তেলের দাম বৃদ্ধিতে জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে: জিএম কাদের
jugantor
তেলের দাম বৃদ্ধিতে জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে: জিএম কাদের

  যুগান্তর প্রতিবেদক  

০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

তেলের দাম বৃদ্ধিতে জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে জিএম কাদের

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জিএম কাদের এমপি বলেছেন, প্রয়োজন ছাড়াই তেলের দাম বাড়ানোয় মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, বিশ্ববাজারের অজুহাতে দাম বাড়ানো হয়েছে। এখন দাম কমলেও দেশে তেলের দাম কমানো হচ্ছে না। এর আগে বিশ্বজবাজারে তেলের দাম খুবই কম ছিল; তখনো দেশে কমানো হয়নি।

তিনি আরও বলেন, প্রচার করা হচ্ছে চোরাচালান রোধে তেলের দাম বাড়ানো হয়। কিন্তু আসলে কখনোই জ্বালানি তেল চোরাচালান করা সম্ভব নয়। ট্রাংকার বা পাইপ লাইন ছাড়া তেল পাচার করা অসম্ভব। সাবেক সফল রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ভর্তুকি দিয়ে তেলের দাম প্রতি লিটার সাত টাকা রেখেছিলেন। এখন সেই ডিজেলের দাম ৮০ টাকা। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ালে দেশের মানুষ কষ্ট পায়। প্রতিটি পণ্য ও সেবার দামও বেড়ে যায়, এবারও তাই হয়েছে।

শনিবার ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে জাতীয় পার্টি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বর্ধিত সভায় জিএম কাদের এসব কথা বলেন। কো-চেয়ারম্যান ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি এতে সভাপতিত্ব করেন।

জিএম কাদের আরও বলেন, তেলের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে গণপরিবহণ কোনো ঘোষণা ছাড়াই ধর্মঘট শুরু করে। লাখ লাখ মানুষ পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়ে। সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু কর্তা পরিবহণ মালিকদের সঙ্গে সভা করে পরিবহণের ভাড়া বাড়িয়ে দেন। সঙ্গে সঙ্গে ন্যাচারাল গ্যাসচালিত বাসভাড়াও বেড়ে যায়, অথচ গ্যাসের দাম বাড়েনি। আবার সরকার যতটুকু ভাড়া বাড়িয়েছে, শ্রমিকরা তার চেয়ে বেশি আদায় করে। যাত্রীরা অতিরিক্ত ভাড়া দিতে রাজি না হলে তাদের পথে নামিয়ে দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, কোনো ঘোষণা ছাড়াই বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। সাধারণ মানুষ নিজের অজান্তেই বিদ্যুতের অতিরিক্ত বিল দিচ্ছে। পাশাপাশি নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। মানুষ সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। বাজারে কারও নিয়ন্ত্রণ আছে বলে মনে হচ্ছে না। কৃষক যে পণ্য পাঁচ টাকা কেজিতে বিক্রি করে তা হাত ঘুরে রাজধানীতে ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়। দেশের কৃষক পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না। তিনি বলেন, দেশের মানুষের মঙ্গলের জন্যই জাতীয় পার্টির রাজনীতি।

জিএম কাদের বলেন, গেল বছর অপরিকল্পিত লকডাউন দেওয়ায় দেশের মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ হয়ে গেছে। বেকারত্বের সংখ্যা বেড়েছে অনেক গুণ। যে দেশে তরুণদের সংখ্যা বেশি সে দেশ তত দ্রুত উন্নতি করে। কিন্তু আমাদের দেশের বেকার তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নেই।

সভায় জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু এমপি বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে আমাদের আর কোনো প্রেম নেই। আমাদের সঙ্গে প্রেম করে আওয়ামী লীগ তিনবার রাষ্ট্রক্ষমতায় গেছে। এখন আমাদের ওপর নির্যাতন করছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি প্রার্থীদের ওপর হামলা করছে। জাতীয় পার্টি প্রার্থীদের নির্বাচনের মাঠ থেকে উঠিয়ে দিতে চাচ্ছে। তিনি বলেন, মধ্যবিত্তের প্রধান বাহন হচ্ছে বাস সার্ভিস। সরকার সমন্বিত বাস সার্ভিস পরিচালনায় পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, আর কোনো জোট নয়, জাতীয় পার্টি আগামী নির্বাচনে ৩০০ আসনেই প্রার্থী দিয়ে নির্বাচন করবে।

সভাপতির বক্তৃতায় সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা বলেন, প্রমাণ হয়েছে জাতীয় পার্টি ছাড়া আর কোনো দলই দেশে সুশাসন দিতে পারে না। দেশের মানুষের আশা পূরণ করতেই জাতীয় পার্টির রাজনীতি। তাই আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগেই দলকে আরও শক্তিশালী করতে সবার প্রতি আহ্বান জানান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু এমপি, মীর আবদুস সবুর আসুদ, হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, রেজাউল ইসলাম ভুইয়া, আলমগীর সিকদার লোটন, লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি, জহিরুল ইসলাম জহির, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. নুরুল আজহার শামীম, মনিরুল ইসলাম মিলন, গোলাম মোস্তফা, ভাইস চেয়ারম্যান মো. আরিফুর রহমান খান, যুগ্ম-মহাসচিব গোলাম মোহাম্মদ রাজু প্রমুখ এ সময় বক্তব্য রাখেন।

তেলের দাম বৃদ্ধিতে জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে: জিএম কাদের

 যুগান্তর প্রতিবেদক 
০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
তেলের দাম বৃদ্ধিতে জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে জিএম কাদের
ছবি: যুগান্তর

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জিএম কাদের এমপি বলেছেন, প্রয়োজন ছাড়াই তেলের দাম বাড়ানোয় মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, বিশ্ববাজারের অজুহাতে দাম বাড়ানো হয়েছে। এখন দাম কমলেও দেশে তেলের দাম কমানো হচ্ছে না। এর আগে বিশ্বজবাজারে তেলের দাম খুবই কম ছিল; তখনো দেশে কমানো হয়নি।

তিনি আরও বলেন, প্রচার করা হচ্ছে চোরাচালান রোধে তেলের দাম বাড়ানো হয়। কিন্তু আসলে কখনোই জ্বালানি তেল চোরাচালান করা সম্ভব নয়। ট্রাংকার বা পাইপ লাইন ছাড়া তেল পাচার করা অসম্ভব। সাবেক সফল রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ভর্তুকি দিয়ে তেলের দাম প্রতি লিটার সাত টাকা রেখেছিলেন। এখন সেই ডিজেলের দাম ৮০ টাকা। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ালে দেশের মানুষ কষ্ট পায়। প্রতিটি পণ্য ও সেবার দামও বেড়ে যায়, এবারও তাই হয়েছে।

শনিবার ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে জাতীয় পার্টি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বর্ধিত সভায় জিএম কাদের এসব কথা বলেন। কো-চেয়ারম্যান ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি এতে সভাপতিত্ব করেন।

জিএম কাদের আরও বলেন, তেলের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে গণপরিবহণ কোনো ঘোষণা ছাড়াই ধর্মঘট শুরু করে। লাখ লাখ মানুষ পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়ে। সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু কর্তা পরিবহণ মালিকদের সঙ্গে সভা করে পরিবহণের ভাড়া বাড়িয়ে দেন। সঙ্গে সঙ্গে ন্যাচারাল গ্যাসচালিত বাসভাড়াও বেড়ে যায়, অথচ গ্যাসের দাম বাড়েনি। আবার সরকার যতটুকু ভাড়া বাড়িয়েছে, শ্রমিকরা তার চেয়ে বেশি আদায় করে। যাত্রীরা অতিরিক্ত ভাড়া দিতে রাজি না হলে তাদের পথে নামিয়ে দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, কোনো ঘোষণা ছাড়াই বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। সাধারণ মানুষ নিজের অজান্তেই বিদ্যুতের অতিরিক্ত বিল দিচ্ছে। পাশাপাশি নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। মানুষ সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। বাজারে কারও নিয়ন্ত্রণ আছে বলে মনে হচ্ছে না। কৃষক যে পণ্য পাঁচ টাকা কেজিতে বিক্রি করে তা হাত ঘুরে রাজধানীতে ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়। দেশের কৃষক পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না। তিনি বলেন, দেশের মানুষের মঙ্গলের জন্যই জাতীয় পার্টির রাজনীতি।

জিএম কাদের বলেন, গেল বছর অপরিকল্পিত লকডাউন দেওয়ায় দেশের মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ হয়ে গেছে। বেকারত্বের সংখ্যা বেড়েছে অনেক গুণ। যে দেশে তরুণদের সংখ্যা বেশি সে দেশ তত দ্রুত উন্নতি করে। কিন্তু আমাদের দেশের বেকার তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নেই।

সভায় জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু এমপি বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে আমাদের আর কোনো প্রেম নেই। আমাদের সঙ্গে প্রেম করে আওয়ামী লীগ তিনবার রাষ্ট্রক্ষমতায় গেছে। এখন আমাদের ওপর নির্যাতন করছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি প্রার্থীদের ওপর হামলা করছে। জাতীয় পার্টি প্রার্থীদের নির্বাচনের মাঠ থেকে উঠিয়ে দিতে চাচ্ছে। তিনি বলেন, মধ্যবিত্তের প্রধান বাহন হচ্ছে বাস সার্ভিস। সরকার সমন্বিত বাস সার্ভিস পরিচালনায় পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, আর কোনো জোট নয়, জাতীয় পার্টি আগামী নির্বাচনে ৩০০ আসনেই প্রার্থী দিয়ে নির্বাচন করবে।

সভাপতির বক্তৃতায় সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা বলেন, প্রমাণ হয়েছে জাতীয় পার্টি ছাড়া আর কোনো দলই দেশে সুশাসন দিতে পারে না। দেশের মানুষের আশা পূরণ করতেই জাতীয় পার্টির রাজনীতি। তাই আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগেই দলকে আরও শক্তিশালী করতে সবার প্রতি আহ্বান জানান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু এমপি, মীর আবদুস সবুর আসুদ, হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, রেজাউল ইসলাম ভুইয়া, আলমগীর সিকদার লোটন, লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি, জহিরুল ইসলাম জহির, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. নুরুল আজহার শামীম, মনিরুল ইসলাম মিলন, গোলাম মোস্তফা, ভাইস চেয়ারম্যান মো. আরিফুর রহমান খান, যুগ্ম-মহাসচিব গোলাম মোহাম্মদ রাজু প্রমুখ এ সময় বক্তব্য রাখেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন