বেইলি রোড ইফতার বাজার

বৈচিত্র্যের পাশাপাশি ধরে রেখেছে মান

  হক ফারুক আহমেদ ২১ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ইফতার বাজার
রাজধানীর বেইলি রোডে জমে উঠেছে ইফতার বাজার। ছবি-যুগান্তর

নাটক সরণি বেইলি রোডের সঙ্গে খাবারের সখ্য দীর্ঘ দিনের। মাঝে মঞ্চনাটকের ভাটা গেলেও নতুন করে সেখানে নাটককে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। তবে খাবারের ক্ষেত্রে বেইলি রোডের নামডাক আগে যেমন অটুট ছিল, এখনও আছে। বরং দিনে দিনে সেখানে বৈচিত্র্যপূর্ণ খাবারের আগমন ঘটেছে।

আর রোজা এলে তো কথাই নেই। বাহারি ইফতার তৈরি করে ক্রেতাদের টেনে নেয় এখনকার খাবারের দোকানগুলো। এখানকার ইফতার সামগ্রী আজও তার সুনাম ধরে রেখেছে।

রোববার বিকালে বেইলি রোডে গিয়ে দেখা যায়, ইফতার সামগ্রীর দোকানগুলোতে ভিড় জমতে শুরু করেছে। ব্যস্ত হতে শুরু করেছে দোকানিরা। এখনকার ইফতারি বাজারের ইতিহাসের সঙ্গে মিশে আছে ক্যাপিটাল কনফেকশনারির নাম। ৩৫ বছরের বেশি সময় ধরে তারা সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যসম্মত ইফতার সামগ্রী বিক্রি করে আসছে। এবার ইফতারের প্রায় ১০০টি পদ নিয়ে হাজির হয়েছে ক্যাপিটাল।

এখানকার খাবারের পদগুলোর মধ্যে আছে- বেগুনি, পেঁয়াজু, আফগানী বিরানি, রিফ কড়াই, বিফ আচারি, চিকেন কড়াই, গরুর চপ, গরুর কালো ভুনা, জাম্বো রোস্ট, জাফরানি জিলাপি, তালের বড়া, মিহিদানা লাড্ডু, দই বুন্দিয়া, দইবড়া, ফিরনি অন্যতম। মুখরোচক পদের মধ্যে গরুর ব্রেন মসল্লার দাম প্রতি কেজি ১২০০ টাকা। হাজার টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে সুতি কাবাব, গরুর চপ, গরুর কালো ভুনা, গরুর কিমা, গরুর কলিজা, খাসির চাপ।

ক্যাপিটাল ইফতার বাজারের অন্যতম স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ শারফুদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, একেকজন একেকরকম খাবার পছন্দ করেন। আমরা সেভাবেই আমাদের খাবারগুলো সাজিয়েছি। কেউ কাবাব কিনছেন, কউ হালিম বা জিলাপি। আমরা এক ছাদের নিচে পরিচ্ছন্ন এবং গোছানো পরিবেশে খাবার বিক্রি করছি।

বেইলি রোডের সঙ্গে মিশে আছে সুইসের নাম। তারা কেকের জন্য প্রসিদ্ধ হলেও রমজানে ৩০ ধরনের ইফতারির পদ নিয়ে হাজির হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অ্যারাবিয়ান চিকেন, চিকেন টোস্ট, চিকেন কাবাব, চিকেন কিমা, পরোটা, চিকেন নাগেট, চিকেন বার-বি-কিউ, ভেজিটেবল রোল, চিকেন কাটলেট, তেহারি, খাসির হালিম, গরুর হালিম। বেইলি রোডে সঙ্গে যাদের বহুদিনের সখ্য তাদের কাছে এক প্রিয় নাম মামা পেঁয়াজু। মামা পেঁয়াজুর সঙ্গে মিশে আছে অনেক আড্ডা, সৃষ্টিশীল কাজের স্মৃতি। সেই মামা পেঁয়াজু এখনও আছে। রমজানের সময় তারা পেঁয়াজু, বেগুনির পাশাপাশি ইফতারির নানা পদ বিক্রি করছে।

রমজানের সময় যারা ভিন্ন কিছুর স্বাদ নিতে চান তারা এখনও ছোটেন বেইলি রোডের পিঠাঘরে। ঐতিহ্যবাহী পিঠাঘরে রোজাদারদের জন্য রয়েছে পাটিশাপটা, মালপোয়া, নারিকেলের ভাজা পুলি, ফিরনি, বিবিখানা পিঠা, ক্ষীর কুটি পিঠা, শাহী রস পাকন পিঠা, পান পিঠা, রস কদম, ক্ষীর লুচি প্রভৃতি। এসব পিঠার দাম প্রতিপিস ২৫ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে।

এ ছাড়া এখানকার স্কাইলার্ক, হ্যালভেশিয়া, বুমার্স, ফখরুদ্দিন বিরিয়ানি, নবাবি ভোজ, আমেরিকান বার্গা, গোল্ডেন ফুড, রেড কোর্ট, হট বেক, শর্মা হাউজ, মিস্টার বেকারেও রয়েছে ইফতারির খাবারের আয়োজন। ইফতারির বিভিন্ন পদের পাশাপাশি এসব জায়গায় নানা ক্যাটগিরিতে প্যাকেজ ইফতারি পাওয়া যাচ্ছে। দাম ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকার মধ্যে।

ইস্কাটন থেকে বেইল রোডে ইফতারি কিনতে এসেছিলেন দেলোয়ার-ই-মোস্তফা। তিনি বলেন, রমজান এলে প্রায় প্রতিদিনই এখান থেকে ইফতারি কিনি। বাসার কাছে হওয়ায় চলে আসি। এখানকার ইফতারির খাবারের সবচেয়ে ভালো দিক হচ্ছে বেশ স্বাস্থ্যসম্মত। তবে ইদানীং দেখি মাংসের কিছু আইটেমে অতিরিক্ত তেল ব্যবহার করে কেউ কেউ। গত বছর মাংসের পদগুলোর দাম বেশি ছিল। এবার মাংসের পদের পাশাপাশি অন্যান্য খাবারেরও দাম বেড়েছে। আরও কয়েক ক্রেতা অভিযোগ করেন, গত বছরের চেয়ে এবার সব আইটেমের দাম বেশি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×