চট্টগ্রামে টিসিবি’র পণ্য কিনতে ভিড় লাইনে মধ্যবিত্তরাও
jugantor
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি
চট্টগ্রামে টিসিবি’র পণ্য কিনতে ভিড় লাইনে মধ্যবিত্তরাও

  আহমেদ মুসা, চট্টগ্রাম  

০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ-টিসিবি ট্রাক সেলে সাধারণ ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা দেখা দেওয়ায় টিসিবির ট্রাক সেলে ক্রেতা বেড়েছে। বাজারের চেয়ে তুলনামূলক কম দাম হওয়ায় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিসিবি’র পণ্য কিনছেন নিু ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির লোকজন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এ বছর একদিকে করোনার থাবা অন্যদিকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে মানুষের ক্রয় ক্ষমতা কমেছে, অন্যদিকে বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম। এমন পরিস্থিতিতে সুলভে নিত্যপণ্যের জন্য স্বস্তির ঠিকানা হয়েছে টিসিবি। আগে নিু আয়ের লোকজন টিসিবির পণ্যের জন্য ভিড় করতেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে পণ্যের জন্য মধ্যবিত্তরাও দাঁড়াচ্ছেন লাইনে। চট্টগ্রাম নগরীর একাধিক স্থানে গিয়ে দেখা গেছে টিসিবির ট্রাকের পেছনে মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের ভিড়। অনেক ট্রাক সেলে দুপুরের আগেই শেষ হয়ে যাচ্ছে টিসিবির পণ্য। সোমবার অনেককে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও ট্রাক সেলে পণ্য কিনতে দেখা যায়।

টিসিবির কর্মকর্তারা জানান, গত রোববার থেকে চট্টগ্রামে ২০ স্পটে আবারও পণ্য বিক্রি শুরু করেছে টিসিবি। ২০টি স্পটের মধ্যে ১২টি নগরীতে আর আটটি বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায়। এসব ট্রাকসেলে বিক্রি হবে পেঁয়াজ, মসুর ডাল, চিনি ও সয়াবিন তেল। এ কার্যক্রম চলবে ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে ষষ্ঠবারের মতো এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রতিটি ট্রাকসেলে প্রতি কেজি চিনি ৫৫ টাকায়, ৬০ টাকায় মসুর ডাল, ১১০ টাকায় প্রতি লিটার তেল ও ৩০ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। একজন ক্রেতা দুই থেকে পাঁচ কেজি পেঁয়াজ, দুই কেজি মসুর ডাল, দুই কেজি চিনি ও পাঁচ লিটার সয়াবিন তেল কিনতে পারবেন। প্রতি ট্রাকে ৫০০ লিটার সয়াবিন তেল, ২০০ কেজি চিনি এবং ৪০০ কেজি মসুর ডাল ও ৪০০ কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করা হচ্ছে। নগরীর যেসব স্পটে টিসিবির পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে তার মধ্যে রয়েছে-জামালখান, কাঠগড়, ইপিজেড, কাস্টমস, আগ্রাবাদ, হালিশহর, কাজীর দেউড়ি, কোতোয়ালি, বহদ্দারহাটসহ কয়েকটি স্পটে। নগরীর একাধিক স্পট ঘুরে দেখা গেছে, টিসিবির পণ্যবাহী ট্রাকে মানুষের দীর্ঘ সারি। বিশেষ করে নিুবিত্ত ও মধ্যবিত্তরা কমদামে পণ্য কিনতে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিসহ নানা কারণে সংকট তৈরি হয়েছে। এই সংকটের মধ্যে টিসিবির পণ্য নিু ও মধ্যবিত্তের জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তি বয়ে এনেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। তারা বলছেন, নিু আয়ের লোকজন এ মুহূর্তে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন খাদ্য সহায়তা পেলেও মধ্যবিত্ত না পারছে এসব সহায়তা নিতে, না পারছে সৃষ্ট সংকট ও অভাবের কথা কাউকে মুখ ফুটে বলতে। তাই এই শ্রেণির লোকজন সস্তায় টিসিবির পণ্য কিনছেন।

সরেজমিনে বিভিন্ন ট্রাক সেল ঘুরে দেখা যায়, টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই সব সামগ্রী শেষ হয়ে যায়। আন্দরিকল্লা এলাকায় টিসিবির পণ্য কিনতে আসা পরেশ নাথ জানান, টিসিবির পণ্য বাজার থেকে কিছুটা সস্তা। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে সবজির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে টিসিবির পণ্য কিনতে এসেছি। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পর ন্যায্যমূল্যে তেল, ডাল ও চিনি নিয়েছি। সাইফুল ইসলাম নামে একজন ডিলার জানান, বেলা ২টার মধ্যেই ট্রাকে মজুত তেল ও ডাল শেষ হয়ে যায়। চিনি শেষ হয়ে যায় ৩টার মধ্যে। পণ্য শেষ হওয়ার পরও ছিল নারী-পুরুষের দীর্ঘ লাইন। আগে টিসিবির লাইনে নিুবিত্ত মানুষেরই প্রাধান্য ছিল বেশি। করোনার পর থেকে মধ্যবিত্তের ভিড় বাড়তে থাকে।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি

চট্টগ্রামে টিসিবি’র পণ্য কিনতে ভিড় লাইনে মধ্যবিত্তরাও

 আহমেদ মুসা, চট্টগ্রাম 
০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ-টিসিবি ট্রাক সেলে সাধারণ ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা দেখা দেওয়ায় টিসিবির ট্রাক সেলে ক্রেতা বেড়েছে। বাজারের চেয়ে তুলনামূলক কম দাম হওয়ায় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিসিবি’র পণ্য কিনছেন নিু ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির লোকজন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এ বছর একদিকে করোনার থাবা অন্যদিকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে মানুষের ক্রয় ক্ষমতা কমেছে, অন্যদিকে বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম। এমন পরিস্থিতিতে সুলভে নিত্যপণ্যের জন্য স্বস্তির ঠিকানা হয়েছে টিসিবি। আগে নিু আয়ের লোকজন টিসিবির পণ্যের জন্য ভিড় করতেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে পণ্যের জন্য মধ্যবিত্তরাও দাঁড়াচ্ছেন লাইনে। চট্টগ্রাম নগরীর একাধিক স্থানে গিয়ে দেখা গেছে টিসিবির ট্রাকের পেছনে মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের ভিড়। অনেক ট্রাক সেলে দুপুরের আগেই শেষ হয়ে যাচ্ছে টিসিবির পণ্য। সোমবার অনেককে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও ট্রাক সেলে পণ্য কিনতে দেখা যায়।

টিসিবির কর্মকর্তারা জানান, গত রোববার থেকে চট্টগ্রামে ২০ স্পটে আবারও পণ্য বিক্রি শুরু করেছে টিসিবি। ২০টি স্পটের মধ্যে ১২টি নগরীতে আর আটটি বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায়। এসব ট্রাকসেলে বিক্রি হবে পেঁয়াজ, মসুর ডাল, চিনি ও সয়াবিন তেল। এ কার্যক্রম চলবে ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে ষষ্ঠবারের মতো এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রতিটি ট্রাকসেলে প্রতি কেজি চিনি ৫৫ টাকায়, ৬০ টাকায় মসুর ডাল, ১১০ টাকায় প্রতি লিটার তেল ও ৩০ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। একজন ক্রেতা দুই থেকে পাঁচ কেজি পেঁয়াজ, দুই কেজি মসুর ডাল, দুই কেজি চিনি ও পাঁচ লিটার সয়াবিন তেল কিনতে পারবেন। প্রতি ট্রাকে ৫০০ লিটার সয়াবিন তেল, ২০০ কেজি চিনি এবং ৪০০ কেজি মসুর ডাল ও ৪০০ কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করা হচ্ছে। নগরীর যেসব স্পটে টিসিবির পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে তার মধ্যে রয়েছে-জামালখান, কাঠগড়, ইপিজেড, কাস্টমস, আগ্রাবাদ, হালিশহর, কাজীর দেউড়ি, কোতোয়ালি, বহদ্দারহাটসহ কয়েকটি স্পটে। নগরীর একাধিক স্পট ঘুরে দেখা গেছে, টিসিবির পণ্যবাহী ট্রাকে মানুষের দীর্ঘ সারি। বিশেষ করে নিুবিত্ত ও মধ্যবিত্তরা কমদামে পণ্য কিনতে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিসহ নানা কারণে সংকট তৈরি হয়েছে। এই সংকটের মধ্যে টিসিবির পণ্য নিু ও মধ্যবিত্তের জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তি বয়ে এনেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। তারা বলছেন, নিু আয়ের লোকজন এ মুহূর্তে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন খাদ্য সহায়তা পেলেও মধ্যবিত্ত না পারছে এসব সহায়তা নিতে, না পারছে সৃষ্ট সংকট ও অভাবের কথা কাউকে মুখ ফুটে বলতে। তাই এই শ্রেণির লোকজন সস্তায় টিসিবির পণ্য কিনছেন।

সরেজমিনে বিভিন্ন ট্রাক সেল ঘুরে দেখা যায়, টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই সব সামগ্রী শেষ হয়ে যায়। আন্দরিকল্লা এলাকায় টিসিবির পণ্য কিনতে আসা পরেশ নাথ জানান, টিসিবির পণ্য বাজার থেকে কিছুটা সস্তা। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে সবজির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে টিসিবির পণ্য কিনতে এসেছি। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পর ন্যায্যমূল্যে তেল, ডাল ও চিনি নিয়েছি। সাইফুল ইসলাম নামে একজন ডিলার জানান, বেলা ২টার মধ্যেই ট্রাকে মজুত তেল ও ডাল শেষ হয়ে যায়। চিনি শেষ হয়ে যায় ৩টার মধ্যে। পণ্য শেষ হওয়ার পরও ছিল নারী-পুরুষের দীর্ঘ লাইন। আগে টিসিবির লাইনে নিুবিত্ত মানুষেরই প্রাধান্য ছিল বেশি। করোনার পর থেকে মধ্যবিত্তের ভিড় বাড়তে থাকে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন