শহিদ আসাদ দিবস পালিত
jugantor
শহিদ আসাদ দিবস পালিত

  যুগান্তর প্রতিবেদন ও ঢাবি প্রতিনিধি  

২১ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যথাযোগ্য মর্যাদায় শহিদ আসাদ দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচির আয়োজন করে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন শহিদ আসাদ স্মৃতিস্তম্ভে বৃহস্পতিবার ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় বিভিন্ন সংগঠন।

সকালে শ্রদ্ধা জানিয়েছে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদল। সকাল ৯টায় শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে ছাত্রলীগ। এ সময় সংগঠনের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়, সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিৎ চন্দ্র দাস, সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনসহ কেন্দ্রীয়, ঢাবি শাখা ও বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শ্রদ্ধা জানায় ছাত্রদল। দলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল, ঢাবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সদস্য সচিব আমানউল্লাহ আমানসহ কেন্দ্রীয় ও ঢাবি শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা মিছিল সহকারে ক্যাম্পাস থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ অভিমুখে পদযাত্রা করে এবং শ্রদ্ধা নিবেদন করে। শহিদ আসাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়াও পাঠ করেন দুই সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

শহিদ আসাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আসাদের ছোট ভাই ডা. নুরুজ্জামান বলেন, তৎকালীন ঢাকা হলের ভিপি ছিলেন আসাদ। আইয়ুবের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছিলেন তিনি। নুরুজ্জামান বলেন, সেদিন আসাদকে ইচ্ছাকৃতভাবে পিস্তল দিয়ে গুলি করা হয়েছে। আজকের যে বাংলাদেশ, সেই দেশ আমরা চাইনি। দেশে গণতন্ত্র নেই, মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে, মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া বিএনপির পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দলটির নেতা আমানউল্লাহ আমান বলেন, আজকের এই দিনে আইয়ুববিরোধী আন্দোলন করে স্বাধীনতার যে বীজ বপন হয়েছিল, গণঅভ্যুত্থান ছিল টার্নিং পয়েন্ট। সেদিন আসাদ আত্মাহুতি দিয়েছিলেন শুধু গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য। এছাড়া দিনটি উপলক্ষ্যে শহিদ আসাদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী, ভাসানী অনুসারী পরিষদ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, বাম গণতান্ত্রিক জোটসহ বিভিন্ন সংগঠন।

প্রসঙ্গত, ১৯৬৯ সালের এই দিনে পাকিস্তানি স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্রদের ১১ দফা কর্মসূচির মিছিলে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে জীবন দেন ছাত্রনেতা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র আসাদুজ্জামান। আসাদ শহিদ হওয়ার পর ২৪ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের ছয় দফা ও ছাত্রদের ১১ দফার ভিত্তিতে সর্বস্তরের মানুষের বাঁধভাঙা জোয়ার নামে ঢাকাসহ সারা বাংলার রাজপথে। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে পতন ঘটে আইয়ুব খানের।

শহিদ আসাদ দিবস পালিত

 যুগান্তর প্রতিবেদন ও ঢাবি প্রতিনিধি 
২১ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যথাযোগ্য মর্যাদায় শহিদ আসাদ দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচির আয়োজন করে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন শহিদ আসাদ স্মৃতিস্তম্ভে বৃহস্পতিবার ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় বিভিন্ন সংগঠন।

সকালে শ্রদ্ধা জানিয়েছে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদল। সকাল ৯টায় শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে ছাত্রলীগ। এ সময় সংগঠনের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়, সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিৎ চন্দ্র দাস, সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনসহ কেন্দ্রীয়, ঢাবি শাখা ও বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শ্রদ্ধা জানায় ছাত্রদল। দলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল, ঢাবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সদস্য সচিব আমানউল্লাহ আমানসহ কেন্দ্রীয় ও ঢাবি শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা মিছিল সহকারে ক্যাম্পাস থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ অভিমুখে পদযাত্রা করে এবং শ্রদ্ধা নিবেদন করে। শহিদ আসাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়াও পাঠ করেন দুই সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

শহিদ আসাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আসাদের ছোট ভাই ডা. নুরুজ্জামান বলেন, তৎকালীন ঢাকা হলের ভিপি ছিলেন আসাদ। আইয়ুবের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছিলেন তিনি। নুরুজ্জামান বলেন, সেদিন আসাদকে ইচ্ছাকৃতভাবে পিস্তল দিয়ে গুলি করা হয়েছে। আজকের যে বাংলাদেশ, সেই দেশ আমরা চাইনি। দেশে গণতন্ত্র নেই, মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে, মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া বিএনপির পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দলটির নেতা আমানউল্লাহ আমান বলেন, আজকের এই দিনে আইয়ুববিরোধী আন্দোলন করে স্বাধীনতার যে বীজ বপন হয়েছিল, গণঅভ্যুত্থান ছিল টার্নিং পয়েন্ট। সেদিন আসাদ আত্মাহুতি দিয়েছিলেন শুধু গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য। এছাড়া দিনটি উপলক্ষ্যে শহিদ আসাদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী, ভাসানী অনুসারী পরিষদ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, বাম গণতান্ত্রিক জোটসহ বিভিন্ন সংগঠন।

প্রসঙ্গত, ১৯৬৯ সালের এই দিনে পাকিস্তানি স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্রদের ১১ দফা কর্মসূচির মিছিলে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে জীবন দেন ছাত্রনেতা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র আসাদুজ্জামান। আসাদ শহিদ হওয়ার পর ২৪ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের ছয় দফা ও ছাত্রদের ১১ দফার ভিত্তিতে সর্বস্তরের মানুষের বাঁধভাঙা জোয়ার নামে ঢাকাসহ সারা বাংলার রাজপথে। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে পতন ঘটে আইয়ুব খানের।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন