রাজশাহীতে বিদ্রোহী প্রার্থীসহ গ্রেফতার ৪
jugantor
প্রার্থীর বাড়িতে হামলা
রাজশাহীতে বিদ্রোহী প্রার্থীসহ গ্রেফতার ৪

  রাজশাহী ব্যুরো  

০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহীর বাঘায় প্রার্থীর বাড়িতে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় বাউসা ইউনিয়নের স্বতন্ত্র ও বিদ্রোহী প্রার্থী নুর মোহাম্মদ তুফানসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সংঘর্ষের ২০ জন আহত হয়েছেন। তবে তুফানের স্ত্রী রোজিনা আকতারি পলির অভিযোগ, নৌকার প্রার্থীর সমর্থক উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাবুলের নেতৃত্বে গভীর রাতে তাদের টলটলিপাড়ার বাড়িতে সশস্ত্র হামলা করা হয়। উলটা তার স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার করানো হয়েছে। তিনি পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় আছেন। হামলাকারীরা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ক্যাডার বলে তিনি দাবি করেন।

জানা যায়, বাউসা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা কমিটির দপ্তর সম্পাদক শফিকুর রহমান শফিক। তিনি গতবারও মনোনয়ন পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। একই ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন জমা দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ তুফান। তবে গত কয়েকদিন দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে মনোনয়ন প্রত্যাহারে তাকে চাপ দেওয়া হচ্ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়াহিদ সাদিক কবির ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি কামরুজ্জামান রিপনের নেতৃত্বে ৩০-৩৫টি মোটরসাইকেল ও একটি প্রাইভেট কারে জনা পঞ্চাশেক দলীয় ক্যাডার দেশি অস্ত্রসহ তুফানের বাড়িতে চড়াও হয়। ওই সময় তুফান বাড়ির বাইরে ছিলেন। ক্যাডাররা বাড়ির বাইরে থেকে উচ্চৈঃস্বরে চ্যাঁচামেচি শুরু করেন। তারা তুফানকে উদ্দেশ করে গালাগালও দিচ্ছিলেন এবং বাড়ির বাইরে বের হতে বলছিলেন। তবে বাড়ির প্রধান ফটক না খোলায় তারা শেষে দরজায় লাথি মারতে থাকেন। একপর্যায়ে শাবল দিয়ে দরজা ভাঙার চেষ্টাও চালান। তুফানের বাড়িতে ডাকাত পড়েছে বলে এ সময় মসজিদের মাইক থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে গ্রামবাসী লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের ঘেরাও করে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। ভাঙচুর করেন ১০টি মোটরসাইকেল। এ সময় হামলাকারী ২০ জন ক্যাডার ও নেতাকর্মী আহত হন। আহতদের মধ্যে ছাত্রলীগ কর্মী রানা, শিহাব, শরিফুল, হিমেল ও শিমুলকে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। দলীয় নেতাকর্মীরা রাতেই বাঘায় ফিরে গিয়ে থানায় তুফানসহ ৫০ জনকে আসামি করে হত্যাচেষ্টার মামলা করেন।

শফিকুর রহমান শফিক যুগান্তরকে বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা আলোচনার জন্য রাতে তুফানের বাড়িতে গিয়েছিলেন, যাতে ৭ ডিসেম্বর শেষদিনে তিনি মনোনয়নপত্রটি প্রত্যাহার করে নেন। কিন্তু তার বদলে তুফানের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা দলীয় নেতৃবৃন্দের ওপর হামলা চালিয়ে আহত করেছে। মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেছে। টাকাপয়সা ছিনতাই করেছে। এ কারণে তিনি তুফানকে প্রধান আসামি করে ১৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

এদিকে রোজিনা আকতারি পলি অভিযোগে আরও বলেন, শনিবার রাতের হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করতে তুফান রোববার সকালে বাঘা থানায় গেলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। তবে তুফান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে প্রধান আসামি করে নামীয় ১০ জনসহ অজ্ঞাত ৩০ জনের বিরুদ্ধে এজাহার দিয়েছেন বাঘা থানায়। তার অভিযোগটি মামলা আকারে রেকর্ড হয়েছে কি না তা পুলিশ জানায়নি।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজ্জাদুর রহমান জানান, দুই পক্ষের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তবে শফিকের মামলায় তুফানসহ গ্রেফতার চারজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ এলাকায় কাজ করছে। উল্লেখ্য, ২৬ ডিসেম্বর এ উপজেলায় ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

প্রার্থীর বাড়িতে হামলা

রাজশাহীতে বিদ্রোহী প্রার্থীসহ গ্রেফতার ৪

 রাজশাহী ব্যুরো 
০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহীর বাঘায় প্রার্থীর বাড়িতে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় বাউসা ইউনিয়নের স্বতন্ত্র ও বিদ্রোহী প্রার্থী নুর মোহাম্মদ তুফানসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সংঘর্ষের ২০ জন আহত হয়েছেন। তবে তুফানের স্ত্রী রোজিনা আকতারি পলির অভিযোগ, নৌকার প্রার্থীর সমর্থক উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাবুলের নেতৃত্বে গভীর রাতে তাদের টলটলিপাড়ার বাড়িতে সশস্ত্র হামলা করা হয়। উলটা তার স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার করানো হয়েছে। তিনি পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় আছেন। হামলাকারীরা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ক্যাডার বলে তিনি দাবি করেন।

জানা যায়, বাউসা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা কমিটির দপ্তর সম্পাদক শফিকুর রহমান শফিক। তিনি গতবারও মনোনয়ন পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। একই ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন জমা দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ তুফান। তবে গত কয়েকদিন দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে মনোনয়ন প্রত্যাহারে তাকে চাপ দেওয়া হচ্ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়াহিদ সাদিক কবির ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি কামরুজ্জামান রিপনের নেতৃত্বে ৩০-৩৫টি মোটরসাইকেল ও একটি প্রাইভেট কারে জনা পঞ্চাশেক দলীয় ক্যাডার দেশি অস্ত্রসহ তুফানের বাড়িতে চড়াও হয়। ওই সময় তুফান বাড়ির বাইরে ছিলেন। ক্যাডাররা বাড়ির বাইরে থেকে উচ্চৈঃস্বরে চ্যাঁচামেচি শুরু করেন। তারা তুফানকে উদ্দেশ করে গালাগালও দিচ্ছিলেন এবং বাড়ির বাইরে বের হতে বলছিলেন। তবে বাড়ির প্রধান ফটক না খোলায় তারা শেষে দরজায় লাথি মারতে থাকেন। একপর্যায়ে শাবল দিয়ে দরজা ভাঙার চেষ্টাও চালান। তুফানের বাড়িতে ডাকাত পড়েছে বলে এ সময় মসজিদের মাইক থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে গ্রামবাসী লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের ঘেরাও করে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। ভাঙচুর করেন ১০টি মোটরসাইকেল। এ সময় হামলাকারী ২০ জন ক্যাডার ও নেতাকর্মী আহত হন। আহতদের মধ্যে ছাত্রলীগ কর্মী রানা, শিহাব, শরিফুল, হিমেল ও শিমুলকে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। দলীয় নেতাকর্মীরা রাতেই বাঘায় ফিরে গিয়ে থানায় তুফানসহ ৫০ জনকে আসামি করে হত্যাচেষ্টার মামলা করেন।

শফিকুর রহমান শফিক যুগান্তরকে বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা আলোচনার জন্য রাতে তুফানের বাড়িতে গিয়েছিলেন, যাতে ৭ ডিসেম্বর শেষদিনে তিনি মনোনয়নপত্রটি প্রত্যাহার করে নেন। কিন্তু তার বদলে তুফানের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা দলীয় নেতৃবৃন্দের ওপর হামলা চালিয়ে আহত করেছে। মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেছে। টাকাপয়সা ছিনতাই করেছে। এ কারণে তিনি তুফানকে প্রধান আসামি করে ১৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

এদিকে রোজিনা আকতারি পলি অভিযোগে আরও বলেন, শনিবার রাতের হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করতে তুফান রোববার সকালে বাঘা থানায় গেলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। তবে তুফান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে প্রধান আসামি করে নামীয় ১০ জনসহ অজ্ঞাত ৩০ জনের বিরুদ্ধে এজাহার দিয়েছেন বাঘা থানায়। তার অভিযোগটি মামলা আকারে রেকর্ড হয়েছে কি না তা পুলিশ জানায়নি।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজ্জাদুর রহমান জানান, দুই পক্ষের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তবে শফিকের মামলায় তুফানসহ গ্রেফতার চারজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ এলাকায় কাজ করছে। উল্লেখ্য, ২৬ ডিসেম্বর এ উপজেলায় ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন