সিলেটে দিশেহারা সৌদিফেরত জমসেদ
jugantor
ছেলে-পুত্রবধূর ষড়যন্ত্র
সিলেটে দিশেহারা সৌদিফেরত জমসেদ

  সিলেট ব্যুরো  

১৭ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সিলেটে নিজের ছেলে ও পুত্রবধূর ষড়যন্ত্রে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সৌদিফেরত জমসেদ আলী। সম্পত্তির লোভে তারা ওই প্রবাসীর জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। ৩৭ বছর পর সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে নানামুখী ষড়যন্ত্রের মুখে পড়েছেন।

রোববার সিলেটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই দাবি করেছেন সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের পূর্ব মহিষখেড় গ্রামের মৃত সামাদ আলীর পুত্র মোহাম্মদ জমসেদ আলী।

জমসেদ আলী বলেন, ‘স্ত্রীর মৃত্যু ও বাড়িতে একা থাকায় আমি দ্বিতীয় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে বাধ্য হই। এরপর থেকে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে আমার পুত্রবধূ ফতেহপুর সপ্তমখণ্ড গ্রামের মাহতাব উদ্দিনের মেয়ে মেহেরজাবিন মৌটুসী ও তার আত্মীয়স্বজন মিলে আমার বিরুদ্ধে নানামুখী ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। সব ষড়যন্ত্রের কারণ হলো প্রবাসের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে গড়া সম্পদ আত্মসাৎ করা, নিজেদের নামে লিখে নেওয়া। আমার বড় ছেলে রাইয়ানের স্ত্রী মৌটুসী আমার একমাত্র মেয়ে বুশরাকেও ভুলভাল বুঝিয়ে তাদের সঙ্গে নিয়ে গেছে। সে সৌদি আরবে জন্মগ্রহণ করেছে। আমাকে অত্যন্ত ভালোবাসে সে। আমি দীর্ঘদিন বাড়িতে আমার মেয়েকে ছাড়া বসবাস করছি। আমি আমার মেয়েকে ফেরত চাই। তারা আমার শিশু মেয়ের ক্ষতিসাধন করতে পারে।’

লিখিত বক্তব্যে জমসেদ আলী আরও বলেন, ‘আমার বড় ছেলে রাইয়ান; সে বর্তমানে সৌদি আরব প্রবাসী। ছোট ছেলে এমরান জার্মান প্রবাসী। একমাত্র মেয়ে বুশরা দেশে আছে। আমার স্ত্রী বানেছা বেগম গত বছরের ৩ আগস্ট করোনাক্রান্ত হয়ে মারা যান। স্ত্রীর মৃত্যুর পরে আমার ছেলে রাইয়ান দেশে আসে। দেশে এসে তার স্ত্রী ও আমার একমাত্র মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে সিলেট শহরে ভাড়া বাসায় চলে যায়। পরবর্তীতে আমি বাড়িতে এসে একা হয়ে যাই। তখন আমার দেখাশোনা এবং খাবার-দাবারের কথা চিন্তা করে এলাকাবাসী ও অন্য আত্মীয়স্বজনের পরামর্শে দ্বিতীয় বিয়ে করতে সম্মত হই। বিষয়টি আমার বড় ছেলে রাইয়ান জানতে পেরে আমাকে সাফ নিষেধ করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। আমি তখন বলি তাহলে আমাকে এই বৃদ্ধ বয়সে কে দেখাশোনা করবে। কিন্তু সে কোনো উত্তর দেয়নি। সে আমার ওপর ক্ষেপে যায়। দেশে থাকা তার স্ত্রী মৌটুসীও ক্ষোভ প্রকাশ করে খারাপ আচরণ করতে থাকে। পরে রাইয়ান তার স্ত্রীর পরামর্শ নিয়ে আমাকে বলে, দ্বিতীয় বিয়ে করতে চাইলে তার নামে যেন সকল সম্পত্তি দিয়ে নেই। এতে অপারগতা জানালে তারা ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।’

জমসেদ আলী জানান, ‘গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর পুত্রবধূ মেহেরজাবিন মৌটুসী আমার বাড়িতে এসে আমার সাথে ঝগড়াঝাটি করে। সে খাবারের সাথে বিষ মিশিয়ে দিয়ে আমাকে হত্যা করতে পারে এমনটি আমি আভাস পাই। আমি তখন তাদেরকে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলে আমিও বাইরে চলে গেলে তারা আমার বাড়িতে তালা দিয়ে চলে যায়। পরে মুরব্বিদের মাধ্যমে আমি তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করি। বিষয়টি আমি সাধারণ ডায়েরির (নং-৬৬৫) এর মাধ্যমে পুলিশকেও অবগত করেছি। পরে আমি ১ নভেম্বর দ্বিতীয় বিয়ে করে বাড়িতে বসবাস করছি।’

জমসেদ আলী আব্দুর রহিম নামের ৯ বছরের একটি শিশুকে সংবাদ সম্মেলনে হাজির করান। শিশুটি দাবি করে, মৌটুসী তার হাতে বিষের বোতল তুলে দিয়ে বলেছেন কেউ বললে যেন সে বলে এটি জমসেদ আলী তার হাতে দিয়েছেন তাদের খাবারে মিশিয়ে দেওয়ার জন্য। তারা ওই ছেলেকে ভয় দেখায়। এতে সে ভীত হয়ে আমার বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছিল।

ছেলে-পুত্রবধূর ষড়যন্ত্র

সিলেটে দিশেহারা সৌদিফেরত জমসেদ

 সিলেট ব্যুরো 
১৭ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সিলেটে নিজের ছেলে ও পুত্রবধূর ষড়যন্ত্রে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সৌদিফেরত জমসেদ আলী। সম্পত্তির লোভে তারা ওই প্রবাসীর জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। ৩৭ বছর পর সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে নানামুখী ষড়যন্ত্রের মুখে পড়েছেন।

রোববার সিলেটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই দাবি করেছেন সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের পূর্ব মহিষখেড় গ্রামের মৃত সামাদ আলীর পুত্র মোহাম্মদ জমসেদ আলী।

জমসেদ আলী বলেন, ‘স্ত্রীর মৃত্যু ও বাড়িতে একা থাকায় আমি দ্বিতীয় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে বাধ্য হই। এরপর থেকে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে আমার পুত্রবধূ ফতেহপুর সপ্তমখণ্ড গ্রামের মাহতাব উদ্দিনের মেয়ে মেহেরজাবিন মৌটুসী ও তার আত্মীয়স্বজন মিলে আমার বিরুদ্ধে নানামুখী ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। সব ষড়যন্ত্রের কারণ হলো প্রবাসের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে গড়া সম্পদ আত্মসাৎ করা, নিজেদের নামে লিখে নেওয়া। আমার বড় ছেলে রাইয়ানের স্ত্রী মৌটুসী আমার একমাত্র মেয়ে বুশরাকেও ভুলভাল বুঝিয়ে তাদের সঙ্গে নিয়ে গেছে। সে সৌদি আরবে জন্মগ্রহণ করেছে। আমাকে অত্যন্ত ভালোবাসে সে। আমি দীর্ঘদিন বাড়িতে আমার মেয়েকে ছাড়া বসবাস করছি। আমি আমার মেয়েকে ফেরত চাই। তারা আমার শিশু মেয়ের ক্ষতিসাধন করতে পারে।’

লিখিত বক্তব্যে জমসেদ আলী আরও বলেন, ‘আমার বড় ছেলে রাইয়ান; সে বর্তমানে সৌদি আরব প্রবাসী। ছোট ছেলে এমরান জার্মান প্রবাসী। একমাত্র মেয়ে বুশরা দেশে আছে। আমার স্ত্রী বানেছা বেগম গত বছরের ৩ আগস্ট করোনাক্রান্ত হয়ে মারা যান। স্ত্রীর মৃত্যুর পরে আমার ছেলে রাইয়ান দেশে আসে। দেশে এসে তার স্ত্রী ও আমার একমাত্র মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে সিলেট শহরে ভাড়া বাসায় চলে যায়। পরবর্তীতে আমি বাড়িতে এসে একা হয়ে যাই। তখন আমার দেখাশোনা এবং খাবার-দাবারের কথা চিন্তা করে এলাকাবাসী ও অন্য আত্মীয়স্বজনের পরামর্শে দ্বিতীয় বিয়ে করতে সম্মত হই। বিষয়টি আমার বড় ছেলে রাইয়ান জানতে পেরে আমাকে সাফ নিষেধ করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। আমি তখন বলি তাহলে আমাকে এই বৃদ্ধ বয়সে কে দেখাশোনা করবে। কিন্তু সে কোনো উত্তর দেয়নি। সে আমার ওপর ক্ষেপে যায়। দেশে থাকা তার স্ত্রী মৌটুসীও ক্ষোভ প্রকাশ করে খারাপ আচরণ করতে থাকে। পরে রাইয়ান তার স্ত্রীর পরামর্শ নিয়ে আমাকে বলে, দ্বিতীয় বিয়ে করতে চাইলে তার নামে যেন সকল সম্পত্তি দিয়ে নেই। এতে অপারগতা জানালে তারা ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।’

জমসেদ আলী জানান, ‘গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর পুত্রবধূ মেহেরজাবিন মৌটুসী আমার বাড়িতে এসে আমার সাথে ঝগড়াঝাটি করে। সে খাবারের সাথে বিষ মিশিয়ে দিয়ে আমাকে হত্যা করতে পারে এমনটি আমি আভাস পাই। আমি তখন তাদেরকে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলে আমিও বাইরে চলে গেলে তারা আমার বাড়িতে তালা দিয়ে চলে যায়। পরে মুরব্বিদের মাধ্যমে আমি তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করি। বিষয়টি আমি সাধারণ ডায়েরির (নং-৬৬৫) এর মাধ্যমে পুলিশকেও অবগত করেছি। পরে আমি ১ নভেম্বর দ্বিতীয় বিয়ে করে বাড়িতে বসবাস করছি।’

জমসেদ আলী আব্দুর রহিম নামের ৯ বছরের একটি শিশুকে সংবাদ সম্মেলনে হাজির করান। শিশুটি দাবি করে, মৌটুসী তার হাতে বিষের বোতল তুলে দিয়ে বলেছেন কেউ বললে যেন সে বলে এটি জমসেদ আলী তার হাতে দিয়েছেন তাদের খাবারে মিশিয়ে দেওয়ার জন্য। তারা ওই ছেলেকে ভয় দেখায়। এতে সে ভীত হয়ে আমার বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছিল।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন