মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগ

জটিলতা কাটছে না নতুন বিধির পরও

উচ্চ আদালতে মামলা, ১২ আগস্ট শুনানি * ১০ বছর ধরে নিয়োগ বন্ধ

  রাশেদ রাব্বি ২১ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মেডিকেল টেকনোলজিস্ট

দেশের হাসপাতালগুলোর মেডিকেল টেকনোলজিস্ট সংকট নিরসনে সরকার নতুন নিয়োগবিধি করলেও এর জটিলতা কাটছে না। সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১০ বছর ধরে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগ বন্ধ থাকায় চিকিৎসা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগ প্রক্রিয়া সরকার শুরুর চেষ্টা করলেও উচ্চ আদালতে মামলা থাকায় তা আটকে আছে। আগামী ১২ আগস্ট এ মামলার শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত থাকবে। ফলে আটকে আছে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগ প্রক্রিয়া।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের ২০১৩ সালের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে চাকরির যোগ্যতা হিসেবে রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ থেকে তিন বছরের ডিপ্লোমা থাকার বাধ্যবাধকতা দেয়া হয়। এ বিজ্ঞপ্তির পরিপ্রেক্ষিতে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে পাস করা শিক্ষার্থী এবং কারিগরি শিক্ষাবিয়ষক প্রতিষ্ঠানের মালিকদের পক্ষ থেকে হাইকোর্টে রিট করা হয়।

এ নিয়োগে যাতে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা অংশ গ্রহণ করতে পারে সেজন্য রিট করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের বিরুদ্ধে করা রিটে তৃতীয় পক্ষ হয়ে মামলায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ থেকে ডিপ্লোমা পাস করা শেখ মো. সাদি, শফিকুল ইসলামসহ চারজন এ মামলা পরিচালনায় অংশ নেন।

উচ্চ আদালতে মামলাটি দীর্ঘদিন বিচারাধীন থাকার পর কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে নির্দেশ দেন আদালত। এরপর ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করে তৃতীয় পক্ষ।

২০১৬ সালের ২১ নভেম্বর উচ্চ আদালতের রায়ে ‘কারিগরি বোর্ড থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন’- এ অংশটি বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রণীত ‘ওয়ান আমব্রেলা কনসেপ্ট’ এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির সুপারিশে যত দ্রুত সম্ভব নিয়োগ প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করার কথা বলা হয়।

কিন্তু আপিল বিভাগের ওই রায়ের বিরুদ্ধেও তৃতীয় পক্ষ রিভিউ পিটিশন করে। পিটিশনটি সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার জজের আদালতে ২০১৮ সালের ১২ এপ্রিল উপস্থাপন করা হলে চেম্বার জজ আদালত একই বছরের ১২ আগস্ট শুনানির দিন ধার্য করেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, টেকনোলজিস্ট নিয়োগের বিষয়ে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। তাই সরকার চাইলেও এই মুহূর্তে কোনো নিয়োগ দিতে পারবে না। এ ক্ষেত্রে আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায় বিবেচনায় নিয়েই নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ যুগান্তরকে বলেন, নতুন বিধি অনুসারে যাদের নিয়োগ দেয়া সম্ভব হবে তাদের নিয়োগ দেব। এছাড়া কোনো নিয়োগের বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা থাকলে সেই নির্দেশনাও মেনে চলব। এ ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় বা অধিদফতরের যা করণীয় তাই করা হবে।

সর্বশেষ হেলথ বুলেটিন-২০১৭’র তথ্য মতে, বিভিন্ন পর্যায়ের হাসপাতালে ফার্মাসিস্টদের অনুমোদিত পদ ২ হাজার ৮৯৫টি। এরমধ্যে এক হাজার ২৮৬টি শূন্য রয়েছে। ল্যাবরেটরির টেকনোলজিস্টের পদ রয়েছে ২ হাজার ১৬৭টি। এরমধ্যে ৭৪০টি শূন্য রয়েছে। একইভাবে রেডিওগ্রাফারের পদ রয়েছে ৭৭৭টি, শূন্য রয়েছে ১৯২টি পদ। রেডিওথেরাপিস্টের ৮০টি পদের মধ্যে শূন্য রয়েছে ৪২টি। ফিজিওথেরাপিস্টের পদ রয়েছে ২৯৬টি এবং শূন্য রয়েছে ১৮৮টি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালা অনুযায়ী, চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য একজন চিকিৎসকের বিপরীতে পাঁচজন টেকনোলজিস্ট থাকা প্রয়োজন। কিন্তু ২০০৭ সালের আন্তঃমন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশে চারজন চিকিৎসকের বিপরীতে টেকনোলজিস্ট রয়েছেন একজনেরও কম।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০০৬ সালে দেশে প্রতি ১৩ হাজার ৩১১ জন মানুষের জন্য টেকনোলজিস্ট ছিল মাত্র একজন। আর মোট টেকনোলজিস্ট সংখ্যা ১০ হাজার ৬৫৩ জন।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক মহাসচিব সেলিম মোল্লা যুগান্তরকে বলেন, দেশের মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতে টেকনোলজিস্ট নিয়োগ জরুরি। তবে উচ্চ আদালতে যে মামলাটি রয়েছে সেটিও নিষ্পতি হওয়া প্রয়োজন। কারণ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসার বাইরে থেকে যারা নিজেদের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট হিসেবে দাবি করছেন তাদের হাতে সঠিক রোগ নির্ণয় সম্ভব নয়।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.