চট্টগ্রাম নগরীতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধ যান
jugantor
চট্টগ্রাম নগরীতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধ যান

  আহমেদ মুসা, চট্টগ্রাম  

২০ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম নগরীতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধ যান

চট্টগ্রাম নগরীতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধ যানবাহন। গ্রামাঞ্চলের জন্য নিবন্ধিত সিএনজি চালিত অটোরিকশা শহরে প্রবেশ নিষিদ্ধ হলেও বাধাহীনভাবে এসব যান চলছে। নগরীর হামজার, বাকলিয়া, আরেফিন নগর, ব্যস্ততম সড়ক বহদ্দারহাট টু কালুরঘাট এবং নতুন ব্রিজ থেকে কোতোয়ালি থানার মোড়- নগরীতে প্রবেশের এসব রুটে সবচে বেশি চোখে পড়ে অবৈধ যানবাহন। অভিযোগ আছে, ট্রাফিক ও থানা পুলিশের কতিপয় অসাধু সদস্যকে মাসোহারা দিয়েই এসব যান নগরীতে প্রবেশ করছে।

নগরীর ব্যস্ততম এলাকা বহদ্দারহাট মোড়। কক্সবাজার ও উত্তর চট্টগ্রাম থেকে নগরে প্রবেশের মুখ এটি। এই বহদ্দারহাট মোড় ঘিরেই অবৈধ যানবাহন চলাচল করছে। পারমিটবিহীন সিএনজি চালিত অটোরিকশা, ব্যাটারি চালিত রিকশা, ইজিবাইক ও টমটম চলাচল করছে। বহদ্দারহাট মোড় থেকে কালুরঘাট পর্যন্ত পথে একাধিক স্ট্যান্ড রয়েছে এসব যানবাহনের। পুলিশকে ম্যানেজ করেই এই রুটে চলাচল করে এসব যান।

চান্দগাঁও থানার পঞ্চাশ গজের মধ্যে সরু খাজা রোডে চলছে অবৈধ সিএনজি অটোরিকশা। প্রতিদিন সরু এ সড়কে অন্তত ৪০০ ট্যাক্সি বলিরহাট পর্যন্ত চলাচল করে। শহরে চলাচলের অনুমতি থাকা দূরের কথা-অধিকাংশ গাড়ির নিবন্ধন নম্বর পর্যন্ত নেই।

একাধিক গাড়ি চালক জানান, দৈনিক ১০০ টাকা আর মাসিক ২ হাজার টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হয় তাদের। থানা ও ট্রাফিক পুলিশের নামে এই চাঁদা তোলা হয়। বহদ্দারহাট মোড়ে পুলিশ বক্সের সামনেই সড়কের একপাশ দখল নিয়ে স্থাপন করা হয়েছে অটো টেম্পো (টুকটুকি) স্ট্যান্ড। এখান থেকে অন্তত ১৫০টি টেম্পো কোতোয়ালি-আমতল পর্যন্ত চলাচল করে। অভিযোগ রয়েছে, বেশকিছু গাড়ির মালিক কিছু পুলিশ কর্মকর্তা। এ রুটে চলাচলকারী গাড়ির নম্বর থেকে শুরু করে কাগজপত্রে প্রচুর অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। চালকরা জানান, গাড়িপ্রতি মাসিক সাড়ে তিন হাজার এবং দৈনিক একশ টাকা চঁাঁদা তোলা হয় তাদের কাছ থেকে। বাবুল নামে এক ব্যক্তি পুলিশের নামে টাকা তোলেন প্রতিদিন।

বহদ্দারহাট মোড়ে মদিনা হোটেলের সামনে রয়েছে একটি টেম্পো স্ট্যান্ড। এখান থেকে নতুন ব্রিজ পর্যন্ত কয়েকশ টেম্পো চলাচল করে। এই সড়কে ইচ্ছেমতো পার্কিং এবং যাত্রী উঠানামা করায় যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। সেখান থেকে ত্রিশ গজ সামনে রয়েছে একটি মাইক্রো স্ট্যান্ড। এই স্ট্যান্ড থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কে মাইক্রোবাস চলাচল করে। হক মার্কেটের সামনে আছে দুটি টেম্পো স্ট্যান্ড। এখান থেকে কালুরঘাট ও জেলার কাপ্তাই সড়কে চলাচল করে টেম্পো। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সামনে ফরিদের পাড়া সড়কে রয়েছে আরও একটি মাইক্রো স্ট্যান্ড।

সংশ্লিষ্টরা জানান, নিষিদ্ধ তবুও চান্দগাঁও এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে হাজার হাজার ব্যাটারি চালিত রিকশা, ইজিবাইক ও টমটম। পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে এসব গাড়ি সিএন্ডবি সড়ক, মোহরা কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে কালুরঘাট ব্রিজ পর্যন্ত চলাচল করে। সবমিলিয়ে বহদ্দারহাট থেকে কালুরঘাট পর্যন্ত সড়ক কার্যত এক অভিশপ্ত সড়কে পরিণত হয়েছে। একইভাবে বায়েজিদ বোস্তামী থানার আরেফিন নগরের সাউদার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের গলিতে গিয়ে দেখা যায় শতাধিক অবৈধ সিএনজি চালিত অটোরিকশা দাঁড়িয়ে আছে। এর অধিকাংশের নেই নিবন্ধন। সরোয়ার নামের এক চালক বলেন, প্রতিমাসে গাড়িপ্রতি ৩ হাজার টাকা পুলিশের নামে দেই। বিনিময়ে আমাদের টোকেন দেওয়া হয়। টোকেন দেখালে কোথাও পুলিশ ধরে না। চান্দগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মুবিনুর রহমান জানান, এই এলাকার বিভিন্ন সড়কে অবৈধ সিএনজি চালিত অটোরিকশা চলাচল করে এটা সত্য।

তবে এগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্বটা মূলত ট্রাফিক বিভাগের। এরপরও থানা পুলিশ অবৈধ যানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়। আর পুলিশের নামে কেউ চাঁদা তোলে কিনা তা জানা নেই।

চট্টগ্রাম নগরীতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধ যান

 আহমেদ মুসা, চট্টগ্রাম 
২০ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
চট্টগ্রাম নগরীতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধ যান
ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম নগরীতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধ যানবাহন। গ্রামাঞ্চলের জন্য নিবন্ধিত সিএনজি চালিত অটোরিকশা শহরে প্রবেশ নিষিদ্ধ হলেও বাধাহীনভাবে এসব যান চলছে। নগরীর হামজার, বাকলিয়া, আরেফিন নগর, ব্যস্ততম সড়ক বহদ্দারহাট টু কালুরঘাট এবং নতুন ব্রিজ থেকে কোতোয়ালি থানার মোড়- নগরীতে প্রবেশের এসব রুটে সবচে বেশি চোখে পড়ে অবৈধ যানবাহন। অভিযোগ আছে, ট্রাফিক ও থানা পুলিশের কতিপয় অসাধু সদস্যকে মাসোহারা দিয়েই এসব যান নগরীতে প্রবেশ করছে।

নগরীর ব্যস্ততম এলাকা বহদ্দারহাট মোড়। কক্সবাজার ও উত্তর চট্টগ্রাম থেকে নগরে প্রবেশের মুখ এটি। এই বহদ্দারহাট মোড় ঘিরেই অবৈধ যানবাহন চলাচল করছে। পারমিটবিহীন সিএনজি চালিত অটোরিকশা, ব্যাটারি চালিত রিকশা, ইজিবাইক ও টমটম চলাচল করছে। বহদ্দারহাট মোড় থেকে কালুরঘাট পর্যন্ত পথে একাধিক স্ট্যান্ড রয়েছে এসব যানবাহনের। পুলিশকে ম্যানেজ করেই এই রুটে চলাচল করে এসব যান।

চান্দগাঁও থানার পঞ্চাশ গজের মধ্যে সরু খাজা রোডে চলছে অবৈধ সিএনজি অটোরিকশা। প্রতিদিন সরু এ সড়কে অন্তত ৪০০ ট্যাক্সি বলিরহাট পর্যন্ত চলাচল করে। শহরে চলাচলের অনুমতি থাকা দূরের কথা-অধিকাংশ গাড়ির নিবন্ধন নম্বর পর্যন্ত নেই।

একাধিক গাড়ি চালক জানান, দৈনিক ১০০ টাকা আর মাসিক ২ হাজার টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হয় তাদের। থানা ও ট্রাফিক পুলিশের নামে এই চাঁদা তোলা হয়। বহদ্দারহাট মোড়ে পুলিশ বক্সের সামনেই সড়কের একপাশ দখল নিয়ে স্থাপন করা হয়েছে অটো টেম্পো (টুকটুকি) স্ট্যান্ড। এখান থেকে অন্তত ১৫০টি টেম্পো কোতোয়ালি-আমতল পর্যন্ত চলাচল করে। অভিযোগ রয়েছে, বেশকিছু গাড়ির মালিক কিছু পুলিশ কর্মকর্তা। এ রুটে চলাচলকারী গাড়ির নম্বর থেকে শুরু করে কাগজপত্রে প্রচুর অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। চালকরা জানান, গাড়িপ্রতি মাসিক সাড়ে তিন হাজার এবং দৈনিক একশ টাকা চঁাঁদা তোলা হয় তাদের কাছ থেকে। বাবুল নামে এক ব্যক্তি পুলিশের নামে টাকা তোলেন প্রতিদিন।

বহদ্দারহাট মোড়ে মদিনা হোটেলের সামনে রয়েছে একটি টেম্পো স্ট্যান্ড। এখান থেকে নতুন ব্রিজ পর্যন্ত কয়েকশ টেম্পো চলাচল করে। এই সড়কে ইচ্ছেমতো পার্কিং এবং যাত্রী উঠানামা করায় যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। সেখান থেকে ত্রিশ গজ সামনে রয়েছে একটি মাইক্রো স্ট্যান্ড। এই স্ট্যান্ড থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কে মাইক্রোবাস চলাচল করে। হক মার্কেটের সামনে আছে দুটি টেম্পো স্ট্যান্ড। এখান থেকে কালুরঘাট ও জেলার কাপ্তাই সড়কে চলাচল করে টেম্পো। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সামনে ফরিদের পাড়া সড়কে রয়েছে আরও একটি মাইক্রো স্ট্যান্ড।

সংশ্লিষ্টরা জানান, নিষিদ্ধ তবুও চান্দগাঁও এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে হাজার হাজার ব্যাটারি চালিত রিকশা, ইজিবাইক ও টমটম। পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে এসব গাড়ি সিএন্ডবি সড়ক, মোহরা কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে কালুরঘাট ব্রিজ পর্যন্ত চলাচল করে। সবমিলিয়ে বহদ্দারহাট থেকে কালুরঘাট পর্যন্ত সড়ক কার্যত এক অভিশপ্ত সড়কে পরিণত হয়েছে। একইভাবে বায়েজিদ বোস্তামী থানার আরেফিন নগরের সাউদার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের গলিতে গিয়ে দেখা যায় শতাধিক অবৈধ সিএনজি চালিত অটোরিকশা দাঁড়িয়ে আছে। এর অধিকাংশের নেই নিবন্ধন। সরোয়ার নামের এক চালক বলেন, প্রতিমাসে গাড়িপ্রতি ৩ হাজার টাকা পুলিশের নামে দেই। বিনিময়ে আমাদের টোকেন দেওয়া হয়। টোকেন দেখালে কোথাও পুলিশ ধরে না। চান্দগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মুবিনুর রহমান জানান, এই এলাকার বিভিন্ন সড়কে অবৈধ সিএনজি চালিত অটোরিকশা চলাচল করে এটা সত্য।

তবে এগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্বটা মূলত ট্রাফিক বিভাগের। এরপরও থানা পুলিশ অবৈধ যানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়। আর পুলিশের নামে কেউ চাঁদা তোলে কিনা তা জানা নেই।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন