অংশীজনের মতামতের জন্য অবমুক্ত: ভূমিমন্ত্রী
jugantor
ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন
অংশীজনের মতামতের জন্য অবমুক্ত: ভূমিমন্ত্রী

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২১ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেছেন, বৃহস্পতিবার থেকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২১’-এর খসড়া সব অংশীজনের মতামতের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি আমমোক্তারনামার মাধ্যমে যেসব প্রতারণা, জালিয়াতি ও দুর্নীতি হচ্ছে তা প্রতিরোধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। গতকাল রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘জেলা প্রশাসক সম্মেলন ২০২২’-এ ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কার্য অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসাবে জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশে বক্তব্য প্রদানকালে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এ কথা বলেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধিবেশনে ভূমি সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান পিএএ, ভূমি সংস্কার বোর্ডের সদস্য সোলেমান খানসহ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং ভূমি মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন দপ্তরগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে সাইফুজ্জামান চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, অবৈধ ভূমি দখলকে ফৌজদারি অপরাধের আওতায় এনে ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২১-এর খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। ভূমিদস্যুতা রোধে এই আইন কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে ভূমিমন্ত্রী মন্তব্য করেন। তিনি জানান, কৃষিজমি সুরক্ষা, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব হ্রাসের উদ্দেশ্যে করা ‘ভূমি ব্যবহার আইন ২০২১’-এর খসড়া তৈরিও প্রায় শেষের দিকে।

বৈঠক সূত্র জানায়, ভূমিমন্ত্রী জেলা প্রশাসকদের খাস জমি উদ্ধার এবং খাদ্য নিরাপত্তায় তিন ফসলি জমির সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য নির্দেশ দেন। এক স্থানে বিভিন্ন দপ্তরের জন্য ঊর্ধ্বমুখী সমন্বিত সরকারি অফিস করার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসনটি ভূমিমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন।

সাইফুজ্জামান চৌধুরী আরও বলেন, ভূমি অধিগ্রহণ মামলায় (এলএ কেস) আমমোক্তারনামা (পাওয়ার অব অ্যাটর্নি) ব্যবস্থা বাতিল করার ব্যাপারটি বিবেচনাধীন আছে। অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের সময় পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে ব্যাপক দুর্নীতি হয়। বিশেষত গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষ এটার মাধ্যমে অসাধু ব্যক্তির দ্বারা প্রতিনিয়ত প্রতারণা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এজন্য বিশেষ ক্ষেত্র ব্যতীত, সাধারণভাবে এলএ কেসে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বন্ধ করার বিষয়টি বিবেচনাধীন আছে।

ভূমিমন্ত্রী ডিসিদের জানান, এই বিবেচনাধীন ব্যবস্থায়, বিশেষ ক্ষেত্র, যেমন বিদেশে বসবাসরত ব্যক্তিরা বাংলাদেশের দূতাবাসের মাধ্যমে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দিতে পারবেন। এছাড়া গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তির ক্ষেত্রে এবং অন্যান্য প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দেওয়া যাবে। মন্ত্রী বলেন, সবার মতামতের ভিত্তিতেই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সাইফুজ্জামান চৌধুরী জানান, ভূমিসেবা আরও সহজ করতে ই-রেজিস্ট্রেশন এবং ই-মিউটেশনের ইন্টিগ্রেশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে জমির হাতবদলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নামজারি হয়ে যাবে। এছাড়া অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে বাংলাদেশ ডিজিটাল সার্ভে (বিডিএস) শুরু হবে দ্রুত। তিনি এ সময় আশা প্রকাশ করেন, বিডিএস বাংলাদেশের সর্বশেষ ‘ক্যাডাস্ট্রাল জরিপ’ হবে। এর বাস্তবায়ন হলে জমি হাতবদলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে খতিয়ান ও ম্যাপ প্রস্তুত হয়ে যাবে, ফলে যুগ যুগ ধরে জরিপের হয়রানি থেকে দেশের মানুষ রক্ষা পাবে।

ভূমিমন্ত্রী জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশে বলেন, ‘মন্ত্রণালয় পর্যায়ে তথা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আমরা ভূমিসেবা ডিজিটালাইজেশন ও আইনবিধি যুগোপযোগীকরণের কাজ করে যাচ্ছি। মাঠ পর্যায়ে এসব দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের নাগরিকদের ভূমিসেবা দেওয়ার মূল দায়িত্ব আপনাদের। ভূমিসেবায় নাগরিক অসন্তুষ্টিকে নাগরিক সন্তুষ্টিতে রূপান্তরে আপনাদের ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি। জেলা প্রশাসক বা কালেক্টর হিসেবে আপনাদের কার্যকর উদ্যোগ ছাড়া নাগরিক অসন্তুষ্টি দূর করা অসম্ভব। এ ব্যাপারে ভূমি মন্ত্রণালয় আপনাদের সব ধরনের সহায়তা করবে।’ ভূমি মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাভুক্ত দপ্তরগুলো সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও বলেন, সেবার মান বৃদ্ধি করার জন্য গতানুগতিক চিন্তাধারার বাইরে এসে কাজ করতে হবে।

ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন

অংশীজনের মতামতের জন্য অবমুক্ত: ভূমিমন্ত্রী

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২১ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেছেন, বৃহস্পতিবার থেকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২১’-এর খসড়া সব অংশীজনের মতামতের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি আমমোক্তারনামার মাধ্যমে যেসব প্রতারণা, জালিয়াতি ও দুর্নীতি হচ্ছে তা প্রতিরোধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। গতকাল রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘জেলা প্রশাসক সম্মেলন ২০২২’-এ ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কার্য অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসাবে জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশে বক্তব্য প্রদানকালে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এ কথা বলেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধিবেশনে ভূমি সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান পিএএ, ভূমি সংস্কার বোর্ডের সদস্য সোলেমান খানসহ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং ভূমি মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন দপ্তরগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে সাইফুজ্জামান চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, অবৈধ ভূমি দখলকে ফৌজদারি অপরাধের আওতায় এনে ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২১-এর খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। ভূমিদস্যুতা রোধে এই আইন কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে ভূমিমন্ত্রী মন্তব্য করেন। তিনি জানান, কৃষিজমি সুরক্ষা, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব হ্রাসের উদ্দেশ্যে করা ‘ভূমি ব্যবহার আইন ২০২১’-এর খসড়া তৈরিও প্রায় শেষের দিকে।

বৈঠক সূত্র জানায়, ভূমিমন্ত্রী জেলা প্রশাসকদের খাস জমি উদ্ধার এবং খাদ্য নিরাপত্তায় তিন ফসলি জমির সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য নির্দেশ দেন। এক স্থানে বিভিন্ন দপ্তরের জন্য ঊর্ধ্বমুখী সমন্বিত সরকারি অফিস করার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসনটি ভূমিমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন।

সাইফুজ্জামান চৌধুরী আরও বলেন, ভূমি অধিগ্রহণ মামলায় (এলএ কেস) আমমোক্তারনামা (পাওয়ার অব অ্যাটর্নি) ব্যবস্থা বাতিল করার ব্যাপারটি বিবেচনাধীন আছে। অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের সময় পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে ব্যাপক দুর্নীতি হয়। বিশেষত গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষ এটার মাধ্যমে অসাধু ব্যক্তির দ্বারা প্রতিনিয়ত প্রতারণা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এজন্য বিশেষ ক্ষেত্র ব্যতীত, সাধারণভাবে এলএ কেসে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বন্ধ করার বিষয়টি বিবেচনাধীন আছে।

ভূমিমন্ত্রী ডিসিদের জানান, এই বিবেচনাধীন ব্যবস্থায়, বিশেষ ক্ষেত্র, যেমন বিদেশে বসবাসরত ব্যক্তিরা বাংলাদেশের দূতাবাসের মাধ্যমে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দিতে পারবেন। এছাড়া গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তির ক্ষেত্রে এবং অন্যান্য প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দেওয়া যাবে। মন্ত্রী বলেন, সবার মতামতের ভিত্তিতেই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সাইফুজ্জামান চৌধুরী জানান, ভূমিসেবা আরও সহজ করতে ই-রেজিস্ট্রেশন এবং ই-মিউটেশনের ইন্টিগ্রেশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে জমির হাতবদলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নামজারি হয়ে যাবে। এছাড়া অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে বাংলাদেশ ডিজিটাল সার্ভে (বিডিএস) শুরু হবে দ্রুত। তিনি এ সময় আশা প্রকাশ করেন, বিডিএস বাংলাদেশের সর্বশেষ ‘ক্যাডাস্ট্রাল জরিপ’ হবে। এর বাস্তবায়ন হলে জমি হাতবদলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে খতিয়ান ও ম্যাপ প্রস্তুত হয়ে যাবে, ফলে যুগ যুগ ধরে জরিপের হয়রানি থেকে দেশের মানুষ রক্ষা পাবে।

ভূমিমন্ত্রী জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশে বলেন, ‘মন্ত্রণালয় পর্যায়ে তথা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আমরা ভূমিসেবা ডিজিটালাইজেশন ও আইনবিধি যুগোপযোগীকরণের কাজ করে যাচ্ছি। মাঠ পর্যায়ে এসব দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের নাগরিকদের ভূমিসেবা দেওয়ার মূল দায়িত্ব আপনাদের। ভূমিসেবায় নাগরিক অসন্তুষ্টিকে নাগরিক সন্তুষ্টিতে রূপান্তরে আপনাদের ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি। জেলা প্রশাসক বা কালেক্টর হিসেবে আপনাদের কার্যকর উদ্যোগ ছাড়া নাগরিক অসন্তুষ্টি দূর করা অসম্ভব। এ ব্যাপারে ভূমি মন্ত্রণালয় আপনাদের সব ধরনের সহায়তা করবে।’ ভূমি মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাভুক্ত দপ্তরগুলো সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও বলেন, সেবার মান বৃদ্ধি করার জন্য গতানুগতিক চিন্তাধারার বাইরে এসে কাজ করতে হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন