চরম দুর্ভোগে মোহাম্মদপুরবাসী

অবৈধ পার্কিং ও যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামায় তীব্র যানজট

যানবাহনের নির্ধারিত স্টপেজ নেই * রিকশায় চলাচল করতেও ভয়

  যুগান্তর রিপোর্ট ২১ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অবৈধ পার্কিং
ফাইল ফটো

রাজধানীর অন্যতম জনবহুল এলাকা মোহাম্মদপুরে তীব্র যানজট এখন প্রতিদিনকার চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাস্তার পাশে অবৈধ গাড়ি পার্কিং ও যত্রতত্র গণপরিবহন থামিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানো করায় এ ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। অসহনীয় যানজটে মোহাম্মদপুরবাসী চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। এ সমস্যা দিন দিন তীব্র থেকে তীব্রতর আকার ধারণ করছে।

মোহাম্মদপুরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা শিয়া মসজিদ মোড়, কেন্দ্রীয় কলেজ, তাজমহল রোড ও জাপান সিটি গার্ডেনের সামনের রাস্তায় যানজট নিত্যদিনের ঘটনা। অলিগলি ও প্রধান সড়কে যত্রতত্র প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, বাসসহ বিভিন্ন যানবাহন পার্ক করে রাখায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

এ কারণে ৫ মিনিটের পথ এক ঘণ্টায়ও পাড়ি দেয়া যায় না। অবৈধ পার্কিং ও যত্রতত্র গণপরিবহন থামানোয় এখানকার রাস্তা দিয়ে নিরাপদে হেঁটেও যাওয়া যায় না। এ পথে চলতে গিয়ে তাই দুর্ঘটনার শঙ্কায় থাকেন এলাকাবাসী।

মোহাম্মদপুরে উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষের বসবাস। আশির দশকের পর নানা কারণে এ এলাকার গুরুত্ব বাড়তে থাকে। এখানে বিলাসবহুল ভবনের পাশাপাশি গড়ে উঠেছে দোকানপাট, ব্যাংক-বীমা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ক্লিনিক-হাসপাতাল, ছোট-বড় শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান। যানবাহনের চাপও দিন দিন বাড়ছে।

স্বাধীনতার আগে বিআরটিসির বর্তমান বাস টার্মিনালটি ছিল মোহাম্মদপুরের একমাত্র বাসস্ট্যান্ড। একই জায়গায় মিনিবাস স্ট্যান্ড গড়ে ওঠে। প্রথম দিকে এখান থেকে ১২ নম্বর মিনিবাস আসাদগেট ও ফার্মগেট হয়ে গুলিস্তান এবং ১৩ নম্বর মিনিবাস জিগাতলা-সায়েন্সল্যাব ও আজিমপুর হয়ে গুলিস্তান চলাচল করত।

একই সময় মোহাম্মদপুর-নারায়ণগঞ্জ রুটেও গণপরিবহন চলাচল শুরু হয়। বিআরটিসির রুট নম্বর ছিল ‘৯’। স্বাধীনতার আগে তাজমহল রোড হয়ে শহীদ সলিম উল্লাহ্ রোড (কায়েদে আযম রোড) দিয়ে মাত্র দুটি বড় বাস নিয়মিত চলাচল করত। একটি ছিল বিমানের (পিআইএ) স্টাফ বাস, অন্যটি ছিল ফাতেমা জিন্নাহ স্কুল বাস। দিনে দু’বার এগুলো চলাচল করত। প্রাইভেট কার, জিপ, মোটর বাইক, বেবিট্যাক্সি, রিকশা, ঠেলাগাড়ি ছিল খুবই কম। সামান্য কিছু বাইসাইকেলেরও চলাচল ছিল।

কিন্তু মোহাম্মদপুরের সেই চিত্র সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে। এখন রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ততম এলাকা মোহাম্মদপুর। ভোর থেকেই এখানকার প্রধান প্রধান সড়ক বিশেষ করে তাজমহল রোড, শহীদ সলিম উল্লাহ রোড, নূরজাহান রোড, গজনবী রোড, আওরঙ্গজেব রোড, শের শাহ্ সূরী রোড, কাজী নজরুল ইসলাম রোড, হুমায়ূন রোড ও শাহজাহান রোডে পাল্লা দিয়ে যানবাহন চলাচল করে। এসব রোডে সব ধরনের যানবাহন চলাচল করে।

এতে একদিকে এলাকার মানুষকে চলার পথে যানজটের সমস্যা পোহাতে হয়। অন্যদিকে ভয় থাকে ঘটনা-দুর্ঘটনার।

নব্বই দশকে ঈদগাহ্ মাঠ সংলগ্ন তাজমহল রোডে প্রভাব খাটিয়ে মেগা সার্ভিস পরিবহনের বাসস্ট্যান্ড গড়ে তোলা হয়। এ পরিবহনের রুট ছিল তাজমহল রোড থেকে আওরঙ্গজেব রোড, আসাদগেট, শংকর, জিগাতলা ও সায়েন্সল্যাব হয়ে গুলিস্তান পর্যন্ত। যদিও এখন মেগা সার্ভিস পরিবহনের বাস নেই। রুটটি পরবর্তী সময়ে তাজমহল রোড থেকে শংকর, সায়েন্সল্যাব হয়ে গুলিস্তান এবং বর্তমানে তাজমহল রোড থেকে শের শাহ ্সূরী রোড (বাজারের রাস্তা), শংকর, সায়েন্সল্যাব হয়ে গুলিস্তান পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।

এই মেগা সার্ভিসের পাশাপাশি বেশকিছু পরিবহন কোম্পানির বাস চলাচল করছে। এসব পরিবহন মোহাম্মদপুর থেকে রিং রোড-শ্যামলী হয়ে বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচল করছে। আবার মোহাম্মদপুর-নূরজাহান রোড, মোহাম্মদপুর-তাজমহল রোড, মোহাম্মদপুর-শহীদ সলিমুল্লাহ রোড, মোহাম্মদপুর-হুমায়ুন রোড, মোহাম্মদপুর-চিনুমিয়া রোড, মোহাম্মদপুর-শেরশাহ সূরী রোড, মোহাম্মদপুর-গজনবী রোড হয়ে চলাচল করছে।

এছাড়া জাপান গার্ডেন সিটির রিং রোডসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়কের যত্রতত্র বাস দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানো হচ্ছে। রাত ১১টা পর্যন্ত চলে এসব যানবাহনের দৌরাত্ম্য। ফলে এসব রাস্তায় যানজটে পড়ে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন মানুষ।

স্থানীয়রা জানান, রাস্তায় বাস থামানোর জন্য নির্ধারিত স্টপেজ থাকে। কিন্তু মোহাম্মদপুর থেকে মৈত্রী, রাজা সিটি, এটিসিএলসহ চলাচলকারী যানবাহনগুলোর নির্ধারিত কোনো স্টপেজ নেই। যেখানে যাত্রী পায় সেখানেই দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠায়।

মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা ইমরান বলেন, সন্তানকে নিয়মিত স্কুলে নিয়ে যাই। তীব্র যানজট ও বেপরোয়া যান চলাচলের কারণে রাস্তার পাশ দিয়ে হাঁটার কোনো উপায় থাকে না। লেগুনাসহ বিভিন্ন কোম্পানির বাস রাস্তায় বেপরোয়া চলাচল করছে। রিকশায় চলাচল করতেও ভয় হয়। দুর্ঘটনার আশঙ্কা তাড়া করে।

মোহাম্মদপুর-মতিঝিল রুটে চলাচলকারী নিউ দীপন পরিবহনের এমডি শেখ নুরুল ইসলাম বলেন, আমরা কখনও কারও সমস্যার সৃষ্টি করি না। তাজমহল রোডে শুধু দীপনই চলে। অন্য রোডে সমস্যা হলেও এ রোডে নেই।

আবাসিকের মধ্যে কীভাবে বাস সার্ভিস পরিচালনা করছেন সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনুমোদন কীভাবে হল বিআরটিএ তা ভালো বলতে পারবে।

৩১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. শফিকুল ইসলাম সেন্টু যুগান্তরকে বলেন, এসব বিষয়ে কিছুই বলার নেই। আমার একার পক্ষে এসব পরিবহন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তবে পুলিশ চাইলে অনেক কিছুই করতে পারে।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ পশ্চিমের উপ-পুলিশ কমিশনার লিটন কুমার সাহা যুগান্তরকে বলেন, মোহাম্মদপুরের পরিবহন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মিটিং হয়েছে। যাতে রাস্তার ওপর কোনো ধরনের যানবাহন না রাখা হয় সেজন্য তাদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাস্তায় যেন কেউ বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানো না করে। পাশাপাশি আমাদের তৎপরতা অব্যাহত আছে। কেউ অনিয়মতান্ত্রিকভাবে গাড়ি চালালে তা আটক করে মামলা দেয়া হয়; গাড়ি রেকারিং করা হয়।

তিনি বলেন, এছাড়াও কেউ রাস্তার পাশে পরিবহন রেখে চলাচলে বিঘœ সৃষ্টির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হয়।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.