আমাদের বিয়েটা দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর উদাহরণ
jugantor
বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনায় দুই হাত হারানো ফাল্গুনী ও সুব্রত
আমাদের বিয়েটা দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর উদাহরণ

  তন্ময় তপু, বরিশাল  

০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শিশুকালে এক বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনায় ফাল্গুনী সাহার দুই হাতই বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সব জেনে প্রেমে পড়েন পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা সদরের বাসিন্দা সুব্রত মিত্র। ছোটবেলা থেকেই পরিচয়। তাদের প্রেম চলছে ৫ বছর। যার সঙ্গে সাত পাকে বাঁধা পড়লেন। সবশেষ বরযাত্রী এসে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে বসেন বিয়ের পিঁড়িতে। সাত পাকে বাঁধা পড়েন প্রেয়সী ফাল্গুনী সাহার সঙ্গে। দুই পরিবারের সম্মতিতেই বুধবার রাতে বরিশাল নগরীর ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী শংকর মঠ মন্দির প্রাঙ্গণে তাদের বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় মানুষও জড়ো হয় এ বিয়ের অনুষ্ঠান দেখতে। বর সুব্রত মিত্রর মহানুভবতা ও দৃষ্টিভঙ্গি কতটা উচ্চমানের তা নিয়েও হতবাক অনেকে।

সুব্রত মিত্র পটুয়াখালীতে বেসরকারি সংস্থা কোডেক-এর ফিল্ড অফিসার। ফাল্গুনীও পিছিয়ে নেই। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় জীবন পার করে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় কাজ করছেন। তিনি বরিশাল ব্র্যাক অফিসে সহকারী এইচআর পদে কাজ করছেন। দুজনের বাড়ি গলাচিপায়। ফাল্গুনী নগরীর ব্রজমোহন কলেজ সংলগ্ন ইন্দোবাংলা ফার্মাসিউটিক্যালের সামনে পরিবার নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকেন।

ফাল্গুনী সাহা বলেন, ২০০২ সালে গলাচিপায় পাশের বাড়ির ছাদে বৈদ্যুতিক তারে দুর্ঘটনার কারণে দুই হাতই বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আমি নিজেকে কখনো দুর্বল মনে করিনি। দুই হাতের যতটুকু অংশ ছিল, ততটুকু অংশ দিয়েই আমি আমার পড়াশোনা শেষ করেছি। এখন চাকরি করছি। ২০১১ সালে মাধ্যমিক পাশ করেছি গলাচিপা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ও ২০১৩ সালে উত্তরা ট্রাস্ট কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় পাশ করেছি। এরপর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জিওলোজি ও এনভায়রনমেন্ট সাবজেক্টে ২০১৮ সালে অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করেছি।

শ্রী শ্রী শংকর মঠের সাধারণ সম্পাদক বাসুদেব কর্মকার ভাষাই বলেন, এই বিয়ে আমার কাছে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। একটা মেয়ের দুটি হাত নেই, তাকে একটি ছেলে বিয়ে করেছে। এমন মহানুভবতা দেখার সুযোগ হয়েছে আমাদের। আমরা শ্রী শ্রী শংকর মঠ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত থেকে সহযোগিতাও করেছি বিয়েতে। আমার জীবদ্দশায় দেখিনি একজন দুই হাত হারা প্রতিবন্ধী মেয়েকে এমন স্বাচ্ছন্দ্যে কেউ গ্রহণ করেছে। আমরা সুব্রত মিত্রর হৃদয় কতখানি বড় সেটা বুঝতে পেরেছি। সত্যিই আমরা অভিভূত।

বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনায় দুই হাত হারানো ফাল্গুনী ও সুব্রত

আমাদের বিয়েটা দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর উদাহরণ

 তন্ময় তপু, বরিশাল 
০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শিশুকালে এক বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনায় ফাল্গুনী সাহার দুই হাতই বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সব জেনে প্রেমে পড়েন পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা সদরের বাসিন্দা সুব্রত মিত্র। ছোটবেলা থেকেই পরিচয়। তাদের প্রেম চলছে ৫ বছর। যার সঙ্গে সাত পাকে বাঁধা পড়লেন। সবশেষ বরযাত্রী এসে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে বসেন বিয়ের পিঁড়িতে। সাত পাকে বাঁধা পড়েন প্রেয়সী ফাল্গুনী সাহার সঙ্গে। দুই পরিবারের সম্মতিতেই বুধবার রাতে বরিশাল নগরীর ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী শংকর মঠ মন্দির প্রাঙ্গণে তাদের বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় মানুষও জড়ো হয় এ বিয়ের অনুষ্ঠান দেখতে। বর সুব্রত মিত্রর মহানুভবতা ও দৃষ্টিভঙ্গি কতটা উচ্চমানের তা নিয়েও হতবাক অনেকে।

সুব্রত মিত্র পটুয়াখালীতে বেসরকারি সংস্থা কোডেক-এর ফিল্ড অফিসার। ফাল্গুনীও পিছিয়ে নেই। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় জীবন পার করে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় কাজ করছেন। তিনি বরিশাল ব্র্যাক অফিসে সহকারী এইচআর পদে কাজ করছেন। দুজনের বাড়ি গলাচিপায়। ফাল্গুনী নগরীর ব্রজমোহন কলেজ সংলগ্ন ইন্দোবাংলা ফার্মাসিউটিক্যালের সামনে পরিবার নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকেন।

ফাল্গুনী সাহা বলেন, ২০০২ সালে গলাচিপায় পাশের বাড়ির ছাদে বৈদ্যুতিক তারে দুর্ঘটনার কারণে দুই হাতই বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আমি নিজেকে কখনো দুর্বল মনে করিনি। দুই হাতের যতটুকু অংশ ছিল, ততটুকু অংশ দিয়েই আমি আমার পড়াশোনা শেষ করেছি। এখন চাকরি করছি। ২০১১ সালে মাধ্যমিক পাশ করেছি গলাচিপা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ও ২০১৩ সালে উত্তরা ট্রাস্ট কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় পাশ করেছি। এরপর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জিওলোজি ও এনভায়রনমেন্ট সাবজেক্টে ২০১৮ সালে অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করেছি।

শ্রী শ্রী শংকর মঠের সাধারণ সম্পাদক বাসুদেব কর্মকার ভাষাই বলেন, এই বিয়ে আমার কাছে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। একটা মেয়ের দুটি হাত নেই, তাকে একটি ছেলে বিয়ে করেছে। এমন মহানুভবতা দেখার সুযোগ হয়েছে আমাদের। আমরা শ্রী শ্রী শংকর মঠ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত থেকে সহযোগিতাও করেছি বিয়েতে। আমার জীবদ্দশায় দেখিনি একজন দুই হাত হারা প্রতিবন্ধী মেয়েকে এমন স্বাচ্ছন্দ্যে কেউ গ্রহণ করেছে। আমরা সুব্রত মিত্রর হৃদয় কতখানি বড় সেটা বুঝতে পেরেছি। সত্যিই আমরা অভিভূত।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন