৫০ শিল্পীর রঙ তুলিতে ফুটে উঠল ঐতিহাসিক ‘যশোর রোড’
jugantor
৫০ শিল্পীর রঙ তুলিতে ফুটে উঠল ঐতিহাসিক ‘যশোর রোড’
যশোরে বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তি উৎসব

  যশোর ব্যুরো  

০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিজয়ের ৫০ বছর উদযাপনে যশোর জেলাজুড়ে ২১ দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসব শুরু হয়েছে। যশোর পৌর পার্কে ঐতিহাসিক যশোর রোডকে উপজীব্য করে রোববার ‘মুক্তিযুদ্ধে যশোর রোড’ শিরোনামে আর্ট ক্যাম্প আয়োজনের মধ্য দিয়ে উৎসব শুরু হলো। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত আর্ট ক্যাম্পে অংশ নেন ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও বৃহত্তর যশোর জেলার ৫০ জন বরেণ্য ও তরুণ চিত্রশিল্পী। চিত্রশিল্পীরা যুদ্ধকালীন যশোর রোডে শরণার্থীদের অবর্ণনীয় দুর্দশা ও যুদ্ধচিত্র রঙতুলির প্রাণবন্ত এবং মনোমুগ্ধকর ছোঁয়ায় ফুটিয়ে তোলেন।

শিল্পীদের আঁকা ছবিতে দেখা যায়, যখন ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের শরণার্থীদের ভারতে পাড়ি জমানোর সময় এ সড়কটিই ছিল তাদের বেঁচে থাকার স্বপ্ন পূরণের পথ। তাদের অনেকেই পথ চলার ক্লান্তি সহ্য করতে না পেরে ঢলে পড়েছিলেন মৃত্যুর কোলে। এ রাস্তার প্রতিটি ধূলিকণাও যেন সেই হাজারো শরণার্থীর ক্লান্তি, দুর্ভোগ ও বয়ে বেড়ানো স্বপ্নের সাক্ষী। বেঁচে থাকার জন্য নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ভারতের পথে তারা পাড়ি দেন যশোর রোড।

বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান ফারাজী আহমেদ সাঈদ বুলবুল জানান, বিজয়ের ৫০ বছর উদযাপনে যশোরে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ও জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের উদ্যোগে ৫ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়েছে জেলাজুড়ে ২১ দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসব। সাংস্কৃতিক উৎসবের অংশ হিসাবে ঐতিহাসিক যশোর রোডকে উপজীব্য করে ‘মুক্তিযুদ্ধে যশোর রোড’ শিরোনামে আর্ট ক্যাম্পে ছবি আঁকার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে এ উৎসব। আর্ট ক্যাম্পে যশোরসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা বিভাগের সাবেক এবং বর্তমান শিল্পীরা অংশ নিয়েছেন। তারা এ আর্ট ক্যাম্পে অ্যাক্রেলিক রঙে ক্যানভাসে যশোর রোডের শরণার্থীদের অবর্ণনীয় দুর্দশা ও যুদ্ধচিত্র মুহূর্ত চিত্রিত করেছেন। পরবর্তী প্রজন্মের কাছে যশোর রোড ও মুক্তিযুদ্ধের শৈল্পিক অস্তিত্ব তুলে ধরতে এই দিনব্যাপী আর্ট ক্যাম্পের আয়োজন। ক্যাম্পে আঁকা চিত্রকর্মগুলো নিয়ে সোমবার থেকে সাত দিনব্যাপী যশোর ইনস্টিটিউটের মিলনায়তনে প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে।

তিনি আরও জানান, বিজয়ের ৫০ বছর উদযাপন আমাদের জীবনে এক অনন্য প্রাপ্তি। মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা এবং বর্তমান ও আগামী প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শানিত করার লক্ষ্য নিয়ে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। এ আয়োজনের মধ্যে দিয়ে আমাদের শিল্পীরা যে আন্তরিকতা নিয়ে ছবিগুলো আঁকছেন সেটি ইতিহাসের একটি অমূল্য দলিল হিসাবে বিবেচিত হবে বলে আমি মনে করি।

আর্ট ক্যাম্পে অংশ নেওয়া দেবব্রত দাস জানান, এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে তরুণ প্রজন্ম ৭১-এর যশোর রোডের দুঃখ দুর্দশা ও যুদ্ধচিত্র কিছুটা আঁচ করতে পারবে। যশোর রোড নিয়ে আর্ট ক্যাম্পে এ ধরনের চিত্রকর্ম তুলে ধরেছি আমি এই প্রথম।

যশোরের জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির যে ধারাবাহিকতা শুরু হয়েছিল, তা থেকে আমরা মুক্তি পেয়েছি। এখন আমরা জোরেশোরেই বলতে পারি, যে আদর্শের ভিত্তিতে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা হয়েছিল তা বাস্তবায়িত হচ্ছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে যশোর রোডের একটি ঐতিহাসিক যোগসূত্র রয়েছে। যশোর রোড নিয়ে আর্ট ক্যাম্পটির মাধ্যমে আমরা ইতিহাসকে নতুনভাবে জানছি, যা আমাদের স্মৃতিকে প্রবলভাবে নাড়া দেয়।

৫০ শিল্পীর রঙ তুলিতে ফুটে উঠল ঐতিহাসিক ‘যশোর রোড’

যশোরে বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তি উৎসব
 যশোর ব্যুরো 
০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিজয়ের ৫০ বছর উদযাপনে যশোর জেলাজুড়ে ২১ দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসব শুরু হয়েছে। যশোর পৌর পার্কে ঐতিহাসিক যশোর রোডকে উপজীব্য করে রোববার ‘মুক্তিযুদ্ধে যশোর রোড’ শিরোনামে আর্ট ক্যাম্প আয়োজনের মধ্য দিয়ে উৎসব শুরু হলো। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত আর্ট ক্যাম্পে অংশ নেন ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও বৃহত্তর যশোর জেলার ৫০ জন বরেণ্য ও তরুণ চিত্রশিল্পী। চিত্রশিল্পীরা যুদ্ধকালীন যশোর রোডে শরণার্থীদের অবর্ণনীয় দুর্দশা ও যুদ্ধচিত্র রঙতুলির প্রাণবন্ত এবং মনোমুগ্ধকর ছোঁয়ায় ফুটিয়ে তোলেন।

শিল্পীদের আঁকা ছবিতে দেখা যায়, যখন ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের শরণার্থীদের ভারতে পাড়ি জমানোর সময় এ সড়কটিই ছিল তাদের বেঁচে থাকার স্বপ্ন পূরণের পথ। তাদের অনেকেই পথ চলার ক্লান্তি সহ্য করতে না পেরে ঢলে পড়েছিলেন মৃত্যুর কোলে। এ রাস্তার প্রতিটি ধূলিকণাও যেন সেই হাজারো শরণার্থীর ক্লান্তি, দুর্ভোগ ও বয়ে বেড়ানো স্বপ্নের সাক্ষী। বেঁচে থাকার জন্য নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ভারতের পথে তারা পাড়ি দেন যশোর রোড।

বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান ফারাজী আহমেদ সাঈদ বুলবুল জানান, বিজয়ের ৫০ বছর উদযাপনে যশোরে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ও জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের উদ্যোগে ৫ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়েছে জেলাজুড়ে ২১ দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসব। সাংস্কৃতিক উৎসবের অংশ হিসাবে ঐতিহাসিক যশোর রোডকে উপজীব্য করে ‘মুক্তিযুদ্ধে যশোর রোড’ শিরোনামে আর্ট ক্যাম্পে ছবি আঁকার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে এ উৎসব। আর্ট ক্যাম্পে যশোরসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা বিভাগের সাবেক এবং বর্তমান শিল্পীরা অংশ নিয়েছেন। তারা এ আর্ট ক্যাম্পে অ্যাক্রেলিক রঙে ক্যানভাসে যশোর রোডের শরণার্থীদের অবর্ণনীয় দুর্দশা ও যুদ্ধচিত্র মুহূর্ত চিত্রিত করেছেন। পরবর্তী প্রজন্মের কাছে যশোর রোড ও মুক্তিযুদ্ধের শৈল্পিক অস্তিত্ব তুলে ধরতে এই দিনব্যাপী আর্ট ক্যাম্পের আয়োজন। ক্যাম্পে আঁকা চিত্রকর্মগুলো নিয়ে সোমবার থেকে সাত দিনব্যাপী যশোর ইনস্টিটিউটের মিলনায়তনে প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে।

তিনি আরও জানান, বিজয়ের ৫০ বছর উদযাপন আমাদের জীবনে এক অনন্য প্রাপ্তি। মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা এবং বর্তমান ও আগামী প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শানিত করার লক্ষ্য নিয়ে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। এ আয়োজনের মধ্যে দিয়ে আমাদের শিল্পীরা যে আন্তরিকতা নিয়ে ছবিগুলো আঁকছেন সেটি ইতিহাসের একটি অমূল্য দলিল হিসাবে বিবেচিত হবে বলে আমি মনে করি।

আর্ট ক্যাম্পে অংশ নেওয়া দেবব্রত দাস জানান, এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে তরুণ প্রজন্ম ৭১-এর যশোর রোডের দুঃখ দুর্দশা ও যুদ্ধচিত্র কিছুটা আঁচ করতে পারবে। যশোর রোড নিয়ে আর্ট ক্যাম্পে এ ধরনের চিত্রকর্ম তুলে ধরেছি আমি এই প্রথম।

যশোরের জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির যে ধারাবাহিকতা শুরু হয়েছিল, তা থেকে আমরা মুক্তি পেয়েছি। এখন আমরা জোরেশোরেই বলতে পারি, যে আদর্শের ভিত্তিতে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা হয়েছিল তা বাস্তবায়িত হচ্ছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে যশোর রোডের একটি ঐতিহাসিক যোগসূত্র রয়েছে। যশোর রোড নিয়ে আর্ট ক্যাম্পটির মাধ্যমে আমরা ইতিহাসকে নতুনভাবে জানছি, যা আমাদের স্মৃতিকে প্রবলভাবে নাড়া দেয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন