নতুন অংশের সভাপতি মন্টু সম্পাদক সুব্রত
jugantor
দুই ভাগ হলো গণফোরাম
নতুন অংশের সভাপতি মন্টু সম্পাদক সুব্রত

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আনুষ্ঠানিকভাবে দুই ভাগ হয়ে গেল গণফোরাম। ড. কামাল হোসেনের বাইরে আরেক অংশের সভাপতি হিসেবে মোস্তফা মোহসীন মন্টুর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন গণফোরামের আরেক নেতা সুব্রত চৌধুরী। শুক্রবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মোস্তফা মোহসীন নেতৃত্বাধীন গণফোরামের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠান হয়। এতে ১৫৭ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

নির্বাহী পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও রয়েছেন ৫ জন। এছাড়া প্রেসিডিয়াম সদস্য করা হয়েছে অধ্যাপক ড. আবু সাইয়িদ, অ্যাডভোকেট জগলুল হায়দার আফ্রিক, অ্যাডভোকেট মহসিন রশিদ, অ্যাডভোকেট মহিউদ্দিন আব্দুল কাদের, ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল হক, অ্যাডভোকেট আনসার খান, অ্যাডভোকেট ফজলুল হক সরকার, রতন ব্যানার্জি, অ্যাডভোকেট এনামুল হক চাঁদ, মেজর (অব.) আসাদুজ্জামান বীরপ্রতীক, ডা. মিজানুর রহমান, আতাউর রহমান, আব্দুল হাসিব চৌধুরী, খান সিদ্দিকুর রহমান, আবুল হাসনাত, আনোয়ার হোসেন, অ্যাডভোকেট হোসেন আলী পিয়ারা ও অ্যাডভোকেট হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। ২৮ সদস্যের সম্পাদকমণ্ডলী ও ৮৮ জনকে সদস্য করা হয়েছে।

গণফোরামের এ কাউন্সিলে দলটির সভাপতি ড. কামাল হোসেন অংশের কেউ ছিলেন না। তবে ড. কামাল হোসেন একটি লিখিত শুভেচ্ছাবার্তা পাঠান। মোস্তফা মোহসীন তা পড়ে শোনান। সেখানে বলা হয়, তিনি অসুস্থতার কারণে যোগ দিতে পারেননি। তবে কাউন্সিলকে স্বাগত জানিয়ে সফলতা কামনা করেন। তিনি আশা করেন, গণফোরামের সব নেতাকর্মী ও সমর্থকরা ঐক্যবদ্ধভাবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, আইনের শাসন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাবেন।

‘দুঃশাসন হটিয়ে জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার’ স্লোগান সামনে সকাল ১০টায় গণফোরামের মোস্তফা মোহসীন মন্টুর নেতৃত্বাধীন অংশের জাতীয় কাউন্সিল শুরু হয়। এতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গঠিত হওয়া জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। গণফোরামের এ অংশকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য দেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক চৌধুরী, অধ্যাপক দিলারা বেগম, জাসদ একাংশের নেতা নাজমুল হক প্রধান, জেএসডি নেতা তানিয়া রব ও বিকল্পধারার একাংশের নেতা অ্যাডভোকেট শাহ আহম্মেদ বাদল। কাউন্সিলে সব নেতার বক্তব্যে খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার বিষয়টি উঠে আসে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. জাফরুল্লাহ বিএনপির উদ্দেশে বলেন, আমি তাদের একটি অনুরোধ করেছি। তারেক রহমানের নেতৃত্ব নিয়ে আমি কোনো কথা বলছি না। আজ তারেক রহমানের উচিত-প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে ফোন করে বলা, মায়ের জীবন বাঁচান।

আ স ম আবদুর রব বলেন, খালেদা জিয়ার কিছু হলে দেশে কী ঘটবে তা মনে করলেও গা শিউরে ওঠে। তাকে বিদেশে যেতে দিন। এ সরকারকে সরাতে গণঅভ্যুত্থান, গণআন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। সবাইকে মাঠে নামতে হবে।

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, জিয়াউর রহমান একজন সেক্টর কমান্ডার ছিলেন। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা। তার স্ত্রী খালেদা জিয়া মৃত্যুশয্যায়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী, আপনি তাকে বিদেশ যেতে দিচ্ছেন না কিসের ভয়ে? একজন মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীর প্রতি সম্মান দেখিয়ে আজই তাকে বিদেশ পাঠিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, দেশে এখন একটা দুঃশাসন চলছে। তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, জনপ্রিয় একজন নেত্রী খালেদা জিয়া অসুস্থ। তাকে দ্রুত বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠানো খুব জরুরি। এ সরকার খুবই অমানবিক, তারা তাকে বিদেশ পাঠাবে না।

উদ্বোধনী অধিবেশনের পর বিকাল ৩টায় ফজলুল হক সরকারের সভাপতিত্বে কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। অধিবেশনে উত্থাপিত সাংগঠনিক প্রস্তাব, রাজনৈতিক প্রস্তাব ও অর্থবিষয়ক প্রস্তাবের ওপর বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা নেতারা আলোচনা করেন। নির্বাচনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন অ্যাডভোকেট মহসিন রশিদ।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই গণফোরামে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব শুরু হয়। আওয়ামী লীগের সাবেক অর্থমন্ত্রী প্রয়াত শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়া একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে গণফোরামে যোগ দিয়ে সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ২০১৯ সালে গণফোরামের কাউন্সিলের পর ৫ মে দলের সভাপতি ড. কামাল হোসেন এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে রেজা কিবরিয়াকে সাধারণ সম্পাদকের পদে বসান। এর পর থেকে সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীনসহ দলের কিছু সিনিয়র নেতার সঙ্গে রেজা কিবরিয়ার দ্বন্দ্ব শুরু হয়। একপর্যায়ে দলে দুটি ভাগ হয়ে পালটাপালটি বহিষ্কার চলে। বিরোধী পক্ষের নেতৃত্ব দেন মোহসীন। এ বছর ফেব্রুয়ারিতে রেজা কিবরিয়ার পদত্যাগের পর দুই অংশের এক হওয়ার কথাও শোনা যায়। তবে শেষ পর্যন্ত ভাগ হয়েই গেল।

তবে একটি সূত্র জানিয়েছে, বিভক্ত গণফোরামকে ঐক্যবদ্ধ করতে আবারও উদ্যোগ নিয়েছেন উভয় পক্ষের সিনিয়র নেতারা। শুক্রবারের কাউন্সিলকে ঘিরে দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. কামাল হোসেনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে দুই পক্ষই নমনীয় মনোভাব পোষণ করছেন। আগামী দু-একদিনের মধ্যে তারা নিজেদের মধ্যে বৈঠক করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। কাউন্সিলের পর মোস্তফা মোহসীন মন্টু ও গণফোরামের আরেক অংশের নেতা মোকাব্বির হোসেন আলোচনার মাধ্যমে গণফোরামে ঐক্যবদ্ধ হবেন বলে আরেক চিঠিতে আহ্বান জানান ড. কামাল। ওই চিঠিতে তিনি লিখেছেন, আমি আশা করি গণফোরাম যে নীতি ও আদর্শ নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল, আপনারা গণফোরামের সব নেতা সম্মিলিতভাবে হাতে হাত রেখে সে লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য একসঙ্গে কাজ করবেন। ড. কামাল হোসেনের দুই চিঠিকে উভয় অংশের নেতারা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বলে জানা গেছে।

দুই ভাগ হলো গণফোরাম

নতুন অংশের সভাপতি মন্টু সম্পাদক সুব্রত

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আনুষ্ঠানিকভাবে দুই ভাগ হয়ে গেল গণফোরাম। ড. কামাল হোসেনের বাইরে আরেক অংশের সভাপতি হিসেবে মোস্তফা মোহসীন মন্টুর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন গণফোরামের আরেক নেতা সুব্রত চৌধুরী। শুক্রবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মোস্তফা মোহসীন নেতৃত্বাধীন গণফোরামের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠান হয়। এতে ১৫৭ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

নির্বাহী পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও রয়েছেন ৫ জন। এছাড়া প্রেসিডিয়াম সদস্য করা হয়েছে অধ্যাপক ড. আবু সাইয়িদ, অ্যাডভোকেট জগলুল হায়দার আফ্রিক, অ্যাডভোকেট মহসিন রশিদ, অ্যাডভোকেট মহিউদ্দিন আব্দুল কাদের, ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল হক, অ্যাডভোকেট আনসার খান, অ্যাডভোকেট ফজলুল হক সরকার, রতন ব্যানার্জি, অ্যাডভোকেট এনামুল হক চাঁদ, মেজর (অব.) আসাদুজ্জামান বীরপ্রতীক, ডা. মিজানুর রহমান, আতাউর রহমান, আব্দুল হাসিব চৌধুরী, খান সিদ্দিকুর রহমান, আবুল হাসনাত, আনোয়ার হোসেন, অ্যাডভোকেট হোসেন আলী পিয়ারা ও অ্যাডভোকেট হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। ২৮ সদস্যের সম্পাদকমণ্ডলী ও ৮৮ জনকে সদস্য করা হয়েছে।

গণফোরামের এ কাউন্সিলে দলটির সভাপতি ড. কামাল হোসেন অংশের কেউ ছিলেন না। তবে ড. কামাল হোসেন একটি লিখিত শুভেচ্ছাবার্তা পাঠান। মোস্তফা মোহসীন তা পড়ে শোনান। সেখানে বলা হয়, তিনি অসুস্থতার কারণে যোগ দিতে পারেননি। তবে কাউন্সিলকে স্বাগত জানিয়ে সফলতা কামনা করেন। তিনি আশা করেন, গণফোরামের সব নেতাকর্মী ও সমর্থকরা ঐক্যবদ্ধভাবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, আইনের শাসন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাবেন।

‘দুঃশাসন হটিয়ে জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার’ স্লোগান সামনে সকাল ১০টায় গণফোরামের মোস্তফা মোহসীন মন্টুর নেতৃত্বাধীন অংশের জাতীয় কাউন্সিল শুরু হয়। এতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গঠিত হওয়া জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। গণফোরামের এ অংশকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য দেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক চৌধুরী, অধ্যাপক দিলারা বেগম, জাসদ একাংশের নেতা নাজমুল হক প্রধান, জেএসডি নেতা তানিয়া রব ও বিকল্পধারার একাংশের নেতা অ্যাডভোকেট শাহ আহম্মেদ বাদল। কাউন্সিলে সব নেতার বক্তব্যে খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার বিষয়টি উঠে আসে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. জাফরুল্লাহ বিএনপির উদ্দেশে বলেন, আমি তাদের একটি অনুরোধ করেছি। তারেক রহমানের নেতৃত্ব নিয়ে আমি কোনো কথা বলছি না। আজ তারেক রহমানের উচিত-প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে ফোন করে বলা, মায়ের জীবন বাঁচান।

আ স ম আবদুর রব বলেন, খালেদা জিয়ার কিছু হলে দেশে কী ঘটবে তা মনে করলেও গা শিউরে ওঠে। তাকে বিদেশে যেতে দিন। এ সরকারকে সরাতে গণঅভ্যুত্থান, গণআন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। সবাইকে মাঠে নামতে হবে।

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, জিয়াউর রহমান একজন সেক্টর কমান্ডার ছিলেন। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা। তার স্ত্রী খালেদা জিয়া মৃত্যুশয্যায়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী, আপনি তাকে বিদেশ যেতে দিচ্ছেন না কিসের ভয়ে? একজন মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীর প্রতি সম্মান দেখিয়ে আজই তাকে বিদেশ পাঠিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, দেশে এখন একটা দুঃশাসন চলছে। তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, জনপ্রিয় একজন নেত্রী খালেদা জিয়া অসুস্থ। তাকে দ্রুত বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠানো খুব জরুরি। এ সরকার খুবই অমানবিক, তারা তাকে বিদেশ পাঠাবে না।

উদ্বোধনী অধিবেশনের পর বিকাল ৩টায় ফজলুল হক সরকারের সভাপতিত্বে কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। অধিবেশনে উত্থাপিত সাংগঠনিক প্রস্তাব, রাজনৈতিক প্রস্তাব ও অর্থবিষয়ক প্রস্তাবের ওপর বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা নেতারা আলোচনা করেন। নির্বাচনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন অ্যাডভোকেট মহসিন রশিদ।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই গণফোরামে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব শুরু হয়। আওয়ামী লীগের সাবেক অর্থমন্ত্রী প্রয়াত শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়া একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে গণফোরামে যোগ দিয়ে সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ২০১৯ সালে গণফোরামের কাউন্সিলের পর ৫ মে দলের সভাপতি ড. কামাল হোসেন এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে রেজা কিবরিয়াকে সাধারণ সম্পাদকের পদে বসান। এর পর থেকে সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীনসহ দলের কিছু সিনিয়র নেতার সঙ্গে রেজা কিবরিয়ার দ্বন্দ্ব শুরু হয়। একপর্যায়ে দলে দুটি ভাগ হয়ে পালটাপালটি বহিষ্কার চলে। বিরোধী পক্ষের নেতৃত্ব দেন মোহসীন। এ বছর ফেব্রুয়ারিতে রেজা কিবরিয়ার পদত্যাগের পর দুই অংশের এক হওয়ার কথাও শোনা যায়। তবে শেষ পর্যন্ত ভাগ হয়েই গেল।

তবে একটি সূত্র জানিয়েছে, বিভক্ত গণফোরামকে ঐক্যবদ্ধ করতে আবারও উদ্যোগ নিয়েছেন উভয় পক্ষের সিনিয়র নেতারা। শুক্রবারের কাউন্সিলকে ঘিরে দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. কামাল হোসেনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে দুই পক্ষই নমনীয় মনোভাব পোষণ করছেন। আগামী দু-একদিনের মধ্যে তারা নিজেদের মধ্যে বৈঠক করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। কাউন্সিলের পর মোস্তফা মোহসীন মন্টু ও গণফোরামের আরেক অংশের নেতা মোকাব্বির হোসেন আলোচনার মাধ্যমে গণফোরামে ঐক্যবদ্ধ হবেন বলে আরেক চিঠিতে আহ্বান জানান ড. কামাল। ওই চিঠিতে তিনি লিখেছেন, আমি আশা করি গণফোরাম যে নীতি ও আদর্শ নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল, আপনারা গণফোরামের সব নেতা সম্মিলিতভাবে হাতে হাত রেখে সে লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য একসঙ্গে কাজ করবেন। ড. কামাল হোসেনের দুই চিঠিকে উভয় অংশের নেতারা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বলে জানা গেছে।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন