বাগমারায় নৌকার প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের দাবি
jugantor
জেএমবি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ
বাগমারায় নৌকার প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের দাবি

  রাজশাহী ব্যুরো  

০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাগমারার ১৩নং গোয়ালকান্দি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আলমগীর সরকারের বিরুদ্ধে জেএমবি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। তৃণমূল নেতাকর্র্মীরা তার মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানিয়েছে। নেতাকর্মীদের অভিযোগ, আলমগীর নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির শীর্ষ নেতা সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাইয়ের অন্যতম সহযোগী ছিলেন। মনোনয়ন বাতিল দাবিতে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকসহ তৃণমূল নেতাকর্মীরা স্থানীয় সরকার নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ড বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তাতে আলমগীরকে মনোনয়ন না দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। জেএমবি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করে আলমগীর সরকার বলেন, ইউপি নির্বাচন নিয়ে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে।

আমি জেএমবির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম না। দলের জন্য কাজ করি বলেই দল আমার প্রতি আস্থা রেখেছে। ২ ডিসেম্বর পঞ্চম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে রাজশাহীর বাগমারার ১৬টি ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ওই তালিকায় গোয়ালকান্দি ইউনিয়নে আলমগীর সরকার নৌকা প্রতীক পেয়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, আলমগীরের বাড়িতেই ছিল তৎকালীন সময়ে জেএমবির মিডিয়া সেল। যেখানে জেএমবির প্রধান নেতা শায়খ আবদুর রহমান ও বাংলা ভাই সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করতেন। ওই বাড়িতে একাধিক গোপন বৈঠক হয়েছে জেএমবির শীর্ষনেতাদের। যার ভিডিওচিত্র বিভিন্ন গণমাধ্যমে অনেকবার প্রচার হয়েছে। তাছাড়া আলমগীর সরকার আওয়ামী লীগের সদস্য না এবং দলের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।

অভিযোগে বলা হয়, ২০০৪ সালে বাংলা ভাইয়ের অন্যতম সহযোগী হয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর ব্যাপক অত্যাচার ও নির্যাতন করেছেন আলমগীর। ২০০৮ ও ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার বিরুদ্ধে ভোট করেছেন। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আলমগীর রামরামা কেন্দ্র দখল করে ধানের শীষ প্রতীকে সিল দেওয়ার সময় প্রশাসনের হাতে আটক হন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, লুটপাট, ভাঙচুরসহ অন্তত ৫টি মামলা এখনো বিচারাধীন। এ বিষয়ে গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহেদুল ইসলাম বলেন, আলমগীরকে মনোনয়ন দেওয়ায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বাগমারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম সারওয়ার বলেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তালিকা করে উপজেলা কমিটিতে দিয়েছে। উপজেলা কমিটি সেটি জেলায় দিয়েছে। জেলা পরে তা কেন্দ্রে পাঠিয়েছে। তালিকায় চার-পাঁচজনের নাম ছিল। কেন্দ্র যাকে পছন্দ করেছে, তাকে মনোনয়ন দিয়েছে। রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অনিল কুমার সরকার বলেন, আমি এসব বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে পারব না। দল যাকে মনোনয়ন দিয়েছে, তিনিই আমাদের প্রার্থী।

জেএমবি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ

বাগমারায় নৌকার প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের দাবি

 রাজশাহী ব্যুরো 
০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাগমারার ১৩নং গোয়ালকান্দি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আলমগীর সরকারের বিরুদ্ধে জেএমবি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। তৃণমূল নেতাকর্র্মীরা তার মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানিয়েছে। নেতাকর্মীদের অভিযোগ, আলমগীর নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির শীর্ষ নেতা সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাইয়ের অন্যতম সহযোগী ছিলেন। মনোনয়ন বাতিল দাবিতে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকসহ তৃণমূল নেতাকর্মীরা স্থানীয় সরকার নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ড বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তাতে আলমগীরকে মনোনয়ন না দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। জেএমবি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করে আলমগীর সরকার বলেন, ইউপি নির্বাচন নিয়ে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে।

আমি জেএমবির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম না। দলের জন্য কাজ করি বলেই দল আমার প্রতি আস্থা রেখেছে। ২ ডিসেম্বর পঞ্চম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে রাজশাহীর বাগমারার ১৬টি ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ওই তালিকায় গোয়ালকান্দি ইউনিয়নে আলমগীর সরকার নৌকা প্রতীক পেয়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, আলমগীরের বাড়িতেই ছিল তৎকালীন সময়ে জেএমবির মিডিয়া সেল। যেখানে জেএমবির প্রধান নেতা শায়খ আবদুর রহমান ও বাংলা ভাই সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করতেন। ওই বাড়িতে একাধিক গোপন বৈঠক হয়েছে জেএমবির শীর্ষনেতাদের। যার ভিডিওচিত্র বিভিন্ন গণমাধ্যমে অনেকবার প্রচার হয়েছে। তাছাড়া আলমগীর সরকার আওয়ামী লীগের সদস্য না এবং দলের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।

অভিযোগে বলা হয়, ২০০৪ সালে বাংলা ভাইয়ের অন্যতম সহযোগী হয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর ব্যাপক অত্যাচার ও নির্যাতন করেছেন আলমগীর। ২০০৮ ও ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার বিরুদ্ধে ভোট করেছেন। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আলমগীর রামরামা কেন্দ্র দখল করে ধানের শীষ প্রতীকে সিল দেওয়ার সময় প্রশাসনের হাতে আটক হন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, লুটপাট, ভাঙচুরসহ অন্তত ৫টি মামলা এখনো বিচারাধীন। এ বিষয়ে গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহেদুল ইসলাম বলেন, আলমগীরকে মনোনয়ন দেওয়ায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বাগমারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম সারওয়ার বলেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তালিকা করে উপজেলা কমিটিতে দিয়েছে। উপজেলা কমিটি সেটি জেলায় দিয়েছে। জেলা পরে তা কেন্দ্রে পাঠিয়েছে। তালিকায় চার-পাঁচজনের নাম ছিল। কেন্দ্র যাকে পছন্দ করেছে, তাকে মনোনয়ন দিয়েছে। রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অনিল কুমার সরকার বলেন, আমি এসব বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে পারব না। দল যাকে মনোনয়ন দিয়েছে, তিনিই আমাদের প্রার্থী।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন