ফাইল দেখতে হবে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ আদালতে আলাউদ্দিনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মানব পাচার মামলা করেন চট্টগ্রামের লোহাপড়ার উজানটিয়ার বাসিন্দা নুরুল ইসলাম। বাদীপক্ষের আইনজীবী জিএম জাহিদ হোসেন বলেন, আদালত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে ২০১৯ সালের ২৮ অক্টোবর হাইকোর্টে আলাউদ্দিনের বদলে তার ছোট ভাই রফিকুল ইসলামকে আত্মসমর্পণ করানো হয়। আদালত ১২ বছর বয়সি শিশু রফিকুলকে আলাউদ্দিন ভেবে ৮ সপ্তাহের আগাম জামিন দেন। ওইদিন যুগান্তরসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে ‘১২ বছরের শিশু মানব পাচার মামলার আসামি’ শিরোনামে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

রামু থানার ওসি মো. আনোয়ারুল আলম জানান, মানব পাচার মামলার দায় থেকে অব্যাহতি চেয়ে ২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর আইজিপি বরাবরে আবেদন করেছিলেন আলাউদ্দিন। ঘটনাটি তদন্ত করতে গিয়ে উচ্চ আদালতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে আগাম জামিন নেওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। তখন থেকেই দুই সহোদর (আলাউদ্দিন ও রফিকুল) পরিবারসহ আত্মগোপনে রয়েছে।

চট্টগ্রামের আদালতে করা নুরুল ইসলামের মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১৪ সালের ২০ জুন আলাউদ্দিনসহ আসামিরা মালয়েশিয়ায় ভালো বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে নুরুল ইসলামকে চট্টগ্রামের লোহাগড়া থেকে কক্সবাজারের দরিয়ানগর উপকূলে নিয়ে যান। সেখান থেকে নুরুল ইসলাম ও একই এলাকার হেলালউদ্দিনকে ট্রলারের মাধ্যমে জাহাজে তুলে দেয়। কয়েকদিন পর জাহাজটি থাইল্যান্ড উপকূলে তাদের নামিয়ে দেয়। সেখানকার দালালরা তাদের শারীরিক নির্যাতন করে পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা করে মুক্তিপণ চায়। কোনো উপায় না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা গবাদিপশু ও জমি বিক্রি করে আসামিদের হাতে ৪ লাখ টাকা তুলে দেন।

এরপর থাইল্যান্ডের দালালরা ওই দুজনকে মালয়েশিয়ায় দালালের কাছে পৌঁছে দেয়। কিন্তু সেখানে তাদের একটি কারখানায় আটকে রাখা হয়। পাশাপাশি বাধ্য করা হয় বিনামূল্যে কাজ করতে। ২০১৭ সালের জুন মাসে মালয়েশিয়া পুলিশ অবৈধ অভিবাসী হিসাবে তাকে (নুরুল ইসলাম) গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়। এক বছর কারাভোগের পর বাংলাদেশ সরকার ২০১৮ সালে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনে। এরপর ২৯ অক্টোবর ছয় আসামির বিরুদ্ধে মানব পাচার মামলা করেন তিনি। মামলার ৬নং আসামি আলাউদ্দিন।

২৭ নভেম্বর (২০২১) আলাউদ্দিনের রামুর বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে আলাউদ্দিনের চাচাতো ভাইয়ের স্ত্রী ইসমত আরা বলেন, ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকে তারা নিখোঁজ। আলাউদ্দিন নিজেদের ঘর ভেঙে জমিটা স্থানীয় আবুল হোসেনের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। আবুল হোসেনের মা আছিয়া খাতুন বলেন, তারা ওই জমিটা ৩ লাখ টাকায় কিনেছেন।

মামলার বাদী নুরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, দুই বছর আগে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের সঙ্গে প্রতারণা করার পরও শুধু শিশু হওয়ায় আলাউদ্দিনরূপী রফিকুলের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন। কিন্তু সেই মানবিকতাকে ব্যবহার করে ‘ডাবল আয়নাবাজি’ (দ্বিতীয়বার প্রতারণা) করল তারা। এবারও তারা বেছে নিল পুরোনো পদ্ধতিই। অথচ তারা মূল মামলায় পলাতক।

হাইকোর্টকে দ্বিতীয়বার ধোঁকা দিল দুই ভাই

কক্সবাজারের আলাউদ্দিন পলাতক আসামি কিনা আমার জানা নেই-আইনজীবী শিশির মনির
 যুগান্তর প্রতিবেদন ও কক্সবাজার প্রতিনিধি 
০২ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

‘১২ বছরের শিশু মানব পাচার মামলার আসামি’-এই শিরোনামে সচিত্র সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশের পর দেশব্যাপী তোলপাড় হয়েছিল। ঘটনাটা ২০১৯ সালের ২৮ অক্টোবরের। স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন জাগে, ১২ বছরের শিশু মানব পাচারকারী হয় কীভাবে? বিষয়টি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন হাইকোর্টও। ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে তখন হাইকোর্ট রাষ্ট্রপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে ‘শিশু’ আলাউদ্দিনকে দিয়েছিলেন আট সপ্তাহের আগাম জামিন।

কিন্তু প্রশাসনের তদন্তে উঠে আসে ভিন্ন চিত্র। উচ্চ আদালতে হাজিরা দিয়ে জামিন নেওয়া ১২ বছরের শিশু (গণমাধ্যমে প্রচার পাওয়া মায়ের সঙ্গে থাকা শিশুটি) আলাউদ্দিন নয়, আলাউদ্দিন সেজে আদালতে যান ছোট ভাই রফিকুল ইসলাম। মানব পাচার মামলার প্রকৃত আসামি ২২ বছরের তরুণ আলাউদ্দিন পলাতক। তার বাড়ি কক্সবাজারের রামু উপজেলার চাকমারকুল ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের চমুদারপাড়া গ্রামে।

মানব পাচার মামলার দায় থেকে অব্যাহতি চেয়ে ২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর আইজিপি বরাবরে আবেদন করেছিলেন ‘শিশু’ আলাউদ্দিন। এর তদন্ত করতে গিয়েই উচ্চ আদালতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে আগাম জামিন নেওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। ২০১৯ সালের ২২ ডিসেম্বর শেষ হয় আলাউদ্দিনের ৮ সপ্তাহের আগাম জামিনের মেয়াদ। ২৩ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম জেলা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিন নেওয়ার কথা ছিল আলাউদ্দিনের। কিন্তু প্রতারণার তথ্য ফাঁস হওয়ার পর এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে, আলাউদ্দিন আত্মগোপন করেন। সঙ্গে ছোট ভাই রফিকুল ইসলাম, মা রাজিয়া বেগমও লাপাত্তা হন।

সবকিছু আড়ালেই ছিল এতদিন। কিন্তু দুই বছর পর ১৬ সেপ্টেম্বর (২০২১) আবারও ভুয়া পরিচয় নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট (৭৯০২) করে কথিত শিশু আলাউদ্দিন। চতুর্থ পিটিশনার ছিলেন আলাউদ্দিন নামধারী রফিকুল ইসলাম। পিটিশনে নিজেকে আলাউদ্দিন এবং বয়স ১২ বলেই দাবি করা হয়। রিটে তিনি শিশু মর্মে মামলা থেকে রেহাই চান। অথচ আসামি আলাউদ্দিন তার মূল মামলা (২৮/২০২০)-যা চট্টগ্রামের আদালতে বিচারাধীন সেখানে শুরু থেকেই পলাতক আছেন।

পলাতক থাকা অবস্থায় আসামি কীভাবে হাইকোর্টে রিট পিটিশন করেন-এমন প্রশ্নের জবাবে তার নিয়োজিত সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, এটা সাবজেক্ট ম্যাটার না। আলাউদ্দিন মানব পাচার মামলার পলাতক আসামি কিনা আমার জানা নেই। তবে রাজারবাগ দরবার শরিফের পিরের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট যে তিনটা অর্ডার দিয়েছেন, তার মধ্যে আলাউদ্দিনও আছেন। ১০-১২ জন লোক মিলে ৪৯টা ভুয়া মামলা করল, এরপর আরেকজনের বিরুদ্ধে ৩২ মামলা করল-এটা রাজারবাগ পিরের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট তদন্ত দিয়েছেন। এটি (আলাউদ্দিন) সেই (রাজারবাগ) মামলার রিট কিনা সুনির্দিষ্টভাবে বলতে হলে ফাইল দেখতে হবে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ আদালতে আলাউদ্দিনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মানব পাচার মামলা করেন চট্টগ্রামের লোহাপড়ার উজানটিয়ার বাসিন্দা নুরুল ইসলাম। বাদীপক্ষের আইনজীবী জিএম জাহিদ হোসেন বলেন, আদালত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে ২০১৯ সালের ২৮ অক্টোবর হাইকোর্টে আলাউদ্দিনের বদলে তার ছোট ভাই রফিকুল ইসলামকে আত্মসমর্পণ করানো হয়। আদালত ১২ বছর বয়সি শিশু রফিকুলকে আলাউদ্দিন ভেবে ৮ সপ্তাহের আগাম জামিন দেন। ওইদিন যুগান্তরসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে ‘১২ বছরের শিশু মানব পাচার মামলার আসামি’ শিরোনামে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

রামু থানার ওসি মো. আনোয়ারুল আলম জানান, মানব পাচার মামলার দায় থেকে অব্যাহতি চেয়ে ২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর আইজিপি বরাবরে আবেদন করেছিলেন আলাউদ্দিন। ঘটনাটি তদন্ত করতে গিয়ে উচ্চ আদালতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে আগাম জামিন নেওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। তখন থেকেই দুই সহোদর (আলাউদ্দিন ও রফিকুল) পরিবারসহ আত্মগোপনে রয়েছে।

চট্টগ্রামের আদালতে করা নুরুল ইসলামের মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১৪ সালের ২০ জুন আলাউদ্দিনসহ আসামিরা মালয়েশিয়ায় ভালো বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে নুরুল ইসলামকে চট্টগ্রামের লোহাগড়া থেকে কক্সবাজারের দরিয়ানগর উপকূলে নিয়ে যান। সেখান থেকে নুরুল ইসলাম ও একই এলাকার হেলালউদ্দিনকে ট্রলারের মাধ্যমে জাহাজে তুলে দেয়। কয়েকদিন পর জাহাজটি থাইল্যান্ড উপকূলে তাদের নামিয়ে দেয়। সেখানকার দালালরা তাদের শারীরিক নির্যাতন করে পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা করে মুক্তিপণ চায়। কোনো উপায় না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা গবাদিপশু ও জমি বিক্রি করে আসামিদের হাতে ৪ লাখ টাকা তুলে দেন।

এরপর থাইল্যান্ডের দালালরা ওই দুজনকে মালয়েশিয়ায় দালালের কাছে পৌঁছে দেয়। কিন্তু সেখানে তাদের একটি কারখানায় আটকে রাখা হয়। পাশাপাশি বাধ্য করা হয় বিনামূল্যে কাজ করতে। ২০১৭ সালের জুন মাসে মালয়েশিয়া পুলিশ অবৈধ অভিবাসী হিসাবে তাকে (নুরুল ইসলাম) গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়। এক বছর কারাভোগের পর বাংলাদেশ সরকার ২০১৮ সালে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনে। এরপর ২৯ অক্টোবর ছয় আসামির বিরুদ্ধে মানব পাচার মামলা করেন তিনি। মামলার ৬নং আসামি আলাউদ্দিন।

২৭ নভেম্বর (২০২১) আলাউদ্দিনের রামুর বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে আলাউদ্দিনের চাচাতো ভাইয়ের স্ত্রী ইসমত আরা বলেন, ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকে তারা নিখোঁজ। আলাউদ্দিন নিজেদের ঘর ভেঙে জমিটা স্থানীয় আবুল হোসেনের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। আবুল হোসেনের মা আছিয়া খাতুন বলেন, তারা ওই জমিটা ৩ লাখ টাকায় কিনেছেন।

মামলার বাদী নুরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, দুই বছর আগে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের সঙ্গে প্রতারণা করার পরও শুধু শিশু হওয়ায় আলাউদ্দিনরূপী রফিকুলের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন। কিন্তু সেই মানবিকতাকে ব্যবহার করে ‘ডাবল আয়নাবাজি’ (দ্বিতীয়বার প্রতারণা) করল তারা। এবারও তারা বেছে নিল পুরোনো পদ্ধতিই। অথচ তারা মূল মামলায় পলাতক।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন