মেঘনায় বালু তোলায় ভাঙন ঝুঁকিতে মেহেন্দিগঞ্জ
jugantor
মেঘনায় বালু তোলায় ভাঙন ঝুঁকিতে মেহেন্দিগঞ্জ
বন্ধে এলাকাবাসীর স্মারকলিপি

  বরিশাল ব্যুরো  

০৯ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মেঘনা নদীর ৪টি স্পট থেকে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু তুলছে একটি চক্র। প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ লাখ ঘনফুট বালু তোলা হচ্ছে। ফলে নদী ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছেন মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলাবাসী। অবৈধভাবে বালু তোলায় বিলীন হতে যাচ্ছে উপজেলার নদী তীরের বসতবাড়ি ও ফসলি জমি। মেঘনার ভাঙন কবলিত এলাকায় বাঁধ নির্মাণে ৩৮৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। বরাদ্দকৃত বেড়ি বাঁধও রয়েছে ঝুঁকির তালিকায়। গত এক বছরেও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ।

বালু তোলা বন্ধে মঙ্গলবার বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা নদী ভাঙা কমিটির পক্ষে স্মারকলিপি দিয়েছেন এলাকাবাসী। কমিটির পক্ষে ওই আবেদনটি করেছেন পূর্ব শট্টি গ্রামের মিজানুর রহমান লালু হাওলাদার, তেঁতুলিয়ার জাহিদ হাসান, উলানিয়ার তারেক সরদার, আবু মাঝি, শাহাবুদ্দিন, জসিম, লিটনসহ ১৬৯ জন। উপজেলার ১৩নং গোবিন্দপুর ইউনিয়ন নদীতে বিলীন হয়ে নতুন চরে পরিণত হয়েছে। এসব এলাকায় ক্ষতির মুখে পড়া স্থানীয়রা পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়সহ স্থানীয় এমপি, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগের অনুলিপি দেন।

অভিযোগে আরও জানা গেছে, মেহেন্দিগঞ্জের পানবাড়িয়া এলাকার বালুদস্যু নেজামুলের নেতৃত্বে একটি চক্র ২৪ ঘণ্টা বালু তুলছে। তবে দিনের চেয়ে রাতে বেশি বালু তোলা হয়। অন্য সদস্যরা হচ্ছেন-মিজান মোল্লা, রোমান মোল্লা, বেলাল মোল্লা, জামাল মোল্লা ও উলানিয়া এলাকার আমিনুল ইসলাম, কবির মাঝিসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজন মেঘনা নদীর মেহেন্দিগঞ্জের উলানিয়া লঞ্চঘাট থেকে সোজা মেঘনার মধ্যখানে, দক্ষিণ উলানিয়ার লালগঞ্জ স্কুলের সামনের পশ্চিম পাশের রাস্তা দিয়ে লঞ্চঘাটে দেওয়ান বাড়ির পাশে নদী, রলদী/পালপাড়া গোলপাড় রকমান মাঝির বাড়ির পশ্চিম পাশের নদী ও উত্তর উলানিয়া ইউসুফ চৌধুরীর বাড়ির পেছনে গোলের মধ্যে অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু তুলে যাচ্ছে। বালুদস্যু নেজামুলসহ তার সহযোগীরা অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু ও মাটি তুললেও প্রশাসনের নজরে আসেনি। তারা লোকাল থানা ও প্রশাসনকে ম্যানেজ করে সারা বছর বালু তুলে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অবৈধভাবে বালু তোলার অভিযোগ অস্বীকার করে নেজামুল বলেন, এসব কিছুই জানেন না। নদীভাঙন রোধ কমিটির সদস্য স্থানীয় মিজানুর রহমান লালু হাওলাদার জানান, মেহেন্দিগঞ্জ নদী ভাঙন কবলিত এলাকা। উপজেলার মেঘনা নদীর চারটি স্থানে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে সারা বছর বালু তুলছে নেজামুল ও তার সহযোগীরা। নদীভাঙন রোধ কমিটির সদস্য জাহিদ হাসান জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য পংকজ নাথের নেতৃত্বে বালু তোলা বন্ধের দাবিতে ১৬ মে ভূমিমন্ত্রী বরাবরে একটি আবেদন করা হয়েছে।

২০২০ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি শিক্ষামন্ত্রী ড. দীপু মনি একটি ডিউলেটারের মাধ্যমে চাঁদপুর-বরিশাল সীমানা নির্ধারণের জটিলতা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত মেঘনা নদী হইতে বালু তোলা বন্ধ রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবগত করেন।

মেঘনায় বালু তোলায় ভাঙন ঝুঁকিতে মেহেন্দিগঞ্জ

বন্ধে এলাকাবাসীর স্মারকলিপি
 বরিশাল ব্যুরো 
০৯ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মেঘনা নদীর ৪টি স্পট থেকে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু তুলছে একটি চক্র। প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ লাখ ঘনফুট বালু তোলা হচ্ছে। ফলে নদী ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছেন মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলাবাসী। অবৈধভাবে বালু তোলায় বিলীন হতে যাচ্ছে উপজেলার নদী তীরের বসতবাড়ি ও ফসলি জমি। মেঘনার ভাঙন কবলিত এলাকায় বাঁধ নির্মাণে ৩৮৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। বরাদ্দকৃত বেড়ি বাঁধও রয়েছে ঝুঁকির তালিকায়। গত এক বছরেও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ।

বালু তোলা বন্ধে মঙ্গলবার বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা নদী ভাঙা কমিটির পক্ষে স্মারকলিপি দিয়েছেন এলাকাবাসী। কমিটির পক্ষে ওই আবেদনটি করেছেন পূর্ব শট্টি গ্রামের মিজানুর রহমান লালু হাওলাদার, তেঁতুলিয়ার জাহিদ হাসান, উলানিয়ার তারেক সরদার, আবু মাঝি, শাহাবুদ্দিন, জসিম, লিটনসহ ১৬৯ জন। উপজেলার ১৩নং গোবিন্দপুর ইউনিয়ন নদীতে বিলীন হয়ে নতুন চরে পরিণত হয়েছে। এসব এলাকায় ক্ষতির মুখে পড়া স্থানীয়রা পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়সহ স্থানীয় এমপি, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগের অনুলিপি দেন।

অভিযোগে আরও জানা গেছে, মেহেন্দিগঞ্জের পানবাড়িয়া এলাকার বালুদস্যু নেজামুলের নেতৃত্বে একটি চক্র ২৪ ঘণ্টা বালু তুলছে। তবে দিনের চেয়ে রাতে বেশি বালু তোলা হয়। অন্য সদস্যরা হচ্ছেন-মিজান মোল্লা, রোমান মোল্লা, বেলাল মোল্লা, জামাল মোল্লা ও উলানিয়া এলাকার আমিনুল ইসলাম, কবির মাঝিসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজন মেঘনা নদীর মেহেন্দিগঞ্জের উলানিয়া লঞ্চঘাট থেকে সোজা মেঘনার মধ্যখানে, দক্ষিণ উলানিয়ার লালগঞ্জ স্কুলের সামনের পশ্চিম পাশের রাস্তা দিয়ে লঞ্চঘাটে দেওয়ান বাড়ির পাশে নদী, রলদী/পালপাড়া গোলপাড় রকমান মাঝির বাড়ির পশ্চিম পাশের নদী ও উত্তর উলানিয়া ইউসুফ চৌধুরীর বাড়ির পেছনে গোলের মধ্যে অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু তুলে যাচ্ছে। বালুদস্যু নেজামুলসহ তার সহযোগীরা অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু ও মাটি তুললেও প্রশাসনের নজরে আসেনি। তারা লোকাল থানা ও প্রশাসনকে ম্যানেজ করে সারা বছর বালু তুলে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অবৈধভাবে বালু তোলার অভিযোগ অস্বীকার করে নেজামুল বলেন, এসব কিছুই জানেন না। নদীভাঙন রোধ কমিটির সদস্য স্থানীয় মিজানুর রহমান লালু হাওলাদার জানান, মেহেন্দিগঞ্জ নদী ভাঙন কবলিত এলাকা। উপজেলার মেঘনা নদীর চারটি স্থানে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে সারা বছর বালু তুলছে নেজামুল ও তার সহযোগীরা। নদীভাঙন রোধ কমিটির সদস্য জাহিদ হাসান জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য পংকজ নাথের নেতৃত্বে বালু তোলা বন্ধের দাবিতে ১৬ মে ভূমিমন্ত্রী বরাবরে একটি আবেদন করা হয়েছে।

২০২০ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি শিক্ষামন্ত্রী ড. দীপু মনি একটি ডিউলেটারের মাধ্যমে চাঁদপুর-বরিশাল সীমানা নির্ধারণের জটিলতা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত মেঘনা নদী হইতে বালু তোলা বন্ধ রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবগত করেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন