নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা

ট্রাইব্যুনাল বাড়লেও বাড়েনি এজলাস

আগের ৫টি এজলাস ভাগাভাগি করে চলছে নতুন ৪টির কাজ * চরম ভোগান্তিতে বিচার প্রার্থীরা

  হাসিব বিন শহিদ ২১ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা

১৩ মে সকালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫ এ সাক্ষ্য দিতে যান এক বিচারপ্রার্থী। গিয়ে জানতে পারেন, রাজধানীর বিভিন্ন থানার অধিক্ষেত্র পরিবর্তন হয়েছে। তবে তার মামলার ট্রাইব্যুনাল পরিবর্তন হয়নি। হয়েছে ট্রাইব্যুনালের স্থান পরিবর্তন। এ কথা শুনে তিনি ট্রাইব্যুনাল-৫ এর নতুন এজলাস খুঁজতে থাকেন।

কিন্তু নতুন স্থানে ট্রাইব্যুনাল-৫ এজলাস ও নামফলক না থাকায় তিনি চিন্তায় পড়ে যান। পরে ট্রাইব্যুনাল-৫-এ যোগাযোগ করে জানতে পারেন, ট্রাইব্যুনালের নতুন এজলাস এখনও তৈরি হয়নি। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩-এ অস্থায়ীভাবে ট্রাইব্যুনাল-৫-এর এজলাস বসানো হয়েছে। সকালে এ এজলাসে ট্রাইব্যুনাল-৩-এর বিচারিক কার্যক্রম শেষে দুপুরের পর ট্রাইব্যুনাল-৫-এর বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়।

বনানীর ‘দ্য রেইনট্রি’ হোটেলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী ধর্ষণের আলোচিত মামলাটির বিচার কাজ ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এ চলছিল। কিন্তু থানার অধিক্ষেত্র পরিবর্তন হওয়ায় মামলাটি বর্তমানে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮-এ স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে ট্রাইব্যুনাল-৮-এ রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি এখনও নিয়োগ দেয়া হয়নি। ট্রাইব্যুনাল-২-এর রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিই ট্রাইব্যুনাল-৮-এ এই মামলায় বাদী পক্ষকে আইনি সহায়তা দিচ্ছেন।

এভাবেই অপ্রতুল সুযোগ-সুবিধা নিয়ে একাধিক বিচারপ্রার্থী নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। ঢাকায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল পাঁচটি থকে বাড়িয়ে ৯টি করা হলেও অতিরিক্ত চারটির এজলাস না থাকায় ভোগান্তিতে পড়ছেন বিচারপ্রার্থীরা। আগের ৫টি ট্রাইব্যুনালের এজলাস ভাগাভাগি করে নতুন ৪টির বিচারিক কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে।

আইনজীবী ফারুক আহাম্মদ যুগান্তরকে বলেন, ৫ এপ্রিল সরকার গ্যাজেট প্রকাশ করে রাজধানীর থানাগুলোর অধিক্ষেত্র পরিবর্তন করে। বতর্মানে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়লেও এজলাস না থাকায় ভোগান্তিতে আছেন বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীরা। অধিক্ষেত্র পরিবর্তনের কারণে প্রতিটি ট্রাইব্যুনাল থেকে মামলাগুলো বদলি হচ্ছে নতুন নতুন ট্রাইব্যুনালে।

আর এজলাস না থাকায় ঠিকমতো মামলার পরবর্তী তারিখও পাওয়া যাচ্ছে না। পর্যাপ্ত এজলাস ও খাস কামরা না থাকায় জেলা জজ পদমর্যাদার বিচারকদের অন্য বিচারকদের সঙ্গে এজলাসে ভাগাভাগি করে বসতে হচ্ছে। এছাড়া বিচারকদের নিজস্ব স্ট্রেনোগ্রাফার, পিয়ন, ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাও অপ্রতুল।

এজলাস ও বিচারকদের সুযোগ-সুবিধা প্রসঙ্গে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সচিব আবু সালেহ শেখ মুহাম্মদ জহিরুল হক যুগান্তরকে বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ট্রাইব্যুনাল বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন ভবন তৈরি করে সেখানে নতুন এজলাস বনানো হবে। শিগগিরই এসবের সমাধান হবে। এগুলো সমাধানের জন্য কাজ করা হচ্ছে।

সরেজমিন দেখা যায়, পুরান ঢাকার নিু আদালতের রেবতী মেনশনের তৃতীয় তলায় সকালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭-এর কার্যক্রম শেষে দুপুরের পর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর কার্যক্রম শুরু হয়। জেলা ও দায়রা জজ পুরনো ভবনের পঞ্চম তলায় সকালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর কার্যক্রম শেষে দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮-এর কার্যক্রম শুরু হয়।

একই ভবনের পঞ্চম তলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩-এর কার্যক্রম শেষে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫-এর কার্যক্রম শুরু হয়। ভবনের তৃতীয় তলায় রয়েছে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪। এ ট্রাইব্যুনালের এজলাস ভাগাভাগি করতে হয়নি। এছাড়া ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পঞ্চম তলায় যেখানে আগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫-এর এজলাস ছিল, সেখানে বর্তমানে সকালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৬ এবং দুপুরের পর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৯-এর বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

আদালত সূত্র জানায়, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল পাঁচটি থেকে বাড়িয়ে নয়টি করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ১-এ কোতোয়ালি, বংশাল, গেণ্ডারিয়া, সূত্রাপুর, শ্যামপুর ও ওয়ারী থানা দেয়া হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২-এ লালবাগ, চকবাজার, হাজারীবাগ, নিউমার্কেট, শেরেবাংলা নগর ও পল্লবী থানা দেয়া হয়েছে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ৩-এ ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, খিলগাঁও, রামপুরা, রূপনগর ও সবুজবাগ থানা দেয়া হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এ কেরানীগঞ্জ, দোহার, কামরাঙ্গীরচর, নবাবগঞ্জ ও কাফরুল থানা দেয়া হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫-এ রমনা, মতিঝিল, পল্টন, শাহবাগ, শাহাজাহানপুর ও মুগদা থানা দেয়া হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৬-এ ধানমণ্ডি, মোহাম্মদপুর, আদাবর, কলাবাগান, তেজগাঁও ও তেজগাঁও শিল্প এলাকা থানা দেয়া হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭-এ উত্তরা পশ্চিম, এয়ারপোর্ট, বাড্ডা, বনানী, ভাষানটেক ও ক্যান্টনমেন্ট থানা দেয়া হয়েছে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮-এ মিরপুর মডেল, দারুসসালাম, দক্ষিণখান, গুলশান, খিলক্ষেত ও শাহআলী থানা দেয়া হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৯-এ সাভার, ধামরাই, তুরাগ, উত্তরা পূর্ব, উত্তরখান ও ভাটারা থানা দেয়া হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×