বরিশালে মেয়র সাদিকের বিশাল শোডাউন
jugantor
শান্তিচুক্তির দুই যুগ পূর্তি পালন
বরিশালে মেয়র সাদিকের বিশাল শোডাউন

  আকতার ফারুক শাহিন, বরিশাল  

০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভুভুজেলার কানফাটা আওয়াজ, ঢোলের বাদ্যি আর করতালে বৃহস্পতিবার বরিশালে পালিত হয়েছে পার্বত্য শান্তিচুক্তির দুই যুগ পূর্তি। পাহাড়ে শান্তি ফেরাতে ১৯৯৮ সালের এদিনে আন্দোলনরত জনসংহতি সমিতির সঙ্গে চুক্তিতে উপনীত হয় আওয়ামী লীগ সরকার। ওই চুক্তিতে সই করেন জাতীয় সংসদের তৎকালীন চিফ হুইপ আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ। বরিশাল-১ আসনের এ সংসদ সদস্য এখন পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্বে। দিনটি নিয়ে পাহাড়ে খুব একটা মাতামাতি না হলেও তার নিজের জেলা বরিশালে প্রতিবছরই ব্যাপক আয়োজন করে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ। তবে এবারের আয়োজন ছাড়িয়ে গেছে অতীতের সব রেকর্ড। পুরো নগরকে যেন একত্রিত করা হয় ফজলুল হক এভিনিউয়ে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এতে প্রকারান্তরে নিজের জনসমর্থন আর নেতৃত্বের শোডাউন করলেন হাসানাতপুত্র সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ।

প্রায় দুই সপ্তাহ ধরেই নগরে চলছিল শান্তিচুক্তির বর্ষপূর্তি পালনের প্রস্তুতি। প্রতিটি ওয়ার্ড কমিটির পাশাপাশি জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাদের নিয়ে চলছিল দফায় দফায় বৈঠক। এমনকি জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভা পর্যন্ত হয়। সবকিছুরই নেপথ্যে ছিলেন মেয়র সাদিক। যার ফল মেলে বৃহস্পতিবার। নগরভবনের সামনের সড়কে আয়োজন করা হয় শান্তিচুক্তির বর্ষপূর্তি পালনের সমাবেশ।

এর আগে সকালে দিনটি উপলক্ষ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের স্মৃতিফলকে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। নগরভবনের উদ্যোগে শতাধিক দরিদ্র ব্যক্তিকে দেওয়া হয় অর্থ সহায়তা ও সেলাই মেশিন। এরপর দুপুর ২টা থেকে শুরু হয় জনসভার প্রস্তুতি। বরিশাল নগরের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে আসতে থাকে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা। নানা বর্ণের ব্যানার-ফেস্টুন, এমনকি বাহারি পোশাকে সেজেও নেতাকর্মীরা আসেন এখানে। একপর্যায়ে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় পুরো ফজলুল হক এভিনিউ। সমাবেশ পরিণত হয় জনসমুদ্রে।

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা বলেন, ‘আর বছর দেড়েক বাকি আছে বর্তমান মেয়রের মেয়াদ পূর্ণ হতে। ৩ বছর পেরিয়ে যাওয়ায় নির্বাচনি হাওয়াও ধীরে ধীরে বইতে শুরু করেছে নগরে। নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে মেয়র আইভীসহ বেশ কয়েকজনের মনোনয়নপত্র কেনার খবরে সে হাওয়া পাচ্ছে আরও গতি। এসব কিছু বিবেচনায় রেখেই হয়তো এমন আয়োজন মেয়র সাদিকের।’ এক্ষেত্রে অনেকেই কষছেন আরেকটি হিসাব। ১৮ আগস্ট বরিশাল সদর উপজেলা কমপ্লেক্সে গুলিবর্ষণ ও সংঘর্ষে প্রশাসনের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয় স্থানীয় আওয়ামী লীগের। দলও হয় সাংগঠনিকভাবে ক্ষতির শিকার। গতকালের এ আয়োজনকে সেই ক্ষতি পেছনে ফেলে সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনের আয়োজন হিসাবেও দেখছেন অনেকে।

বিষয়টি নিয়ে আলাপকালে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি অ্যাড. তালুকদার মো. ইউনুস বলেন, ‘ঐতিহাসিক এ দিনটিকে প্রতিবারের মতো এবারও উদযাপন করেছি আমরা। এটা ঠিক যে, আয়োজন সফল করতে সর্বোচ্চ পরিশ্রম করেছেন সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। কিন্তু তাই বলে এটিকে শোডাউন বলার সুযোগ নেই। এটা ছিল আমাদের প্রিয় নেতার জন্য প্রাণের আয়োজন।’

মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ বৃহস্পতিবারের সমাবেশ উদ্বোধন করেন। প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড. একেএম জাহাঙ্গীর সভাপতিত্ব করেন। বক্তৃতা করেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. আফজাল হোসেন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাম্মি আহম্মেদ, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য গোলাম রব্বানী চিনু, আনিসুর রহমান, বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. তালুকদার মো. ইউনুস, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদ আল নাহিয়ান খান জয় প্রমুখ। সমাবেশ শেষে একটি বিশাল শোভাযাত্রা নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

শান্তিচুক্তির দুই যুগ পূর্তি পালন

বরিশালে মেয়র সাদিকের বিশাল শোডাউন

 আকতার ফারুক শাহিন, বরিশাল 
০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভুভুজেলার কানফাটা আওয়াজ, ঢোলের বাদ্যি আর করতালে বৃহস্পতিবার বরিশালে পালিত হয়েছে পার্বত্য শান্তিচুক্তির দুই যুগ পূর্তি। পাহাড়ে শান্তি ফেরাতে ১৯৯৮ সালের এদিনে আন্দোলনরত জনসংহতি সমিতির সঙ্গে চুক্তিতে উপনীত হয় আওয়ামী লীগ সরকার। ওই চুক্তিতে সই করেন জাতীয় সংসদের তৎকালীন চিফ হুইপ আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ। বরিশাল-১ আসনের এ সংসদ সদস্য এখন পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্বে। দিনটি নিয়ে পাহাড়ে খুব একটা মাতামাতি না হলেও তার নিজের জেলা বরিশালে প্রতিবছরই ব্যাপক আয়োজন করে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ। তবে এবারের আয়োজন ছাড়িয়ে গেছে অতীতের সব রেকর্ড। পুরো নগরকে যেন একত্রিত করা হয় ফজলুল হক এভিনিউয়ে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এতে প্রকারান্তরে নিজের জনসমর্থন আর নেতৃত্বের শোডাউন করলেন হাসানাতপুত্র সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ।

প্রায় দুই সপ্তাহ ধরেই নগরে চলছিল শান্তিচুক্তির বর্ষপূর্তি পালনের প্রস্তুতি। প্রতিটি ওয়ার্ড কমিটির পাশাপাশি জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাদের নিয়ে চলছিল দফায় দফায় বৈঠক। এমনকি জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভা পর্যন্ত হয়। সবকিছুরই নেপথ্যে ছিলেন মেয়র সাদিক। যার ফল মেলে বৃহস্পতিবার। নগরভবনের সামনের সড়কে আয়োজন করা হয় শান্তিচুক্তির বর্ষপূর্তি পালনের সমাবেশ।

এর আগে সকালে দিনটি উপলক্ষ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের স্মৃতিফলকে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। নগরভবনের উদ্যোগে শতাধিক দরিদ্র ব্যক্তিকে দেওয়া হয় অর্থ সহায়তা ও সেলাই মেশিন। এরপর দুপুর ২টা থেকে শুরু হয় জনসভার প্রস্তুতি। বরিশাল নগরের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে আসতে থাকে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা। নানা বর্ণের ব্যানার-ফেস্টুন, এমনকি বাহারি পোশাকে সেজেও নেতাকর্মীরা আসেন এখানে। একপর্যায়ে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় পুরো ফজলুল হক এভিনিউ। সমাবেশ পরিণত হয় জনসমুদ্রে।

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা বলেন, ‘আর বছর দেড়েক বাকি আছে বর্তমান মেয়রের মেয়াদ পূর্ণ হতে। ৩ বছর পেরিয়ে যাওয়ায় নির্বাচনি হাওয়াও ধীরে ধীরে বইতে শুরু করেছে নগরে। নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে মেয়র আইভীসহ বেশ কয়েকজনের মনোনয়নপত্র কেনার খবরে সে হাওয়া পাচ্ছে আরও গতি। এসব কিছু বিবেচনায় রেখেই হয়তো এমন আয়োজন মেয়র সাদিকের।’ এক্ষেত্রে অনেকেই কষছেন আরেকটি হিসাব। ১৮ আগস্ট বরিশাল সদর উপজেলা কমপ্লেক্সে গুলিবর্ষণ ও সংঘর্ষে প্রশাসনের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয় স্থানীয় আওয়ামী লীগের। দলও হয় সাংগঠনিকভাবে ক্ষতির শিকার। গতকালের এ আয়োজনকে সেই ক্ষতি পেছনে ফেলে সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনের আয়োজন হিসাবেও দেখছেন অনেকে।

বিষয়টি নিয়ে আলাপকালে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি অ্যাড. তালুকদার মো. ইউনুস বলেন, ‘ঐতিহাসিক এ দিনটিকে প্রতিবারের মতো এবারও উদযাপন করেছি আমরা। এটা ঠিক যে, আয়োজন সফল করতে সর্বোচ্চ পরিশ্রম করেছেন সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। কিন্তু তাই বলে এটিকে শোডাউন বলার সুযোগ নেই। এটা ছিল আমাদের প্রিয় নেতার জন্য প্রাণের আয়োজন।’

মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ বৃহস্পতিবারের সমাবেশ উদ্বোধন করেন। প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড. একেএম জাহাঙ্গীর সভাপতিত্ব করেন। বক্তৃতা করেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. আফজাল হোসেন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাম্মি আহম্মেদ, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য গোলাম রব্বানী চিনু, আনিসুর রহমান, বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. তালুকদার মো. ইউনুস, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদ আল নাহিয়ান খান জয় প্রমুখ। সমাবেশ শেষে একটি বিশাল শোভাযাত্রা নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন