নিকেতনে গৃহকর্মীকে হত্যা, লাশ ফেলা হয় ঝাউবনে
jugantor
নিকেতনে গৃহকর্মীকে হত্যা, লাশ ফেলা হয় ঝাউবনে

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর গুলশানের নিকেতনে গৃহকর্তার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক সন্দেহে পারভীন আক্তার ফেন্সি আরা (৩০) নামে এক গৃহকর্মীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পরে লাশ উত্তরার দিয়াবাড়ী ঝাউবনে ফেলে দেওয়া হয়। ২ ডিসেম্বর লাশ উদ্ধারের পর ৪ ডিসেম্বর গৃহকর্তা সৈয়দ জসিমুল হাসান ও গৃহকর্ত্রী সৈয়দা সামিনা হাসানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই। তারা পিবিআই ও আদালতের কাছে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

আগারগাঁওয়ে পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরের কার্যালয়ে রোববার সংবাদ সম্মেলনে বিশেষ পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ২ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় তুরাগ থানাধীন দিয়াবাড়ীর ঝাউবন এলাকা থেকে অজ্ঞাত তরুণীর লাশ উদ্ধার করে তুরাগ থানা পুলিশ। ওই সংবাদের ভিত্তিতে পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদারের নির্দেশনায় ঢাকা মেট্রোর (উত্তর) পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মাদ তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বে লাশ শনাক্তের জন্য একটি জরুরি টিম পাঠানো হয়। পিবিআই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অজ্ঞাতনামা ওই নারীর নাম-পরিচয় শনাক্ত করে। নিহতের নাম পারভীন ওরফে ফেন্সি আরা। তার বাড়ি দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার আলোকডিহি সরকারপাড়ায়। বাবার নাম রমজান আলী। স্বামীর নাম মোমিনুল হক। লাশ শনাক্তের পর পিবিআইয়ের তদন্তদল গ্রামের বাড়িতে স্বামী মোমিনুলসহ অন্যান্য আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিচয় নিশ্চিত হয়।

বিশেষ পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পারভিন দেড় বছর আগে অভাবের তাড়নায় স্বামী সন্তানসহ ঢাকায় আসেন। গুলশানের নিকেতনের ৬নং সড়কের ১৫নং বাড়ির এ-১/ ফ্ল্যাটে গৃহকর্মীর কাজ শুরু করেন। ওই বাড়ির গৃহকর্তা সৈয়দ জসীমুল হাসান। গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গৃহকর্তা সৈয়দ জসীমুল হাসান জানান, তার স্ত্রী সৈয়দা সামিনা হাসান সন্দেহ করতেন গৃহকর্মী পারভীনের সঙ্গে তার অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। এ নিয়ে ১ ডিসেম্বর সকাল ৯টায় ঝগড়াঝাঁটির একপর্যায়ে সামিনা হাসান গৃহকর্মী পারভীনকে লাঠি দিয়ে বেদম মারধর করেন। এতে তাৎক্ষণিকভাবে জ্ঞান হারায় পারভিন। এরপর তার বুকে জোরে চাপ দিলে পারভীনের বুকের হাড় ভেঙে যায় এবং তার মৃত্যু হয়।

বিশেষ পুলিশ সুপার বলেন, ঘটনার পর গৃহকর্তা ও গৃহকর্ত্রী শলাপরামর্শ করে লাশ গোপনের উদ্দেশে ড্রাইভার রমজান আলীর (৪১) সহায়তায় প্রাইভেট কারে করে তুরাগ দিয়াবাড়ী এলাকায় ঝাউবনে ফেলে আসেন। তিনি বলেন, ঘটনা তদন্তকালে পিবিআই জানতে পারে, ভিকটিম পারভীনের স্বামী মোমিনুল ঢাকায় রিকশা চালাতেন। পারভিন ওই বাসায় কাজ নেওয়ার পর থেকে তার সঙ্গে স্বামী মোমিনুলকে দেখা করতে দেওয়া হতো না। একদিন মোমিনুলকে পারভিন ফোনে জানান তাকে গৃহকর্ত্রী মারধর করে আটকে রেখেছে। এ খবর পাওয়ার পর মোমিনুল গুলশান থানায় সাধারণ ডায়েরিও করেন। এরপর তিনি একদিন ওই বাসায় গিয়ে স্ত্রী পারভিনের সঙ্গে দেখা করে আসেন। পরে আর কোনোদিন দেখা করতে পারেননি মোমিনুল। গত অক্টোবরে মোমিনুল গ্রামের বাড়ি চলে যান।

মোমিনুল পিবিআইকে জানিয়েছেন, ওই বাসায় তার স্ত্রী কাজ নেওয়ার পর থেকে গৃহকর্তা জসীমুল হাসান প্রতি মাসে তার মোবাইলে বিকাশের মাধ্যমে মাত্র এক হাজার টাকা করে পাঠাতেন। যদিও মাসে সাত হাজার করে টাকা দেওয়ার কথা ছিল। স্ত্রী পারভীন নিহতের ঘটনায় মোমিনুল বাদী হয়ে শনিবার তুরাগ থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলাটি নিজ উদ্যোগে পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর) তদন্তভার গ্রহণ করে পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ তরিকুল ইসলামকে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। আসামিদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী মামলার সংশ্লিষ্ট আলামত প্রাইভেট কার (ঢাকা মেট্রো গ-২২-৪৫৪৪) একটি লাঠি ও একটি বিছানার চাদর ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা হয়েছে।

নিকেতনে গৃহকর্মীকে হত্যা, লাশ ফেলা হয় ঝাউবনে

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর গুলশানের নিকেতনে গৃহকর্তার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক সন্দেহে পারভীন আক্তার ফেন্সি আরা (৩০) নামে এক গৃহকর্মীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পরে লাশ উত্তরার দিয়াবাড়ী ঝাউবনে ফেলে দেওয়া হয়। ২ ডিসেম্বর লাশ উদ্ধারের পর ৪ ডিসেম্বর গৃহকর্তা সৈয়দ জসিমুল হাসান ও গৃহকর্ত্রী সৈয়দা সামিনা হাসানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই। তারা পিবিআই ও আদালতের কাছে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

আগারগাঁওয়ে পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরের কার্যালয়ে রোববার সংবাদ সম্মেলনে বিশেষ পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ২ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় তুরাগ থানাধীন দিয়াবাড়ীর ঝাউবন এলাকা থেকে অজ্ঞাত তরুণীর লাশ উদ্ধার করে তুরাগ থানা পুলিশ। ওই সংবাদের ভিত্তিতে পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদারের নির্দেশনায় ঢাকা মেট্রোর (উত্তর) পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মাদ তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বে লাশ শনাক্তের জন্য একটি জরুরি টিম পাঠানো হয়। পিবিআই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অজ্ঞাতনামা ওই নারীর নাম-পরিচয় শনাক্ত করে। নিহতের নাম পারভীন ওরফে ফেন্সি আরা। তার বাড়ি দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার আলোকডিহি সরকারপাড়ায়। বাবার নাম রমজান আলী। স্বামীর নাম মোমিনুল হক। লাশ শনাক্তের পর পিবিআইয়ের তদন্তদল গ্রামের বাড়িতে স্বামী মোমিনুলসহ অন্যান্য আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিচয় নিশ্চিত হয়।

বিশেষ পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পারভিন দেড় বছর আগে অভাবের তাড়নায় স্বামী সন্তানসহ ঢাকায় আসেন। গুলশানের নিকেতনের ৬নং সড়কের ১৫নং বাড়ির এ-১/ ফ্ল্যাটে গৃহকর্মীর কাজ শুরু করেন। ওই বাড়ির গৃহকর্তা সৈয়দ জসীমুল হাসান। গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গৃহকর্তা সৈয়দ জসীমুল হাসান জানান, তার স্ত্রী সৈয়দা সামিনা হাসান সন্দেহ করতেন গৃহকর্মী পারভীনের সঙ্গে তার অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। এ নিয়ে ১ ডিসেম্বর সকাল ৯টায় ঝগড়াঝাঁটির একপর্যায়ে সামিনা হাসান গৃহকর্মী পারভীনকে লাঠি দিয়ে বেদম মারধর করেন। এতে তাৎক্ষণিকভাবে জ্ঞান হারায় পারভিন। এরপর তার বুকে জোরে চাপ দিলে পারভীনের বুকের হাড় ভেঙে যায় এবং তার মৃত্যু হয়।

বিশেষ পুলিশ সুপার বলেন, ঘটনার পর গৃহকর্তা ও গৃহকর্ত্রী শলাপরামর্শ করে লাশ গোপনের উদ্দেশে ড্রাইভার রমজান আলীর (৪১) সহায়তায় প্রাইভেট কারে করে তুরাগ দিয়াবাড়ী এলাকায় ঝাউবনে ফেলে আসেন। তিনি বলেন, ঘটনা তদন্তকালে পিবিআই জানতে পারে, ভিকটিম পারভীনের স্বামী মোমিনুল ঢাকায় রিকশা চালাতেন। পারভিন ওই বাসায় কাজ নেওয়ার পর থেকে তার সঙ্গে স্বামী মোমিনুলকে দেখা করতে দেওয়া হতো না। একদিন মোমিনুলকে পারভিন ফোনে জানান তাকে গৃহকর্ত্রী মারধর করে আটকে রেখেছে। এ খবর পাওয়ার পর মোমিনুল গুলশান থানায় সাধারণ ডায়েরিও করেন। এরপর তিনি একদিন ওই বাসায় গিয়ে স্ত্রী পারভিনের সঙ্গে দেখা করে আসেন। পরে আর কোনোদিন দেখা করতে পারেননি মোমিনুল। গত অক্টোবরে মোমিনুল গ্রামের বাড়ি চলে যান।

মোমিনুল পিবিআইকে জানিয়েছেন, ওই বাসায় তার স্ত্রী কাজ নেওয়ার পর থেকে গৃহকর্তা জসীমুল হাসান প্রতি মাসে তার মোবাইলে বিকাশের মাধ্যমে মাত্র এক হাজার টাকা করে পাঠাতেন। যদিও মাসে সাত হাজার করে টাকা দেওয়ার কথা ছিল। স্ত্রী পারভীন নিহতের ঘটনায় মোমিনুল বাদী হয়ে শনিবার তুরাগ থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলাটি নিজ উদ্যোগে পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর) তদন্তভার গ্রহণ করে পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ তরিকুল ইসলামকে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। আসামিদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী মামলার সংশ্লিষ্ট আলামত প্রাইভেট কার (ঢাকা মেট্রো গ-২২-৪৫৪৪) একটি লাঠি ও একটি বিছানার চাদর ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন