চালু হচ্ছে না জানুয়ারিতে
jugantor
পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল
চালু হচ্ছে না জানুয়ারিতে
জুনে উদ্বোধনের প্রস্তুতি * প্রকল্পের কাজ হয়েছে ৮২ ভাগ * পরিচালনায় আগ্রহী পাঁচ বিদেশি প্রতিষ্ঠান

  মজুমদার নাজিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম  

০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে চালু হচ্ছে না চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি)। আগামী বছরের জানুয়ারিতে এটি উদ্বোধন হতে পারে বলে এর আগে জানিয়েছিল বন্দর কর্তৃপক্ষ। এখন ছয় মাস পিছিয়ে জুনে এটি উদ্বোধনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। অপারেটর নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজেই টার্মিনালটি পরিচালনা করবে। পরে অপারেটর নিয়োগ হলে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ পর্যন্ত প্রকল্পের ৮২ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বন্দরসংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সমুদ্রপথে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রায় ৯২ শতাংশ হয়ে থাকে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। বর্তমানে এ বন্দরে জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি), চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ও নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) নামক তিনটি টার্মিনালে মোট ১৯টি জেটি রয়েছে। তবে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বছরে আরও ৪ লাখ ৪৫ হাজার টিইইউএস (২০ ফুট সমমানের) বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। দেশের প্রধান এ সমুদ্রবন্দর গত বছর ২৮ লাখ ৩৯ হাজার ৯৭৭ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করেছিল। আন্তর্জাতিক শিপিং জার্নাল ‘লয়েডস লিস্ট’র রেটিংয়ে বিশ্বের ১০০ বন্দরের মধ্যে এর অবস্থান ৬৭তম। প্রতিবছর পণ্য হ্যান্ডলিংয়ে প্রায় ১০ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি ঘটছে। যা সামাল দিতে বন্দরের অবকাঠামোগত আরও উন্নয়ন দরকার বলে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলের অভিমত। এ বন্দরের সর্বশেষ টার্মিনাল এনসিটি ২০০৭ সালে নির্মিত হয়। এরপর গত ১৪ বছরেও নতুন কোনো টার্মিনাল চালু হয়নি। অথচ আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের পরিধি বাড়ছে বছর বছর। এনসিটি নির্মাণ শেষে দীর্ঘ বিরতির পর চালু হতে যাচ্ছে নতুন টার্মিনাল পিসিটি। এতে থাকছে তিনটি কনটেইনার জেটি ও একটি তেল খালাসের ডলফিন জেটি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব অর্থে বাস্তবায়নাধীন পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল প্রকল্প অনুমোদিত হয় ২০১৭ সালে। তখন এর বাস্তবায়নে সময়সীমা নির্ধারিত ছিল ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। পরবর্তীতে সময়সীমা আড়াই বছর বাড়িয়ে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। প্রথমদিকে বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজেরাই নতুন টার্মিনালটি পরিচালনা করতে চেয়েছিল। পরে সেই পরিকল্পনা থেকে সরে এসে বেসরকারি অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এজন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে ৫টি বিদেশি প্রতিষ্ঠান। একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অপারেটর প্রতিষ্ঠান টার্মিনালটি পরিচালনা করবে। হ্যান্ডলিং ইকুইপমেন্টও আনবে তারাই। চুক্তির মেয়াদ শেষে ইকুইপমেন্ট বন্দরের মালিকানায় চলে আসবে। এতে প্রকল্পের ব্যয় অনেক কমবে।

প্রকল্প পরিচালক বন্দরের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান সরকার যুগান্তরকে জানান, শুরুতে প্রকল্পের ব্যয় ১ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা ধরা হলেও প্রকল্প প্রস্তাব সংশোধনের পর কমে দাঁড়িয়েছে ১২৩০ কোটি টাকায়। অর্থাৎ ব্যয় কমেছে ৬৩৮ কোটি টাকা। ইকুইপমেন্ট খরচ কমে আসায় ব্যয় সাশ্রয় হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রকল্পের সার্বিক কাজ এরইমধ্যে ৮২ শতাংশ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ শেষ হলে আগামী বছরের জুনের মধ্যে পিসিটি উদ্বোধন করা সম্ভব হবে।

এদিকে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণকাজের সঙ্গে চলছে অপারেটর নিয়োগের প্রক্রিয়াও। চারটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান সৌদি আরবের রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল (আরএসজিটি), দুবাইয়ের ডিপি ওয়ার্ল্ড, পোর্ট অব সিঙ্গাপুর অথরিটি (পিএসএ) এবং ভারতের আদানি অ্যান্ড স্পেশাল ইকোনমিক জোনস অথরিটি আগেই আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। সর্বশেষ আগ্রহ দেখিয়েছে এপি মুলার নামের ডেনমার্কভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান। পিপিপি (প্রাইভেট পাবলিক পার্টনারশিপ) কর্তৃপক্ষ অপারেটর নিয়োগের বিষয়টি দেখভাল করছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক যুগান্তরকে বলেন, উদ্বোধনের পর প্রাথমিকভাবে আমরা নিজস্ব জনবল ও ইকুইপমেন্ট দিয়ে অপারেশন শুরু করে দেব। এরপর অপারেটর নিয়োগ হলে টার্মিনালটি তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল

চালু হচ্ছে না জানুয়ারিতে

জুনে উদ্বোধনের প্রস্তুতি * প্রকল্পের কাজ হয়েছে ৮২ ভাগ * পরিচালনায় আগ্রহী পাঁচ বিদেশি প্রতিষ্ঠান
 মজুমদার নাজিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম 
০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে চালু হচ্ছে না চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি)। আগামী বছরের জানুয়ারিতে এটি উদ্বোধন হতে পারে বলে এর আগে জানিয়েছিল বন্দর কর্তৃপক্ষ। এখন ছয় মাস পিছিয়ে জুনে এটি উদ্বোধনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। অপারেটর নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজেই টার্মিনালটি পরিচালনা করবে। পরে অপারেটর নিয়োগ হলে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ পর্যন্ত প্রকল্পের ৮২ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বন্দরসংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সমুদ্রপথে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রায় ৯২ শতাংশ হয়ে থাকে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। বর্তমানে এ বন্দরে জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি), চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ও নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) নামক তিনটি টার্মিনালে মোট ১৯টি জেটি রয়েছে। তবে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বছরে আরও ৪ লাখ ৪৫ হাজার টিইইউএস (২০ ফুট সমমানের) বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। দেশের প্রধান এ সমুদ্রবন্দর গত বছর ২৮ লাখ ৩৯ হাজার ৯৭৭ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করেছিল। আন্তর্জাতিক শিপিং জার্নাল ‘লয়েডস লিস্ট’র রেটিংয়ে বিশ্বের ১০০ বন্দরের মধ্যে এর অবস্থান ৬৭তম। প্রতিবছর পণ্য হ্যান্ডলিংয়ে প্রায় ১০ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি ঘটছে। যা সামাল দিতে বন্দরের অবকাঠামোগত আরও উন্নয়ন দরকার বলে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলের অভিমত। এ বন্দরের সর্বশেষ টার্মিনাল এনসিটি ২০০৭ সালে নির্মিত হয়। এরপর গত ১৪ বছরেও নতুন কোনো টার্মিনাল চালু হয়নি। অথচ আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের পরিধি বাড়ছে বছর বছর। এনসিটি নির্মাণ শেষে দীর্ঘ বিরতির পর চালু হতে যাচ্ছে নতুন টার্মিনাল পিসিটি। এতে থাকছে তিনটি কনটেইনার জেটি ও একটি তেল খালাসের ডলফিন জেটি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব অর্থে বাস্তবায়নাধীন পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল প্রকল্প অনুমোদিত হয় ২০১৭ সালে। তখন এর বাস্তবায়নে সময়সীমা নির্ধারিত ছিল ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। পরবর্তীতে সময়সীমা আড়াই বছর বাড়িয়ে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। প্রথমদিকে বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজেরাই নতুন টার্মিনালটি পরিচালনা করতে চেয়েছিল। পরে সেই পরিকল্পনা থেকে সরে এসে বেসরকারি অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এজন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে ৫টি বিদেশি প্রতিষ্ঠান। একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অপারেটর প্রতিষ্ঠান টার্মিনালটি পরিচালনা করবে। হ্যান্ডলিং ইকুইপমেন্টও আনবে তারাই। চুক্তির মেয়াদ শেষে ইকুইপমেন্ট বন্দরের মালিকানায় চলে আসবে। এতে প্রকল্পের ব্যয় অনেক কমবে।

প্রকল্প পরিচালক বন্দরের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান সরকার যুগান্তরকে জানান, শুরুতে প্রকল্পের ব্যয় ১ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা ধরা হলেও প্রকল্প প্রস্তাব সংশোধনের পর কমে দাঁড়িয়েছে ১২৩০ কোটি টাকায়। অর্থাৎ ব্যয় কমেছে ৬৩৮ কোটি টাকা। ইকুইপমেন্ট খরচ কমে আসায় ব্যয় সাশ্রয় হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রকল্পের সার্বিক কাজ এরইমধ্যে ৮২ শতাংশ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ শেষ হলে আগামী বছরের জুনের মধ্যে পিসিটি উদ্বোধন করা সম্ভব হবে।

এদিকে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণকাজের সঙ্গে চলছে অপারেটর নিয়োগের প্রক্রিয়াও। চারটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান সৌদি আরবের রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল (আরএসজিটি), দুবাইয়ের ডিপি ওয়ার্ল্ড, পোর্ট অব সিঙ্গাপুর অথরিটি (পিএসএ) এবং ভারতের আদানি অ্যান্ড স্পেশাল ইকোনমিক জোনস অথরিটি আগেই আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। সর্বশেষ আগ্রহ দেখিয়েছে এপি মুলার নামের ডেনমার্কভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান। পিপিপি (প্রাইভেট পাবলিক পার্টনারশিপ) কর্তৃপক্ষ অপারেটর নিয়োগের বিষয়টি দেখভাল করছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক যুগান্তরকে বলেন, উদ্বোধনের পর প্রাথমিকভাবে আমরা নিজস্ব জনবল ও ইকুইপমেন্ট দিয়ে অপারেশন শুরু করে দেব। এরপর অপারেটর নিয়োগ হলে টার্মিনালটি তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন