১৬ বছরেও চালু হয়নি ভোলাগঞ্জের ইমিগ্রেশন সেবা
jugantor
আটকে আছে ফাইল
১৬ বছরেও চালু হয়নি ভোলাগঞ্জের ইমিগ্রেশন সেবা

  মাহবুবুর রহমান রিপন, সিলেট  

০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

২০০৫ সালে যাত্রা শুরু সিলেটের ভোলাগঞ্জ স্থলবন্দরের। ২০১৯ সালে এটি দেশের ২৪তম স্থলবন্দর হিসাবে গেজেটভুক্ত হয়। কিন্তু এখনো চালু হয়নি ইমিগ্রেশন সেবা। ফলে বাংলাদেশ ও ভারতের ব্যবসায়ীদের যোগাযোগ রক্ষায় দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। সময় লাগে দুদিন। অথচ এই সেবা থাকলে যা সম্ভব হতো মাত্র ২০ মিনিটে। অন্যদিকে নানা সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও ভারতীয় পর্যটকরা ঢুকতে পারছেন না ভোলাগঞ্জের সাদাপাথরসহ অন্য পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে। এসব দিক বিবেচনা করেই সিলেট জেলা প্রশাসন থেকে সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে, যা আটকে আছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। ভোলাগঞ্জে ইমিগ্রেশন পোস্ট দাবিতে সিলেট চেম্বার অব কমার্সের পক্ষ থেকে দাবি জানিয়ে পত্রও দেওয়া হয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে।

সম্প্রতি ভোলাগঞ্জ স্থলবন্দর ঘুরে দেখা যায়, সেখানে দুই শতাধিক ব্যবসায়ী রয়েছেন, যারা চুনাপাথর ও পাথর আমদানি করেন এই স্থলবন্দর দিয়ে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভারতীয় ব্যবসায়ীরা বসেন ভারতের ভোলাগঞ্জ বাজারে। যা স্থল বন্দরের বাংলাদেশ অংশ থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে। ভোলাগঞ্জ স্থলবন্দরের দুই দেশের ব্যবসায়ীরা দুই কিলোমিটার দূরত্বে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষায় উভয় দেশের আমদানি-রপ্তানিকারকরা ব্যবহার করছেন তামাবিল ইমিগ্রেশন পোস্ট। যার ফলে উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের পাড়ি দিতে হয় ১৬০ কিলোমিটার পথ। অন্যদিকে সম্ভাবনাময় কোম্পানীগঞ্জের সাদাপাথরসহ অন্য পর্যটনকেন্দ্রে আসতে হলে ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্য মেঘালয়ের পর্যটকদের পাড়ি দিতে হবে ১৫০ কিলোমিটার। একইভাবে বাংলাদেশের পর্যটকরা ভারতের চেরাপুঞ্জিতে যেতে হলে তামাবিল ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট ব্যবহার করছেন। সেখানেও প্রায় ১৪০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। ভোলাগঞ্জে ইমিগ্রেশন চালু হলে ২০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়েই চেরাপুঞ্জিতে আসা বিদেশি পর্যটকরা একদিনেই ঘুরে যেতে পারবেন সাদাপাথর পর্যটন কেন্দ্র, অন্যতম মিঠাপানির বন রাতারগুল। একইভাবে একদিনেই চেরাপুঞ্জি ঘুরে আসতে পারবেন বাংলাদেশের পর্যটকরা। এসব বিষয়ে সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি এটিএম শোয়েব জানান, একটি স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি বেগবান করতে ইমিগ্রেশন সেবা অত্যন্ত জরুরি। দুই দেশের ব্যবসায়ীরা যে কাজ ২ ঘণ্টায় করতে পারে, সেটা এখন করতে সময় লাগে প্রায় দুদিন। এতো ভোগান্তি নিয়ে তো ব্যবসা হয় না। যোগাযোগ সহজতর করতে ইমিগ্রেশন সেবা চালু করতে হবে। তিনি বলেন, সিলেট অঞ্চল পর্যটনের জন্য সম্ভাবনাময়। সেখানে যদি বিদেশি পর্যটকদের যাতায়াত সহজতর করা যায় তাহলে নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।

সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম বলেন, সবদিক বিবেচনা করেই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভোলাগঞ্জ স্থলবন্দরে ইমিগ্রেশন সেবা চালুর জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। তারপর যৌক্তিকতা যাচাই করতে বলা হয়েছিল, তাও শেষ করে পাঠানো হয়েছে। এখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সিদ্ধান্তের জন্য রয়েছে। তিনি আশা করেন, খুব দ্রুত ভোলাগঞ্জে ইমিগ্রেশন সেবা চালু হবে। সম্প্রতি সম্প্রসারিত সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করতে এসে পররাষ্ট্রমন্ত্রীও বললেন, এই সেবা দ্রুত চালু করতে চান তিনি। তিনি বলেন, শুধু আমদানি-রপ্তানি বা পর্যটন নয়, এটা চালু করতে হবে। কারণ সিলেট হবে যাতায়াতের একটি ‘হাব’। বিমান বন্দরের উন্নয়ন করা হচ্ছে শুধু বাংলাদেশের মানুষের জন্য না, এখানে যাতে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের জনগণও এই বিমান বন্দর ব্যবহার করতে পারে সেজন্যই স্থলবন্দরটিতে ইমিগ্রেশন সেবা চালু করা জরুরি। এই বন্দরে ইমিগ্রেশন সেবা চালু হলে মাত্র ২৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে মেঘালয় রাজ্যের মানুষ এই বিমান বন্দর দিয়ে বিদেশে যেতে পারবেন।

আটকে আছে ফাইল

১৬ বছরেও চালু হয়নি ভোলাগঞ্জের ইমিগ্রেশন সেবা

 মাহবুবুর রহমান রিপন, সিলেট 
০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

২০০৫ সালে যাত্রা শুরু সিলেটের ভোলাগঞ্জ স্থলবন্দরের। ২০১৯ সালে এটি দেশের ২৪তম স্থলবন্দর হিসাবে গেজেটভুক্ত হয়। কিন্তু এখনো চালু হয়নি ইমিগ্রেশন সেবা। ফলে বাংলাদেশ ও ভারতের ব্যবসায়ীদের যোগাযোগ রক্ষায় দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। সময় লাগে দুদিন। অথচ এই সেবা থাকলে যা সম্ভব হতো মাত্র ২০ মিনিটে। অন্যদিকে নানা সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও ভারতীয় পর্যটকরা ঢুকতে পারছেন না ভোলাগঞ্জের সাদাপাথরসহ অন্য পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে। এসব দিক বিবেচনা করেই সিলেট জেলা প্রশাসন থেকে সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে, যা আটকে আছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। ভোলাগঞ্জে ইমিগ্রেশন পোস্ট দাবিতে সিলেট চেম্বার অব কমার্সের পক্ষ থেকে দাবি জানিয়ে পত্রও দেওয়া হয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে।

সম্প্রতি ভোলাগঞ্জ স্থলবন্দর ঘুরে দেখা যায়, সেখানে দুই শতাধিক ব্যবসায়ী রয়েছেন, যারা চুনাপাথর ও পাথর আমদানি করেন এই স্থলবন্দর দিয়ে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভারতীয় ব্যবসায়ীরা বসেন ভারতের ভোলাগঞ্জ বাজারে। যা স্থল বন্দরের বাংলাদেশ অংশ থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে। ভোলাগঞ্জ স্থলবন্দরের দুই দেশের ব্যবসায়ীরা দুই কিলোমিটার দূরত্বে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষায় উভয় দেশের আমদানি-রপ্তানিকারকরা ব্যবহার করছেন তামাবিল ইমিগ্রেশন পোস্ট। যার ফলে উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের পাড়ি দিতে হয় ১৬০ কিলোমিটার পথ। অন্যদিকে সম্ভাবনাময় কোম্পানীগঞ্জের সাদাপাথরসহ অন্য পর্যটনকেন্দ্রে আসতে হলে ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্য মেঘালয়ের পর্যটকদের পাড়ি দিতে হবে ১৫০ কিলোমিটার। একইভাবে বাংলাদেশের পর্যটকরা ভারতের চেরাপুঞ্জিতে যেতে হলে তামাবিল ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট ব্যবহার করছেন। সেখানেও প্রায় ১৪০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। ভোলাগঞ্জে ইমিগ্রেশন চালু হলে ২০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়েই চেরাপুঞ্জিতে আসা বিদেশি পর্যটকরা একদিনেই ঘুরে যেতে পারবেন সাদাপাথর পর্যটন কেন্দ্র, অন্যতম মিঠাপানির বন রাতারগুল। একইভাবে একদিনেই চেরাপুঞ্জি ঘুরে আসতে পারবেন বাংলাদেশের পর্যটকরা। এসব বিষয়ে সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি এটিএম শোয়েব জানান, একটি স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি বেগবান করতে ইমিগ্রেশন সেবা অত্যন্ত জরুরি। দুই দেশের ব্যবসায়ীরা যে কাজ ২ ঘণ্টায় করতে পারে, সেটা এখন করতে সময় লাগে প্রায় দুদিন। এতো ভোগান্তি নিয়ে তো ব্যবসা হয় না। যোগাযোগ সহজতর করতে ইমিগ্রেশন সেবা চালু করতে হবে। তিনি বলেন, সিলেট অঞ্চল পর্যটনের জন্য সম্ভাবনাময়। সেখানে যদি বিদেশি পর্যটকদের যাতায়াত সহজতর করা যায় তাহলে নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।

সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম বলেন, সবদিক বিবেচনা করেই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভোলাগঞ্জ স্থলবন্দরে ইমিগ্রেশন সেবা চালুর জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। তারপর যৌক্তিকতা যাচাই করতে বলা হয়েছিল, তাও শেষ করে পাঠানো হয়েছে। এখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সিদ্ধান্তের জন্য রয়েছে। তিনি আশা করেন, খুব দ্রুত ভোলাগঞ্জে ইমিগ্রেশন সেবা চালু হবে। সম্প্রতি সম্প্রসারিত সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করতে এসে পররাষ্ট্রমন্ত্রীও বললেন, এই সেবা দ্রুত চালু করতে চান তিনি। তিনি বলেন, শুধু আমদানি-রপ্তানি বা পর্যটন নয়, এটা চালু করতে হবে। কারণ সিলেট হবে যাতায়াতের একটি ‘হাব’। বিমান বন্দরের উন্নয়ন করা হচ্ছে শুধু বাংলাদেশের মানুষের জন্য না, এখানে যাতে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের জনগণও এই বিমান বন্দর ব্যবহার করতে পারে সেজন্যই স্থলবন্দরটিতে ইমিগ্রেশন সেবা চালু করা জরুরি। এই বন্দরে ইমিগ্রেশন সেবা চালু হলে মাত্র ২৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে মেঘালয় রাজ্যের মানুষ এই বিমান বন্দর দিয়ে বিদেশে যেতে পারবেন।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন